প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাতৃত্বের অনুভূতি কোনো পদ বা মর্যাদার ফ্রেমে বাঁধা থাকে না—এই সত্যটিকে নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছেন নেপালের মহিলা, শিশু ও প্রবীণ নাগরিক বিষয়ক মন্ত্রী সীতা বাদি। ১৭ দিন বয়সী এক ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না শুনে তিনি একটি শিশু হোমে পরিদর্শনকালে স্থির থাকতে পারেননি।
কোনো দ্বিধা ছাড়াই শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে স্তন্যপান করান তিনি। এই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন মন্ত্রী সীতা বাদি।
এটি ঘটেছিল নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি শিশু হোমে। সেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের রাখা হয়। সম্প্রতি ওই হোমের চরম অব্যবস্থাপনা, নোংরা বিছানা ও বৃষ্টির পানির মধ্যে শিশুদের রাখার খবর পেয়ে পরিদর্শনে যান মন্ত্রী সীতা বাদি। হোমের অধিকাংশ শিশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিল।
পরিদর্শনের সময় ক্ষুধার জ্বালায় ১৭ দিন বয়সী এক শিশুকন্যা একটানা কাঁদতে থাকে। হোমে বিকল্প কোনো দুধ না থাকায় সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসেন মন্ত্রী। তিনি নোংরা বিছানাতেই বসে শিশুটিকে কোলে নিয়ে নিজের স্তনপান করান। মায়ের স্পর্শ পেয়ে শিশুটি শান্ত হয় এবং মন্ত্রীর কোলেই ঘুমিয়ে পড়ে। পরে মন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, শিশুটিকে কোলে নেওয়ার পর তার নিজের সন্তান বলেই মনে হয়েছে এবং এখন থেকে তিনিই সেই শিশুর মায়ের দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, মন্ত্রী সীতা বাদি নিজেও একসময় এ ধরনের হোমে বড় হয়েছেন। ১২ বছর বয়স পর্যন্ত হোম থেকে লেখাপড়া করে আজ তিনি দেশটির মন্ত্রীর আসনে পৌঁছেছেন।
হোমে থাকা ১৫ দিন থেকে ২ বছর বয়সী অন্তত ২০টি শিশুর সার্বিক যত্ন নেওয়া এবং হোমটি নতুন করে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পদমর্যাদা ভুলে একজন জনপ্রতিনিধির এমন বিরল মাতৃত্ববোধ ও মানবিকতার নজির বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন