বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৩১ এম
ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার ১ নম্বর চেচরীরামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খোয়াঘাট এলাকায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মো. সবুজ তালুকদার নিজের অর্থায়নে জনসাধারণের সুবিধার জন্য পোনা নদীতে একটি ঘাটলা নির্মাণ করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লিটন তালুকদার বলেন, ঘাটলাটি নির্মাণ হওয়ার ফলে এলাকার বাসিন্দারা, এবং খেজুরতলা এলাকা থেকে আসা জনগণ, বিশেষ করে বর্ষাকালে কাদায় মাখা অবস্থায় যাতায়াতকারীরা সহজে হাত-পা ধোয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া, বেড়িবাঁধ থাকার কারণে শুষ্ক মৌসুমে এলাকায় পানির সংকট দেখা দেয়। এ সময় ঘাটলাটি গোসলর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রয়োজনে এলাকাবাসীর জন্য বিশেষভাবে উপকারী হয়ে উঠেছে।
৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ফারুক তালুকদার জানান, নুরুল হক তালুকদারের ছেলে মো. সবুজ তালুকদার সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে জনস্বার্থে এই ঘাটলা নির্মাণ করেছেন। তবে, এলাকায় কিছু ব্যক্তি এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবুজ তালুকদারকে একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ জনসাধারণের উপকারে নির্মিত এই ঘাটলার কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তাহলে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে এর প্রতিবাদ করবে।”
স্থানীয়দের দাবি, ঘাটলাটি যে স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি মূলত সবুজ তালুকদারের নিজস্ব জমি। নদীভাঙনে জমিটির একটি অংশ বিলীন হয়ে গেলেও, অবশিষ্ট অংশেই ঘাটলাটি নির্মাণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. সবুজ তালুকদার বলেন, “আমি ব্যবসার কারণে বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকি। তবে আমার বাবা-মা এলাকায় থাকেন। তাই বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি নিজের জমিতে জনসাধারণের সুবিধার জন্য একটি ঘাটলা নির্মাণ করেছি। কিন্তু কিছু মানুষ এটি উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন। অথচ ঘাটলাটি নির্মাণের ফলে এলাকাবাসী অনেক উপকৃত হচ্ছেন। আমি সবসময় চাই এলাকার মানুষের সুবিধা এবং দুর্যোগ-দুর্বিপাকের সময় তাদের পাশে থাকতে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের ওপর আরো চাপ সৃষ্টি, সিরিয়ার ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি গুচ্ছ প্রস্তাব তুলে ধরেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠককে ঘিরে এই আলোচনা হয়।
প্রায় ৯০ মিনিটের বৈঠকটি ইরান যুদ্ধকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে কয়েক সপ্তাহের মতপার্থক্য ও উত্তেজনার পর অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউস আলোচনাকে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ উল্লেখ করে।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু এটিকে ট্রাম্পের সঙ্গে তার ‘এখন পর্যন্ত অন্যতম সেরা আলোচনা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, উভয় নেতা ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
অ্যাক্সিওসের সংবাদের মতে, আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ইরান সংক্রান্ত বিষয়টি। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে জানান, তেহরান কার্যকর কোনো সমঝোতায় পৌঁছাবে বলে তিনি এখনো সন্দিহান।
একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে থাকা ইরান মোকাবেলার তিনটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়। এগুলো হলো—কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা করা, নৌ অবরোধ বজায় রাখার মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং প্রয়োজনে আবারও ব্যাপক সামরিক হামলায় ফিরে যাওয়া।
তিনি বলেন, কোনো একটি বিকল্পকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য নয়, বরং প্রতিটি বিকল্পের সম্ভাব্য ফলাফল মূল্যায়নের লক্ষ্যেই এসব বিষয় খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেছেন, ইরানের অর্থনীতি এখনো চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। তাই সামরিক ও অসামরিক—উভয় ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা উচিত।
তার মতে, জ্বালানির সংকট, পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ সারি এবং জনঅসন্তোষ ইরানের সরকারকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। অর্থনৈতিক সংকট আরো গভীর হলে তা গণঅসন্তোষে রূপ নিতে পারে বলেও তেহরানের আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া, নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ছাড় আদায়ের জন্য ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে তাদের ‘শেষ কার্যকর চাপের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।
বৈঠকে সিরিয়ার পরিস্থিতিও আলোচনা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে একটি মানচিত্র দেখিয়ে সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতির সঙ্গে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলের ছোট বাফার জোনের তুলনা করেন।
তিনি যুক্তি দেন, জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর হুমকি বিদ্যমান থাকলে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েল তার অবস্থান বজায় রাখবে।
ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, ট্রাম্প যেন ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নেন, সে কারণেই নেতানিয়াহু এ বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
সৌদি পারমাণবিক চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্ভাব্য বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির বিষয়টিও উঠে আসে।
ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প এই চুক্তিকে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন। তবে আলোচনা সর্ম্পকে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। শুধু জানা গেছে যে, এ বিষয়ে বাস্তব অগ্রগতি হলে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু আগামী এক দশকে ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনাও ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরেন। তার মতে, ইসরায়েলের উচিত প্রতিরক্ষা খাতে আরো স্বনির্ভর হওয়া এবং ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর কম নির্ভরশীল থাকা।
এ লক্ষ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করতে চান তিনি। প্রস্তাবিত চুক্তিতে ১৬ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি সামরিক সহায়তার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির জন্য অতিরিক্ত ৫ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার কথা রয়েছে।
এছাড়া, ভবিষ্যৎ অস্ত্র প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ ১৬ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন নেতানিয়াহু বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় জুলাই শহীদ রাকিবের পরিবারের হাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। এ উপলক্ষে শহীদ রাকিবের কবর জিয়ারত, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি মশিউর রহমান মামুন, ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সৈয়দ আলী হাসান, সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম রনি, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদ সালাউদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মমিনুল ইসলাম সাদ্দাম, কাঁঠালিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রাকিবুল ইসলাম তুষার, শৌলজালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম শাহীন, সাধারণ সম্পাদক খালিদ মুন্সী, উপজেলা ছাত্রদল নেতা জুবায়ের আরাফাত, চেচরীরামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা নাঈম তালুকদার জিসানসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
নেতৃবৃন্দ শহীদ রাকিবের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। শহীদ পরিবারের পাশে থাকা এবং তাদের প্রয়োজনের সময় সহযোগিতা করা মানবিক ও নৈতিক দায়িত্বের অংশ।
এ সময় তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শহীদ রাকিবের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা এ সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ড ও নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করেছে।
পুনর্গঠিত কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ইশরাক হোসেনকে ট্রাস্টি বোর্ডের ট্রাস্টি এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ৮ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ড এবং ১৩ ধারা অনুযায়ী নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপন ও আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুগ্ম সচিব (প্রশাসন-১) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বকাউল।
পুনর্গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য আহমেদ আযম খান।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছাড়াও বোর্ডে ট্রাস্টি হিসেবে আরো রয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।
অন্যদিকে নির্বাহী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানকে।
কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী, নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক এবং প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
এছাড়া, পদাধিকারবলে ট্রাস্টি বোর্ড ও নির্বাহী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অর্থ বিভাগের সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সচিব এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্বাহী কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজধানী কিয়েভে একজন এবং মধ্যাঞ্চলীয় ক্রিভি রিহ শহরে ছয়জন।
ক্রিভি রিহে নিহতদের মধ্যে দুটি শিশু, ৫ ও ১২ বছর বয়সী, রয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের অভিযোগ, একটি ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র একটি বাড়িতে সরাসরি আঘাত হানে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালানোর ফলে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। হামলার সময় ইউক্রেনের বেশিরভাগ অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
রাজধানী কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং কিছু অনাবাসিক ভবনে আগুন লেগেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধার করার জন্য উদ্ধারকর্মীরা অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছেন। হামলার আগে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বড় ধরনের রুশ হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের মানুষের জীবন রক্ষায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের দ্রুত ও কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ দিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য পোল্যান্ড নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি একটি আগাম সতর্কীকরণ বিমান, ভূমিভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার ইউনিটও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ সম্পূর্ণ প্রতিরোধমূলক।
অপরদিকে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় পেনজা শহরে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে আগুন লেগেছে। এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেগ মেলনিচেঙ্কো জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। ঘটনার পর ওয়াইল্ডবেরিজ তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় ওয়াইল্ডবেরিজের প্রায় এক ডজন গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে প্রতিষ্ঠানটির গুদাম ধারণক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও, প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এদিকে রাশিয়ার বৃহত্তম ব্যাংক স্বারব্যাংক সতর্ক করেছে, যে ওয়াইল্ডবেরিজের ওপর হামলার কারণে প্রতিষ্ঠানটির এবং এর সরবরাহকারীদের আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। ফলে ব্যাংকটিকে ঋণ-ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত অর্থ সংরক্ষণ করতে হতে পারে। তবে এসব ঘটনার সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ