প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং টেকসই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে শূন্য শতাংশ কর হার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে, সৌরবিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিপরীতে ব্যবহারকারীদের জন্য ৫ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা জানান।
মন্ত্রী বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ৪ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ কমিয়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে, রিফাইনারির ক্ষেত্রে জ্বালানি তেল সরবরাহে উৎসে করের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় আরো বলেন, নবায়নযোগ্য ও টেকসই জ্বালানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপদ উৎস সৌরবিদ্যুৎ খাতের প্রসারে এ খাত সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতের ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের স্বার্থে প্রজ্ঞাপনটি ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরবর্তীতে, সরকার দেশের এ খাত সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর রেয়াতি সুবিধা ২০২৮ সালের ৩০ জুনের পর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে। সরকারের আশায় রয়েছে যে, ২০২৮ সালের মধ্যে দেশে এসব পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা ১ কেভিএ পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার শিল্পকে শক্তিশালী শুল্ক সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে এ ধরনের ট্রান্সফরমার আমদানিতে বিদ্যমান ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ করার এবং নতুন করে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুতের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃক কয়লা আমদানিতে শুল্ক-কর রেয়াত সুবিধা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের মেয়াদ ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেছেন, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ লাখের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এ স্কিম থেকে উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে। এর ফলে, এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ গ্রহণের বিপরীতে উদ্যোক্তাদের প্রকৃত সুদের হার বিদ্যমান বাজার ভিত্তিক সুদ অপেক্ষা অর্ধেকেরও কম হবে, যা শিল্প খাতের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে। এর বাইরেও, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।
বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধিতে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস হতে নির্বাহ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহের কথা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন