বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:২৩ পি.এম
টানা ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যা এবং পাহাড় ধসে চট্টগ্রামের ৪ জেলায় মোট ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারায় এক বিবৃতিতে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, কক্সবাজারে ১৯ জন, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে ৫ জন করে এবং রাঙ্গামাটিতে একজন মারা গেছেন।
তিনি বলেন, উপদ্রুত অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সরকার দুর্গতদের পাশে সব ধরনের সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছে।
ত্রাণমন্ত্রী আরও জানান, দুর্গত জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙ্গামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি ও বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, শিশু খাদ্য এবং তিনবেলা খাবারের সুব্যবস্থা করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও প্রত্যেক দুর্গত জেলায় ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। মৃতের সংখ্যা এবং পাহাড়ধসে বারবার প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। খাসজমি ও অন্যান্য সরকারি জমিতে তাদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আসাদুল হাবিব জানান, প্রাথমিকভাবে সরকার গত ৭ জুলাই ক্ষতিগ্রস্ত ৫ জেলার প্রতিটির জন্য জিআর কর্মসূচির আওতায় নগদ ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করে। চলমান ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে আজ বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, নতুন বরাদ্দ অনুযায়ী চট্টগ্রামে ২৫ লাখ টাকা ও কক্সবাজারে ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। সরকার চট্টগ্রাম জেলার জন্য আরও ৩০০ মেট্রিকটন, কক্সবাজারের জন্য ২৫০ মেট্রিকটন এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ২০০ মেট্রিকটন করে অতিরিক্ত চাল বরাদ্দ করে হয়েছে।
মন্ত্রী দুলু জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর প্রতিটির জন্য ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। প্রয়োজন হলে আরও জরুরি সহায়তা বরাদ্দ করা হবে।
পাহাড় ধসে বারবার প্রাণহানির বিষয়ে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, খাস জমি ও অন্যান্য সরকারি জমিতে বাড়ি তৈরি করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করতে সরকার প্রস্তুত। ভবিষ্যতে পাহাড়ধসে ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানান্তর উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এ বছর তৃতীয়বারের মতো স্নো-ফ্লেক বা তুষারকণা কাগজ দিয়ে দ্রুততম সময়ে তৈরি করে গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছেন বরিশালের কলেজ রোডের বাসিন্দা নুসরাত জাহান নিপা। তিনি হলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী, যার নাম তিনবার উঠেছে বিশ্বরেকর্ডের খাতায়।
এর আগে দ্বিতীয়বার নিপা কয়েন দিয়ে দ্রুততম সময়ে টাওয়ার বানানোর মাধ্যমে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে নাম লিখেছিলেন। পরে তিনি চপস্টিক দিয়ে এক मिनटের মধ্যে ভাত খাওয়ার রেকর্ডও তার দখলে নিয়েছিলেন।
তবে এ কাজের মধ্যে এখানেই শেষ নয়। বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রাক্তন এই ছাত্রীর সাথে বাসসের একান্ত সাক্ষাৎকারে জানা যায়, তিনি চতুর্থবার গিনেস বুকে নাম লেখাবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ‘কাগজের স্নো-ফ্লেক’ বা তুষারকণা তৈরি করে দ্রুততম সময়ে রেকর্ডটি করেন। তার আগে এই রেকর্ড ২৩ দশমিক ১৬ সেকেন্ডে চীনের দখলে ছিল।
নিপা বলেন, “আমি ২১ দশমিক ৮৪ সেকেন্ডে শেষ করে রেকর্ডটি বাংলাদেশে এনেছি।” চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে করা এ রেকর্ডের কিছুদিন পরে তিনি সার্টিফিকেট পেয়েছেন। তিনি জানান, কাগজ বিভিন্নভাবে কেটে ও ভাঁজ করে তুষারকণার মতো তৈরি করে এ রেকর্ডটি গড়েছেন।
২০২১ সালে মহামারি করোনার সময় তিনি এক হাতে এক মিনিটে ৭১টি কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরি করেছিলেন। এই প্রচেষ্টা ছিল ইতালির সিলভিও সাব্বারের গড়া রেকর্ড ভেঙে গিনেস বুকে প্রথমবার নাম লেখানোর। পরে ২০২৪ সালে তিনি চপস্টিক দিয়ে এক মিনিটে ২৭টি ভাতের দানা মুখে তুলে নতুন রেকর্ড করেছিলেন।
একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবে নিপা বলেন, 'কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সবকিছু অর্জন করা সম্ভব।' তিনি উল্লেখ করেন, 'আমার খেলাধুলার শখ থাকলেও বরিশালে মেয়েদের জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ঘরে বসেই দেশ ও আমার শহর বরিশালকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে এ রেকর্ড করেছি। ভবিষ্যতেও আমার এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।'
পরবর্তী রেকর্ড কী নিয়ে করবেন জানতে চাইলে তিনি রহস্যময় কণ্ঠে বলেন, 'দেখা যাক!'
নিপার বাবা দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু বাসসকে জানান, 'আমার একমাত্র মেয়ে নিপা। সে ছোটোবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। তার এ সাফল্য শুধু বরিশালবাসীর নয়, সারা বাংলাদেশের জন্য। আমি আশা করি, আগামীতে সে আরো ভালো কিছু করবে।'
বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক অধ্যাপক প্রফেসর শাহ সাজেদা বাসসকে বলেন, 'মেয়েটি একবার নয়, তিন তিনবার গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছে। যা সত্যিকার অর্থেই আমাদের বরিশালের জন্য গর্বের।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আমাদের সমাজে মেয়েরা বেশিরভাগ সময়ই পিছিয়ে থাকে। নিপা সেই রেকর্ডও ভেঙেছে।'
তিনি বলেন, 'নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে নিপা যে গৌরব অর্জন করেছে, সেটি আমাদের জন্য গর্বের। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সমাজের নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে মেয়েরাও এগিয়ে যাচ্ছে। আমি মনে করি, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে তাদের জন্য সহযোগিতা করা প্রয়োজন। এ ধরনের সফলতার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের উচিত হবে তাদের সহযোগিতা ও সম্মানিত করা।'
এতে সমাজের অন্য মেয়েও বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে এগিয়ে যেতে উৎসাহ পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা ছাত্রদল ও পৌর ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে সংগঠনের নেতাকর্মীদের দ্বারা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে পৌরসদরের প্রধান প্রধান সড়কে উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের ব্যানার হাতে নিয়ে এই আনন্দ মিছিল করেন তারা।
এই আনন্দ মিছিলে নেতৃত্ব প্রদান করেন, নবগঠিত কেন্দুয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তৌফিকুল হক শিবলি, সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসাইন, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মো. জাকারুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন।
এ সময়ে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ মিছিল করে নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দের প্রতি অভিনন্দন জানান। আনন্দ মিছিলের শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রনেতারা বক্তব্য রাখেন, 'রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্রদল পরীক্ষিত সংগঠন হিসেবে পরিচিত। নতুন নেতৃত্বে প্রাণের এই সংগঠনটি আগামী দিনে রাজপথে আরো বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করি।
সেই সঙ্গে দুঃসময়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নতুন নেতৃত্বের মধ্যে মূল্যায়িত হতে হবে বলেও আশা করি।'
উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনীক মাহবুব চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা শামীম द्वारा স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দূরপাল্লার ‘টমাহক’ ক্রুজ মিসাইল কিনছে জার্মানি।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ জানিয়েছেন, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
মার্জ জানান, এসব মিসাইল শত্রুপক্ষের ভূখণ্ডের গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দুই দিনের সম্মেলন শেষে তিনি পার্লামেন্টে বক্তব্য প্রদানকালে বলেন, এটি আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ঘাটতি পূরণ করবে। একই সঙ্গে, তিনি উল্লেখ করেন, আমরা নিজস্ব ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার এবং তা ইউরোপে মোতায়েন করার লক্ষ্যে কাজ করব।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তির আওতায় ইউরোপের প্রধান মিত্র দেশগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নো-হাউ’ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও ব্যাপকভাবে হস্তান্তরের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসনের ফলে এসব দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ওলটপালট হয়ে গেছে।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চার দিনের টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া এবং নবগঠিত মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলার ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দুই উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
মাতামুহুরী এবং পেকুয়া উপজেলার বেশ কিছু বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এর ফলে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি সরে গিয়ে চকরিয়া উপজেলায় বরইতলী ইউনিয়নে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজনের নাম রুমি আক্তার (১৫)। সে বরইতলী ইউনিয়নের মোহছেনিয়া কাটা গ্রামের মোহাম্মদ কাজলের কন্যা এবং বরইতলী দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
অন্য শিশু মোহাম্মদ তৌসিফ (১০) আবদুল মজিদের পুত্র এবং স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। নিহতরা আপন চাচাতো-জেঠাতো ভাই-বোন। বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান বলেছেন, "একদিকে ভয়াবহ বন্যা, অন্যদিকে পাহাড় ধ্বসের কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে লোকজনের মধ্যে। গত দুইদিন ধরে পানিতে তলিয়ে রয়েছে গ্রামগুলো। এই অবস্থায় পাহাড় ধসে দুইজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।"
জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার বরইতলী, বমু বিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, চিরিংগা, হারবাং এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর, সাহারবিল ইউনিয়নের নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এদিকে, পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, মেহেরনামা এবং পৌরসভা এলাকারও বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অনেক ফসলি জমি এবং চিংড়ির ঘেরও পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় দুই উপজেলার পাহাড়ি এলাকার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশয়ে সরে যেতে প্রশাসন মাইকিং করছে।
চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা এডভোকেট মঈনুল আমিন বলেছেন, "চার দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। বৃষ্টি থামলেই মনে হয় পানি নামবে, কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। রাস্তাঘাটে পানির নিচে থাকায় চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।" মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের কৃষক সৈয়দ আলম জানান, "আমনের বীজতলা ও সবজিক্ষ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে।" চকরিয়া পৌরসভার রিকশাচালক শহিদুল ইসলাম বলেছেন, "বৃষ্টির কারণে যাত্রী কম। সারাদিন রিকশা চালিয়েও ঠিকমতো আয় হচ্ছে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।"
চকরিয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মঈনউদ্দিন বলেছেন, "উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে মাতামুহুরী নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কেউ রান্নাবান্না করতে পারছে না। শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছে। আমি নিজেও পানিবন্দী হয়ে পড়েছি। এরপরও চেষ্টা করছি এলাকার বন্যা কবলিত মানুষদের সাহায্য করতে।" মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়াইবুল ইসলাম সবুজ বলেছেন, "চার দিনের টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার উপরে রয়েছে।"
তিনি বলেছেন, "ইতোমধ্যে কোণাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী ও মরণঘোনা বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে লোকালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করছে। আমরা বন্যা কবলিত মানুষদের খোঁজ খবর নিচ্ছি।" চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীদ দেলোয়ার জানিয়েছেন, "টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ে ঢলের পানিতে মাতামুহুরী নদীতে পানি বেড়ে গেছে। ইতোমধ্যে মাতামুহুরী নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। স্ব-স্ব ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেছেন, "পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। উজানের পানি যাতে দ্রুত ভাটির দিকে নেমে যেতে পারে সেজন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর পানি নিষ্কাশনের লইস গেটগুলোর কপাট খুলে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাতামুহুরী নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত নদীর পানি বিপদসীমা ১১.৮০ মিটার অতিক্রম করে ১১.৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ