বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:১৯ এম
পাকিস্তানে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসবিরোধী ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছে। এই অভিযানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে পৃথক সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪৪ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। একই সময়ে জঙ্গিদের হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারান। নিহত পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) পদমর্যাদার।
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এই তথ্যটি জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে এই ঘটনাগুলি ঘটেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি জানান, বুধবার, ২৯ জুলাই গভীর রাতে হামলাকারীরা খাইবার পাখতুনখাওয়ার হাঙ্গু জেলায় একটি পুলিশ চেকপোস্টে হামলা চালালে তিন পুলিশ কর্মকর্তা, যার মধ্যে একজন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) ছিলেন, নিহত হন।
তিনি আরও জানান, পাল্টা অভিযানের ফলে নিরাপত্তা বাহিনী আট সন্ত্রাসীকে হত্যা করতে সক্ষম হয় এবং হামলাটিও প্রতিহত করে। পুলিশের আশাবাদী যে সংঘর্ষে আহত ১৮ পুলিশ সদস্যের অবস্থা স্থিতিশীল হবে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানাচ্ছে, আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন খাইবার জেলায় একাধিক অভিযানে ২৪ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বেলুচিস্তানের নুশকি জেলায় পৃথক অভিযানে আট সন্ত্রাসী নিহত হয়। আইএসপিআর জানাচ্ছে যে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক (আইইডি) উদ্ধার ও ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করার জন্য এলাকাজুড়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশ জানাচ্ছে, খাইবার পাখতুনখাওয়ার সোয়াত জেলায় চলমান অভিযানে আরও চার সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এলাকায় তল্লাশি অভিযানও চলমান রয়েছে।
পাকিস্তানের একটি অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সোয়াত একসময় জঙ্গিগোষ্ঠীর শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল। তবে ২০০৯ সালে ব্যাপক সামরিক অভিযানের পর সরকার এই উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি গঠন করে যে এসব হামলার দায় আফগানিস্তান ভিত্তিক তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এর ওপর বর্তায়। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীতে মেয়ের চোখের সামনে সিমেন্টবাহী টমটমের ধাক্কায় এক নারীর মৃত্যু ঘটেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৫টার সময় শহরের লতিফ স্কুল রোড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হোসনেয়ারা বেগম (৫০) স্থানীয় মো. ফারুক শরীফের স্ত্রী ছিলেন। তিনি তার স্বামী এবং তিন সন্তান নিয়ে শহরে বসবাস করতেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলের সময়ে ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নতুন বাসা ভাড়া দেখতে বের হয়েছিলেন হোসনেয়ারা। লতিফ স্কুল রোডের পাশে রাস্তার ধরে হেঁটে যাওয়ার সময়ে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি সিমেন্ট বোঝাই টমটম তাকে ধাক্কা দেয়। ফলে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তখনই দ্রুত ওই টমটমের চালককে ধাওয়া করে আটক করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হোসনেয়ারাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সৈকত হাসান জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নারীর মৃত্যু ঘটে। তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনজনিত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে টমটম উদ্ধার করেছে এবং চালককে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে যে কোন অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে লেখক সালমান রুশদিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযুক্ত হাদি মাতার এবার ফেডারেল সন্ত্রাসবাদ মামলায়ও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বুধবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতের জুরি তাকে সব অভিযোগে দোষী ঘোষণা করেন।
এর ফলে আগামী ৩ নভেম্বর সাজা ঘোষণার সময় তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
২৮ বছর বয়সী হাদি মাতার এর আগেই একই হামলার ঘটনায় করা অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের হত্যা চেষ্টার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সেই মামলায় তিনি বর্তমানে ২৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরের ফেডারেল জেলা আদালতে এই মামলাটির বিচার হয়।
আদালতের জুরি প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা শেষে সর্বসম্মতভাবে হাদি মাতারকে দোষী ঘোষণা করেন। ফেডারেল মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা করা। গত মঙ্গলবার এই মামলার বিচার শুরু হয়েছিল। মাত্র এক দিনের শুনানি শেষে বুধবার রায় ঘোষণা করা হয়।
বিচারে সাক্ষ্য দেন ৭৯ বছর বয়সী ব্রিটিশ-আমেরিকান লেখক সালমান রুশদি। তিনি ১৯৮১ সালে প্রকাশিত ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ উপন্যাসের জন্য মর্যাদাপূর্ণ বুকার পুরস্কার পেয়েছিলেন। বাদীপক্ষ আদালতে জানায়, ১৯৮৮ সালে রুশদির উপন্যাস ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশের পর থেকেই তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সেই হুমকির ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে আসামিপক্ষ আদালতে হাদি মাতার বা তার পক্ষে অন্য কোনো সাক্ষীকে হাজির করেনি।
‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশের পর বইটি নিয়ে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিতর্ক শুরু হয়। তৎকালীন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি বইটিকে ধর্ম অবমাননাকর বলে আখ্যা দেন। ১৯৮৯ সালে তিনি একটি ফতোয়া জারি করেন। সেই ফতোয়ায় সালমান রুশদি এবং বইটির প্রকাশনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের হত্যা করার আহ্বান জানানো হয়।
এরপর রুশদিকে হত্যার জন্য বহু মিলিয়ন ডলারের পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনার জেরে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতাও ঘটে। ১৯৯১ সালে রুশদির জাপানি অনুবাদক হিতোশি ইগারাশি নিহত হন। পরে ১৯৯৮ সালে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ফতোয়া থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নির দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহর মহাসচিব সেই ফতোয়ার প্রতি সমর্থন জানান। পরে ২০১৭ সালে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিও তা সমর্থন করেন। বিচারে উপস্থাপিত প্রমাণ অনুযায়ী, হামলার আগে হাদি মাতার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই ফতোয়া নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। এরপর ২০২২ সালের ১২ আগস্ট নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মেভিল শহরের শাটাকুয়া ইনস্টিটিউশনে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি মঞ্চে উঠে সালমান রুশদির ওপর হামলা চালান।
হামলায় রুশদিকে মাথা, ঘাড়, বুকের অংশ এবং বাম হাতে এক ডজনের বেশি বার ছুরিকাঘাত করা হয়। এই হামলায় তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। তার শরীরের ভেতরের কয়েকটি অঙ্গও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত আরেকজন ব্যক্তিও আহত হন। হামলার পর দর্শকদের কয়েকজন দ্রুত মঞ্চে উঠে হাদি মাতারকে আটক করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। হাদি মাতার যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেও তার লেবাননের নাগরিকত্বও রয়েছে। তিনি নিউ জার্সির ফেয়ারভিউ এলাকায় বসবাস করতেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের একটি আদালত তাকে হত্যা চেষ্টার মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেন। তিন মাস পরে তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ভারতের একটি মুসলিম কাশ্মীরি পরিবারে জন্ম নেওয়া সালমান রুশদি পরে যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। ফতোয়া জারির পর ১৯৯০-এর দশকের বেশির ভাগ সময় তিনি ব্রিটিশ পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় আত্মগোপনে ছিলেন। তবে দুই দশকেরও বেশি আগে তিনি আবার প্রকাশ্যে চলাফেরা শুরু করেন এবং নিউইয়র্ক শহরে বসবাস শুরু করেন। ২০২২ সালের হামলার অভিজ্ঞতা, চিকিৎসা এবং মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প নিয়ে তিনি ‘নাইফ : মেডিটেশনস আফটার অ্যান অ্যাটেম্পটেড মার্ডা ‘ নামে একটি স্মৃতিকথা লেখেন। বইটি ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার ১ নম্বর চেচরীরামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খোয়াঘাট এলাকায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মো. সবুজ তালুকদার নিজের অর্থায়নে জনসাধারণের সুবিধার জন্য পোনা নদীতে একটি ঘাটলা নির্মাণ করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লিটন তালুকদার বলেন, ঘাটলাটি নির্মাণ হওয়ার ফলে এলাকার বাসিন্দারা, এবং খেজুরতলা এলাকা থেকে আসা জনগণ, বিশেষ করে বর্ষাকালে কাদায় মাখা অবস্থায় যাতায়াতকারীরা সহজে হাত-পা ধোয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া, বেড়িবাঁধ থাকার কারণে শুষ্ক মৌসুমে এলাকায় পানির সংকট দেখা দেয়। এ সময় ঘাটলাটি গোসলর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রয়োজনে এলাকাবাসীর জন্য বিশেষভাবে উপকারী হয়ে উঠেছে।
৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ফারুক তালুকদার জানান, নুরুল হক তালুকদারের ছেলে মো. সবুজ তালুকদার সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে জনস্বার্থে এই ঘাটলা নির্মাণ করেছেন। তবে, এলাকায় কিছু ব্যক্তি এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবুজ তালুকদারকে একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ জনসাধারণের উপকারে নির্মিত এই ঘাটলার কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তাহলে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে এর প্রতিবাদ করবে।”
স্থানীয়দের দাবি, ঘাটলাটি যে স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি মূলত সবুজ তালুকদারের নিজস্ব জমি। নদীভাঙনে জমিটির একটি অংশ বিলীন হয়ে গেলেও, অবশিষ্ট অংশেই ঘাটলাটি নির্মাণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. সবুজ তালুকদার বলেন, “আমি ব্যবসার কারণে বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকি। তবে আমার বাবা-মা এলাকায় থাকেন। তাই বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি নিজের জমিতে জনসাধারণের সুবিধার জন্য একটি ঘাটলা নির্মাণ করেছি। কিন্তু কিছু মানুষ এটি উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন। অথচ ঘাটলাটি নির্মাণের ফলে এলাকাবাসী অনেক উপকৃত হচ্ছেন। আমি সবসময় চাই এলাকার মানুষের সুবিধা এবং দুর্যোগ-দুর্বিপাকের সময় তাদের পাশে থাকতে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের ওপর আরো চাপ সৃষ্টি, সিরিয়ার ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি গুচ্ছ প্রস্তাব তুলে ধরেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠককে ঘিরে এই আলোচনা হয়।
প্রায় ৯০ মিনিটের বৈঠকটি ইরান যুদ্ধকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে কয়েক সপ্তাহের মতপার্থক্য ও উত্তেজনার পর অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউস আলোচনাকে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ উল্লেখ করে।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু এটিকে ট্রাম্পের সঙ্গে তার ‘এখন পর্যন্ত অন্যতম সেরা আলোচনা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, উভয় নেতা ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
অ্যাক্সিওসের সংবাদের মতে, আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ইরান সংক্রান্ত বিষয়টি। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে জানান, তেহরান কার্যকর কোনো সমঝোতায় পৌঁছাবে বলে তিনি এখনো সন্দিহান।
একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে থাকা ইরান মোকাবেলার তিনটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়। এগুলো হলো—কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা করা, নৌ অবরোধ বজায় রাখার মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং প্রয়োজনে আবারও ব্যাপক সামরিক হামলায় ফিরে যাওয়া।
তিনি বলেন, কোনো একটি বিকল্পকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য নয়, বরং প্রতিটি বিকল্পের সম্ভাব্য ফলাফল মূল্যায়নের লক্ষ্যেই এসব বিষয় খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেছেন, ইরানের অর্থনীতি এখনো চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। তাই সামরিক ও অসামরিক—উভয় ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা উচিত।
তার মতে, জ্বালানির সংকট, পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ সারি এবং জনঅসন্তোষ ইরানের সরকারকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। অর্থনৈতিক সংকট আরো গভীর হলে তা গণঅসন্তোষে রূপ নিতে পারে বলেও তেহরানের আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া, নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ছাড় আদায়ের জন্য ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে তাদের ‘শেষ কার্যকর চাপের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।
বৈঠকে সিরিয়ার পরিস্থিতিও আলোচনা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে একটি মানচিত্র দেখিয়ে সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতির সঙ্গে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলের ছোট বাফার জোনের তুলনা করেন।
তিনি যুক্তি দেন, জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর হুমকি বিদ্যমান থাকলে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েল তার অবস্থান বজায় রাখবে।
ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, ট্রাম্প যেন ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নেন, সে কারণেই নেতানিয়াহু এ বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
সৌদি পারমাণবিক চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্ভাব্য বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির বিষয়টিও উঠে আসে।
ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প এই চুক্তিকে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন। তবে আলোচনা সর্ম্পকে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। শুধু জানা গেছে যে, এ বিষয়ে বাস্তব অগ্রগতি হলে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু আগামী এক দশকে ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনাও ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরেন। তার মতে, ইসরায়েলের উচিত প্রতিরক্ষা খাতে আরো স্বনির্ভর হওয়া এবং ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর কম নির্ভরশীল থাকা।
এ লক্ষ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করতে চান তিনি। প্রস্তাবিত চুক্তিতে ১৬ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি সামরিক সহায়তার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির জন্য অতিরিক্ত ৫ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার কথা রয়েছে।
এছাড়া, ভবিষ্যৎ অস্ত্র প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ ১৬ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন নেতানিয়াহু বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ