০৪:২৯ পি.এম
বাংলাদেশের ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন এবং এর সাথে অনুষ্ঠিত গণভোটকে একটি "গণতান্ত্রিক মাইলফলক" হিসেবে অভিহিত করেছে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল (সিওজি)৷ তারা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতিকে আরও সুসংহত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) কমনওয়েলথের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিওজি এই আহ্বান জানিয়েছে।
নির্বাচন পরবর্তী চূড়ান্ত প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষক দল প্রবাসী ভোটার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বড় পরিসরে 'পোস্টাল ব্যালট' বা ডাকযোগে ভোটদানের ব্যবস্থা প্রবর্তনের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাবমূর্তি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ. ই. নানা আকুফো-আডোর নেতৃত্বে গঠিত এই কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলে এশিয়া, আফ্রিকা, ক্যারিবীয়, ইউরোপ এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। গত ৪ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই পর্যবেক্ষক দলটি বাংলাদেশে অবস্থান করে নির্বাচন-পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে। গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সামগ্রিক চিত্র ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেন।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচন ও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (বিইসি) স্বাধীনতা ও সক্ষমতা নিয়ে পূর্বে উদ্বেগ ছিল। তবে তাও সত্ত্বেও, এবারের ভোটগ্রহণ, গণনা এবং ফলাফল ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে সম্পন্ন হয়েছে বলে মূল্যায়ন করেছে পর্যবেক্ষক দলটি।
চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, 'জুলাই সনদ'-এর ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে ৬১.৬৪ শতাংশ ভোটার সমর্থন জানিয়েছেন। তবে গণভোটের মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাধারণ জনগণের সচেতনতা সীমিত ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
নির্বাচনে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি তুলে ধরেছে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী হওয়া এবং সংরক্ষিত আসন থাকা সত্ত্বেও, নির্বাচনে মোট প্রার্থীদের মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র চার শতাংশের কাছাকাছি। এর মধ্যে সরাসরি নির্বাচিত হতে পেরেছেন মাত্র ৭ জন নারী। এছাড়া দেশের মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে হলেও, যুবসমাজের প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের হার ছিল বেশ কম।
পর্যবেক্ষক দল লক্ষ্য করেছে যে, বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় গণমাধ্যমের পরিবেশ অনেকটাই উন্মুক্ত ছিল। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এখনও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে প্রভাবিত করছে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
নির্বাচন প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে এই দল। এর মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (বিইসি) প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও কার্যনির্বাহী সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি অন্যতম।
চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে কমনওয়েলথ মহাসচিব মাননীয় শার্লি বচওয়ে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের ২০২৬ সালের নির্বাচন এবং গণভোট নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের প্রতি তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ। এই পুরো প্রক্রিয়াটি যেভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই।’’
‘‘একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ঐক্যবদ্ধ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সংবেদনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যেই এই সুপারিশগুলো করা হয়েছে। আমরা আশা করি, চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ একটি ন্যায়সংগত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা তৈরিতে সব অংশীজনকে সাথে নিয়ে কাজ করবে। বরাবরের মতোই কমনওয়েলথ এই প্রচেষ্টায় পাশে থাকতে প্রস্তুত।’’
ইতিমধ্যেই কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন