প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শিক্ষা দূর্নীতি ও অনিয়মের তদন্তের প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাকে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার ১৯ জুলাই লালুয়া এস.কে.জে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটেছিল। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুনায়েত হোসেন খানের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে তদন্তে গিয়েছিলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এই সময়, প্রধান শিক্ষক তার ভারাটে গুন্ডার মাধ্যমে তদন্ত কাজে বাধা প্রদান করে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন অভিযোগকারীদের সাথে। এই ঘটনার ফলে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীসহ স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের আওয়ামী ক্ষমতার দাপটে অনিয়মের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হয়েছেন জুনায়েত হোসেন খান। কলাপাড়ায় আদালতে এই ঘটনায় একটি মামলা চলমান রয়েছে। বিদ্যালয়ের অর্থ পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে কখনো জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেননি। শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের সাথে কর্কস আচরণের আভাস পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে পরবর্তীতে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এমনকি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে রাজনীতি ও সালিশ বানিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তিনি আওয়ামী লীগের বড় পদের সদস্য বলে পরিচয় দেন।
স্থানীয় সমাজ সেবক আলাউদ্দিন তালুকদার, সাবেক অভিভাবক সদস্য সাহাবুদ্দিন হাওলাদার, অভিভাবক জহিরুল ইসলাম, শহিদ তালুকদার ও রবিউল জানান, অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষক হয়ে নানা অনিয়ম-দূর্নীতি করেন জুনায়েত হোসেন। তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করতে এলে প্রধান শিক্ষক তার ভারাটে গুন্ডা রিগান চৌকিদার, শহিদুল চৌকিদার ও অহিদুল চৌকিদার সহযোগী হয়ে তদন্ত কাজে বাধা প্রদান করে। এ কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত কাজ স্থগিত করে চলে যেতে বাধ্য হন। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং খারাপ আচরণের বিচারের দাবি জানান তারা। লালুয়া এস.কে.জে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ে তদন্ত চলাকালে কয়েকজন এসে অভিযোগকারীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করে এবং প্রায়ই শোকাজের ভয় দেখান।
অভিযুক্ত ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুনায়েত হোসেন খান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য সমবায় অফিসার, গন্যমান্য ব্যক্তি ও অভিযোগকারীরা উপস্থিত ছিলেন। এখানে যারা তর্ক করেছেন তাদের তিনি চেনেন না। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানিয়েছেন, যদি তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে কঠোর ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন