শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৩ পি.এম
প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) সঙ্গে লুইস এনরিকের সম্পর্ক সম্প্রসারিত হলো। ফরাসি ক্লাবটি স্প্যানিশ এই কোচের সঙ্গে নতুন করে তিন বছরের চুক্তি সম্পাদন করেছে। এর ফলে ২০২৭ সালে শেষ হতে যাওয়া পূর্ববর্তী চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পৌঁছেছে।
শুক্রবার, মোনাকোর বিপক্ষে লিগ ম্যাচের আগে এনরিকের চুক্তি নবায়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে পিএসজি। একই দিনে, ক্লাবের আরও পাঁচ ফুটবলারের সঙ্গে নতুন চুক্তির কথাও জানানো হয়।
পিএসজি সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি মন্তব্য করেন, "এই খেলোয়াড় ও এনরিকে ক্লাবের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।" তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের মূল্যবোধ বজায় রাখার কথাও বলেছেন।
চুক্তি নবায়নের ঘোষণার পর এনরিক ঘরের মাঠে সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা লাভ করেন। কিন্তু পিএসজি পুরোপুরি আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি, কারণ তারা মোনাকোর কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়ে নতুন লিগ মৌসুমে টানা তিন ম্যাচে জয়হীন রয়ে গেল।
ম্যাচ শেষে এনরিকে নিজের নতুন চুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন। ৫৬ বছর বয়সী এই কোচ জানান, "এটি আমার কোচিং ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো কোনো ক্লাবে তিন বছরের বেশি সময় থাকার সুযোগ।" তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনের তুলনায় এখন তিনি নিজেকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত অনুভব করছেন।
২০২৩-২৪ মৌসুমের আগে ক্রিস্তফ গালতিয়েরের স্থানে পিএসজির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এনরিকে। এরপরই ক্লাবটি দীর্ঘদিনের অধরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য পূরণ করে। ২০২৫ সালের ফাইনালে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে পরাজিত করে পিএসজি প্রথমবার ইউরোপসেরার মুকুট অর্জন করে। গত মে মাসে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা ঘরে তোলে ফরাসি ক্লাবটি।
এনরিকের অধীনে পিএসজি এখন পর্যন্ত তিনটি লিগ ওয়ান এবং দুটি ফরাসি কাপ জিতেছে।
কেবল কোচ নয়, ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কেও ধরে রাখছে পিএসজি। জোয়াও নেভেস, লুকাস বেরালদো, উইলিয়ান পাচো ও সেনি মায়ুলুর নতুন চুক্তির মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফাবিয়ান রুইসের চুক্তি আগামী মৌসুমের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, সঙ্গে আরও এক বছর মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের একটি কক্ষে টাঙানো মশারির ওপর থেকে বিষধর কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে হলের ১২১ নম্বর কক্ষে শিক্ষার্থীরা সাপটি দেখতে পান।
শিক্ষার্থীরা সাপটি দেখার পর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সোয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পাওয়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই সামিত ও সাজ্জাদ নামের দুই স্বেচ্ছাসেবক সাপটি উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারীরা জানান, সাপটি ‘পাতি কালাচ’ বা ‘পাতি কেউটে’ (Common Krait) প্রজাতির এবং এটি বিষধর।
উদ্ধাকারী সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচারের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ শেখ জানান, কালাচ সাপ অনেক সময় খাবারের সন্ধানে কিংবা আশ্রয়ের জন্য মানুষের বসতঘরে এবং বিছানায় উঠে আসতে পারে। এ ধরনের সাপের উপস্থিতি এড়াতে ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রাতে মশারি বিছানার সঙ্গে ভালোভাবে গুঁজে ঘুমানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সোয়ানের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ ও বন বিভাগের নির্দেশনা ছাড়া কেউ যেন কোনো অবস্থাতেই বন্যপ্রাণী ধরতে বা স্পর্শ করতে না যান। এতে সাপের কামড়সহ অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ ফুকেট থেকে দিল্লিতে আসা একটি ফ্লাইটের পাইলটকে মাদক পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার কারণে বরখাস্ত করেছে। শুক্রবার বিমান সংস্থাটি তাৎক্ষণিকভাবে তার চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ফ্লাইটটির পাইলট-ইন-কমান্ডের শরীরে সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক বিধি লঙ্ঘনের কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ টেস্টের ফলাফলে এয়ার ইন্ডিয়ার ওই প্রধান পাইলটের দেহে গাঁজার উপস্থিতি ধরা পড়েছে।
ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (এএআইবি) প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফ্লাইটটি অবতরণের পর দুই পাইলটেরই পরীক্ষা করা হয়। কো-পাইলটের পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ হলেও পাইলট-ইন-কমান্ডের নমুনা প্রথম পরীক্ষায় নন-নেগেটিভ আসে। পরবর্তী নিশ্চিতকরণ রক্ত পরীক্ষাতেও একই ফলাফল পাওয়া যায়।
তবে মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে ফ্লাইটের অস্বাভাবিক উচ্চতা হারানোর সরাসরি কোনো সম্পর্ক এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলমান রয়েছে।
৪ আগস্টের ওই ফ্লাইটে ১৩৭ জন যাত্রী এবং আটজন ক্রু ছিলেন। বিমানটি ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। এ সময় তিনটি হাইড্রলিক ব্যবস্থায় চাপ কমে যায়। অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর দুই সেকেন্ডের জন্য স্টল সতর্কবার্তাও চালু হয়।
ঘটনার সময় বিমানটি নির্ধারিত উচ্চতার চেয়ে ৩৭২ ফুট ওপরে ওঠে এবং পরে ২৯২ ফুট নিচে নেমে যায়। কো-পাইলট পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পর হাইড্রলিক ব্যবস্থাগুলো স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।
অস্বাভাবিক উচ্চতা পরিবর্তনের সময় সিটবেল্টের সংকেত বন্ধ থাকায় যাত্রী ও কেবিন ক্রুদের কয়েকজন আহত হন। দিল্লিতে অবতরণের পর ২০ জন যাত্রী এবং চারজন কেবিন ক্রুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চারজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
ঘটনার ফলে বিমানের কেবিনের ছাদের প্যানেল, হাতল, ওভারহেড বিনের দরজা এবং অন্যান্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্লাইটের রেকর্ডার, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনাসংক্রান্ত নথি এবং হাইড্রলিক ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করছে এএআইবি।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া,
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কাঞ্চনপুর চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিয়াকৈর ফুলবাড়িয়া-মাওনা আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি। নিহতের মধ্যে এক নারী (৪৫), এক ছেলে ও একজন পুরুষ (৫০) রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, কালিয়াকৈর থেকে ৪/৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় যাচ্ছিল। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি কালিয়াকৈর-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের কাঞ্চনপুর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কভার্ডভ্যানে সঙ্গে যাত্রীবাহী ওই সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজি অটোরিকশারচালকসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অটোরিকশার ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার কাফু, যিনি দুবারের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য, সুবিধাবঞ্চিত কিশোরীদের সঙ্গে ফুটবল মাঠে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। তিনি তাদের খেলার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং খেলাধুলা ও শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের স্বপ্ন পূরণে উদ্বুদ্ধ করেন।
২০০২ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলের অধিনায়ক এবং ১৯৯৪ সালে শিরোপাজয়ী দলের সদস্য হিসেবে পরিচিত কাফু মুম্বাইভিত্তিক ‘ড্রিমিং ইন স্লামস ফাউন্ডেশন’ পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি খুদে ফুটবলারদের সঙ্গে সময় কাটান। এই সময় কিংবদন্তি ফুটবলার তাদের সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচে অংশগ্রহণ করেন এবং মাঠ থেকেই বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন।
ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় এই তারকার সঙ্গে খেলার সময় কিশোরীদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ স্পষ্ট ছিল। এই ফাউন্ডেশনটি শহরের সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মেয়েদের নিয়ে কাজ করে। ফুটবলকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে তারা জীবনদক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে। এই কর্মসূচিটি ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য পরিচালিত হয়।
খেলাধুলার সাথে শিক্ষার সমন্বয়ের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলার সময় কাফু বলেন, "শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে ফুটবল বড় ভূমিকা রাখতে পারে।" তিনি যোগ করেন, "যেসব শিশু পড়াশোনা ও ফুটবল উভয়ই চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের প্রতি আমার পরামর্শ হলো তারা যেন এই পথেই এগিয়ে যায়।" কাফু উল্লেখ করেন, খেলাধুলা হলো বিশ্বের অন্যতম সেরা মাধ্যম, যার সাহায্যে সমাজে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, "খেলাধুলা আপনাকে ভবিষ্যৎ, শিক্ষা ও সামাজিকীকরণের সুযোগ করে দেয় এবং প্রচুর সম্মানও এনে দেয়।" কাফু মনে করেন, স্কুল ও ফুটবলের এই সমন্বয়টি চমৎকার। এর ফলে শিশুরা সমাজের মূলধারায় মিশতে পারে এবং প্রশিক্ষণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠে; ভবিষ্যতের জন্য এ ধরনের পদ্ধতিই শ্রেয়।
খুদে ফুটবলারদের সঙ্গে দেখা করে কাফু বেশ আনন্দিত হন এবং তাদের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হওয়ার কথা জানান। ব্রাজিলের কিংবদন্তি বলেন, "অভিজ্ঞতাটি দারুণ ছিল। আমার মনে হয় বিশ্বজুড়ে মানুষ আমাকে ভালোবাসে। বিষয়টি অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক।" তিনি উল্লেখ করেন, "আমি শিশুদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সম্মান পেয়েছি তা সত্যিই অসাধারণ, অথচ তারা আমাকে খেলতে দেখার সুযোগ খুব একটা পায়নি।" কাফু বলেন, "এটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ভারতে আসতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।"
কাফু আরও বলেন, "তাদের এই ভালোবাসা অনুভব করে আমি অত্যন্ত খুশি।" ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম দেখে তিনি মুগ্ধ ও আনন্দিত। তিনি বলেন, "এখানে আসতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে।" ব্রাজিলের সাবেক এই অধিনায়ক ভারতে ফুটবলের উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, "বিনিয়োগ ও পেশাদার দক্ষতার বিকাশ অব্যাহত থাকলে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ছাপ ফেলার মতো সক্ষমতা ভারতের রয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ