০১:৩৮ পি.এম
জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হাকাইন্ডে হিচিলেমা রাজধানী লুসাকার কাবুলঙ্গা বয়েজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে ভোট দেন।
জাম্বিয়ায় হাকাইন্ডে হিচিলেমা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার দেশটির নির্বাচন কমিশন ভোটের ফল ঘোষণা করে। এই নির্বাচনে হিচিলেমা ৬০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে জোর দিচ্ছে: আমিনুল হক
তামা উৎপাদনে সমৃদ্ধ দেশ জাম্বিয়ায় গত বৃহস্পতিবার মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলো ভয়ভীতি, গ্রেপ্তার, সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল।
২০২১ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন হিচিলেমা। এবারের নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১৩ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সাবেক প্রাদেশিক মন্ত্রী ব্রায়ান মুন্দুবিলে অংশ নিয়েছিলেন। এটি ছিল মুন্দুবিলের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ।
নির্বাচন কমিশনের চেয়ারপারসন মওয়াঙ্গালা জালৌমিস জানান, মুন্দুবিলে প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ২২৬টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে তখনো পাঁচটির ফল গণনা বাকি ছিল। তবে এসব ফলাফলে সামগ্রিকভাবে বড় কোনো পরিবর্তন হবে না বলে তিনি জানান।
বিজয় ঘোষণার পর ৬৪ বছর বয়সি হিচিলেমা বলেন, ‘আপনারা আমাদের ওপর আস্থা রাখায় আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ।’ অন্যান্য প্রার্থীদের ভোট দেওয়া নাগরিকদের জন্যও কাজ করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে ইউ মার্কেটের সামনে ব্যবসায়ীকে গুলি, আহত ১
ফল ঘোষণার পর হিচিলেমার দল ইউনাইটেড পার্টি ফর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউপিএনডি) লাল পোশাক পরা শত শত সমর্থক রাজধানী লুসাকার রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা গান গেয়ে ও নেচে বিজয়ের উদ্যাপন করেন। আতশবাজিও ফোটানো হয়।
ভোট গণনা নিয়ে অভিযোগের ক্ষেত্রে, ফল ঘোষণার আগেই ভোট গণনা নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন মুন্দুবিলে। সোমবার তিনি দাবি করেন, ভোট গণনায় অনিয়ম হয়েছে।
কোনো প্রমাণ ছাড়া তিনি বলেন, ভোটের ফল লেখা কিছু নথিতে কারসাজি করা হয়েছে। এতে ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় মুন্দুবিলে আরো বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশের কর্মকর্তাদের ভোটের সংখ্যা পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
আরও পড়ুন: খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ছাত্রদল নেতা সোহেল শেখ আহত
জাম্বিয়া সরকারের অভিযোগ, মুন্দুবিলের দল এনআরপিইউপির সদস্যরা সশস্ত্র গোষ্ঠী বা বিদ্রোহী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তবে দলটি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রোববার রাতে সরকার জানায়, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে ছয়জন বিরোধী দলের নেতা-কর্মী।
সরকারের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছে উন্নত মানের অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সশস্ত্র বিদ্রোহে ব্যবহারের অন্যান্য সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।
মুন্দুবিলের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এনআরপিইউপি। দলের দাবি, অভিযানের সময়ে গুলি ছোড়া হয়। এতে একজন সংসদ সদস্য গুলিবিদ্ধ হন।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজ যুবক আজিমের মরদেহ উদ্ধার, চাচাতো ভাই আটক
সরকারের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছে দলটি। তাদের ভাষ্য, দলের কোনো নেতা বা সদস্য বিদ্রোহ, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বা এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়।
ছয় ঘণ্টা ভোট গণনা বন্ধ ছিল। ভোট কেন্দ্রের কর্মীদের ওপর হামলা ও ব্যালট পেপার চুরির অভিযোগের পর গত শুক্রবার প্রায় ছয় ঘণ্টা ভোট গণনা স্থগিত ছিল। এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
পরে ‘নিরাপত্তা হুমকি’ নিয়ন্ত্রণে এসেছে জানিয়ে ভোট গণনা আবার শুরু করে কমিশন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলগুলো বলেছে, ভোট গণনা স্থগিত রাখার ঘটনায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভোটারদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারি: চুপ্পুর বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি
অর্থনীতি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হিচিলেমার প্রথম পাঁচ বছরের শাসনামলের মূল্যায়ন হিসেবেও এবারের নির্বাচনকে দেখা হচ্ছিল। তার শাসনামলে জাম্বিয়ার অর্থনীতি আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে।
ঋণ পুনর্গঠন ও মূল্যস্ফীতি কমে আসাকে নিজের সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন হিচিলেমা। তবে সমালোচকদের মতে, অর্থনীতির এই অগ্রগতির সুফল এখনো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জাম্বিয়ার ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের ৭০ শতাংশের বেশি দৈনিক ৩ ডলারের কম আয় করে জীবনযাপন করে।
আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম তামা উৎপাদনকারী দেশ জাম্বিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ১৯৯১ সালে বহুদলীয় রাজনীতিতে ফেরার পর থেকে দেশটিতে যতবার প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হয়েছে, প্রতিবারই তা নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে হয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের মাথাব্যথার কারণ মুসলিম প্রার্থী ড. আব্দুল এল সাইদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন