০৮:৫৩ পি.এম
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ৪০ দিন পর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি শান্তি আলোচনা হয়েছিল।
যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার লক্ষ্যে উচ্চ-স্তরের এই আলোচনা চলাকালে সেখানে অবস্থানরত ইরানের শীর্ষ দুই নেতাকে হত্যার ছক এঁকেছিল ইসরায়েল।
এ নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরও উদ্বেগ ছিল।
আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ২২ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে
কারণ এ ধরনের হামলা বাস্তবায়ন হলে যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেঙে আবারও তীব্র যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিলে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা শেষে ইরানে ফেরার পথে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
তখন এ ধরনের হামলার তীব্র আশঙ্কা করেছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারাও।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন হাজার হাজার ইসরাইলি
তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে বললেন, ‘ইরানি নেতাদের হত্যার যেকোনো চেষ্টা আলোচনার ইতি টানবে এবং আবারও সংঘাত শুরু করবে।’
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের মাধ্যমে ইরানকে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে সতর্ক করার উদ্যোগ নেয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গালিবাফ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে ইসলামাবাদ সফরে গেলে তার বহরকে যুদ্ধবিমান দিয়ে নিরাপত্তা দেয় পাকিস্তান।
কারণ, আশঙ্কা ছিল ইসরায়েল ওই প্রতিনিধিদলের ওপর হামলার চেষ্টা করতে পারে।
আরও পড়ুন: শাহজালাল রুমিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান হয়নি: রাশেদ খাঁন
ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ইসলামাবাদ থেকে ফেরার পথে গালিবাফকে বহনকারী বিমানের ক্রুরা গোয়েন্দা তথ্য পান যে ইসরায়েল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তারই অংশ হিসেবে ইরাক সীমান্তসংলগ্ন পশ্চিম দিক দিয়ে দুটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে।
এরপর বিমানটি জরুরি ভিত্তিতে মাশহাদে অবতরণ করে।
সেখান থেকে গালিবাফসহ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রায় আট ঘণ্টা সড়কপথে তেহরানে পৌঁছান।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসী গ্রুপের দুই সদস্য পলাশ ও তোতা মিয়া গ্রেফতার
গালিবাফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি, যিনি ওই সফরে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন, সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ইরানি আইন প্রণেতা মোহসেন জাঙ্গানেহ এপ্রিলে স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গালিবাফ, আরাগচি এবং আলোচক দলের অন্য সদস্যরা গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি জেনেও আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।
এটি রাজনৈতিক কৌশল নয়, প্রকৃত আত্মত্যাগ।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোলেও ইসরায়েল সম্ভাব্য সমঝোতাকে যথেষ্ট মনে করেনি।
আরও পড়ুন: জ্ঞানেশকে সরাতে রাজপথে নামছে ইন্ডিয়া জোট, ৩০ অক্টোবর ‘জনতার অভিশংসন’
এর কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানে শাসন পরিবর্তন, তেহরানের আঞ্চলিক মিত্রদের দুর্বল করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসের এক মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আর যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে বরাত দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চেয়েছিলেন শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাক এবং সে কারণেই আলোচনা অব্যাহত ছিল।
আরও পড়ুন: হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, প্রেমিকের সঙ্গে থাকার অনুমতি আইনত অপরাধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন