ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুতে শূন্য শতাংশ কর রাখার প্রস্তাব


২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুতে শূন্য শতাংশ কর রাখার প্রস্তাব

পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং টেকসই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে শূন্য শতাংশ কর হার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে, সৌরবিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিপরীতে ব্যবহারকারীদের জন্য ৫ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা জানান।

মন্ত্রী বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ৪ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ কমিয়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে, রিফাইনারির ক্ষেত্রে জ্বালানি তেল সরবরাহে উৎসে করের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

মন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় আরো বলেন, নবায়নযোগ্য ও টেকসই জ্বালানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপদ উৎস সৌরবিদ্যুৎ খাতের প্রসারে এ খাত সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতের ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের স্বার্থে প্রজ্ঞাপনটি ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরবর্তীতে, সরকার দেশের এ খাত সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর রেয়াতি সুবিধা ২০২৮ সালের ৩০ জুনের পর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে। সরকারের আশায় রয়েছে যে, ২০২৮ সালের মধ্যে দেশে এসব পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা ১ কেভিএ পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার শিল্পকে শক্তিশালী শুল্ক সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে এ ধরনের ট্রান্সফরমার আমদানিতে বিদ্যমান ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ করার এবং নতুন করে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুতের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃক কয়লা আমদানিতে শুল্ক-কর রেয়াত সুবিধা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের মেয়াদ ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

মন্ত্রী বলেছেন, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ লাখের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এ স্কিম থেকে উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে। এর ফলে, এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ গ্রহণের বিপরীতে উদ্যোক্তাদের প্রকৃত সুদের হার বিদ্যমান বাজার ভিত্তিক সুদ অপেক্ষা অর্ধেকেরও কম হবে, যা শিল্প খাতের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে। এর বাইরেও, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধিতে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস হতে নির্বাহ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহের কথা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজা আলোচনা এগোচ্ছে, তবু থামছে না হামলা: হামাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১২ এম


গাজা আলোচনা এগোচ্ছে, তবু থামছে না হামলা: হামাস

গাজা ইস্যুকে কেন্দ্র করে মিশরের কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই আলোচনার মধ্যেও উপত্যকায় ইসরাইলি আগ্রাসন থামছে না। দখলদারদের হামলায় নতুন করে আরও এক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

যুদ্ধবিরতি চলমান থাকা সত্ত্বেও গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্থানীয় সময় দক্ষিণ গাজা সিটির আল-মাগরাবি জংশনের কাছে একটি বাড়িতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে দখলদারদের দ্বারা। এই ঘটনায় কয়েকজন ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছেন।

স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরের মাঝামাঝি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় প্রায় এক হাজার ফিলিস্তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে প্রয়োজন থাকা অন্তত ১৬ হাজার ৫০০ জন ফিলিস্তিনিকে গাজা ছাড়তে দেয়নি ইসরাইল। তারা একটি বিবৃতিতে জানায়, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও রোগীদের বাইরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রয়েছে, যা অনেক রোগীর চিকিৎসাকে বিলম্বিত করছে এবং তাদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

অন্যদিকে, মিশরের রাজধানী কায়রোতে হামাস ও মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে চলছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান বলেন, "ফিলিস্তিনি জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ইসরাইলের লক্ষ্য ব্যর্থ করাই আলোচনা পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য।" তিনি উল্লেখ করেন, এই আলোচনা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি আনতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া পশ্চিম তীর ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হামাস ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তা সমন্বয়ের মাধ্যমে গ্রেফতার ও দমননীতিতে সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে। সংগঠনের দাবি, এতে প্রতিরোধ আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং রাজনৈতিক বন্দিদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে, পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে একটি গাড়ি জব্দ করেছে ইসরাইলি বাহিনী। জেনিনে সামরিক অভিযানের সময় বিস্ফোরক হামলায় কয়েকজন ইসরাইলি সেনা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, ফরাসি সাংবাদিক অ্যালিস ফ্রুসার্ডকে ইসরাইল থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। যদিও তার কাছে বৈধ কাগজপত্র ছিল, তবুও গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে প্রতিবেদন করতে গিয়ে বিমানবন্দরে তাঁকে আটকে দেওয়ার অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিন বছর কোমায় থাকার পর থাই রাজকুমারীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ এম


তিন বছর কোমায় থাকার পর থাই রাজকুমারীর মৃত্যু

থাইল্যান্ডের রাজকুমারী বজ্রকিতিয়াভা মারা গেছেন তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কোমায় থাকার পর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, শুক্রবার সকালবেলা থাই রাজপ্রাসাদ এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৪৭ বছর।

রাজপ্রাসাদের তথ্যমতে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে কুকুর নিয়ে ব্যায়াম করার সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে যান তিনি। চিকিৎসকেরা পরে জানান, হৃদযন্ত্রে মাইকোপ্লাজমা সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট গুরুতর অনিয়মিত হৃদস্পন্দনই তার অচেতন হওয়ার জন্য দায়ী।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, চিকিৎসক দল সর্বোচ্চ এবং নিবিড় চিকিৎসাসেবা দিলেও তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে ব্যাংককের চুলালংকর্ন হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

রাজকুমারী বজ্রকিতিয়াভা ছিলেন রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সাত সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। ১৯৭৮ সালের ৭ ডিসেম্বর তিনি রাজা ভাজিরালংকর্ন ও তার প্রথম স্ত্রী প্রিন্সেস সোমসাওয়ালির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি শিক্ষজীবনে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনের শুরুর দিকে তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘে থাইল্যান্ডের মিশনে কাজ করেন। এছাড়া দেশে ফিরেও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি অস্ট্রিয়ায় থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন এবং কারাগার সংস্কার, বিশেষ করে নারী বন্দিদের অধিকার নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

পরবর্তীতে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আইনের শাসনবিষয়ক ইউএনওডিসির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং থাইল্যান্ডের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কারের পক্ষে সোচ্চার হন।

২০২১ সালে রাজা ভাজিরালংকর্ন তাকে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেন এবং জেনারেল পদমর্যাদা প্রদান করেন।

ফিটনেসপ্রেমী হিসেবে পরিচিত বজ্রকিতিয়াভা দীর্ঘ দূরত্বের দৌড় প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নিতেন। তার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং রাজার আস্থাভাজন হওয়ার কারণে অনেকেই তাকে থাইল্যান্ডের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করতেন। রাজা ভাজিরালংকর্ন, যিনি বর্তমানে ৭৩ বছর বয়সী, এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উত্তরাধিকারীর নাম ঘোষণা করেননি। যদিও থাই রীতি অনুযায়ী সিংহাসনের উত্তরাধিকারী সাধারণত পুরুষ হন, ১৯৭৪ সালের সাংবিধানিক সংশোধনী নারীদেরকে সিংহাসনে আরোহণের সুযোগ দিয়েছে।

রাজকুমারীর মৃত্যুতে থাইল্যান্ডের রাজপরিবার তাদের অন্যতম প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ সদস্যকে হারিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, এ ঘটনার ফলে দেশটির রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার প্রশ্নটি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সূত্র : বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমুদ্রের তলদেশে বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার উদ্বোধন চীনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৮ এম


সমুদ্রের তলদেশে বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার উদ্বোধন চীনের

চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তারজনিত বাড়তে থাকা জ্বালানি চাহিদা মোকাবিলায় অভিনব এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।  দেশটি সাংহাই উপকূলের কাছে সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করেছে, যা প্রযুক্তি ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

‘সাংহাই লিংগাং আন্ডারসি ডেটাসেন্টার ডেমোনস্ট্রেশন প্রজেক্ট’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পটি চালু হয় চলতি বছরের মে মাসে। বর্তমানে, এর উৎপাদন সক্ষমতা ২৪ মেগাওয়াট। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে হাইক্লাউড টেকনোলজি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম অনুসারে, সাংহাই উপকূল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ মিটার গভীরে স্থাপন করা হয়েছে এই ডেটাসেন্টার। এর প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে কাছাকাছি থাকা উপকূলীয় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে, যা এটিকে পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব শক্তিনির্ভর করে তুলেছে।

চীনা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রচলিত স্থলভাগের ডেটাসেন্টারগুলোর তুলনায় এই আন্ডারসি ডেটাসেন্টারটি ২০ শতাংশেরও বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সক্ষম। এর অন্যতম কারণ হলো সমুদ্রের পানির স্বাভাবিক শীতল পরিবেশ, যা সার্ভার ঠান্ডা রাখতে অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন কমিয়ে দেয়। যেখানে স্থলভাগের ডেটাসেন্টারগুলোর কুলিং সিস্টেমেই মোট বিদ্যুতের ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ হয়, সেখানে এই প্রযুক্তি সেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনছে।

এছাড়া, পানির নিচে ডেটাসেন্টার স্থাপনের ফলে সুপেয় পানির ব্যবহারও কমে যাচ্ছে, যা বর্তমান সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত বিবেচনা। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ডেটাসেন্টারগুলোতে পানির ব্যবহার বিপুল পরিমাণে বেড়ে যেতে পারে-যা বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে।

এদিকে, পানির নিচে ডেটাসেন্টার স্থাপনের ধারণা নতুন নয়। এর আগে ২০১৮ সালে মাইক্রোসফট স্কটল্যান্ডের অর্কনি দ্বীপপুঞ্জের কাছে পরীক্ষামূলকভাবে এমন একটি প্রকল্প চালু করেছিল। যদিও পরবর্তীতে সেই উদ্যোগ আর এগিয়ে যায়নি, তবে চীন এবার সেই ধারণাকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারের চাহিদা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সরকারের নীতিগত সহযোগিতার সমন্বয়েই চীন এই খাতে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশটি ইতোমধ্যে এআই খাতকে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিনির্ভর অবকাঠামো আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রেখেছে।

তবে, এই উদ্যোগের কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। সমুদ্রের তলদেশে স্থাপনা নির্মাণের ফলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে প্রভাব পড়তে পারে-যেমন পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা তলদেশের পলিমাটি বিঘ্নিত হওয়া। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলেন, যথাযথ নজরদারি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। উল্লেখ্য, সমুদ্রের তলদেশে বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালুর মাধ্যমে প্রযুক্তি, জ্বালানি ও পরিবেশ- এই তিন ক্ষেত্রেই এক নতুন যুগের সূচনা করল চীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্লিনিক্যাল শিক্ষায় এআইভিত্তিক চিকিৎসা জ্ঞান অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ এম


ক্লিনিক্যাল শিক্ষায় এআইভিত্তিক চিকিৎসা জ্ঞান অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ইন্টিগ্রেটেড মডিউলার পদ্ধতি, আধুনিক ক্লিনিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক চিকিৎসা জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা জানান।

তিনি বলেছেন, লক্ষ্য হচ্ছে মানসম্মত, মানবিক ও আধুনিক চিকিৎসক তৈরির জন্য এমবিবিএস শিক্ষার বর্তমান কারিকুলামে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা। এ লক্ষ্য পূরণের জন্য ইন্টিগ্রেটেড মডিউলার পদ্ধতি, আধুনিক ক্লিনিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(এআই)- ভিত্তিক চিকিৎসা জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করে এমবিবিএস কারিকুলামকে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, দক্ষতা-ভিত্তিক ও ভবিষ্যৎমুখী নতুন এমবিবিএস কারিকুলাম চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে বিডিএস ও অ্যালাইড হেলথ শিক্ষার কারিকুলামও হালনাগাদ করা হবে।

দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজকে আধুনিক, মানসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশেষভাবে পুরাতন মেডিকেল কলেজসমূহের একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি, হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ সুবিধাসমূহ আধুনিকায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের জন্য একটি নিরাপদ, উন্নত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রী জানান, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ লাখের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এই স্কিম থেকে উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে। এর ফলে এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ গ্রহণের বিপরীতে উদ্যোক্তাদের প্রকৃত সুদের হার বিদ্যমান বাজার ভিত্তিক সুদ অপেক্ষা অর্ধেকেরও কম হবে, যা শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে। এছাড়াও, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধিতে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস হতে নির্বাহ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%