বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:০৯ পি.এম
বৃহস্পতিবার বিকালে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌর শহরের মুক্তমঞ্চে উপজেলা এনসিপি আয়োজিত সমাবেশে উপস্থিত উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ নেতারা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, নির্বাচনে বিএনপি ইশতেহারে ঘোষনা দিয়েছিল নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
কিন্তু কোন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি।
তিনি বললেন, যদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হয়, তবে বেকারদের দ্বারা আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকালে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌর শহরের মুক্তমঞ্চে উপজেলা এনসিপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আদালতের রায়ে তত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ফিরিয়ে নিয়ে আসায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘গণভোট, তত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনলেন, কিন্তু যে গণভোটের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় আসলেন সেটি বাস্তবায়ন না করলেন না।’
সারজিস বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিবেক বিসর্জন দেওয়া মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, তারা ১০ হাজার পুশইন করেছে, আরো পুশইন হবে।
আমাদের সীমান্তে আর একটা পুশ ইন ও হত্যা আমরা দেখতে চাই না।’
একই সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আরেক যুগ্ন আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘যারা বলতো শেখ হাসিনা পালায় না, তারা গাট্টি-বস্তা নিয়ে পুরো দলসহ পালিয়ে গেছে।
যেখানে তাদের হেডকোয়ার্টার সেই ভারতে চলে গেছে। ওই ভারতের গর্তে বসে থেকে বাংলাদেশের মানুষকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দেয়।
আমরা বলতে চাই, শেখ হাসিনা আপনার জন্য ফাঁসির মঞ্চ অপেক্ষা করছে, আপনি বাংলাদেশে আসেন আমরা আপনাকে লালগালিচা সম্বর্ধনা দিয়ে ফাঁসির মঞ্চে পৌছে দিতে চাই।’
এর আগে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে পৌর শহরের শহরের বিজ্ঞান মোড় থেকে র্যালী বের করা হয়।
র্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষ শেষে পৌর মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।
পদযাত্রায় আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির(এনসিপি) যুগ্ন সদস্য সচিব সাইফ মুস্তাফিজ ও মাহিন সরকার প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতি মাদক ও জুয়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। আগামী এক মাস ধরে মাদক ও জুয়া মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কোনো আসামির পক্ষ থেকে আদালতে জামিন আবেদন কিংবা আইনি সহায়তা প্রদান করবেন না জেলার আইনজীবীরা। আজ সকালে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু ঘোষিত 'আলোকিত লালমনিরহাট' কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাদক ও জুয়ার বিস্তার রোধ এবং যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কে. এম. হুমায়ুন কবীর স্বপন মন্তব্য করেন, ‘মাদক ও জুয়া শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, এটি একটি পরিবার এবং পুরো সমাজকেও ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়। তাই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আইনজীবী সমাজকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম রফিক বলেছেন, ‘এটি একটি সামাজিক বার্তা। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রয়োজনে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে জেলা আইনজীবী সমিতির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে গত ৪ জুলাই থেকে জেলায় মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকসহ চারটি সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক এবং প্রতিরোধমূলক আন্দোলন শুরু হয়েছে। সেই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতি এই কর্মসূচি ঘোষণা করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক অভিযানে ১৫ লিটার চোলাইমদসহ মোঃ বাবুল ইসলাম (৫১) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই, ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে গোমস্তাপুর থানাধীন আলীনগর ইউনিয়নের মকরমপুর ঘুন্টি গ্রামস্থ এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।
গ্রেফতারকৃত বাবুল ইসলাম ওই এলাকারই বাসিন্দা। তিনি মকরমপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম ওরফে আবুর ছেলে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা কার্যালয়ের একটি চৌকস দল বিকেলে মকরমপুর ঘুন্টি এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বাবুল ইসলামকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার হেফাজত থেকে ১৫ (পনের) লিটার চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়।
অভিযান শেষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশিদ বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে গোমস্তাপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংকে ১০ বছর (অবশিষ্ট ৫.৮৬ বছরের জন্য রি-ইস্যু) মেয়াদি বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ড বিক্রির নিলাম আগামী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের যোগাযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ (ডিসিপি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংকে মঙ্গলবার ১০ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ড বিক্রির (অবশিষ্ট ৫.৮৬ বছরের জন্য রি-ইস্যু) নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। এই নিলামে ২০২২ সালের ২৫ মে ৮ শতাংশ কুপন হারে ইস্যু হওয়া ১০ বছর মেয়াদি (আইএসআইএন নম্বর বিডি ০৯৩২৮৫১১০০) ৩ হাজার টাকা অভিহিত (লিখিত) মূল্যের ট্রেজারি বন্ড রি-ইস্যু করা হবে।
এ বন্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে ২০৩২ সালের ২৫ মে। এছাড়া, ট্রেজারি বন্ডের রি-ইস্যু নিলাম হবে প্রাইসভিত্তিক বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায় যে, নিলামে yalnız সরকারি সিকিউরিটিজের প্রাইমারি ডিলারের ভূমিকায় নিয়োগ পাওয়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিড দাখিল করতে পারবে। তবে অন্য ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজেদের খাতে তাদের ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী গ্রাহকদের জন্য প্রাইমারি ডিলারের মাধ্যমে নিলামে বিড দাখিলের সুযোগ পাবেন।
অভিহিত (লিখিত) মূল্যে প্রতি ১০০ টাকা মূল্যের বন্ড কেনার জন্য কাঙ্ক্ষিত প্রাইস ও বন্ড কেনার পরিমাণ উল্লেখ করে নিলামে অংশগ্রহণ করতে হবে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থাপিত এফএমআইয়ের মাধ্যমে বিড দাখিল করতে হবে।
তবে বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি নিয়ে ম্যানুয়াল বিডস ইন সিলড কভারস পদ্ধতিতে বিড দাখিল করা যাবে।
এদিকে, নিলামে অংশগ্রহণের বিস্তারিত নির্দেশনা এরই মধ্যে প্রাইমারি ডিলারসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যা এবং পাহাড় ধসে চট্টগ্রামের ৪ জেলায় মোট ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারায় এক বিবৃতিতে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, কক্সবাজারে ১৯ জন, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে ৫ জন করে এবং রাঙ্গামাটিতে একজন মারা গেছেন।
তিনি বলেন, উপদ্রুত অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সরকার দুর্গতদের পাশে সব ধরনের সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছে।
ত্রাণমন্ত্রী আরও জানান, দুর্গত জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙ্গামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি ও বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, শিশু খাদ্য এবং তিনবেলা খাবারের সুব্যবস্থা করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও প্রত্যেক দুর্গত জেলায় ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। মৃতের সংখ্যা এবং পাহাড়ধসে বারবার প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। খাসজমি ও অন্যান্য সরকারি জমিতে তাদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আসাদুল হাবিব জানান, প্রাথমিকভাবে সরকার গত ৭ জুলাই ক্ষতিগ্রস্ত ৫ জেলার প্রতিটির জন্য জিআর কর্মসূচির আওতায় নগদ ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করে। চলমান ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে আজ বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, নতুন বরাদ্দ অনুযায়ী চট্টগ্রামে ২৫ লাখ টাকা ও কক্সবাজারে ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। সরকার চট্টগ্রাম জেলার জন্য আরও ৩০০ মেট্রিকটন, কক্সবাজারের জন্য ২৫০ মেট্রিকটন এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ২০০ মেট্রিকটন করে অতিরিক্ত চাল বরাদ্দ করে হয়েছে।
মন্ত্রী দুলু জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর প্রতিটির জন্য ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। প্রয়োজন হলে আরও জরুরি সহায়তা বরাদ্দ করা হবে।
পাহাড় ধসে বারবার প্রাণহানির বিষয়ে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, খাস জমি ও অন্যান্য সরকারি জমিতে বাড়ি তৈরি করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করতে সরকার প্রস্তুত। ভবিষ্যতে পাহাড়ধসে ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানান্তর উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ