প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রে লেখক সালমান রুশদিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযুক্ত হাদি মাতার এবার ফেডারেল সন্ত্রাসবাদ মামলায়ও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বুধবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতের জুরি তাকে সব অভিযোগে দোষী ঘোষণা করেন।
এর ফলে আগামী ৩ নভেম্বর সাজা ঘোষণার সময় তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
২৮ বছর বয়সী হাদি মাতার এর আগেই একই হামলার ঘটনায় করা অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের হত্যা চেষ্টার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সেই মামলায় তিনি বর্তমানে ২৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরের ফেডারেল জেলা আদালতে এই মামলাটির বিচার হয়।
আদালতের জুরি প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা শেষে সর্বসম্মতভাবে হাদি মাতারকে দোষী ঘোষণা করেন। ফেডারেল মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা করা। গত মঙ্গলবার এই মামলার বিচার শুরু হয়েছিল। মাত্র এক দিনের শুনানি শেষে বুধবার রায় ঘোষণা করা হয়।
বিচারে সাক্ষ্য দেন ৭৯ বছর বয়সী ব্রিটিশ-আমেরিকান লেখক সালমান রুশদি। তিনি ১৯৮১ সালে প্রকাশিত ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ উপন্যাসের জন্য মর্যাদাপূর্ণ বুকার পুরস্কার পেয়েছিলেন। বাদীপক্ষ আদালতে জানায়, ১৯৮৮ সালে রুশদির উপন্যাস ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশের পর থেকেই তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সেই হুমকির ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে আসামিপক্ষ আদালতে হাদি মাতার বা তার পক্ষে অন্য কোনো সাক্ষীকে হাজির করেনি।
‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশের পর বইটি নিয়ে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিতর্ক শুরু হয়। তৎকালীন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি বইটিকে ধর্ম অবমাননাকর বলে আখ্যা দেন। ১৯৮৯ সালে তিনি একটি ফতোয়া জারি করেন। সেই ফতোয়ায় সালমান রুশদি এবং বইটির প্রকাশনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের হত্যা করার আহ্বান জানানো হয়।
এরপর রুশদিকে হত্যার জন্য বহু মিলিয়ন ডলারের পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনার জেরে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতাও ঘটে। ১৯৯১ সালে রুশদির জাপানি অনুবাদক হিতোশি ইগারাশি নিহত হন। পরে ১৯৯৮ সালে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ফতোয়া থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নির দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহর মহাসচিব সেই ফতোয়ার প্রতি সমর্থন জানান। পরে ২০১৭ সালে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিও তা সমর্থন করেন। বিচারে উপস্থাপিত প্রমাণ অনুযায়ী, হামলার আগে হাদি মাতার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই ফতোয়া নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। এরপর ২০২২ সালের ১২ আগস্ট নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মেভিল শহরের শাটাকুয়া ইনস্টিটিউশনে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি মঞ্চে উঠে সালমান রুশদির ওপর হামলা চালান।
হামলায় রুশদিকে মাথা, ঘাড়, বুকের অংশ এবং বাম হাতে এক ডজনের বেশি বার ছুরিকাঘাত করা হয়। এই হামলায় তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। তার শরীরের ভেতরের কয়েকটি অঙ্গও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত আরেকজন ব্যক্তিও আহত হন। হামলার পর দর্শকদের কয়েকজন দ্রুত মঞ্চে উঠে হাদি মাতারকে আটক করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। হাদি মাতার যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেও তার লেবাননের নাগরিকত্বও রয়েছে। তিনি নিউ জার্সির ফেয়ারভিউ এলাকায় বসবাস করতেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের একটি আদালত তাকে হত্যা চেষ্টার মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেন। তিন মাস পরে তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ভারতের একটি মুসলিম কাশ্মীরি পরিবারে জন্ম নেওয়া সালমান রুশদি পরে যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। ফতোয়া জারির পর ১৯৯০-এর দশকের বেশির ভাগ সময় তিনি ব্রিটিশ পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় আত্মগোপনে ছিলেন। তবে দুই দশকেরও বেশি আগে তিনি আবার প্রকাশ্যে চলাফেরা শুরু করেন এবং নিউইয়র্ক শহরে বসবাস শুরু করেন। ২০২২ সালের হামলার অভিজ্ঞতা, চিকিৎসা এবং মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প নিয়ে তিনি ‘নাইফ : মেডিটেশনস আফটার অ্যান অ্যাটেম্পটেড মার্ডা ‘ নামে একটি স্মৃতিকথা লেখেন। বইটি ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন