১১:০৭ এম
জামাল ভাইয়ের সাথে আমার ঘনিষ্ঠ পরিচয় ২০০৮ সালে তার নির্বাচনী প্রচারণায় চিংড়াখালী মিয়াজি দরবারে এসেছিলেন সেই থেকে। খুব কাছ থেকে দেখেছি। বহু গল্প, বহু কথা, বহু রাজনৈতিক ঘটনার রাজসাক্ষী আমি। ঝালকাঠি বিএনপি এবং কাঠালিয়া- রাজাপুরে তার রাজনৈতিক বিচরণে সীমাহীন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তার অবিস্মরণীয় উত্থানের রাজসাক্ষী আমি। কাঠালিয়ার মাত্র কয়েকজন মানুষ আমরা তার অফিসে যাতায়াত করতাম। তৎকালীন সময় তার অফিসে যাওয়া হ্যাডাম নেতা কর্তৃক নিষিদ্ধ ছিল।
একটা সময় ছিল জামাল ভাইকে জেলা বিএনপির কমিটিতে নেয়া হয়নি। হেডাম নেতা কর্তৃক নির্যাতিত ছিলেন তিনি। সাধারণ কর্মীরা তার সাথে দেখা করতে ভয় পেত।
বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান তাকে ঝালকাঠি জেলা বিএনপি পুনর্গঠনের দায়িত্ব দিলেন। জনাব শাহজাহান ওমরের বিরুদ্ধে গিয়ে ঝালকাঠি বিএনপি কমিটি করা দুষ্কর ছিল। কেউ তো তখন বিশ্বাস-ই করেনি এটা সম্ভব। অনেকেই সাহস করেনি কমিটিতে আসার। অবশেষে ঝালকাঠি বিএনপির কমিটি পাশ হলো। তিনি হলেন জেলা বিএনপি'র সদস্য। বাধা, হুংকার, সিংহের গর্জন আসতে থাকলো। কোথাও কমিটি করতে দেয়া হবে না। যাই হোক জামাল ভাইয়ের নেতৃত্বে সকল কমিটি হলো। মামলা, হামলা জেলখাটা, রাজপথে রক্ত দেয়া সবই তার ভাগ্যে ছিল।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে জেলা পরিষদের পক্ষে ৫৩ টি পূজা মণ্ডপে চেক বিতরণ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান তাকে কেন্দ্রীয় ওলামাদল পুনর্গঠনের দায়িত্ব দিলেন। শুরু হলো তার সাংগঠনিক দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ। ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন হলো। সারা বাংলাদেশে ওলামা দলকে নিয়ে ঘুরে বেড়ালেন। একটি শক্তিশালী অঙ্গ সংগঠনের রূপান্তরিত করলেন। সাংগঠনিক নিপুন দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করলেন। এরপর আর তাকে পিছু ফিরতে হয়নি।
তারপর বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, ঝালকাঠি ১ আসন কাঠালিয়া রাজাপুরের মাননীয় এমপি, ধর্মবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি।
একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উত্থান কখনোই শুধু পদ-পদবির গল্প নয়; এটি দীর্ঘ পথচলা, প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া, মানুষের সঙ্গে সংযোগ এবং সময়ের পরীক্ষায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার গল্প। তাঁর রাজনৈতিক পথচলার প্রতিটি অধ্যায় যেন একেকটি অভিজ্ঞতার দলিল। বাধা এসেছে, কঠিন সময় এসেছে—তবুও পথচলা থেমে থাকেনি। ধৈর্য্, দৃঢ়তা, সততা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের অবস্থানকে ক্রমশ দৃশ্যমান করেছেন।
চরম প্রতিকূলতা কখনো কখনো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির পথকে থামিয়ে দেয় না; বরং তাঁর রাজনৈতিক যাত্রাকে আরও দৃঢ় ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। অসংখ্য বাধা, প্রতিকূল পরিবেশ, রাজনৈতিক চাপ, সমালোচনা এবং আওয়ামী দুশাসনের কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েও তিনি তাঁর রাজনৈতিক পথচলা অব্যাহত রেখেছেন। ১৭ বছরের আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সীমাহীন জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। একদিকে তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন অন্যদিকে দলীয় প্রভাবশালী নেতা জনাব শাহজাহান ওমরের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে তিনি ঝালকাঠি বিএনপিকে রক্ষা করেছিলেন। জনাব শাজাহান ওমর যেদিন বিএনপির সাথে বেইমানি করে আওয়ামী লীগে গিয়ে এমপি হলেন। বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মী ওমর লীগে যোগ দিল। সে ঘোষণা করলো রাজাপুর কাঠালিয়া কোন বিএনপি নামক সংগঠন নাই। দলীয় নেতাকর্মীরা ছিল অসহায়, নিশ্চুপ, দিশহারা। অনেকে হৃদয়ে বিএনপি ধারণ করলেও মুখে বলতে সাহস পেত না। সেদিনের সেই অনিশ্চিত গন্তব্যের দিনেও জামাল ভাই বিএনপি'র হাল ধরেছিলেন। আহ: সে কি দুর্বিষহ স্মৃতি, কাঠালিয়া রাজাপুর বিএনপি'র কি ভয়াবহ করুন দৃশ্য! ২০২২ সালে যখন উপজেলা বিএনপির কমিটি হয় তখন অনেকের সাথেই গোপনে যোগাযোগ করে কমিটিতে আহ্বান করা হয়েছিল। যারা কমিটিতে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল তাদের কথা আজও মনে আছে।
আরও পড়ুন: জুলাইয়ের চেতনায় ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে নারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান শামছুন্নাহার বেগমের
যখন পথ ছিল কঠিন ও কন্টকময়, তখনও আমাদের প্রিয় জামাল ভাই পিছিয়ে যাননি; বরং ধৈর্য্, অধ্যবসায় ও মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে এগিয়ে নিয়েছেন। তার আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে তার রয়েছে দীর্ঘ পথের সংগ্রাম, সততা, একনিষ্ঠতা, দলের প্রতি ভালবাসা ও অঙ্গীকার এবং নানা প্রতিকূলতা। ইতিহাসের কঠিন অধ্যায়গুলো অতিক্রম করে যে রাজনৈতিক যাত্রা সামনে এগিয়ে যায়, সেই উত্থানই হয়ে ওঠে স্মরণীয়—একটি দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।
সময়ের স্রোতে অনেক নাম হারিয়ে যায় কিন্তু কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাদের কর্ম, বক্তব্য ও দীর্ঘ পথচলার কারণে মানুষের স্মৃতিতে বিশেষভাবে থেকে যান। তাঁর উত্থানের গল্পও তেমনই—একটি ঐতিহাসিক অবিস্মরণীয় ও কালজয়ী রাজনৈতিক অধ্যায়, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শিক্ষনীয় বিষয় হয়ে থাকবে।
আমি বিশ্বাস করি বিএনপি'র রাজনীতিতে তিনি বহুদূর যাবেন। আল্লাহ তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দান করুক, আমীন।
আরও পড়ুন: ছোট পর্দার আলোচিত মুখ অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী উদ্বোধন করবেন বায়ো-জিন কসমেসিউটিক্যালসের শুভ উদ্বোধন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন