প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
থাইল্যান্ডের রাজকুমারী বজ্রকিতিয়াভা মারা গেছেন তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কোমায় থাকার পর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, শুক্রবার সকালবেলা থাই রাজপ্রাসাদ এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৪৭ বছর।
রাজপ্রাসাদের তথ্যমতে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে কুকুর নিয়ে ব্যায়াম করার সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে যান তিনি। চিকিৎসকেরা পরে জানান, হৃদযন্ত্রে মাইকোপ্লাজমা সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট গুরুতর অনিয়মিত হৃদস্পন্দনই তার অচেতন হওয়ার জন্য দায়ী।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, চিকিৎসক দল সর্বোচ্চ এবং নিবিড় চিকিৎসাসেবা দিলেও তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে ব্যাংককের চুলালংকর্ন হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
রাজকুমারী বজ্রকিতিয়াভা ছিলেন রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সাত সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। ১৯৭৮ সালের ৭ ডিসেম্বর তিনি রাজা ভাজিরালংকর্ন ও তার প্রথম স্ত্রী প্রিন্সেস সোমসাওয়ালির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি শিক্ষজীবনে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনের শুরুর দিকে তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘে থাইল্যান্ডের মিশনে কাজ করেন। এছাড়া দেশে ফিরেও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি অস্ট্রিয়ায় থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন এবং কারাগার সংস্কার, বিশেষ করে নারী বন্দিদের অধিকার নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
পরবর্তীতে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আইনের শাসনবিষয়ক ইউএনওডিসির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং থাইল্যান্ডের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কারের পক্ষে সোচ্চার হন।
২০২১ সালে রাজা ভাজিরালংকর্ন তাকে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেন এবং জেনারেল পদমর্যাদা প্রদান করেন।
ফিটনেসপ্রেমী হিসেবে পরিচিত বজ্রকিতিয়াভা দীর্ঘ দূরত্বের দৌড় প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নিতেন। তার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং রাজার আস্থাভাজন হওয়ার কারণে অনেকেই তাকে থাইল্যান্ডের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করতেন। রাজা ভাজিরালংকর্ন, যিনি বর্তমানে ৭৩ বছর বয়সী, এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উত্তরাধিকারীর নাম ঘোষণা করেননি। যদিও থাই রীতি অনুযায়ী সিংহাসনের উত্তরাধিকারী সাধারণত পুরুষ হন, ১৯৭৪ সালের সাংবিধানিক সংশোধনী নারীদেরকে সিংহাসনে আরোহণের সুযোগ দিয়েছে।
রাজকুমারীর মৃত্যুতে থাইল্যান্ডের রাজপরিবার তাদের অন্যতম প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ সদস্যকে হারিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, এ ঘটনার ফলে দেশটির রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার প্রশ্নটি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সূত্র : বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন