বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:৩৪ পি.এম
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শিক্ষা দূর্নীতি ও অনিয়মের তদন্তের প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাকে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার ১৯ জুলাই লালুয়া এস.কে.জে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটেছিল। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুনায়েত হোসেন খানের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে তদন্তে গিয়েছিলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এই সময়, প্রধান শিক্ষক তার ভারাটে গুন্ডার মাধ্যমে তদন্ত কাজে বাধা প্রদান করে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন অভিযোগকারীদের সাথে। এই ঘটনার ফলে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীসহ স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের আওয়ামী ক্ষমতার দাপটে অনিয়মের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হয়েছেন জুনায়েত হোসেন খান। কলাপাড়ায় আদালতে এই ঘটনায় একটি মামলা চলমান রয়েছে। বিদ্যালয়ের অর্থ পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে কখনো জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেননি। শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের সাথে কর্কস আচরণের আভাস পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে পরবর্তীতে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এমনকি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে রাজনীতি ও সালিশ বানিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তিনি আওয়ামী লীগের বড় পদের সদস্য বলে পরিচয় দেন।
স্থানীয় সমাজ সেবক আলাউদ্দিন তালুকদার, সাবেক অভিভাবক সদস্য সাহাবুদ্দিন হাওলাদার, অভিভাবক জহিরুল ইসলাম, শহিদ তালুকদার ও রবিউল জানান, অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষক হয়ে নানা অনিয়ম-দূর্নীতি করেন জুনায়েত হোসেন। তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করতে এলে প্রধান শিক্ষক তার ভারাটে গুন্ডা রিগান চৌকিদার, শহিদুল চৌকিদার ও অহিদুল চৌকিদার সহযোগী হয়ে তদন্ত কাজে বাধা প্রদান করে। এ কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত কাজ স্থগিত করে চলে যেতে বাধ্য হন। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং খারাপ আচরণের বিচারের দাবি জানান তারা। লালুয়া এস.কে.জে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ে তদন্ত চলাকালে কয়েকজন এসে অভিযোগকারীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করে এবং প্রায়ই শোকাজের ভয় দেখান।
অভিযুক্ত ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুনায়েত হোসেন খান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য সমবায় অফিসার, গন্যমান্য ব্যক্তি ও অভিযোগকারীরা উপস্থিত ছিলেন। এখানে যারা তর্ক করেছেন তাদের তিনি চেনেন না। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানিয়েছেন, যদি তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে কঠোর ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে একটি বিরল প্রজাতির প্যারটফিশ (টিয়া মাছ) ধরা পড়েছে। এই মাছটির ওজন প্রায় ৭০০ গ্রাম, যা মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আনার পর স্থানীয়রা দেখতে ভিড় জমায়। পরে নিলামের মাধ্যমে মাছটি ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে চরমোন্তাজ এলাকার ‘এফবি ভাই ভাই’ ট্রলারে ধরা পড়া মাছটি ফয়সাল ফিশ আড়তে আনা হয় মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। নিলামের মাধ্যমে এই মাছটি ৩ হাজার টাকায় আড়তের মালিক কিনে নেন। পরে বিক্রির জন্য বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে চট্টগ্রামে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
জানা গেছে, বাবুল মাতুব্বর মাঝির নেতৃত্বে ১৭ জন জেলে নিয়ে ট্রলারটি দুই দিন আগে পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। জাল উত্তোলনের সময় ইলিশ, পোয়া ও অন্যান্য মাছের পাশাপাশি বিরল এই প্যারটফিশটিও ধরা পড়ে।
জেলে বাবুল মাতুব্বর বলেন, “রাতে জাল ফেলেছিলাম। পরে ইলিশ ও অন্য মাছের সঙ্গে এই মাছটিও উঠে আসে। আগে কখনও আমাদের জালে এমন মাছ ধরা পড়েনি।”
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, স্থানীয়দের বর্ণনা ও নমুনা অনুসারে এই মাছটি ব্লু-ব্যারিড প্যারটফিশ নয়; বরং এটি ‘ধোফার প্যারটফিশ’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। স্কারিডি পরিবারের এই সামুদ্রিক মাছ সাধারণত প্রবালপ্রাচীর ও পাথুরে এলাকায় বাস করে।
তিনি আরও বলেন, খাদ্যের সন্ধান, প্রজনন কিংবা সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে এই ধরনের মাছ গভীর সমুদ্রে চলে আসতে পারে। ফলে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় মাঝে-মধ্যে জেলের জালে এমন বিরল মাছ ধরা পড়ে।
তিনি আরও জানান, প্যারটফিশ প্রবালপ্রাচীরের ওপর জন্মানো শৈবাল খেয়ে প্রবালের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই মাছ প্রবাল ক্ষয় করে সূক্ষ্ম বালু তৈরিতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “ধোফার প্যারটফিশ বাংলাদেশের জলসীমায় অত্যন্ত বিরল। আমাদের উপকূলে এ প্রজাতির মাছ সচরাচর দেখা যায় না।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজীকরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি অত্যন্ত স্পষ্ট মূলনীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছেন। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, যা একদিকে মানুষের ক্ষমতায়ন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে ব্যবসা পরিচালন খরচ কমিয়ে বাণিজ্য সহজীকরণের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই বা ফিকি) আয়োজিত এক সম্মেলনে মাহদী আমিন এসব মন্তব্য করেছেন।
‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক ফিকি এফডিআই সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে অংশগ্রহণকারী কোম্পানির ও সংস্থাটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেছেন।
মাহ্দী আমিন বক্তব্যের শুরুতে পাঁচ মাস আগে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার উল্লেখ করেন এবং ফিকিকে এই আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ততার মাঝেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এখানে এসেছেন। বিনিয়োগকারীরাও তাদের যোগ্যতা, বৈশ্বিক সেরা ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগের পরিকল্পনা সফলতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।”
মাহদী আমিন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পর্যায়ের প্যানেলটিকে অনন্য উল্লেখ করে বলেন, ফিকি যখন প্রথম এই অনুষ্ঠানের বিষয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে, তখন পরিকল্পনাটি একটু ভিন্ন ছিল। তারা বলেছিল, বিনিয়োগকারীরা বলবেন এবং নীতিনির্ধারকরা শুনবেন। তবে শেষ মুহূর্তে এসে তারা এতে পরিবর্তন এনেছে। জানানো হয় যে, নীতিনির্ধারকরাই বলবেন এবং বিনিয়োগকারীরা তা শুনবেন- এমন একটি সার্বিক আগ্রহ ও চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।
ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, পরবর্তীতে এই আয়োজন আরও বেশি অংশগ্রহণমূলক হবে, যেখানে উভয় পক্ষ উন্মুক্তভাবে মতামত ও চিন্তাভাবনা বিনিময় করবে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটকে সরকারের প্রতি জনগণের বিপুল আস্থার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নীতিনির্ধারকদের ভাবনাচিন্তায় নির্বাচনি ইশতেহারে বর্ণিত প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্পের সঠিক প্রতিফলন থাকা জরুরি। আজকের প্যানেলিস্টদের দিকে তাকালেই দেখা যায়, আমাদের প্রত্যেকের দপ্তর কিছুটা স্বতন্ত্র এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে কখনো হয়নি।
দপ্তর বিন্যাসের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এভাবে দপ্তরগুলো বিন্যাস করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নীতি প্রণয়ন থেকে শুরু করে একদম তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল এবং সুসংহত করা। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে কাজের স্বচ্ছতা ও গতি বাড়ানো এবং মন্ত্রণালয়গুলো যেন নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
গত পাঁচ মাসেই এই সিদ্ধান্তের সুফল জনগণ নানা ভাবে দেখতে পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন মাহদী আমিন। তার বড় উদাহরণ হলো আমাদের ঘোষিত প্রথম বাজেটটি, যা সম্পূর্ণ জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব। এই বাজেটে সাধারণ মানুষের ইচ্ছা ও তৃণমূলের আকাঙ্ক্ষার যথার্থ প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। আজ এখানে উপস্থিত পাঁচজন প্যানেলিস্ট একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একতাবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নতুন দায়িত্ব নেওয়া এই সরকার বিগত বহু বছরের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। কিন্তু আমরা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করেছি, যেখানে প্রতিটি সমস্যাকে একটি নতুন সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি মূলত জাতি পুনর্গঠন ও যৌথ সমৃদ্ধির সুযোগ, সংকট দূর করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ এবং কার্যকর নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ।
বিনিয়োগকারীদের অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, এখানে উপস্থিত আপনার প্রত্যেকের একটি গল্প রয়েছে- সাফল্যের গল্প, ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প ও যৌথভাবে এই জাতি পুনর্গঠনের গল্প। জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা আপনাদের সঙ্গে এই সুদৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। আমরা ধারাবাহিক আলোচনা ও পরামর্শের একটি স্থায়ী প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে আগ্রহী, যাতে দেশি-বিদেশি সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঠিক প্রতিফলন ঘটে আমাদের নীতি প্রণয়ন ও তার মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, আপনারা কেবল ব্যবসা করছেন না, বরং নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছেন, আমাদের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং মেড ইন বাংলাদেশ স্লোগানকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছেন। সে অর্থে আমরা আপনাদের নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের এক একজন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বলেই মনে করি। আমাদের দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা সম্ভাব্য সব পদক্ষেপই গ্রহণ করবো, যিনি ব্যবসা, উদ্যোক্তা ও শিল্পখাতের বিকাশে একটি স্পষ্ট নীতিগত রূপরেখা দিয়েছেন। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়া, যা কর্মসংস্থান, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে।
ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সর্বজনীন অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। আর এই অভিযাত্রায় আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে কাজ করতে চাই।
আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ফিকির সভাপতি ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ৬০০ বিনিয়োগকারী ও প্রতিনিধি। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত ৩ মে ভারতে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে গত আড়াই মাস ধরে চলা আন্দোলন অবশেষে চরম রূপ নিয়েছে।
গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করলে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানসহ রাজনৈতিক মহলের টনক নড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ‘প্রশ্নফাঁস মহাপাপ, এরজন্য দায়ীদের সাজা পেতেই হবে।’
অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে তারা শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং শিক্ষার্থীরা জবাবদিহিতা পাবেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা শিক্ষার্থীদের সাথে বসে সমাধানের চেষ্টা করছেন এবং বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বাসার সামনে ধর্নায় বসেছেন।
মূলত প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ৩ মের পরীক্ষা বাতিলের পর শিক্ষার্থীদের ওপর প্রবল মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছিল। পরবর্তীতে ২১ জুন কঠোর নিরাপত্তায় পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর আগে, ৭ জুন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর-মন্তরে প্রথম প্রতিবাদ সমাবেশ করে নবগঠিত করোচ জনতা পার্টি। এরপর ২৮ জুন লাদাখের অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে আমরণ অনশন শুরু করলে এই আন্দোলন একটি নতুন মাত্রা পায়। ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনকে সামনে রেখে সিজেপি ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু কর্মসূচি ঠেকাতে পুলিশ দুদিন আগে ভোরবেলায় সোনম ওয়াংচুককে জোর করে তুলে নিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।
হাসপাতাল থেকে সোনম ওয়াংচুক ১৯ জুলাই রাতেও জানিয়েছেন, সরকার হাসপাতালে তার সাথে দেখা করে সংসদে আলোচনার আশ্বাস দিলে তিনি অনশন ভাঙতে রাজি। কিন্তু সরকার সময়মতো পদক্ষেপ নেয়নি। ২০ জুলাই সোমবার ভোরে যখন হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী যন্তর-মন্ত্রে সমবেত হয়, তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা দুই ছাত্রনেতাকে ডেকে আলোচনার আশ্বাস দেন। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে যাওয়ায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ে এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশি হামলার পর অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অভিনেত্রী শাবানা আজমী এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজসহ সুশীল সমাজ তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার যদি ৭ জুনের পর সঠিক পদক্ষেপ নিত, তবে নিরীহ শিক্ষার্থীদের রাজপথে মার খেতে হতো না। একেই বলে, সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ