ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

২৫ হাজার নতুন মিডওয়াইফ নিয়োগের ঘোষণায় বাংলাদেশকে ইউএনএফপিএর অভিনন্দন


২৫ হাজার নতুন মিডওয়াইফ নিয়োগের ঘোষণায় বাংলাদেশকে ইউএনএফপিএর অভিনন্দন

রবিবার (১৪ জুন) বিশ্বের বৃহত্তম মিডওয়াইফ সমাবেশ ‘৩৪তম আইসিএম ত্রিবার্ষিক কংগ্রেস’ পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের মাতৃস্বাস্থ্য সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ (ধাত্রী) প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের ঐতিহাসিক ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ সংঘের (আইসিএম) ৩৪তম ত্রিবার্ষিক কংগ্রেসে বাংলাদেশ এই বৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) বাংলাদেশ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় দেশে ২৫ হাজারেরও বেশি নতুন মিডওয়াইফ পদ সৃষ্টি হবে, যা মাতৃমৃত্যু উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

এই বিশ্বের বৃহত্তম মিডওয়াইফ সমাবেশ ‘৩৪তম আইসিএম ত্রিবার্ষিক কংগ্রেস’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং ইউএনএফপিএর বৈশ্বিক নির্বাহী পরিচালক ডিয়েন কেইটা যৌথভাবে বাংলাদেশের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডিয়েন কেইটা বাংলাদেশকে পেশাদার মিডওয়াইফ গঠনে একটি ‘পথপ্রদর্শক’ দেশ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আরো বলেছেন, বৈশ্বিক মিডওয়াইফারি অ্যাক্সিলারেটরে নেতৃত্বদানকারী অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

লিসবনের মঞ্চে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছে যে মিডওয়াইফদের পেছনে বিনিয়োগ করা মানে মানুষের জীবন রক্ষায় বিনিয়োগ করা। এই যুগান্তকারী অঙ্গীকার একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে—মাতৃমৃত্যু কোনো অনিবার্য বাস্তবতা নয়।’

উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৪ হাজার মায়ের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে, যারা বর্তমানে প্রতিরোধযোগ্য কারণেই সন্তান জন্মদানের সময় মৃত্যুবরণ করেন।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই মাতৃমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে যেখানে ৫৭৪ জন মায়ের মৃত্যু হতো, বর্তমানে সেই হার কমে ১৩৬-এ নেমে এসেছে। তবু দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ প্রসব বাড়িতে সম্পন্ন হয় এবং ৬ হাজার ২১৫টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত মিডওয়াইফের সংখ্যা মাত্র ২ হাজার ৫৫৭ জন, যা প্রকৃত চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

বিশ্বব্যাপী গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষ মিডওয়াইফরা একাই অপরিহার্য যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, মাতৃ ও নবজাতক পরিচর্যা এবং কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবার প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত প্রদান করতে সক্ষম। পাশাপাশি তারা মাতৃ ও নবজাতকের দুই-তৃতীয়াংশ মৃত্যুঝুঁকি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই খাত অত্যন্ত লাভজনক—মিডওয়াইফ সেবায় বিনিয়োগ করা প্রতি ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ১৬ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া সম্ভব।

সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রতিরোধমূলক ও আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি অংশ। তিনি বলেন, ‘যখন আমরা মিডওয়াইফদের ক্ষমতায়ন করি, তখন আমরা নারীদের ক্ষমতায়ন করি। আর নারীরা ক্ষমতায়িত হলে পরিবার শক্তিশালী হয়, পরিবার শক্তিশালী হলে সমগ্র জাতিও আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।’

গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লায়লা মুনতাজেরী দীনা এবং দূতালয় প্রধান এস. এম. গোলাম সরোয়ারও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৯ বছরের মধ্যে শিক্ষাজীবনের শেষ, অভিনয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


৯ বছরের মধ্যে শিক্ষাজীবনের শেষ, অভিনয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হন

শিক্ষাজীবনের আনুষ্ঠানিক ইতি ঘটে মাত্র ৯ বছর বয়সে। কিন্তু সেখান থেকেই জন্ম নেয় নতুন একটি যাত্রা, যা পরবর্তীকালে তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি খ্যাতিতে আসীন করে।

একটি ছোট্ট মেয়ের নাম আফরোজা সুলতানা রত্না, যিনি পরে হয়ে ওঠেন কোটি কোটি দর্শকের প্রিয় অভিনেত্রী শাবানা। তার অসাধারণ অভিনয়-দক্ষতা, পর্দায় অনবদ্য উপস্থিতি এবং অদ্বিতীয় সৌন্দর্য কারণে তিনি ‘ঢালিউডের বিউটিকুইন’ খ্যাতি অর্জন করেন।সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য, জনপ্রিয় চলচিত্র নায়িকা শাবানা - আমাদের খবর

১৯৫২ সালের ১৫ জুন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে তার জন্ম। তার বাবা ছিলেন ফয়েজ চৌধুরী এবং মা ফজিলাতুন্নেসা।

১৯৬২ সালে পরিচালক আজিজুর রহমানের মাধ্যমে শিশু শিল্পী হিসেবে তার চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয়। তার প্রথম অভিনয় ছিল এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ ছবিতে। পরে তিনি নৃত্যশিল্পী হিসেবেও কাজ করেন।

অভিনয়ে যাত্রা শুরুর মাত্র পাঁচ বছর পরেই নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন রত্না। ১৯৬৭ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘চকোরী’ চলচ্চিত্রে পাকিস্তানি অভিনেতা নাদিমের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। এই ছবির মাধ্যমেই তার নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘শাবানা’, আর সেই নামেই তিনি ইতিহাসের অংশ হয়ে যান।

বাংলা চলচ্চিত্রে শাবানাকে কেন্দ্র করে একটি বহুল প্রচলিত কথা রয়েছে ‘সেলাই মেশিন মানেই শাবানা’। কারণ, তিনি পর্দায় অসহায়, সংগ্রামী নারী কিংবা মায়ের চরিত্রে এত বাস্তবসম্মত অভিনয় করেছেন যে দর্শকের মনে চিরস্থায়ী ছাপ ফেলেছে। বহু ছবিতে দেখা গেছে, স্বামী পরিত্যক্ত এক নারীর চরিত্রে সন্তানকে মানুষ করার জন্য তিনি সেলাইয়ের কাজ করছেন।

সুতরাং, সেলাই মেশিন যেন তার অভিনয় জীবনের এক প্রতীক হয়ে উঠেছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও তার সফল পদচারণা ছিল। ১৯৭৯ সালে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান এস এস প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত ‘মাটির ঘর’ ছিল তার প্রথম প্রযোজিত চলচ্চিত্র। আজিজুর রহমান পরিচালিত এই ছবিতে রাজ্জাক ও শাবানার অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়।

১৯৮৮ সালে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ছবিতে ‘বিরোধ’ অভিনয় করে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনায় আসেন। এ ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন বলিউড কিংবদন্তি অভিনেতা রাজেশ খান্না। পরে ছবিটি হিন্দিতে ‘শত্রু’ নামে ডাবিং করে মুক্তি দেওয়া হয়।

দেশীয় কিংবদন্তিদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কিংবদন্তিদের সঙ্গেও সাক্ষাতের সুযোগ তার ছিল। ১৯৮৯ সালের অক্টোবরে ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত ও বিশ্বখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্ন বাংলাদেশ সফরে এসে এফডিসি পরিদর্শন করেন। সে সময়ে তিনি শাবানাসহ দেশের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।স্কুল-কলেজে পড়েননি, অভিনয় দিয়েই কিংবদন্তি শাবানা

ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৪ সালে তিনি সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী ওয়াহিদ সাদিককে বিয়ে করেন। তারা যৌথভাবে এস এস প্রোডাকশন্স প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের সংসারে দুটি মেয়ে—সুমি ও ঊর্মি এবং এক ছেলে নাহিন রয়েছে।

পুরস্কারের দিক থেকে শাবানা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে অনন্য। ১৯৭৭ সালে ‘জননী’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে পার্শ্বচরিত্র বিভাগে মনোনীত হয়েছিলেন, তবে তিনি সেই পুরস্কার গ্রহণ করেননি। ১৯৮০ সালে ‘সখী তুমি কার’ ছবির জন্য প্রথমবার সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।Audrey Hepburn served as UNICEF's goodwill ambassador ...

এরপর তিনি মোট ১১ বার সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন, যা এখনো কোনো বাংলাদেশি অভিনেত্রীর জন্য সর্বোচ্চ অর্জন। তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।

১৯৯৯ সালে অভিনয় থেকে বিদায় নিয়ে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হন শাবানা। যদিও তার শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ মুক্তি পায় ২০০১ সালে। আজিজুর রহমান পরিচালিত এই ছবিটি ছিল শাবানা-আলমগীর জুটির শেষ সিনেমা। বাংলা চলচ্চিত্রে সবচেয়ে বেশি জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয়ের রেকর্ড তাদের দখলে রয়েছে। শাবানা মোট ২৯৯টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে ১৩০টিতে তার সহশিল্পী ছিলেন আলমগীর।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং ২০২০ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। এরপর তার দেশে আসা হয়নি। পর্দা থেকে দূরে থাকলেও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এবং দর্শকের হৃদয়ে শাবানা আজও এক অমলিন কিংবদন্তি।দেশে ফিরেছেন শাবানা?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ৯ জনের মানবেতর দিন যাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


কুড়িগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ৯ জনের মানবেতর দিন যাপন

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের চেষ্টার শিকার নারী ও শিশুসহ ৯ জন এখনও দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর দিন যাপন করছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিষয়টির কোনো সমাধান না হওয়ায় তাদের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মাঝেও উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।

আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুর পর্যন্ত বিষয়টি সমাধান হওয়ার কোন খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে গতকাল রোববার সকালে জেলার রৌমারীর গয়টাপাড়া ও ভেন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে ওই ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি জানতে পেরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দিলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে অবস্থান নেয়।

পরে দুপুরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান মেলেনি। বৈঠকে উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ওই ৯ জন ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের পাশেই অবস্থান করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ ও বিজিবি নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

সীমান্তে অবস্থানরত ৯ জনের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে, তা নিয়ে এখন অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নারী ও শিশুদের দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে দেখে তারা উদ্বিগ্ন। দ্রুত মানবিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, গতকাল রোববার দুপুরে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনা হলেও বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। যাচাই-বাছাই ও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টম হল্যান্ডের নতুন চমক ঘিরে স্পাইডার-ম্যান আলোচনায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৭ পি.এম


টম হল্যান্ডের নতুন চমক ঘিরে স্পাইডার-ম্যান আলোচনায়

মার্ভেল ভক্তদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে রূপালি পর্দায় ফিরছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। সিনেমাটি মুক্তির আগেই বিশ্বজুড়ে এর ভক্তদের জন্য এক বিশেষ চমক নিয়ে হাজির হয়েছেন হলিউড তারকা টম হল্যান্ড।

টম হল্যান্ড ঘোষণা করেছেন যে, সিনেমাটির প্রচারণায় পুরো টিমকে সাথে নিয়ে একটি বিশাল বৈশ্বিক সফরে বের হওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

সোমবার (১৫ জুন) ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমার অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় টম হল্যান্ড নিজের কথা বলছেন এবং এই রোমাঞ্চকর খবরটি নিশ্চিত করছেন। ভিডিওটির পোস্ট করার পর থেকেই মার্ভেল অনুরাগীদের মাঝে আনন্দের উপলক্ষ তৈরি হয়েছে।

টম হল্যান্ড উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছেন, ‘সবাই কেমন আছেন? আমি টম বলছি। ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সিনেমার জন্য আমরা এক বিশাল বৈশ্বিক সফরে বের হচ্ছি। সারাবিশ্বের ভক্তদের সাথে দেখা করতে এবং সবাই মিলে একসাথে স্পাইডার-ম্যান উদযাপন করতে আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না।’

এদিন শুধু সফরের ঘোষণা দেননি হল্যান্ড, বরং ভক্তদের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য একটি মজার খেলারও উল্লেখ করেছেন। তিনি সবার কাছে জানতে চেয়েছেন, এই ট্যুরে তারা প্রথম কোন দেশে যাচ্ছেন। হল্যান্ড দর্শকদের অনুমান করতে বলেছেন। সফরকারী দলের ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং প্রচারণামূলক কার্যক্রমের লাইভ আপডেট দিতে ‘স্পাইডি ট্র্যাকার’ নামের একটি বিশেষ ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করার কথাও জানান।

হল্যান্ড বলেন, ‘আমরা প্রথমে কোথায় যাচ্ছি বলে আপনার মনে হয়? কমেন্ট বক্সে জানান। আমি শুনেছি ‘স্পাইডি ট্র্যাকার’ নামের দারুণ কিছু একটা আসছে, যার মাধ্যমে আমাদের গতিবিধি ট্র্যাক করা যাবে। তাই সেখানে নজর রাখুন, আপনার অনুমান মিলল কি না দেখুন। সবার সাথে খুব শীঘ্রই দেখা হচ্ছে।’

এছাড়া, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সিনেমায় টম হল্যান্ডের পাশাপাশি আরও অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় তারকারা, যেমন জেন্দায়া এবং স্যাডি সিঙ্ক। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩১ জুলাই, ২০২৬ তারিখে বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এই বহুল প্রতিক্ষিত সিনেমাটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কমনওয়েলথের মতে ২০২৬ নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


কমনওয়েলথের মতে ২০২৬ নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন

বাংলাদেশের ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন এবং এর সাথে অনুষ্ঠিত গণভোটকে একটি "গণতান্ত্রিক মাইলফলক" হিসেবে অভিহিত করেছে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল (সিওজি)৷ তারা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতিকে আরও সুসংহত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) কমনওয়েলথের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিওজি এই আহ্বান জানিয়েছে।

নির্বাচন পরবর্তী চূড়ান্ত প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষক দল প্রবাসী ভোটার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বড় পরিসরে 'পোস্টাল ব্যালট' বা ডাকযোগে ভোটদানের ব্যবস্থা প্রবর্তনের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাবমূর্তি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ. ই. নানা আকুফো-আডোর নেতৃত্বে গঠিত এই কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলে এশিয়া, আফ্রিকা, ক্যারিবীয়, ইউরোপ এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। গত ৪ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই পর্যবেক্ষক দলটি বাংলাদেশে অবস্থান করে নির্বাচন-পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে। গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সামগ্রিক চিত্র ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচন ও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (বিইসি) স্বাধীনতা ও সক্ষমতা নিয়ে পূর্বে উদ্বেগ ছিল। তবে তাও সত্ত্বেও, এবারের ভোটগ্রহণ, গণনা এবং ফলাফল ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে সম্পন্ন হয়েছে বলে মূল্যায়ন করেছে পর্যবেক্ষক দলটি।

চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, 'জুলাই সনদ'-এর ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে ৬১.৬৪ শতাংশ ভোটার সমর্থন জানিয়েছেন। তবে গণভোটের মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাধারণ জনগণের সচেতনতা সীমিত ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নির্বাচনে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি তুলে ধরেছে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী হওয়া এবং সংরক্ষিত আসন থাকা সত্ত্বেও, নির্বাচনে মোট প্রার্থীদের মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র চার শতাংশের কাছাকাছি। এর মধ্যে সরাসরি নির্বাচিত হতে পেরেছেন মাত্র ৭ জন নারী। এছাড়া দেশের মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে হলেও, যুবসমাজের প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের হার ছিল বেশ কম।

পর্যবেক্ষক দল লক্ষ্য করেছে যে, বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় গণমাধ্যমের পরিবেশ অনেকটাই উন্মুক্ত ছিল। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এখনও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে প্রভাবিত করছে।

নির্বাচন প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে এই দল। এর মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (বিইসি) প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও কার্যনির্বাহী সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি অন্যতম।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে কমনওয়েলথ মহাসচিব মাননীয় শার্লি বচওয়ে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের ২০২৬ সালের নির্বাচন এবং গণভোট নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের প্রতি তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ। এই পুরো প্রক্রিয়াটি যেভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই।’’

‘‘একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ঐক্যবদ্ধ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সংবেদনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যেই এই সুপারিশগুলো করা হয়েছে। আমরা আশা করি, চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ একটি ন্যায়সংগত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা তৈরিতে সব অংশীজনকে সাথে নিয়ে কাজ করবে। বরাবরের মতোই কমনওয়েলথ এই প্রচেষ্টায় পাশে থাকতে প্রস্তুত।’’

ইতিমধ্যেই কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%