১২:১৫ পি.এম
রাজধানীর পল্লবীর ঘটনা নিয়ে বিচারক জানিয়েছেন যে, রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ফ্ল্যাটে অবস্থান করেও কোনো পদক্ষেপ নেননি। রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টার সময় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় দিতে শুরু করেন। প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ প্রমাণিত বলে জানিয়ে বিচারক বলেন, সুরতহাল রিপোর্টে ধরা পড়েছে রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। ফ্ল্যাটে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও রামিসাকে বাঁচাতে স্বপ্না কোনো পদক্ষেপ নেননি। স্বপ্নার সুযোগ থাকলেও তিনি প্রতিরোধের চেষ্টা না করে এই অমানবিক কাজ করেছেন। তাই স্বপ্নাও সোহেল রানার মত একই অপরাধে অপরাধী। তাদের অপরাধ সংশোধিত করার উপযোগী নয়। তাদের কাছে কোনো শিশু নিরাপদ নয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগী শিশু রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের (মা-বাবা) দেওয়া হবে। আসামিরা যদি এই ক্ষতিপূরণ না দেন, তাতে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে রামিসার পরিবারে দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। এদিন বেলা ১১টার কিছুক্ষণ পরে বিচারক এজলাসে রায় পড়া শুরু করেন। রায় পাঠের সময়ে বিচারক মাসরুর সালেকীন বলেন, ‘ধর্ষণ শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে।’ এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার সময় প্রথমে স্বপ্নাকে এবং ৮টা ৫০ মিনিটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ঢাকার আদালতে নিয়ে আসা হয়। রায় ঘোষণার পূর্বে দুজনকে এজলাসে তোলা হয়েছিল। মামলার বিবরণ বলছে, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। এরপর সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর পৈশাচিকভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে রেকর্ড গড়ে মাত্র ৫ দিনের মাথায় (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছিল পুলিশ। এরপর ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্কের পরে ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে আজ এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেওয়া হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন