ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

“ব্যাংক খাতে ১০ লাখ কোটি ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ, ৪ লাখ কোটি পুনঃতফসিল সুবিধা”


“ব্যাংক খাতে ১০ লাখ কোটি ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ, ৪ লাখ কোটি পুনঃতফসিল সুবিধা”

দেশের ব্যাংকগুলো খেলাপি কমানোর লক্ষ্যে ঋণের পুনঃতফসিল বৃদ্ধির কাজ শুরু করেছে। গত বছর ব্যাংকগুলো ৯৮ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের পুনঃতফসিল সুবিধা প্রদান করেছে।

এই ফলে ব্যাংক খাতে গত বছর শেষে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা।

এর আগে, ২০২৪ সালের শেষের দিকে ব্যাংক খাতে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত 'ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫'-এ এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। সংবাদটি আমার দেশ প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৫ সালে সর্বাধিক খেলাপি ঋণের পুনঃতফসিল করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, ২০২১ সালে ১২ হাজার ৭৭১ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল হয়েছে।

২০২২ সালে ৪৪ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ৭৫ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে ৫৯ হাজার ৯২০ কোটি টাকা এবং ২০২৫ সালে ৯৮ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা পুনঃতফসিল হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক খাতের পুনঃতফসিল করা ঋণের ৫৭ শতাংশ শীর্ষ ১০ ব্যাংকে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শেখ হাসিনার শাসনামলে খেলাপি ঋণ কমানো লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের জুলাই মাসে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের পুরো ক্ষমতাই ব্যাংকগুলোর হাতে স্থানান্তরিত হয়। এরপর থেকে খেলাপি ঋণের পুনঃতফসিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, কারণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিজস্ব সিদ্ধান্তে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করছে।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা আসার প্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলোকে ঋণ নিয়মিত রাখতে পুনঃতফসিলের সুবিধা প্রদান করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। বিগত সরকারের সময় নীতিমালাও শিথিল করা হয়েছিল, ফলে মাত্র আড়াই থেকে সাড়ে চার শতাংশ টাকা জমা দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছে বা মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুবিধা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন কিছু নীতিমালা সৃষ্টি করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাত্র দুই শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ দেয়। এ ঋণের মেয়াদ সর্বাধিক ১০ বছর এবং ঋণ নিয়মিত হলে প্রথম দুই বছর ঋণ পরিশোধে বিরতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রথম দফায় গত বছরের জুন পর্যন্ত যেসব গ্রাহক খেলাপি ছিলেন, তাদের জন্য এই সুবিধা দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই সময়সীমা বৃদ্ধি করে নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ গত মাসে এক সার্কুলারে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত আবার বৃদ্ধি করা হয়েছে।

জানা গেছে, নীতি-সহায়তার আওতায় এক হাজার ৫১৬টি আবেদনের বিপরীতে এক লাখ ৯৬ হাজার ৪৭ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৩০০টি গ্রুপের ৯০০টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো ২৫০টি ঋণ আবেদন বাস্তবায়ন করেছে। এর মাধ্যমে ২৬ হাজার ১১৪ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে।

পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ৪০% আবার খেলাপি হয়ে গেছে। ব্যাংক খাতে যে পরিমাণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, তার মধ্যে ৩৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ ঋণ খেলাপির খাতায় হিসাব করা হয়েছে। প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ বলে, গত বছরের শেষে ব্যাংক খাতে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। এই ঋণের মধ্যে এক লাখ ৭৮ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা আবার খেলাপির আওতায় এসেছে।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

এছাড়া পুনঃতফসিলকৃত খেলাপি ঋণ ২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা, যা মোট পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ।

আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উৎপাদনশীল খাতের উদ্যোক্তারা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন। ২০২৫ সালের শেষে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতির মধ্যে ২৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ ছিল শিল্প খাতের। দ্বিতীয় স্থানে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত, ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

তাছাড়া, পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ১৩ দশমিক ০৫ শতাংশ চলতি মূলধন, আমদানিতে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ, বাণিজ্যিক ঋণে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ, ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ নির্মাণ, ৩ দশমিক ০১ শতাংশ কৃষি খাতে, জাহাজ নির্মাণে ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ অন্যান্য খাতে।

ব্যাংক খাতে 'স্ট্রেসড' বা 'দুর্দশাগ্রস্ত' হিসেবে পুনঃতফসিলকৃত ঋণ জামানত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম

একই সময় পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। আর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আদায় অযোগ্য হওয়ায় ব্যাংকগুলো ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করেছে। সব মিলিয়ে দেশের ব্যাংক খাতে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার ঋণ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ বা দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবাগত জর্ডানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে অস্ট্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩২ এম


নবাগত জর্ডানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে অস্ট্রিয়া

চলতি বিশ্বকাপে এশিয়ার দেশগুলো দারুণ লড়াইয়ের মেজাজে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনও এশিয়ার দলই হারের মুখ দেখেনি। তবে মনে হচ্ছে, এবার হয়তো সেই ধারায় ছেদ পড়তে চলেছে। কারণ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধের শেষে গোল হজম করেছে নবাগত জর্ডান।

রোমানো শ্মিটের গোলে লিড নিয়েছে অস্ট্রিয়া।

বুধবার (১৭ জুন) সান ফ্রান্সিসকোর বে অ্যারেনায় বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমেছে জর্ডান। গ্রুপ জে'র দ্বিতীয় ম্যাচে, প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে পিছিয়ে আছে নবাগত দলটি।

প্রথমার্ধের ২১ মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন রোমানো শ্মিট।

আরও পড়ুন: ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রতিশোধের লড়াইয়ে নামছে ইংল্যান্ড।

গ্রুপ জে'র প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে সব আলোকে কেড়ে নিয়েছিলেন। তবে রোমানো শ্মিটও কম কিছু জানাননি! ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল ও বাঁকানো শটে তিনি করেছেন দারুণ এক গোল। সেই লিড নিয়েই বিরতিতে গিয়েছে ইউরোপের দলটি।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ৬৭ নম্বরে থাকা জর্ডান এবারই প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলছে। র‌্যাঙ্কিংয়ের ২১ নম্বর দল অস্ট্রিয়ার তুলনায় তারা অনেকটাই পিছিয়ে। কিন্তু মাঠে তারা ভালোভাবেই লড়াই করছে। বলের দখলে পিছিয়ে থাকলেও, আক্রমণে এগিয়ে রয়েছে জর্ডান। এখন পর্যন্ত ৮টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছে তারা। যেখানে অস্ট্রিয়া ৪টি শটের মধ্যে মাত্র ১টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“আবহাওয়ার সতর্কতা: ৮ জেলায় ঝড়-বৃষ্টি, নদীবন্দরে সংকেত ১”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩৪ এম


“আবহাওয়ার সতর্কতা: ৮ জেলায় ঝড়-বৃষ্টি, নদীবন্দরে সংকেত ১”

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে যে দেশের ৮ জেলার ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি এবং বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) ভোর সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়া পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদফতরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকাতেও অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

উল্লেখ্য, পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে যে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। এর ফলে নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতার সাথে বজ্রপাতের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।

অন্যদিকে, মানিকগঞ্জ, নীলফামারী ও রাজশাহী জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বজ্রবৃষ্টির সময় নৌযান চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন এবং খোলা স্থানে অবস্থান না করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাবির ছাত্রী হলে মাদক সেবনের অভিযোগে ২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩৬ এম


জাবির ছাত্রী হলে মাদক সেবনের অভিযোগে ২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের একটি কক্ষে মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ ও সেবনের ঘটনা ঘটেছে, যার জেরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুই নারী শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে। একই সঙ্গে তাদের আবাসিক হল থেকেও স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে, অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত রাষ্ট্রীয় আইনে মামলা করার সুপারিশও করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে একটি সিন্ডিকেট সভা শেষে রেজিস্ট্রার এবিএম আজিজুর রহমান এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেছেন।

বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তনুজা তিথি এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সানজিদা আমীর ইনিসী।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের ১১৬ নম্বর কক্ষে মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ ও সেবনের ঘটনার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮ ভঙ্গ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাদেশ অনুসারে, ক্যাম্পাস, বিভাগ, ইনস্টিটিউট বা আবাসিক হলে দেশি-বিদেশি যেকোনো ধরনের মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ, সেবন কিংবা ব্যবসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তনুজা তিথি এবং সানজিদা আমীর ইনিসীকে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং আবাসিক হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এবারের মধ্যে তনুজা তিথির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইনে মামলা দায়েরের জন্য জোর সুপারিশ করা হয়েছে।

হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের ১১৬ নম্বর কক্ষে ঝটিকা অভিযান চালানো হয়েছিল। এই অভিযানে কক্ষটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছিল।

জানা গেছে, ওই কক্ষটি ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী তনুজা তিথির নামে বরাদ্দ ছিল। এবং অভিযানের সময় কক্ষটিতে মাদক সেবনরত অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সানজিদা আমীর ইনিসী।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতেই সিন্ডিকেট এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুশইন ইস্যুতে দিল্লির সদিচ্ছা ছাড়া সীমান্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ এম


পুশইন ইস্যুতে দিল্লির সদিচ্ছা ছাড়া সীমান্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন প্রচেষ্টা ঘিরে উত্তপ্ত দুই দেশের সীমান্ত। একের পর এক পুশইন প্রচেষ্টা রুখে দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সেইসঙ্গে সজাগ স্থানীয়রাও এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কাজ করছে। পুশইন একটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এটি সমাধান করতে হলে রাজনৈতিকভাবেই এগোনোর দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দিল্লির সদিচ্ছা ছাড়া সীমান্ত সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।

এই পুশইন চেষ্টাগুলি সীমান্তে একের পর এক সংঘটিত হচ্ছে এবং বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে। প্রতিদিন এর মধ্যে কোনো না কোনো এলাকা দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলছে, যা বিজিবি এর কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করছে। সীমান্তরক্ষীদের পাশাপাশি সজাগ স্থানীয়রাও এই অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে মনোযোগ দিচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%