প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মাথায় গুলির ক্ষতের পাশাপাশি শরীরে ৩৬টি স্পিন্টারের চিহ্ন নিয়ে যে অকুতোভয় যোদ্ধা তিনি, সেই শেখ আজিজুর রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এই তথ্য জানান।
এই সাক্ষাতের মাধ্যমে আজিজুর রহমানের দীর্ঘদিনের লালিত একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। উপ-প্রেস সচিব জানান, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল মুহূর্তে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন শেখ আজিজুর রহমান। তখন তিনি রক্তক্ষরণ ঠেকাতে মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধেছিলেন। আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে ঐতিহাসিক ওই রক্তমাখা পতাকাটি তুলে দেন এই জুলাই যোদ্ধা।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। যখন প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে, তখন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে আজিজুর রহমানের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজিজুরের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।
সুজন মাহমুদ জানান, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে আজিজুর রহমানের সংগ্রাম, কষ্ট ও আত্মত্যাগের কথা শুনেছেন। তিনি জানতে চান, আজিজুর কীভাবে আহত হয়েছেন, তাঁর লেখাপড়া কেমন, সিএনজি চালিয়ে শিক্ষাজীবনের খরচ কিভাবে চালান এবং বর্তমান চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। আজিজুরের কঠোর জীবন সংগ্রামের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী গভীর সমবেদনাও জানান এবং ব্যথিত হন।
আজিজুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে রক্তমাখা পতাকাটি উপহার দিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। আমার কষ্টের কথা তিনি নিজে শুনেছেন এবং খোঁজখবর নিয়েছেন। এটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। এই রক্তমাখা পতাকাটি তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা আমার বহুদিনের ছিল। আজ সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
শেখ আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তাঁর বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মিরপুর-১০ নম্বর ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আলোচনায় আসেন আজিজুর। আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে তিনি প্রিয় জাতীয় পতাকাটি মাথায় বেঁধে নেন, ফলে পতাকাটি তাঁর রক্তে রঞ্জিত হয়। রক্তভেজা শরীর নিয়ে তিনি রাজপথ ছাড়েননি। পরে ১৯ জুলাই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই তিনি মুক্তি পান।
ত্যাগ ও বীরত্বের নজির স্থাপন করলেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে টানা দুই বছর তিনি ‘জুলাই যোদ্ধা’র স্বীকৃতি পাননি। সংসার ও পড়াশোনার খরচ চালাতে জীবনসংগ্রামের মুখোমুখি হয়ে তাঁকে সিএনজি চালাতে হয়েছে। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগে আজিজুর রহমানের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের পথ সুগম হলো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন