বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:৪১ পি.এম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা যুবদল নেতা মো. জিয়া উদ্দিন বাবুলের উপর গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করতে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৪টায় ভাণ্ডারিয়া বাসস্ট্যান্ড কালেমা চত্বরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল এবং পৌর শাখার যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা জানান, গত ২৩ জুলাই রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে একটি সন্ত্রাসীর দল জিয়া উদ্দিন বাবুলের ঘরে প্রবেশ করে। যখন তারা প্রবেশ করে, তখন বিষয়টি টের পেয়ে তার সাথে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়। এর একপর্যায় হামলাকারীরা তাকে ঘরের আঙিনায় নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ১২ থেকে ১৫টি কোপ দেয় এবং পরে পালিয়ে যায়।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এক পর্যায়ে, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বক্তারা হামলার প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, গভীর রাতে ঘরে ঢুকে একজন রাজনৈতিক নেতার ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনকে জোর দাবি জানান।
প্রতিবাদ সভায় বক্তৃতা করেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মো. শামীম হাওলাদার, যুবদল নেতা নাজমুল হাসান আরিফ, আনিচুর রহমান অলি আকন, পৌর যুবদলের সভাপতি মো. মেহেদী হাসান মুন্সী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বাপ্পি, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহবায়ক তালুকদার আহম্মেদ মারুফ, উপজেলা শ্রমিক দলের সদস্য সচিব মো. আল আমিন মুন্সী, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন হিরন এবং রিয়াজুল ইসলাম শাহীরাজসহ অনেকে।
কর্মসূচিতে জাতীয়তাবাদী যুবদল, বিএনপি এবং তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীসঙ্গে স্থানীয় সাধারণ মানুষও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনায় ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে, আগের সব ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই), আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এতে বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলকে পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত সব ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৩ জুন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মাথায় গুলির ক্ষতের পাশাপাশি শরীরে ৩৬টি স্পিন্টারের চিহ্ন নিয়ে যে অকুতোভয় যোদ্ধা তিনি, সেই শেখ আজিজুর রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এই তথ্য জানান।
এই সাক্ষাতের মাধ্যমে আজিজুর রহমানের দীর্ঘদিনের লালিত একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। উপ-প্রেস সচিব জানান, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল মুহূর্তে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন শেখ আজিজুর রহমান। তখন তিনি রক্তক্ষরণ ঠেকাতে মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধেছিলেন। আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে ঐতিহাসিক ওই রক্তমাখা পতাকাটি তুলে দেন এই জুলাই যোদ্ধা।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। যখন প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে, তখন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে আজিজুর রহমানের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজিজুরের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।
সুজন মাহমুদ জানান, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে আজিজুর রহমানের সংগ্রাম, কষ্ট ও আত্মত্যাগের কথা শুনেছেন। তিনি জানতে চান, আজিজুর কীভাবে আহত হয়েছেন, তাঁর লেখাপড়া কেমন, সিএনজি চালিয়ে শিক্ষাজীবনের খরচ কিভাবে চালান এবং বর্তমান চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। আজিজুরের কঠোর জীবন সংগ্রামের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী গভীর সমবেদনাও জানান এবং ব্যথিত হন।
আজিজুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে রক্তমাখা পতাকাটি উপহার দিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। আমার কষ্টের কথা তিনি নিজে শুনেছেন এবং খোঁজখবর নিয়েছেন। এটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। এই রক্তমাখা পতাকাটি তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা আমার বহুদিনের ছিল। আজ সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
শেখ আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তাঁর বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মিরপুর-১০ নম্বর ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আলোচনায় আসেন আজিজুর। আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে তিনি প্রিয় জাতীয় পতাকাটি মাথায় বেঁধে নেন, ফলে পতাকাটি তাঁর রক্তে রঞ্জিত হয়। রক্তভেজা শরীর নিয়ে তিনি রাজপথ ছাড়েননি। পরে ১৯ জুলাই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই তিনি মুক্তি পান।
ত্যাগ ও বীরত্বের নজির স্থাপন করলেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে টানা দুই বছর তিনি ‘জুলাই যোদ্ধা’র স্বীকৃতি পাননি। সংসার ও পড়াশোনার খরচ চালাতে জীবনসংগ্রামের মুখোমুখি হয়ে তাঁকে সিএনজি চালাতে হয়েছে। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগে আজিজুর রহমানের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের পথ সুগম হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে হামলার আতঙ্ক এবার আছড়ে পড়েছে মিশরে।
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আরও জোরালো হওয়ার মাঝে, ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দামিয়েত্তা বন্দরে দুটি জাহাজে ড্রোন হামলার খবর নিশ্চিত করেছে কায়রো। বৃহস্পতিবার, মিশর সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট নিউজ এজেন্সি’ (মেনা) জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে—মঙ্গলবার চালানো এক ড্রোন হামলার কারণেই বন্দরে অবস্থানরত ওই দুই জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন এই আকস্মিক হামলার দায় নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে মিশরের পেট্রোলিয়াম ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ড্রোন হামলার পরে বন্দরে নোঙর করা একটি স্টোরেজ ভেসেল (মজুতকারী জাহাজ) এবং একটি রিগ্যাসিফিকেশন জাহাজে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়।
তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এ বিষয়ে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ঘটনাস্থলে থাকা অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তা দলের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। পূর্ব-অনুমোদিত জরুরি অবস্থা ও র্যাপিড রেসপন্স বা দ্রুত প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা অনুসারে পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাত্র ১২ বছর বয়সেই মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ছোট্ট শিশু আব্দুল্লাহ আন নাফিস। যে বয়সে তার হাসি-আনন্দ এবং খেলাধুলায় কাটানোর কথা, সেই বয়সে হাসপাতালের বিছানায় দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে।
নাফিস উপজেলার ডুমুরিয়া নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমানের সন্তান। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি তার শরীরে ব্লাড ক্যান্সার শনাক্ত হয়। প্রথমে রাজধানীর পিজি হাসপাতালে তার চিকিৎসা শুরু করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের ভেলোরের সিএমসি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, নাফিসের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় রেডিয়েশন থেরাপি, উচ্চ ডোজ কেমোথেরাপি এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা করা প্রয়োজন। এই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। পাশাপাশি, চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে অন্তত ৯ থেকে ১০ মাস অবস্থান করতে হতে পারে।
সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে ইতোমধ্যে জমি-জমা ও সঞ্চয় বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন নাফিসের বাবা। এখন তার পরিবারের আর চিকিৎসার ব্যয় বহন করার সামর্থ্য নেই। সন্তানের জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান এবং হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
কান্নায় ভেঙে পড়া নাফিসের বাবা বলেন, “আমার ছেলেটাকে বাঁচাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।” নাফিসের চিকিৎসায় সহায়তা করার জন্য সমাজের বিত্তবান এবং হৃদয়বান ব্যক্তিরা, প্রবাসী বাংলাদেশিরা, বিভিন্ন সামাজিক এবং মানবিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি সহায়তা এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তার পরিবার। তাদের আশা, সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে ফিরে আসবে ছোট্ট নাফিসের মুখে হাসি।
সহযোগিতা পাঠানোর মাধ্যম সোনালী ব্যাংক: ০৫০৬৬০১০২৬০৪৯, ইসলামী ব্যাংক: ২০৫০৩১৬০২০০০২৬৫১১।
অর্থের অভাবে যেন একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন থেমে না যায়, ছোট্ট নাফিসের চিকিৎসায় যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তার পরিবার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ