মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:০২ পি.এম
রাজবাড়ীতে পৃথক স্থানে ট্রেনে কাটা অজ্ঞাত এক নারী ও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার এসআই আওলাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত সোমবার দিবাগত রাতে খবর পেয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলার কুটি পাঁচুরিয়া এলাকা থেকে ৫০ বছর বয়সী এক নারী এবং মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার বড়লক্ষীপুর রেললাইনের পাশ থেকে ৩২ বছর বয়সী এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কোন ট্রেনে দূর্ঘটনা ঘটেছে তা জানা যায় নাই। নিহতদের নাম পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।
রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্ব মোছাঃ মাহবুব শাহিনুর বলেন, ঘটনা দ্ইুটির বিষয় তিনি শুনেছেন, তবে অফিসিয়ালি এ বিষয়ে কেউ কিছু জানাননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রামীণ সমাজে বিনোদন, আধ্যাত্মিক চেতনা এবং ইতিহাস সচেতনতা তৈরিতে লোকসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম জারিগান। এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলার আশরাফপুর গ্রামে মরহুম আবুল কাশেম বয়াতির স্মরণে একটি বিশেষ জারিগানের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বয়াতিরা তাদের সুরেলা কণ্ঠে কারবালার শোকগাথা ও ঐতিহ্যবাহী ধুয়া জারি পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে কারবালার ক্ষত ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে জারি গান পরিবেশন করেন বয়াতি সেলিম রেজা। তিনি বলেন, "কারবালার মর্মান্তিক যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের শাহাদাত বরণের বিয়োগান্তক কাহিনীকে কেন্দ্র করে এই গানের উৎপত্তি। তবে বর্তমানে কারবালার কাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা, ধর্মীয় কাহিনী ও সামাজিক সচেতনতামূলক গল্পও জারি গানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। আমার গুরু আবুল কাশেমের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে এই গান শিখেছি।"
অন্যদিকে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে আগত বয়াতি আনারুল হাজিরার বনবাস নিয়ে গান উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, "সাধারণত দেহতত্ত্ব, আধ্যাত্মিকতা, প্রেম-বিচ্ছেদ, সামাজিক চিত্র এবং প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে এই গান পরিবেশন করা হয়। আমি প্রায় ২০ বছর ধরে এই ধুয়া জারি গান পরিবেশন করছি। বাংলাদেশের টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন অঞ্চলেও এটি বেশ জনপ্রিয়।"
অনুষ্ঠানের আয়োজক সাগর বয়াতি জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখার লক্ষ্যে তার বাবা আবুল কাশেম বয়াতির মৃত্যুর পর থেকে তিনি নিয়মিত এলাকা ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বয়াতিদের এনে এ ধরনের অনুষ্ঠান করে আসছেন। তিনি আরও জানান, জারিগান সাধারণত দলগতভাবে গাওয়া হয়। এতে একজন প্রধান বয়াতি থাকেন এবং তার সাথে একদল 'জারিয়াল' বা খেলোয়াড় থাকেন, যারা গানের তালে তালে নেচে নেচে দোহার ধরেন। অনেক সময় দুই দলের মধ্যে 'পাল্লা' বা প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়।
এদিনের আসরে আশরাফপুর গ্রামের সেলিম বয়াতির সাথে দোহার ও বাদ্যযন্ত্রে অংশ নেন আনিস বয়াতি, ইজারুল বয়াতি, বুদু, জামাল ফকির, চান্দু, কাবুর এবং সামাদ ঢোলী। অপরদিকে কুষ্টিয়া দৌলতপুরের আনারুল বয়াতির সাথে ছিলেন হাসেম উদ্দিন, লাড়ু, রফিকুল ঢুলী ও জিলাহক।
বয়াতিরা দাবি করেছেন, এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী জারি গান ধরে রাখতে তারা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন। প্রতিটি জেলায় যদি যারা জারি গান পরিবেশন করে তাদের নিয়ে জেলা শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদান করানো হয়, তাহলে জারি গান সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম কিছু জানতে পারবে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ফারসি শব্দ 'জারি' অর্থ শোক, আর্তনাদ বা বিলাপ। বাংলায় শিয়া সংস্কৃতির প্রভাবে মূলত ১৭শ শতক থেকে জারি গানের সূত্রপাত ঘটে। ১৬৪৫ সালে মুহম্মদ খানের লেখা 'মাকতুল হুসেন' (হুসেনের শাহাদাত) মহাকাব্যের পথ ধরে বাংলায় মার্সিয়া সাহিত্য ও জারি গানের বিকাশ ঘটে। বিশেষ করে মহররম মাসে কারবালার ঐতিহাসিক ও বিয়োগান্তক কাহিনীকে কেন্দ্র করে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে এই গানের উৎপত্তি ও বিস্তার লাভ করে। পরবর্তীতে পল্লীকবি জসীমউদ্দীন ১৯৬৮ সালে তাঁর বিখ্যাত 'জারীগান' গ্রন্থে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই লোকসংগীতের সংকলন প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাটির ঘরের দেয়ালজুড়ে রয়েছে বাহারি আলপনা। কোথাও ফুল ও লতার সূক্ষ্ম নকশা দেখা যাচ্ছে, আবার কোথাও রঙের আঁকিবুঁকি। লেপে-পুছে পরিপাটি করা উঠান ও ঘর যেন এক নতুন রূপ লাভ করেছে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ঘরে ঘরে খইমুড়ি ভাজা এবং লাড়ু মুরগি তৈরির তোরজোরের সাথে বরেন্দ্রভূমির কোল সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ভিন্ন ধরনের আনন্দধারা বইছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের ফিলটিপাড়ায় বর্তমানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কোল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কিশোরী ও তরুণীদের নিপুণ হাতে মাটির দেয়ালে প্রাণ পাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এসব চিত্র।
এক কোল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর গৃহবধূ মন্তব্য করেন, ‘আমাদেরকে ভালো লাগে। আমরা নিজেই ফুল লাগিয়েছি।’
এক শিশু জানায়, ‘এটা আমাদের মা-বাবার কাছ থেকে শিখেছি। এগুলো করতে আমাদের খুব ভালো লাগে।’
এক কিশোরী বলেন, ‘প্রতিবছর এই সাদা দুর্গা পূজার জন্য অপেক্ষা করে থাকি। এই শুভ দিনের ঘর-বাড়ি লেখা-মোছা করে থাকে এবং মনের মাধুরী মিশে দেওয়ালে আল্পনা অঙ্কন করি।’
এক তরুণী জানান, এই পূজো উপলক্ষে মুড়ি ভেজে ওটা দিয়ে নাড়ু বানায়। নারকেলের নাড়ু বানায়। এ পূজোতে অনেক অনেক রকমের নাড়ু বানানো হয়।
গ্রামের নারীদের মধ্যে আল্পনা আঁকা নিয়ে চলে এক ধরনের নীরব প্রতিযোগিতা। কার বাড়ি কত সুন্দর হলো তা নিয়ে আলাদা আগ্রহ রয়েছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় মাটির বাড়ির সংখ্যা দিন দিন কমলেও ঐতিহ্য রক্ষায় এ প্রয়াসে বিন্দুমাত্র কমতি নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফিল্টিপাড়া থেকে শুরু করে রাজশাহীর বাবুডাইংয়ের বিভিন্ন গ্রামে মাটির বাড়ির দেয়ালে ফুটে উঠেছে বৈচিত্র্যময় আল্পনার নকশা। কিশোরী ও তরুণীদের নিপুণ হাতে নতুন রূপ পাচ্ছে বাড়িগুলো। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই আয়োজনেই শারদীয় পূজার আনন্দ খুঁজে পান তারা। দেয়ালের রঙিন রূপ আর ঘরে ঘরে পিঠে-পুলির ঘ্রাণ—এসব নিয়েই বরেন্দ্রভূমির কোল জনগোষ্ঠীর শতবর্ষের সাংস্কৃতিক পরিচয়। যুগের পর যুগ ধরে এই যৌথ উদ্যাপনের মাঝে তারা খুঁজে পান পূজার আসল সার্থকতা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ এরিক টেন হাগ খোলামেলা আলোচনা করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বের কারণ নিয়ে। ডাচ কোচের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কৌশল তৈরি করার সময় রোনালদোকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। কিন্তু মাঠে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি পর্তুগিজ তারকা।
টেন হাগ জানান, ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পূর্বে তিনি রোনালদোর সঙ্গে পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে পর্তুগাল পর্যন্ত গিয়েছিলেন। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে রোনালদোর প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ছিল। তবে, দলের স্বার্থে কোচ হিসেবে তাঁকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, "রোনালদো দলকে এবং আমাকে হতাশ করেছিলেন, কারণ তাঁর উপর ভিত্তি করে অনেক পরিকল্পনা করা হয়েছিল।" তবে, আধুনিক ফুটবলের চাপ এবং দ্রুতগতির আক্রমণাত্মক কৌশলের জন্য রোনালদো তখন প্রয়োজনীয় শারীরিক প্রস্তুতিতে ছিলেন না বলেও উল্লেখ করেন টেন হাগ।
টেন হাগের মতে, রোনালদো বল নিয়ে কিংবা বল ছাড়া প্রয়োজনীয় দৌড় দিতে পারছিলেন না। অথচ দলের স্বার্থে প্রত্যেক খেলোয়াড়কেই তাঁদের ভূমিকা পালন করতে হয়। এই কারণে শেষ পর্যন্ত রোনালদোকে বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
রোনালদো এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সম্পর্কের শেষটা ছিল আরও বড় বিতর্কের মধ্য দিয়ে। ২০২২ সালের শেষ দিকে সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে একটি বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে রোনালদো ক্লাবের ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেন। এরপর পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে ইউনাইটেড ছাড়েন তিনি। পরবর্তীতে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরে যোগ দিয়ে গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুক্তির মাত্র তিন দিন বাকি রয়েছে। এর মধ্যেই আইনগত জটিলতার কারণে আটকে গেছে আয়ুষ্মান খুরানা ও সারা আলি খান অভিনীত নতুন সিনেমা ‘উড়তা তীর’। ২৩ অক্টোবর মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে নেপালের প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির প্রদর্শনের অনুমতি মেলেনি। নেপালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অনুমতি না দেওয়ার ফলে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
করণ জোহরের প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে নির্মিত ছবিটির ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে মুক্তির ঠিক আগে নেপালে ছবিটির প্রদর্শন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, নেপালের কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড ছবিটি পর্যালোচনা করার পর দেশটির চলচ্চিত্র আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অডিও-ভিজ্যুয়াল ও সম্প্রচার বিভাগ ছবিটির প্রদর্শনের অনুমতি দেয়নি। এই সিদ্ধান্ত ন্যাশনাল চলচ্চিত্র আইন ২০২৬-এর ৮(৩) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে নেওয়া হয়েছে।
কাঠমান্ডুর অলোকনগরে অবস্থিত ন্যাশনাল সিনেমা গ্রুপ নেপাল প্রাইভেট লিমিটেডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে ছবির কোন দৃশ্য বা বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি উঠেছে, তা এখনো স্পষ্ট করেনি নেপাল কর্তৃপক্ষ। ফলে ছবিটিকে কেন সংশ্লিষ্ট আইনের পরিপন্থী মনে করা হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
কী আছে ‘উড়তা তীর’-এর গল্পে?
স্পাই-কমেডি ঘরানার এই ছবিতে বিলাল আহমেদ নামের এক পাকিস্তানি গুপ্তচরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আয়ুষ্মান খুরানা। গল্পের প্রেক্ষাপট একটি দুর্ঘটনার পর বিলালের স্মৃতিশক্তি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে। এরপর সে ভুলবশত নিজেকে ভারতীয় গুপ্তচর বলে মনে করতে শুরু করে। এই অদ্ভুত পরিস্থিতি এবং তা থেকে উদ্ভূত নানা ঘটনা ঘিরেই ছবির কাহিনী এগিয়েছে।
আয়ুষ্মান ও সারা ছাড়াও সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন রাহুল বোস, রাম কাপুর, মুকুল দেব ও সুপ্রিয়া পিলগাঁওকরসহ আরও অনেকে।
মুক্তির আগে নেপালে প্রদর্শনের অনুমতি না পাওয়ায় ছবিটির আন্তর্জাতিক মুক্তি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র নেপালের প্রদর্শনেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি অন্য কোথাও মুক্তির ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ