বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:১২ এম
গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাস চলাচলে বাধা দেওয়ার কারণে রাজবাড়ী-ফরিদপুর এবং রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-ফরিদপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। এই ঘটনায় যাত্রীদের মাহিন্দ্রা, ইজিবাইক ও থ্রি-হুইলারে অতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধ করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় রাজবাড়ী, ফরিদপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু গন্তব্যে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রাজবাড়ী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. মাহমুদুল হক জুয়েলের অভিযোগ হল, ফরিদপুরের ‘গোল্ডেন লাইন’ পরিবহনকে রাজবাড়ী রুটে ৪টি ট্রিপ পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা নিয়মনীতি না মেনে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি ট্রিপ চালাচ্ছে। অপর দিকে, রাজবাড়ীর পরিবহনগুলো ফরিদপুর রুটে সমান সুযোগ পাচ্ছে না।
এদিকে, গত মঙ্গলবার রাতে ফরিদপুরের কোমরপুর এলাকায় রাজবাড়ীর ‘রেখা পরিবহন’-এর একটি বাস আটকে কর্মচারীদের মারধর, টাকা ছিনতাই করা এবং বাস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া বুধবার ফরিদপুরে ‘একতা পরিবহন’-এর এক কর্মচারীকে লাঞ্ছনা করা হয়। পরে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার পর দুই জেলার মধ্যে সরাসরি বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
ফরিদপুর বাস মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরুপ রায় অপু জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং কেন্দ্রীয় নেতাদেরও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন এবং ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, যাত্রী ভোগান্তি নিরসন এবং রুটটিতে দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য দুই জেলার মালিক সমিতির সঙ্গে প্রশাসনিক আলোচনা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরের শান্তিপাড়া এলাকা এখন যেন অপরাধীদের অভয়ারণ্য। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ছিনতাই, মাদক বিক্রি ও দেহব্যবসার মতো অসামাজিক কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না প্রশাসন—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, শান্তিপাড়ায় এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নতুন নয়। প্রতিনিয়ত পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের জানিয়েও কোনো সুফল মেলেনি। উল্টো সাধারণ মানুষের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে এই অপরাধী চক্রের গভীর যোগাযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মাসোহারা ও অনৈতিক সুবিধার বিনিময়েই বছরের পর বছর নিরব ভূমিকা পালন করছে দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
সবচেয়ে চমকপ্রদ ও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কথিত 'অভিযান'। এলাকাবাসীর স্পষ্ট অভিযোগ, দপ্তরটির কর্মকর্তারা যখনই এলাকায় অভিযানে নামেন, তার আগেই মূল অভিযুক্তদের কাছে গোপন ফোনকল চলে যায়। স্থান ত্যাগ করা এবং কাছে থাকা মাদকের চালান সরিয়ে ফেলার জন্য আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ায় প্রতিবারই অভিযানের নামে কেবল 'নাটক' মঞ্চস্থ হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
লুটপাট, ছিনতাই ও মাদকের এই অবাধ সাম্রাজ্যে অতিষ্ঠ শান্তিপাড়ার সচেতন নাগরিকরা। একের পর এক অভিযোগ জমা দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় তাদের মধ্যে এখন চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকার নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসের পর অবশেষে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজা চার্লসসহ রাজপরিবারের ঊর্ধ্বতন সদস্যদের ইতিমধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
যদিও তারা রাজপরিবারের কোনো সক্রিয় সদস্য বা অফিশিয়াল দায়িত্বে ফিরছেন না, বরং তারা সাধারণ নাগরিক হিসেবেই যুক্তরাজ্যে একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে থাকতে চান।
ডেইলি টেলিগ্রাফ ও দ্য সান-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মাসের শেষের দিকে ডিউক ও ডাচেস অফ সাসেক্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের বাইরের একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে স্থানান্তরিত হওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তাদের দুই সন্তান—আর্চি ও লিলিবেট—আগামী সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যের একটি স্কুলে লেখাপড়া শুরু করতে যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে রাজা চার্লসকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ বিষয়টি জানানো হয়। জানা গেছে, রাজপরিবারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব ছাড়াই হ্যারি ও মেগান নিজ নিজ সাধারণ পরিচয় বজায় রাখবেন। চার্লসও তাদের এই প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং নাতি-নাতনিদের সঙ্গে আরো বেশি ব্যক্তিগত সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ইতিপূর্বে গত জুলাই মাসে গ্লস্টারশায়ারে রাজার হাইগ্রোভ বাসভবনে হ্যারি-মেগান পরিবার এক ব্যক্তিগত পারিবারিক অনুষ্ঠানে রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, যেখানে দীর্ঘ চার বছর পর চার্লস তার নাতি-নাতনিদের সামনাসামনি দেখার সুযোগ পান। প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্সেস ক্যাথরিনকেও হ্যারি-মেগানের ফেরার সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
তবে যুক্তরাজ্যে হ্যারি ও মেগানের নিরাপত্তা ইস্যুটি এখনও একটি বড় আলোচনার বিষয়। যুক্তরাজ্য সরকার ও তাদের নিরাপত্তা কমিটি (রেভেক) জানিয়েছে যে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতা এবং সংবাদমাধ্যমের অহেতুক হস্তক্ষেপের পরও তারা এই ফেরাকে চূড়ান্ত করেছেন। আগামী বছর বার্মিংহামে হ্যারির প্রতিষ্ঠিত ‘ইনভিকটাস গেমস’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার প্রধান কর্মকর্তা ডেভিড ওয়াইজম্যান হ্যারির এই প্রত্যাবর্তনকে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও চমৎকার পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বার্সেলোনা জয় দিয়ে প্রাক্-মৌসুম প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মিসরের ক্লাব আল আহলিকে পরাজিত করে জোয়ান গাম্প্যার ট্রফিটি ধরে রেখেছে বার্সা।
ক্যাম্প ন্যুতে কাল রাতে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে হান্সি ফ্লিকের দল।
গত বছরও বার্সা জোয়ান গাম্প্যার ট্রফি জয় করেছিল। সেবার তারা ইতালিয়ান ক্লাব কোমোকে ৫-০ গোলে পরাজিত করেছে।
কালকের খেলায় ২৯ মিনিটে হামজা আব্দেলকরিমের একটি গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। মাত্র কদিন আগে আল আহলি ছেড়ে বার্সায় যোগ দেওয়া হামজা এবার গোল করলেন সদ্য সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে।
তবে আল আহলির জালে বল পাঠানোর পর ১৮ বছর বয়সী হামজাকে উল্লাসে দেখা যায়নি। বরং, তিনি হাত জোর করে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গি করেন।
প্রথমার্ধের শেষদিকে রাফিনিয়া ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হন; পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। সফল স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বার্সার নতুন অধিনায়ক।
বিরতির আগে, সংঘটিত পুরো সময় আল আহলি বার্সার আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দারুণ গোলে ব্যবধান কমায় তারা। পাল্টা আক্রমণে ডি-বক্সে ঢুকে মিসরের উইঙ্গার জিজো জোরাল শটে গোলটি করেন।
বার্সেলোনার ইতিহাসে প্রথম ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক হিসেবে রাফিনিয়াকে তুলে ধরেন।
এই অর্ধে পুরো একাদশ বদলে ফেলেন বার্সেলোনার কোচ ফ্লিক। এতে তাদের খেলায় সামান্য ধার কমে আসে। তবে শেষের দিকে আরেকটি গোল পেতেও পারতো তারা।
ডি-বক্সে অ্যান্থনি গর্ডন ফাউলের শিকার হলে বার্সা পেনাল্টি পায়। কিন্তু দুর্বল স্পট কিকে গোলকিপারকে পরাস্ত করতে পারেননি এবারের গ্রীষ্মে নিউক্যাসল ইউনাইটেড ছেড়ে স্প্যানিশ ক্লাবটিতে যোগ দেওয়া ইংলিশ উইঙ্গার।
আগামী রবিবার রাতে এলচের বিপক্ষে একটি ম্যাচ দিয়ে লা লিগা শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে বার্সেলোনা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাতৃত্বের অনুভূতি কোনো পদ বা মর্যাদার ফ্রেমে বাঁধা থাকে না—এই সত্যটিকে নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছেন নেপালের মহিলা, শিশু ও প্রবীণ নাগরিক বিষয়ক মন্ত্রী সীতা বাদি। ১৭ দিন বয়সী এক ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না শুনে তিনি একটি শিশু হোমে পরিদর্শনকালে স্থির থাকতে পারেননি।
কোনো দ্বিধা ছাড়াই শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে স্তন্যপান করান তিনি। এই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন মন্ত্রী সীতা বাদি।
এটি ঘটেছিল নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি শিশু হোমে। সেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের রাখা হয়। সম্প্রতি ওই হোমের চরম অব্যবস্থাপনা, নোংরা বিছানা ও বৃষ্টির পানির মধ্যে শিশুদের রাখার খবর পেয়ে পরিদর্শনে যান মন্ত্রী সীতা বাদি। হোমের অধিকাংশ শিশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিল।
পরিদর্শনের সময় ক্ষুধার জ্বালায় ১৭ দিন বয়সী এক শিশুকন্যা একটানা কাঁদতে থাকে। হোমে বিকল্প কোনো দুধ না থাকায় সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসেন মন্ত্রী। তিনি নোংরা বিছানাতেই বসে শিশুটিকে কোলে নিয়ে নিজের স্তনপান করান। মায়ের স্পর্শ পেয়ে শিশুটি শান্ত হয় এবং মন্ত্রীর কোলেই ঘুমিয়ে পড়ে। পরে মন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, শিশুটিকে কোলে নেওয়ার পর তার নিজের সন্তান বলেই মনে হয়েছে এবং এখন থেকে তিনিই সেই শিশুর মায়ের দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, মন্ত্রী সীতা বাদি নিজেও একসময় এ ধরনের হোমে বড় হয়েছেন। ১২ বছর বয়স পর্যন্ত হোম থেকে লেখাপড়া করে আজ তিনি দেশটির মন্ত্রীর আসনে পৌঁছেছেন।
হোমে থাকা ১৫ দিন থেকে ২ বছর বয়সী অন্তত ২০টি শিশুর সার্বিক যত্ন নেওয়া এবং হোমটি নতুন করে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পদমর্যাদা ভুলে একজন জনপ্রতিনিধির এমন বিরল মাতৃত্ববোধ ও মানবিকতার নজির বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ