০৮:৫৬ এম
খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় স্বল্প আয়ের ৫৫ লাখ পরিবারকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে ১৫ টাকা কেজি দরে বছরের ছয় মাস চাল দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন প্রস্তাব ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল দেশ এবং এই বিশাল জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। তবে বর্তমান সরকার এর জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকারের উদ্যোগের মধ্যে খাদ্য-শস্য ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
মন্ত্রী শনাক্ত করেন যে, এসব কার্যক্রম প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ২৫ লাখের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি প্রদান করবে।
এ উদ্যোগের ফলে এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ গ্রহণের বিপরীতে উদ্যোক্তাদের প্রকৃত সুদের হার বিদ্যমান বাজার ভিত্তিক সুদের থেকে অর্ধেকেরও কম হবে, যা শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে।
এছাড়া, এটি বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধিতে একটি বড় ভূমিকা রাখবে এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। এটি জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে নির্বাহ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন