ফাতিমা আক্তার মিম কাঠালিয়া সংবাদদাতা
১১:০৪ এম
"শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কাঠালিয়া-রাজাপুরসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রীতি।"
দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি হিংসা-বিদ্বেষ, অন্যায় ও অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে সত্য, ন্যায় ও শান্তির বার্তা নিয়ে আসে। আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক—এই শুভ কামনায়।
আসুন, সকল ভেদাভেদ ভুলে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।
শারদীয় শুভেচ্ছা! শুভ দুর্গাপূজা!
শুভেচ্ছা আন্তে:
হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা
গণমানুষের নেতা (কাঠালিয়া-রাজাপুর)
সভাপতি, নিউ ইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপি, যুক্তরাষ্ট্র
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামাল ভাইয়ের সাথে আমার ঘনিষ্ঠ পরিচয় ২০০৮ সালে তার নির্বাচনী প্রচারণায় চিংড়াখালী মিয়াজি দরবারে এসেছিলেন সেই থেকে। খুব কাছ থেকে দেখেছি। বহু গল্প, বহু কথা, বহু রাজনৈতিক ঘটনার রাজসাক্ষী আমি। ঝালকাঠি বিএনপি এবং কাঠালিয়া- রাজাপুরে তার রাজনৈতিক বিচরণে সীমাহীন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তার অবিস্মরণীয় উত্থানের রাজসাক্ষী আমি। কাঠালিয়ার মাত্র কয়েকজন মানুষ আমরা তার অফিসে যাতায়াত করতাম। তৎকালীন সময় তার অফিসে যাওয়া হ্যাডাম নেতা কর্তৃক নিষিদ্ধ ছিল।
একটা সময় ছিল জামাল ভাইকে জেলা বিএনপির কমিটিতে নেয়া হয়নি। হেডাম নেতা কর্তৃক নির্যাতিত ছিলেন তিনি। সাধারণ কর্মীরা তার সাথে দেখা করতে ভয় পেত।
বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান তাকে ঝালকাঠি জেলা বিএনপি পুনর্গঠনের দায়িত্ব দিলেন। জনাব শাহজাহান ওমরের বিরুদ্ধে গিয়ে ঝালকাঠি বিএনপি কমিটি করা দুষ্কর ছিল। কেউ তো তখন বিশ্বাস-ই করেনি এটা সম্ভব। অনেকেই সাহস করেনি কমিটিতে আসার। অবশেষে ঝালকাঠি বিএনপির কমিটি পাশ হলো। তিনি হলেন জেলা বিএনপি'র সদস্য। বাধা, হুংকার, সিংহের গর্জন আসতে থাকলো। কোথাও কমিটি করতে দেয়া হবে না। যাই হোক জামাল ভাইয়ের নেতৃত্বে সকল কমিটি হলো। মামলা, হামলা জেলখাটা, রাজপথে রক্ত দেয়া সবই তার ভাগ্যে ছিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান তাকে কেন্দ্রীয় ওলামাদল পুনর্গঠনের দায়িত্ব দিলেন। শুরু হলো তার সাংগঠনিক দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ। ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন হলো। সারা বাংলাদেশে ওলামা দলকে নিয়ে ঘুরে বেড়ালেন। একটি শক্তিশালী অঙ্গ সংগঠনের রূপান্তরিত করলেন। সাংগঠনিক নিপুন দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করলেন। এরপর আর তাকে পিছু ফিরতে হয়নি।
তারপর বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, ঝালকাঠি ১ আসন কাঠালিয়া রাজাপুরের মাননীয় এমপি, ধর্মবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি।
একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উত্থান কখনোই শুধু পদ-পদবির গল্প নয়; এটি দীর্ঘ পথচলা, প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া, মানুষের সঙ্গে সংযোগ এবং সময়ের পরীক্ষায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার গল্প। তাঁর রাজনৈতিক পথচলার প্রতিটি অধ্যায় যেন একেকটি অভিজ্ঞতার দলিল। বাধা এসেছে, কঠিন সময় এসেছে—তবুও পথচলা থেমে থাকেনি। ধৈর্য্, দৃঢ়তা, সততা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের অবস্থানকে ক্রমশ দৃশ্যমান করেছেন।
চরম প্রতিকূলতা কখনো কখনো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির পথকে থামিয়ে দেয় না; বরং তাঁর রাজনৈতিক যাত্রাকে আরও দৃঢ় ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। অসংখ্য বাধা, প্রতিকূল পরিবেশ, রাজনৈতিক চাপ, সমালোচনা এবং আওয়ামী দুশাসনের কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েও তিনি তাঁর রাজনৈতিক পথচলা অব্যাহত রেখেছেন। ১৭ বছরের আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সীমাহীন জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। একদিকে তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন অন্যদিকে দলীয় প্রভাবশালী নেতা জনাব শাহজাহান ওমরের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে তিনি ঝালকাঠি বিএনপিকে রক্ষা করেছিলেন। জনাব শাজাহান ওমর যেদিন বিএনপির সাথে বেইমানি করে আওয়ামী লীগে গিয়ে এমপি হলেন। বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মী ওমর লীগে যোগ দিল। সে ঘোষণা করলো রাজাপুর কাঠালিয়া কোন বিএনপি নামক সংগঠন নাই। দলীয় নেতাকর্মীরা ছিল অসহায়, নিশ্চুপ, দিশহারা। অনেকে হৃদয়ে বিএনপি ধারণ করলেও মুখে বলতে সাহস পেত না। সেদিনের সেই অনিশ্চিত গন্তব্যের দিনেও জামাল ভাই বিএনপি'র হাল ধরেছিলেন। আহ: সে কি দুর্বিষহ স্মৃতি, কাঠালিয়া রাজাপুর বিএনপি'র কি ভয়াবহ করুন দৃশ্য! ২০২২ সালে যখন উপজেলা বিএনপির কমিটি হয় তখন অনেকের সাথেই গোপনে যোগাযোগ করে কমিটিতে আহ্বান করা হয়েছিল। যারা কমিটিতে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল তাদের কথা আজও মনে আছে।
যখন পথ ছিল কঠিন ও কন্টকময়, তখনও আমাদের প্রিয় জামাল ভাই পিছিয়ে যাননি; বরং ধৈর্য্, অধ্যবসায় ও মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে এগিয়ে নিয়েছেন। তার আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে তার রয়েছে দীর্ঘ পথের সংগ্রাম, সততা, একনিষ্ঠতা, দলের প্রতি ভালবাসা ও অঙ্গীকার এবং নানা প্রতিকূলতা। ইতিহাসের কঠিন অধ্যায়গুলো অতিক্রম করে যে রাজনৈতিক যাত্রা সামনে এগিয়ে যায়, সেই উত্থানই হয়ে ওঠে স্মরণীয়—একটি দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।
সময়ের স্রোতে অনেক নাম হারিয়ে যায় কিন্তু কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাদের কর্ম, বক্তব্য ও দীর্ঘ পথচলার কারণে মানুষের স্মৃতিতে বিশেষভাবে থেকে যান। তাঁর উত্থানের গল্পও তেমনই—একটি ঐতিহাসিক অবিস্মরণীয় ও কালজয়ী রাজনৈতিক অধ্যায়, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শিক্ষনীয় বিষয় হয়ে থাকবে।
আমি বিশ্বাস করি বিএনপি'র রাজনীতিতে তিনি বহুদূর যাবেন। আল্লাহ তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দান করুক, আমীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ প্রতিবাদ মিছিলের পূর্বে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) প্রধান নেহা বোরাকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসে এই মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে শনিবার ভোরে নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হলেও অভিজিৎ দীপকে প্রতিরোধমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এনডিটিভি সূত্রে জানা যায়, শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনার কারণে ভারতের নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৭০ ধারায় দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজকের দিন শেষে তাকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করার পরিকল্পনা রয়েছে। দিল্লি পুলিশের আইন ৬৫ ধারায় আটকের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
সিজেপির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং অভিযোগ করেছেন যে, অভিজিৎ দীপের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি তার আইনজীবীরাও তার সঙ্গে দেখা করতে সক্ষম হননি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে রত্না সিং একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, "অভিজিৎকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হবে। তবে তিনি কোথায় আছেন, তা এখনো জানা যায়নি। আইনজীবীরাও তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।"
এদিকে, ভারতের বিভিন্ন স্থানে সিজেপি, বিরোধী দল, ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক সমাজের সদস্যরা বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করছেন। ভোটার তালিকায় অভিযোগিত অনিয়ম এবং নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মধ্যরাতে দুর্বৃত্তদের ছোড়াগুলিতে নিহত হয়েছেন তারেক হোসেন বাপ্পি (২৬) নামে এক যুবদলকর্মী। এই ঘটনার ফলে গুরুতর আহত হয়েছেন তাফসির আলম শাওন (২২) নামে আরও এক যুবদলকর্মী।
গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ১২টায় উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর এলাকার সাদ্দামের অফিসের সামনে এই হামলা সংঘটিত হয়।
নিহত বাপ্পি সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মধ্যম মাহদাবাদ এলাকার কুরবান আলীর বাড়ির মৃত আলী আহমদের সন্তান। আহত শাওন একই এলাকার ইউসুফের ছেলে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন দুর্বৃত্ত যুবদল নেতা সাদ্দামের অফিসের সামনে তার অনুসারী যুবদল কর্মী তারেক ও শাওনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এ সময় তারা নিজেদের রক্ষা করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। হামলার শেষ পর্যায়ে হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।
নিহত বাপ্পির ভাই রহিম খান বাবু জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তরা তার ভাই বাপ্পি ও শাওনের ওপর আকস্মিকভাবে হামলা চালানোর পর তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর গুলিবিদ্ধ গুরুতর আহত দুজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার ভাই বাপ্পীকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় গুলিবিদ্ধ শাওন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলেও জানান তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপ-পরিদর্শক) নুরুল আলম আশেক জানান, গভীর রাতে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে গুলিবিদ্ধ দুই যুবককে নিয়ে আসেন তাদের স্বজনরা। তাদের মধ্যে বাপ্পি নামে এক যুবককে মৃত ঘোষণা করেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। গুলিবিদ্ধ অপর যুবক হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, মধ্যরাতে দুর্বৃত্তের ছোড়াগুলিতে দুই যুবক হতাহতের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। ঘটনায় জড়িত দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সম্পর্ক সবসময়ই ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। এক দশক পর, ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে, দুজন আবারও পরস্পরের বক্তব্যের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে ইসরাইল ‘নৈতিক উচ্চ অবস্থান থেকে সরে এসেছে' বলে মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শুক্রবার, তার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে সমালোচনা করলেও তিনি ওবামার নাম উল্লেখ করেননি।
অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলফাস্টে এক অনুষ্ঠানে ওবামা বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট থাকাকালে নেতানিয়াহুকে সরাসরি এ কথা বলেছিলাম—সংঘাতের এই চক্র ভাঙতে একপর্যায়ে শক্তিশালী পক্ষেরই তার শক্তির কারণে বিশেষ দায়িত্ব থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসরাইলের মনোভাব যদি এমন হয় যে, এখন যেহেতু আমরা সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী এবং এই অঞ্চলে সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির অধিকারী, তাই আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা যা খুশি করব, যা চাই তা-ই নেব এবং কারও সঙ্গে কোনো ধরনের ছাড় দেব না—তাহলে তা স্বল্পমেয়াদে কার্যকর মনে হতে পারে; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি ইসরাইলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলা চালানো ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসেরও তীব্র সমালোচনা করেন ওবামা।
তবে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো ওবামার বক্তব্যের আরেকটি অংশকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে। ওই অংশে তিনি হলোকাস্টের ভয়াবহতার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
ওবামা বলেন, ‘হাজার হাজার বছর ধরে ইহুদি জনগোষ্ঠী নিপীড়ন, বৈষম্য ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এর বড় অংশের জন্য ইউরোপ দায়ী ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের এমন একটি স্থানে আশ্রয় খোঁজা ছিল স্বাভাবিক, যে স্থানের সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। এটি অস্বীকার করার ওপায় নেই।’
তবে ফিলিস্তিনিদের প্রসঙ্গ টেনে ওবামা বলেন, ‘এটিও অস্বীকার করার ওপায় নেই যে, তারা এমন একটি ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যেখানে অন্য মানুষ বসবাস করত। সেই মানুষদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিরা স্বাভাবিকভাবেই বলেছিল, এটি একটি অবিচার এবং আমরা আমাদের ভূমি ফিরে পেতে চাই।’
- নেতানিয়াহুর পাল্টা জবাব -
ওবামার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। তার বক্তব্যকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইহুদিরা তাদের পূর্বপুরুষের ভূমিতে বহিরাগত দখলদার নয়। আমাদের ইতিহাস কোনো ঔপনিবেশিক প্রকল্প নয়। আমাদের ভূমি চুরি করা জমি নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটাই আমাদের মাতৃভূমি। এর নাম জুদেয়া।’
জুদেয়া একটি বাইবেলীয় নাম, যা পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরাইল পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকার সময় নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে ওবামা প্রশাসনের কূটনৈতিক উদ্যোগের বিরোধিতা করতে নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই রিপাবলিকানদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন।
আগামী ২৭ অক্টোবরের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহু বারবার ভোটারদের বলছেন, বিদেশিরা তাকে নির্বাচনে হারাতে চায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বিশেষ করে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সমালোচনা করেছেন, যিনি ইসরায়েলের কড়া সমালোক হিসেবে পরিচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ