০১:৫৩ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ে পরাজয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর, এক নারী নিজের চার বছরের মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর সিবেল সাভেলা নামের ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী আত্মহত্যা করেন।
স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। খবরটি নিউইয়র্ক পোস্টের মাধ্যমে জানা যায়।
এবিসি১৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিবেলের প্রাক্তন স্বামী অ্যারন সাভেলার কাছে মেয়েকে হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু হিউস্টনে নিজের ৮ লাখ ২৪ হাজার ডলারের বাড়িতে তিনি মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর নিজেকেও গুলি করেন।
আরও পড়ুন: ভারত-চীন সম্পর্কের বরফ গলছে, তবে উদ্বেগ রয়ে গেছে
হিউস্টন পুলিশের লেফটেন্যান্ট ল্যারি ক্রাউসন জানান, ‘অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত আইনি শুনানি ওই মায়ের পক্ষে যায়নি। তাই বাড়ি ফিরে নিজের ৪ বছর বয়সী মেয়েকে গুলি করেন, এরপর নিজেকেও গুলি করেন।’
এই ঘটনার পর সিবেলকে প্রথমে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে একদিন পর তিনি মারা যান।
ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া সাবেলা ২০২৪ সালের নভেম্বরে অ্যারনের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটান। এরপর তাদের মধ্যে মেয়ের অভিভাবকত্ব নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়।
আদালতের নথিপত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক ঘটনার মাত্র আট ঘণ্টা আগে সিবেল আইনি লড়াইয়ে পরাজিত হন। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে, পর্তুগিজ জানা তত্ত্বাবধায়কের উপস্থিতি ছাড়া সিবেল তার মেয়ের সঙ্গে মাতৃভাষা পর্তুগিজে কথা বলতে পারবেন না।
আরও পড়ুন: স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৫০ জন নিহত
মেয়ের স্কুলের কোনো অনুষ্ঠানে সিবেলের উপস্থিতির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে সন্তানের ভরণপোষণের জন্য প্রাক্তন স্বামীকে অর্থ প্রদান এবং চিকিৎসার যাবতীয় খরচের ৫০ শতাংশ বহনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে সিবেল কেন অভিভাবকত্ব হারিয়েছিলেন এবং মেয়ের বিষয়ে তার ওপর কেন এত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
শিশুটির স্বজনরা জানিয়েছেন, ভিভিয়ানের বয়স ছিল মাত্র ৪ বছর। তাকে সবাই ভালোবাসত। তারা বলেন, ‘আমরা কী হারিয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’
তারা আরও বলেন, ‘সন্তানকে সুরক্ষা দিতে একজন অভিভাবকের কাছে আইন যা প্রত্যাশা করে, অ্যারন তার সবটাই করেছিলেন। তিনি আদালতের ওপর আস্থা রেখেছিলেন।’
আরও পড়ুন: হামলা হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বিপর্যয়ের আশঙ্কা: ইরান
তারা বলেন, ‘অ্যারন আদালতের প্রতিটি নির্দেশ মেনে চলেছিলেন। তিনি আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। মঙ্গলবার একজন বিচারক ভিভিয়ানের প্রাথমিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব অ্যারনকে দিয়েছিলেন এবং সন্ধ্যায় মেয়েটির তাঁর কাছে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু সে আর ফেরেনি।’
কেএইচওইউয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যারনের প্রতিনিধিত্ব করা আইনজীবী শার্লট রেইনওয়াটার বলেন, ‘এ ঘটনায় পরিবারটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমি ২৮ বছর ধরে পারিবারিক আইন নিয়ে কাজ করছি এবং আগে কখনও এমন অভিজ্ঞতা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন