প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ডিপফেক কনটেন্টের অপব্যবহারের অভিযোগে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির সহ-মালিক প্রীতি জিনতা। তিনি অভিযোগ এনেছেন যে, তাঁর ছবি, পরিচয় ও ব্যক্তিত্ব অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও বাণিজ্যিক কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে।
মামলায় গুগল এলএলসি, মেটা প্ল্যাটফর্মস, কয়েকটি ডোমেন নেম রেজিস্ট্রার, কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতপরিচয়ের (জন ডো) অভিযুক্তদের বিবাদী করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে একই ধরনের কনটেন্ট তৈরি বা ছড়িয়ে দেওয়া অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিনেত্রীর সম্মতি ছাড়াই তাঁর মুখাবয়ব এবং পরিচয় ব্যবহার করে এআই-নির্ভর ডিপফেক ভিডিও, মরফড ছবি এবং ভুয়া চ্যাটবট-ধাঁচের কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে। এসব কনটেন্ট ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রীতি জিনতার আইনজীবী জানিয়েছেন যে, আধুনিক এআই প্রযুক্তির কারণে ডিপফেক কনটেন্ট এতটাই বাস্তবসম্মত হয়ে উঠেছে যে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য আসল ও ভুয়া কনটেন্টের পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এটি কারণে আপত্তিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন অপব্যবহার ঠেকাতে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে যে, প্রীতি জিনতার পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া বিজ্ঞাপন, প্রচারণামূলক উপকরণ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে, যা তাঁর ব্যক্তিত্বের অধিকার, গোপনীয়তা এবং নৈতিক অধিকারের লঙ্ঘন। এ ছাড়া, তাঁর নাম ব্যবহার করে পরিচালিত কিছু ওয়েবসাইটের সঙ্গে অভিনেত্রীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
শুনানিতে গুগল ও মেটার পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানান যে, নির্দিষ্ট ইউআরএল (URL) চিহ্নিত করে দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ডিপফেক বা আপত্তিকর কনটেন্ট সরিয়ে দিতে তাদের আপত্তি নেই। তবে প্রতিটি কনটেন্ট নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বাধ্যবাধকতায় পড়তে না হয় এ জন্য এমন কোনো বিস্তৃত নির্দেশনা না দেওয়ার অনুরোধ জানান তারা।
তাদের দাবি, মামলায় উল্লেখ করা কয়েকটি লিংকে আপত্তিকর কোনো উপাদান নেই। অন্যদিকে, মামলার একটি ডোমেন নেম রেজিস্ট্রার আদালতকে জানিয়েছে, তারা শুধু ডোমেন নিবন্ধনের দায়িত্ব পালন করে। কোনো ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ বা অপসারণের ক্ষমতা তাদের নেই।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি মাধব জামদার বলেছেন, আদালতের নির্দেশ এমন হওয়া উচিত যাতে শুধুমাত্র বেআইনি ও আপত্তিকর কনটেন্ট সরানো হয়, অথচ বৈধ ও তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত আপত্তিকর কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণের একটি কার্যকর পদ্ধতি তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচয় ও ব্যক্তিত্বের অপব্যবহারের অভিযোগে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলিউডের আরও কয়েকজন তারকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন কার্তিক আরিয়ান, শত্রুঘ্ন সিনহা, শিল্পা শেঠি, অক্ষয় কুমার, সুনীল শেঠি, আশা ভোঁসলে এবং অরিজিৎ সিং।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন বিচারপতি অভয় আহুজা প্রীতি জিনতাকে এ মামলা করার অনুমতি দেন। যদিও ৩ জুলাইয়ের শুনানিতে আদালত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন (এক্স-পার্টে) নির্দেশ দেননি। আগামী ৬ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন