০৯:২৯ পি.এম
বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, "ধমক দিয়ে বা পিটিয়ে নির্যাতন করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না।" তিনি উল্লেখ করেছেন, "এমনটা হলে তো হাসিনাই টিকে থাকত, কিন্তু সে পারেনি; সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে তাকে পালিয়ে যেতে হয়েছে।" বুধবার (৩ জুন) বিকেল এ ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভুল্লী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে ভুল্লী কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত সরকারের আমলের চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, "ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনে আমাদের নেতাকর্মীরা রাতে ঘুমাতে পারত না। তারা পালিয়ে বেড়াত, ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকত। শীতের দিনে গাছের ওপর লুকিয়ে থাকতে হয়েছে। কারাগারে নির্যাতন করা হতো। আমরা ভুলিনি সেসব কথা; সেই অবস্থার পর দাঁড়িয়ে আজ আমরা এখানে এসেছি।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত। ফ্যাসিস্ট লুটেরা আমাদের সমস্ত ব্যাংক লুট করে নিয়ে চলে গেছে। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। আমাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে।"
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
অতীত ও বর্তমান নির্বাচনের পার্থক্য টেনে মন্ত্রী বলেন, "আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের কথা, কেউ ভোট দিতে পারেনি। আগের রাতেই ভোট হয়ে গিয়েছিল। এবারও তো নির্বাচন হলো, এ নির্বাচনে কোনো কারচুপি হয়েছে? জনগণ ইচ্ছামতো ভোট দিয়েছে। জনগণ এবার বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছে এবং দুই-তৃতীয়াংশ আসনের বেশি ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে।"
তিনি বলেন, "এমন একটা অবস্থা তৈরি করা হয়েছিল যে বিএনপি নাই, তারেক রহমান নাই। কিন্তু আল্লাহর কী অশেষ রহম দেখেন, মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক।"
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, "আপনারা যারা বিএনপি করেন, তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। জনগণ আপনাদের ওপর আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার মূল্য আপনাদের দিতে হবে। আপনাদের কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। জনগণের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। ধমক দিয়ে, পিটিয়ে নির্যাতন করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। তাহলে তো হাসিনাই টিকে থাকত। হাসিনা টিকে থাকতে পারছে কি? পারেনি। পালিয়ে গেছে, এমনভাবে পালিয়েছে যে আর আসতে পারে না। শুধু একা পালিয়ে যায়নি, সঙ্গে তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে পালিয়েছে। আমরা এই অবস্থা চাই না।"
ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, "আমরা বাংলাদেশে একটা সুন্দর, সুষ্ঠু ও সহনশীল গণতান্ত্রিক রাজনীতি চাই। আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের কর্মকাণ্ড করতে দিতে চাই, তাদের বক্তব্য রাখতে দিতে চাই এবং জনগণের সামনে আসতে দিতে চাই। আমরা সংসদকে কার্যকরী করতে চাই। সেটাই যেন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়, আমরা তা-ই চাই।"
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, বালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলীসহ জেলার অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন