ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এফইআরবির সেমিনারে বক্তারা: অর্থনীতি বাঁচাতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে হবে


এফইআরবির সেমিনারে বক্তারা: অর্থনীতি বাঁচাতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে হবে

দেশের অর্থনীতি বাঁচাতে এবং রক্ষা করার জন্য দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে হবে। এ জন্য দরপত্রের বাইরে গিয়ে প্রচলিত আইন অনুসরণ করে আরো একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল-এফএসআরইউ বসানো প্রয়োজনীয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের সামসন এইচ চৌধুরী হলে ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা প্রধানভাবে এসব কথা বলেন।

ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) সেমিনারটির আয়োজন করেছে।

আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ২২ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে

সেমিনারে বক্তারা, জ্বালানি খাতে বিপ্লবী পরিবর্তন আনতে না পারলে বর্তমান সরকারকে একসময় ব্যর্থতার কলঙ্ক নিতে হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন।

তারা জাতীয় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী নেতারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে যেভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে তা আগ্রাসী। বিনিয়োগবান্ধব নীতি নেওয়া হয়েছে এবং পাঁচ বছরের কর অবকাশসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা। আমি মনে করি এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

কোয়ালাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার কয়লা দিয়ে বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা করছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এ বিষয়ে সতর্কভাবে এগোতে হবে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন হাজার হাজার ইসরাইলি

জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে বেসরকারি খাতে সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও স্বাধীনভাবে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে।

ভারতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানকার সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও জ্বালানি তেল বিক্রি করে।

ভোলার গ্যাস নিয়ে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সরকার আশাবাদী বলে জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রধানমন্ত্রীর (মালয়েশিয়া) সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এরপর আমরা অনলাইনে পেট্রোনাসের সঙ্গে আলোচনা করেছি।

আরও পড়ুন: শাহজালাল রুমিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান হয়নি: রাশেদ খাঁন

এলএনজি সংকটের প্রসঙ্গে বেরিয়ে আসতে গিয়ে তিনি বলেন, একটি ঘটনায় এলএনজি সরবরাহের সমস্যা তৈরি হওয়ায় সারা দেশে সংকট দেখা দিয়েছে। শিল্পকারখানা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি জানান, শিল্পের বর্তমান সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, শিল্পোদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠক করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এই সত্য আমরা অস্বীকার করছেন না। এ সংকটের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, জনগণ ভোট দিয়ে এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে। তাই যারা প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভুগছেন, তাঁদের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালানোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি আমরা সরবরাহ করতে পারছি না। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে সক্ষম হলে বর্তমান সংকট হতো না।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন।

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসী গ্রুপের দুই সদস্য পলাশ ও তোতা মিয়া গ্রেফতার

তিনি বলেন, অতীতে যেসব ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিল, সেগুলো এখন বাস্তব সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন সরকারের সামনে আর ভুল করার সুযোগ নেই।

প্যানেল আলোচনায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের তাৎক্ষণিক কোনো একক সমাধান সম্ভব নয়। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমছে। তাই গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি আমদানি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং দ্রুত ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করতে হবে। তবে গ্যাস সংকট কাটাতে দরপত্রের বাইরের অন্যান্য নীতিমালা বা আইনে দ্রুত একটি ভাসমান টার্মিনাল বসানো জরুরি।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের নতুন দলকে আগের ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে ‘বিপ্লবী পরিবর্তন’ আনতে হবে। তা না হলে ব্যর্থতার দায় বর্তমান সরকারকেও নিতে হবে।

ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, জ্বালানি চাহিদা পূরণে কোনো একক উৎসের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তেল-গ্যাস ও এলএনজিসহ সকল ধরনের উৎসকে কাজে লাগাতে হবে।এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশকে সরাতে রাজপথে নামছে ইন্ডিয়া জোট, ৩০ অক্টোবর ‘জনতার অভিশংসন’

বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, গ্যাসের ঘাটতির কারণে দেশে প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে তৃতীয় এফএসআরইউ বাস্তবায়ন করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা বাধ্যতামূলক।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এফইআরবির চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এফইআরবির নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সিরাজ।

সেমিনারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, বেসরকারি জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, প্রেমিকের সঙ্গে থাকার অনুমতি আইনত অপরাধ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোট দেবেন ৩৪৯ এমপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪২ এম


স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোট দেবেন ৩৪৯ এমপি

ছবি: সংগ্রহীত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটের জন্য তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স সরবরাহ করার কথা জানিয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে সেখানেই ব্যালট গণনা করে প্রাথমিক ফল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে কমিশনের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এর আগে জাতীয় সংসদে স্পিকার, চিফ হুইপ ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করেছেন।

ইসি সচিব জানিয়েছেন, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ চলবে। সংসদ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ নির্ধারিত আসনে বসে ভোট দেবেন। নির্বাচন কমিশনের সহায়ক কর্মকর্তারা তাদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন।

ভোটের জন্য মোট ৩৪৯টি ব্যালট প্রস্তুত থাকবে। যদি কোনো সংসদ সদস্য অনিবার্য কারণে নির্ধারিত সময়ের পরে উপস্থিত হন, তবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চালু রাখা হবে, যাতে তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।

ব্যালট পেপারে ভোটদাতার ক্রমিক নম্বর, নাম, বিভক্তি বা ডিভিশন নম্বর ও স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত অংশ থাকবে। অন্য দিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম উল্লেখ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য তার পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন।

ভোটদান শেষে সংসদ সদস্যরা তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মধ্যে যেকোনো একটি বাক্সে ব্যালট পেপার জমা দিতে পারবেন।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ব্যালট গণনা করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। গণনা শেষে এটি নির্ধারণ করা হবে, কতটি ব্যালট বৈধ হয়েছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কত ভোট পেয়েছেন।

এরপর প্রাথমিক ফল সংসদ ভবনেই ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তা বা সিইসি এই ফল ঘোষণা করবেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলের প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংসদে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করা হবে এবং সংসদ সচিবালয় থেকেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহায়ক কর্মকর্তা দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনাররা চাইলে ভোটগ্রহণের সময় সংসদে উপস্থিত থাকতে পারবেন।

দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। সংবাদকর্মীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসার ব্যবস্থা সম্পর্কেও প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও প্রত্যাহারের ধাপ রয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৮ আগস্ট এবং একই দিনে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও শেষ হবে। এরপর ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর এবারই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবং বিরোধী দলীয় জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। বিরোধী পক্ষ থেকে এলডিপির অলি আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তবে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের পর দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। বিরোধী পক্ষ থেকেও একজন প্রার্থী দেওয়ার কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যদি কোনো সংসদ সদস্য দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে বিপক্ষ প্রার্থীকে ভোট দেন, তবে সেটি ফ্লোর ক্রসিং হিসেবে বিবেচিত হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, বিষয়টি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এটি রাজনৈতিক প্রশ্ন। এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে জানতে হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের প্রস্তুতি এখন চলছে। ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই গণনা ও প্রাথমিক ফল ঘোষণার মাধ্যমে ভোটের মূল কার্যক্রম শেষ হবে। পরে নির্বাচন কমিশন থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যয় বাড়লেও কমছে না রাজধানীবাসীর ভোগান্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ এম


জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যয় বাড়লেও কমছে না রাজধানীবাসীর ভোগান্তি

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ধারাবাহিকভাবে সরকারি ব্যয় বাড়ছে, তাও জনভোগান্তি কমছে না। বরং এই সমস্যা তীব্রতর হচ্ছে। বৃষ্টি হলেও পানির নিচে তলিয়ে রাজপথে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাশয় ও সবুজ এলাকার নিয়মিত হ্রাসের কারণে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পানি জমে স্থবির হয়ে পড়ছে জনজীবন। রাজধানীর এই সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি প্রকৃতিভিত্তিক অবকাঠামো এবং সমন্বিত নগর পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকায় এখনো শহরব্যাপী একটি সমন্বিত সবুজ অবকাঠামো কিংবা জলসংবেদনশীল বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেনি। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দায়িত্ব বিভক্ত থাকার কারণে পেরেশানি বাড়ছে, যার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। নগর পরিকল্পনাবিদ, ওয়াসা এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশন থেকে আসা তথ্য অনুযায়ী, কঠিন পরিস্থিতিটির জন্য দায়ী অনেক ফ্যাক্টর রয়েছে। সূত্রগুলোর মতে, রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনের ১৪১টি এলাকা জলাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছে।

চলতি বছরে ওই এলাকার বৃষ্টিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে ছিল। নানা স্থানে ড্রেনে প্লাস্টিক, পলিথিন এবং কঠিন বর্জ্য জমে যাওয়ার কারণে পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারেনি। আবার কোথাও খাল দখল এবং কোথাও ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অথচ রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি ব্যয় নিয়মিতভাবে বাড়ছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকা শহরের দুটি সিটি কর্পোরেশনের আওতায় প্রায় ৩৩৪ কিলোমিটার ড্রেন ও বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে এবং এতে ব্যয় হয়েছে ২৬২ কোটিরও বেশি টাকা। তাছাড়া, খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেন পরিষ্কার, পাম্প পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও প্রতি বছর আলাদা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে রাজধানীর পানি নিষ্কাশন ও খাল উন্নয়নে হাজার কোটি টাকার বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তথাপি বর্ষাকালে রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে তীব্র জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, গত ৩০ বছরে ব্যাপক নির্মাণের পরও কার্যকর ও টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি; আর এর ফলে নগরীতে জলাবদ্ধতার সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানীর খাল-নালা রক্ষণাবেক্ষণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসন পূর্বে ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজ বিভাগের প্রধান দায়িত্বে ছিল। কিন্তু ওয়াসা যখন এই দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করেছে, তখন থেকে দীর্ঘসময়েও সিটি কর্পোরেশন পূর্ণাঙ্গ ড্রেনেজ বিভাগ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এই বিভাগে এখনো প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল এবং অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টির ফলে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যাচ্ছে। বিগত ২০২০ সালে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ওয়াসা থেকে গ্রহণ করেছে। সেক্ষেত্রে যুক্তি ছিল, সড়ক, খাল, ড্রেন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে জলাবদ্ধতার সমস্যার সমাধান হবে। সেই কারণে ২৬টি খাল, স্টর্ম স্যুয়ার এবং বক্স কালভার্ট দুই সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে প্রায় সাড়ে ৫ বছর পরে বরং রাজধানীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিতে প্রত্যাশিত উন্নতি এখনও দৃশ্যমান হয়নি। সূত্র আরও জানায়, সাম্প্রতিক বিশ্বব্যাংকের একটি মূল্যায়নে জানিয়েছে, ঢাকার স্যানিটেশন ও পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। শুধুমাত্র ২০ শতাংশ বাসিন্দা পাইপলাইনভিত্তিক স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে। দ্রুত নগরায়ণ, খাল দখল, দূষণ এবং দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণের কারণে রাজধানীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ক্রমশ চাপে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি ৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। এদিকে নগর পরিকল্পনাবিদ ও গবেষকদের মতে, বর্তমানে ঢাকা জলবায়ু ও বন্যা-ঝুঁকিপূর্ণ মেগাসিটিতে পরিণত হয়েছে, যা দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল ও জলাশয় ভরাট, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ, বর্জ্যে ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কমপ্লেক্স হয়ে উঠেছে। কংক্রিটনির্ভর ড্রেনেজ ব্যবস্থা দ্বারা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রকৃতিভিত্তিক এবং সবুজ অবকাঠামোর সংরক্ষণ, জলাধার সংরক্ষণ ও বৃষ্টির পানি ধারণ করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি। এর জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, খাল ও জলাধার সংরক্ষণ, বৃষ্টির পানি ধারণ ও শোষণের সক্ষমতা উন্নত করা প্রয়োজন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া তা না হলে প্রতি বছর নতুন প্রকল্প ও বাড়তি বরাদ্দের পরেও রাজধানীর বাসিন্দাদের একই দুর্ভোগের মোকাবিলা করতে হবে। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা বাড়ার পেছনে পাবলিক অসচেতনতা, স্লুইস গেট বন্ধ হয়ে যাওয়া, ড্রেনেজ পথের দূরত্ব বেশি হওয়া, জলাশয় কমে যাওয়া এবং ঢাকায় ক্যাপাসিটির তুলনায় বিপুল লোকের বসবাসসহ বেশ কিছু কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে এর মধ্যে মানুষের অসচেতনতাই অন্যতম। বর্তমানে জলাবদ্ধতা কমাতে ড্রেনেজ ডিজাইন পরিবর্তন, পানি নামার জন্য রাস্তার দূরত্ব কমানোসহ বেশকিছু পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তবে জনবলের ঘাটতি রয়েছে, এবং এখনো সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ড্রেনেজ সার্কেল চালু হয়নি। জনবল নিয়োগের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে কিন্তু থমকিয়ে আছে অনুমোদন। জলাবদ্ধতা নিরসনের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে আশা করা যায় নগরবাসীর ভোগান্তি কিছুটা কমবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবারও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ এম


আবারও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা

দেশে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা আবারো শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে, বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি লিটারে ১০ টাকা দাম বাড়ানোর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পেশ করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, যদি দাম না বাড়ানো হয়, তাহলে লোকসানের কারণে ভোজ্যতেল আমদানি করা সম্ভব হবে না। তবে এ বিষয়টিতে সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে দাম বাড়ানো নিয়ে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাজার, এবং বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির পক্ষে আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে নানা কারণ দেখিয়ে স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয়ের অজুহাতে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কারণ, বর্তমান দামে তারা লোকসান ভোগ করছেন। সেজন্য প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম খুচরা বাজারে ১০ টাকা বাড়িয়ে ২০৯ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া, লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫ লিটারের বোতল এক হাজার ১৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ১৮৮ টাকা নির্ধারণ করতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, খোলা পাম তেলের দামও বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১৮৩ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপণ্যে একগুচ্ছ করছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৪ টাকা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে।

সূত্র থেকে জানা গেছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভোজ্যতেলের দাম কতো হওয়া উচিত তা নিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিশ্লেষণে কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে টনপ্রতি অপরিশোধিত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১৯১ মার্কিন ডলারে, যা মাসখানেক আগে ছিল এক হাজার ১৬৯ মার্কিন ডলার। আর এক বছর আগে ওই দাম ছিল এক হাজার ৭৮ ডলার। পাশাপাশি, বিশ্ববাজারে পাম তেলের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি টন অপরিশোধিত পাম তেল এক হাজার ১৬২ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, অথচ এক মাস আগে তা ছিল এক হাজার ১৪৫ ডলার এবং এক বছর আগে এক হাজার ২৫ ডলারে বিক্রি হয়েছে। তবে, বিশ্ববাজারে দাম বেড়ালেও কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত দামের সঙ্গে কিছু তারতম্য রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপণ্যে একগুচ্ছ করছাড় দেওয়ার কারণে সেসব বিষয় সমন্বয় করেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে, এই প্রসঙ্গে টি কে গ্রুপের পরিচালক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. শফিউল আতহার তসলিম জানিয়েছেন, ভোজ্যতেল আমদানির পর্যায়ে সমস্ত খরচ বেড়ে গেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচও বেড়েছে। এসব কারণে বর্তমান বাজারদরের তুলনায় লিটারে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে এবং পরবর্তীতে আরো একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যদি লোকসান অব্যাহত থাকে, তাহলে এভাবে আমদানি করা সম্ভব হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর বাস রুটে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ এম


গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর বাস রুটে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ

রাজধানীর গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুটে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ওই লক্ষ্যে বর্তমানে সচল প্রায় ৯৮টি বাস রুট কমিয়ে সার্কুলার ও কমিউটার সার্ভিসসহ প্রায় ৬০টি রুটে আনা হবে। ইতিমধ্যে ডিটিসিএ, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং বাস মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো ৩২টি রুটের বিষয়ে ঐকমত্য হলেও খুব দ্রুতই বাকি রুটগুলোও বিষয়ে চূড়ান্ত করা হবে।

মূলত একই সড়কে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল, যাত্রী টানাটানি, বেপরোয়া প্রতিযোগিতা, অবৈধ রুট পরিচালনা এবং সড়কের ওপর বাস পার্কিংয়ের মতো সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) নতুন রুট কাঠামো প্রণয়ন করছে। পরিবহণ খাত এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে রাজধানীতে ৯৮টি সচল বাস রুট রয়েছে। যদিও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমোদিত বাস রুটের সংখ্যা ৪১৮টি। তার মধ্যে মাত্র ৮০টির বৈধ রুট পারমিট রয়েছে। বর্তমানে হাতিরঝিলে দুটি সার্কুলার রুটসহ আরো ১৬টি রুটে কোনো পারমিট ছাড়াই নিয়মিত চলাচল করছে বাস। অনুমোদিত ও অননুমোদিত রুট ঘিরে রাজধানীর গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে করে তুলেছে বিশৃঙ্খল। প্রতিদিন রাজধানীতে প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ বাসে যাতায়াত করেন। তার মধ্যে উত্তরা, গাজীপুর, সাভার, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান ও সদরঘাট করিডরে সবচেয়ে বেশি যাত্রী ওঠানামা করেন। সেজন্য নতুন পরিকল্পনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ওসব করিডরকে।

সূত্র জানায়, রাজধানীর গণপরিবহণের রুট ব্যবস্থাপনায় নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একই পথে কমে আসবে অপ্রয়োজনীয় বাস চলাচল। ফলে হ্রাস পাবে যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা ও বিশৃঙ্খলাও। পাশাপাশি নতুন পরিকল্পনায় যাত্রীদের জন্য অপেক্ষার সময় কমানো, নির্ধারিত সময়সূচি নিশ্চিত করা এবং সেবার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা হবে। বিগত ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চার মাসব্যাপী পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতেই ডিটিসিএ রাজধানীর নতুন রুট পরিকল্পনা তৈরি করেছে। জরিপে ৫ হাজার অফিসগামী যাত্রী, ১০ হাজার শিক্ষার্থী এবং ১০ হাজার মেট্রোরেল ব্যবহারকারীর মতামত নেয়া হয়। বর্তমানে রাজধানীর অধিকাংশ বাস রুটই ৩০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ। যদিও নগর পরিবহনের জন্য এতো দীর্ঘ রুট কার্যকর নয়।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে রাজধানীর উত্তরা-গাজীপুর, আবদুল্লাহপুর, সাভার, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন করিডরে একই পথে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল করছে। ফলে বাড়ছে যাত্রী টানাটানি, বেপরোয়া প্রতিযোগিতা এবং যানজট। নতুন পরিকল্পনায় একটি করিডরে সীমিতসংখ্যক অপারেটরের মাধ্যমে বাস পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকটি রুটে সীমিত ওভারল্যাপ রাখা হলেও কমিয়ে আনা হবে অপ্রয়োজনীয় রুটের পুনরাবৃত্তি। তাছাড়া রাজধানীতে বাস টার্মিনাল ও ডিপোর সংকটও যানজটের অন্যতম কারণ। বর্তমানে যাত্রাবাড়ী, সদরঘাট, মোহাম্মদপুর, রিং রোড, শনিরআখড়া, মিরপুর-১২, আবদুল্লাহপুর, টঙ্গী ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের শেষে সড়কের ওপরই বাস পার্কিং করে রাখা হয়। তাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে গিয়ে তীব্র হচ্ছে যানজট। সেজন্যই নতুন পরিকল্পনায় বাস রুটের শুরু ও শেষ প্রান্ত নগরীর কেন্দ্রীয় অংশের বাইরে নির্ধারণ, নতুন টার্মিনাল ও ডিপো নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে।

পাশাপাশি বর্তমানে সচল নয় এমন অনুমোদিত বাস রুট বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হবে। বর্তমানে রাজধানীর জন্য প্রায় ৬০টি বাস রুটই যথেষ্ট বলে সংশ্লিষ্টরা মত দিয়েছেন। তাছাড়া সড়ক থেকে দ্রুত ফিটনেসবিহীন ১ হাজারের বেশি বাস অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হবে। আর রুট চূড়ান্ত হওয়ার পর কোন কোম্পানি কোন রুট পরিচালনা করবে তা নির্ধারণ করা হবে। সেক্ষেত্রে একটি রুটে একটি অপারেটর রাখার নীতি অনুসরণ করা হবে এবং প্রতিটি রুটে প্রয়োজন অনুযায়ী বাসের সংখ্যাও নির্ধারণ করে দেয়া হবে। আর অনুমোদিত রুটে ফিটনেস, রুট পারমিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করেই অনুমতি দেয়া হবে বাস চলাচলের।

এদিকে পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাস রুট রেশনালাইজেশনের কোনো বিকল্প নেই। তবে তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সরকার পরিচালন ব্যয় নির্ধারণ করে টেন্ডারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট রুট পরিচালনার দায়িত্ব অপারেটরদের দিতে পারে। একই সঙ্গে বাসগুলোকে নির্ধারিত রুট, স্টপেজ, সময়সূচি ও গতিসীমা মেনে চলতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%