মোহাম্মদ নূর স্টাফ রিপোর্টার
০১:৩০ পি.এম
সুনামগঞ্জ শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে যোগদানের পর থেকেই নিজের কর্মদক্ষতা, সাহসিকতা এবং সততার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এসআই (নিরস্ত্র) অভিজিৎ ভৌমিক। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন রোধ এবং চোরাচালান বিরোধী সফল অভিযানে একের পর এক সাফল্য অর্জন করে তিনি এখন জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছেন।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি তাঁকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত একটি সফল অভিযানে প্রায় ৪৯ লক্ষ টাকা মূল্যের ৩৫০ পিস ভারতীয় কাতান শাড়ি উদ্ধার করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর ও সফল চোরাচালান বিরোধী অভিযানে বিশেষ অবদান রাখায় সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে এই গৌরবোজ্জ্বল সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
শুধু চোরাচালান প্রতিরোধই নয়, বরং নিজ দায়িত্ব এলাকার সুরক্ষায় তিনি বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ইজারাবিহীন ধোপাজান চলতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করে নৌকা ও সংশ্লিষ্ট আসামিদের হাতেনাতে আটক করেছেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ চিরুনি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ বহু আসামিকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছেন এসআই অভিজিৎ ভৌমিক।
শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর এই চোখে পড়ার মতো সাফল্য ও জনবান্ধব ভূমিকা সাধারণ মানুষের মাঝে পুলিশের প্রতি আস্থার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অপরাধ নির্মূল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তাঁর এই অদম্য কর্মতৎপরতা সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ বাহিনীকে আরও বেশি গৌরবান্বিত করেছে।
এ বিষয়ে অভিজিৎ ভৌমিক বলেন, সুনামগঞ্জ শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে যোগদানের পর থেকে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব আমি সর্বদা সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে পালন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। জুলাই মাসে ৩৫০ পিস ভারতীয় কাতান শাড়িসহ বড় চালান উদ্ধার কিংবা অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন ও মাদকের বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রতিটি অভিযানই সম্ভব হয়েছে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সহকর্মীদের সম্মিলিত সহযোগিতার কারণে।
তিনি আরও বলেন,পুলিশ জনগণের বন্ধু—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জকে অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল একটি জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে আমি বদ্ধপরিকর। এই সম্মাননা স্মারক আমার কাজের দায়িত্ব ও অনুপ্রেরণা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতেও জনগণের জানমাল রক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমার এই তৎপরতা ও সততার লড়াই অব্যাহত থাকবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের ভালোবাসাই আমার কাজের মূল শক্তি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ রেফারিং ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি রেফারিং ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত চূড়ায় থেকে বিদায় নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার রোমাঞ্চকর ফাইনাল ম্যাচটি তিনি একদম কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা লাভ করেন।
সম্প্রতি ফিফা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লেনোভোর যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত বডি ক্যামেরার বিশেষ ফুটেজে ফুটবলপ্রেমীরা এবার সেই ফাইনালের ভেতরের গল্প ও ভিনচিচের আই-ভিউ থেকে ঘটা নানা রোমাঞ্চকর দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছেন।
বডি ক্যামেরার এই বিশেষ ভিডিওতে ফুটে উঠেছে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে দেওয়া রেফারির এক গোপন বার্তা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে দ্রুতই হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। বিপদের আভাস পেয়ে রেফারি ভিনচিচকে বলেন মেসি, ‘মেসি, পারেদেসকে নিয়ন্ত্রণে রাখো। আমি তাকে (দ্বিতীয় হলুদ কার্ড) দিতে চাই না... তার কার্ড আছে। দয়া করে তাকে শান্ত রাখো, সব সময়।’ রেফারির এই বার্তা পেয়ে তিনি সতীর্থকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন মেসি, যার ফলে পুরো ম্যাচে দ্বিতীয় কার্ড এড়িয়ে মাঠে টিকে থাকতে সক্ষম হন পারেদেস।
ভিডিওর শুরুতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের টানেলে মেসিকে দেখা যায় বার্সেলোনার সাবেক ও বর্তমান সতীর্থ মার্ক কুকুরেয়া ও রদ্রির সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে।
তবে সাউন্ড সিস্টেমে ডেভিড গেটারের ‘টাইটানিয়াম’ গান বাজার কারণে মেসি ও রদ্রির কথোপকথন শোনা যায়নি টসের সময়ে।
খেলার মাঝপথে স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি ফাউল করার পর মেসি যখন রেফারির দিকে তাকান, তখন ভিনচিচ অভয় দিয়ে জানিয়েছেন, ‘লিওনেল, আমি পুরোটা দেখেছি।’ রেফারির এই কথায় অবজ্ঞা না করে ঘুরে দাঁড়ান ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা। অন্যদিকে লামিন ইয়ামালকে ফাউল করায় লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে হলুদ কার্ড দেখানো এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে ফাউলের পর ‘তোমার জন্য এটাই শেষ সুযোগ’ বলে কড়া বার্তা দেওয়ার দৃশ্যও ধরা পড়ে সেই ক্যামেরায়।
ম্যাচে ফেরান তোরেসের দেওয়া স্পেনের জয়সূচক গোল থেকে শুরু করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে ‘চমৎকার কাজ করেছেন’ বলে প্রশংসা পাওয়ার মধুর স্মৃতিগুলো এখন ভিনচিচের এই ক্যামেরার সৌজন্যে জনসমক্ষে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার-হেমায়েতপুর অংশে ময়লার ভাগাড় অপসারণ, দুর্গন্ধমুক্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলমান ছিল, এখন এটি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে এ পথে চলাচলকারী মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য যে দুর্ভোগ ছিল, সেটির অবসান ঘটাতে এবং এলাকাটিকে দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম সরেজমিনে মহাসড়কের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পরে, প্রতিমন্ত্রী জানালেন, প্রধানমন্ত্রী খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধিত এ সড়কের উদ্বোধন করবেন।
এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, মহাসড়কের পাশে থাকা ময়লার ভাগাড়ের নির্দিষ্ট স্থানে বালি ও মাটি ফেলে জমি প্রস্তুত করা হয়েছে। এরপর সেখানে নারিকেল, সুপারি ও নিমসহ বিভিন্ন গাছ রোপণ করা হয়ে থাকে।
মাটি ধরে রাখতে বিশেষ ধরনের ঘাস লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং অননুমোদিতভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধে মহাসড়কের পাশে শক্তিশালী নেটের বেড়া দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম পরিদর্শনের পরে বলেন, 'এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। দীর্ঘ দুই দশক ধরে তাদের দুর্গন্ধ ও ময়লার দুর্ভোগ সহ্য করে যাতায়াত করতে হয়েছে। তবে খুব দ্রুতই এখানে আবর্জনার পরিবর্তে দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষ ও সবুজ পরিবেশ দেখতে পাবেন যাত্রীরা।'
ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, 'আমরা এখানে ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করেছি। নির্ধারিত ল্যান্ডফিলের বাইরে মহাসড়কে কেউ ময়লা ফেললে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
তিনি জানান, সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন হলে এখানে দুটি উইন্ডমিল স্থাপন করা হবে। এসব উইন্ডমিল থেকে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ দিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের বাতি জ্বালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘদিনের ময়লার ভাগার এবং দুর্গন্ধের কারণে আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কের এ অংশটি যাত্রী ও স্থানীয়দের জন্য ছিল চরম দুর্ভোগের কারণ।
সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা, সবুজায়ন এবং সৌন্দর্যবর্ধনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটি একটি পরিচ্ছন্ন, দৃষ্টিনন্দন এবং পরিবেশবান্ধব সড়কে রূপ গ্রহণ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তার দল। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া এক প্রতিবেদনে ইমরানের উচ্চ রক্তচাপের কথা জানানোর পর পিটিআই দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
ইমরানের মামলার শুনানির এক দিন আগে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয় যে, ইমরানের উদ্বেগ ও রক্তচাপের সমস্যা কমাতে পরিবার পরিজনের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করার সুযোগ দেওয়া উচিত।
পিটিআই নেতারা একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ইমরানকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। তাদের দাবি, ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বলেছেন, ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, এতে দেশের সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। আফ্রিদি আরও জানান, ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরা তার রক্তচাপ পরীক্ষা করলে তা স্বাভাবিক পাওয়া গেছে। তবে সোমবারের সরকারি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমরান খানের রক্তচাপ বেশি।
আফ্রিদি জানান, ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি গুরুতর। তিনি তদন্ত দাবি করেন যে, ২ ডিসেম্বরের পর থেকে ইমরানের পরিবারের সদস্য, আইনজীবী এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তানের বর্তমান সরকার এবং তার ভাষায়, অপহরণকারীরা ইমরানের বর্তমান শারীরিক অবস্থার জন্য দায়ী।
আফ্রিদি বলেন, ইমরানের চোখের সমস্যা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তার দল দাবি করে আসছে, ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এবং পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি ভালো হাসপাতালে চিকিৎসা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ আবারও চালু করা উচিত। তার ভাষায়, 'আমাদের এই দাবি অসাংবিধানিক বা অবৈধ নয়।' এছাড়া, তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে বিচার বিভাগও নীরব রয়েছেন।
আফ্রিদি প্রশ্ন করেন, 'দেশের সবচেয়ে বড় দলের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা যদি কারাগারে থাকেন এবং বিচার বিভাগ তাকেই ন্যায়বিচার দিতে না পারে, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে ন্যায়বিচার পাবে?' তিনি বলেন, ২৫ কোটি মানুষের শেষ ভরসা বিচার বিভাগ। পিটিআই বিচার বিভাগের কাছে কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, ন্যায়বিচার চাইছে। আফ্রিদি আরও জানান, ইমরানের মামলার শুনানির জন্য মঙ্গলবার তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ বসবে। ওই দিন ইমরানের সঙ্গে আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের দেখা করার সুযোগ দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ইমরানের চিকিৎসা এবং তার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে পিটিআইয়ের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য, আইনজীবী এবং দলের নেতারা আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন।
আফ্রিদি আরও মন্তব্য করেন, 'বিচার বিভাগ যদি ন্যায়বিচার না করে, তাহলে জনগণ নিজেই ন্যায়বিচারের জন্য এগিয়ে যাবে।' তিনি বলেন, কোনো দলের নেতা, 'প্রতিষ্ঠান অথবা বিচার বিভাগ জনগণের ন্যায়বিচারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।' ইমরানের স্বাস্থ্যের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে দেশকে জানাতে তার পরিবারই সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন আফ্রিদি। পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর আলী খান বলেন, 'ইমরানের রক্তচাপ বেশি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। প্রত্যেক পাকিস্তানির উদ্বেগ ও দাবি হলো, তাকে অবিলম্বে হাসপাতালে নেওয়া হোক, যাতে তিনি সর্বোত্তম চিকিৎসা পান।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হাকাইন্ডে হিচিলেমা রাজধানী লুসাকার কাবুলঙ্গা বয়েজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে ভোট দেন।
জাম্বিয়ায় হাকাইন্ডে হিচিলেমা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার দেশটির নির্বাচন কমিশন ভোটের ফল ঘোষণা করে। এই নির্বাচনে হিচিলেমা ৬০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
তামা উৎপাদনে সমৃদ্ধ দেশ জাম্বিয়ায় গত বৃহস্পতিবার মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলো ভয়ভীতি, গ্রেপ্তার, সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল।
২০২১ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন হিচিলেমা। এবারের নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১৩ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সাবেক প্রাদেশিক মন্ত্রী ব্রায়ান মুন্দুবিলে অংশ নিয়েছিলেন। এটি ছিল মুন্দুবিলের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ।
নির্বাচন কমিশনের চেয়ারপারসন মওয়াঙ্গালা জালৌমিস জানান, মুন্দুবিলে প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ২২৬টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে তখনো পাঁচটির ফল গণনা বাকি ছিল। তবে এসব ফলাফলে সামগ্রিকভাবে বড় কোনো পরিবর্তন হবে না বলে তিনি জানান।
বিজয় ঘোষণার পর ৬৪ বছর বয়সি হিচিলেমা বলেন, ‘আপনারা আমাদের ওপর আস্থা রাখায় আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ।’ অন্যান্য প্রার্থীদের ভোট দেওয়া নাগরিকদের জন্যও কাজ করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
ফল ঘোষণার পর হিচিলেমার দল ইউনাইটেড পার্টি ফর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউপিএনডি) লাল পোশাক পরা শত শত সমর্থক রাজধানী লুসাকার রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা গান গেয়ে ও নেচে বিজয়ের উদ্যাপন করেন। আতশবাজিও ফোটানো হয়।
ভোট গণনা নিয়ে অভিযোগের ক্ষেত্রে, ফল ঘোষণার আগেই ভোট গণনা নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন মুন্দুবিলে। সোমবার তিনি দাবি করেন, ভোট গণনায় অনিয়ম হয়েছে।
কোনো প্রমাণ ছাড়া তিনি বলেন, ভোটের ফল লেখা কিছু নথিতে কারসাজি করা হয়েছে। এতে ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় মুন্দুবিলে আরো বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশের কর্মকর্তাদের ভোটের সংখ্যা পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
জাম্বিয়া সরকারের অভিযোগ, মুন্দুবিলের দল এনআরপিইউপির সদস্যরা সশস্ত্র গোষ্ঠী বা বিদ্রোহী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তবে দলটি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রোববার রাতে সরকার জানায়, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে ছয়জন বিরোধী দলের নেতা-কর্মী।
সরকারের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছে উন্নত মানের অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সশস্ত্র বিদ্রোহে ব্যবহারের অন্যান্য সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।
মুন্দুবিলের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এনআরপিইউপি। দলের দাবি, অভিযানের সময়ে গুলি ছোড়া হয়। এতে একজন সংসদ সদস্য গুলিবিদ্ধ হন।
সরকারের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছে দলটি। তাদের ভাষ্য, দলের কোনো নেতা বা সদস্য বিদ্রোহ, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বা এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়।
ছয় ঘণ্টা ভোট গণনা বন্ধ ছিল। ভোট কেন্দ্রের কর্মীদের ওপর হামলা ও ব্যালট পেপার চুরির অভিযোগের পর গত শুক্রবার প্রায় ছয় ঘণ্টা ভোট গণনা স্থগিত ছিল। এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
পরে ‘নিরাপত্তা হুমকি’ নিয়ন্ত্রণে এসেছে জানিয়ে ভোট গণনা আবার শুরু করে কমিশন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলগুলো বলেছে, ভোট গণনা স্থগিত রাখার ঘটনায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভোটারদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হিচিলেমার প্রথম পাঁচ বছরের শাসনামলের মূল্যায়ন হিসেবেও এবারের নির্বাচনকে দেখা হচ্ছিল। তার শাসনামলে জাম্বিয়ার অর্থনীতি আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে।
ঋণ পুনর্গঠন ও মূল্যস্ফীতি কমে আসাকে নিজের সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন হিচিলেমা। তবে সমালোচকদের মতে, অর্থনীতির এই অগ্রগতির সুফল এখনো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জাম্বিয়ার ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের ৭০ শতাংশের বেশি দৈনিক ৩ ডলারের কম আয় করে জীবনযাপন করে।
আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম তামা উৎপাদনকারী দেশ জাম্বিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ১৯৯১ সালে বহুদলীয় রাজনীতিতে ফেরার পর থেকে দেশটিতে যতবার প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হয়েছে, প্রতিবারই তা নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ