ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হারামাইনে আজ জুমার নামাজে ইমামতি করবেন যারা


হারামাইনে আজ জুমার নামাজে ইমামতি করবেন যারা

আজ শুক্রবার (১০ জুলাই), ২৫ মহররম ১৪৪৮ হিজরি, এবং আজ মহররম মাসের চতুর্থ জুমা। এই উপলক্ষে, মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববিতে জুমার নামাজে ইমামতি করার জন্য উপস্থিত থাকবেন বিশ্বখ্যাত দুই আলেম ও কারি।

মসজিদে হারামে আজ জুমার নামাজ পড়াবেন আলেম ও কারি শায়খ উসামাহ খাইয়াত। তাঁর বাবার নাম হলো আব্দুল্লাহ, এবং দাদার নাম আব্দুল গনি। তিনি ১৯৫৬ সালে সৌদি আরবের মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালে শায়খ উসামাহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পর, মক্কার উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৮২ ও ১৯৮৮ সালে যথাক্রমে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

শায়খ আব্দুল্লাহ, যিনি তার বাবা, মসজিদে হারামের ইমাম ও খতিব ছিলেন। ১৯৯৭ সাল থেকে শায়খ উসামাহও মসজিদে হারামের ইমাম হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটির দাওয়াহ ও উসুলে দ্বীন অনুষদের অধ্যাপক এবং সৌদি শুরা কাউন্সিলের সদস্য।

আরও পড়ুন: ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতের আহ্বান

মসজিদে নববিতে জুমার নামাজ পড়াবেন আলেম ও কারি শায়খ আব্দুল বারি আস-সুবাইতি। ১৩৮০ হিজরিতে মক্কায় তার জন্ম হয়েছে। তিনি সুললিত কোরআন তিলাওয়াতের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত ও জনপ্রিয়। ১৪০৫ হিজরিতে আব্দুল বারি সুবাইতি কিং ফাহাদ আব্দুল আজিজ ইউনিভার্সিটি থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক করেন। এরপর, তিনি উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটিতে ইসলামি শরিয়া অনুষদে ভর্তি হন এবং ১৪০৯ হিজরিতে অনার্স ও ১৪১৫ হিজরিতে মাস্টার্স অর্জন করেন। ১৪১৪ হিজরি সাল থেকে তিনি মসজিদে নববির ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুমার নামাজ কত রাকাত, কীভাবে আদায় করবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৯ এম


জুমার নামাজ কত রাকাত, কীভাবে আদায় করবেন

 

সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন জুমা। এ দিন মুসলমানরা একসঙ্গে মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং খুতবা শোনেন। ইসলামে জুমার নামাজের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তবে অনেকেই জানতে চান, জুমার নামাজ কত রাকাত এবং সঠিক নিয়মে কীভাবে তা আদায় করতে হয়।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, জুমার নামাজ ২ রাকাত ফরজ। এই বিষয়ে ইসলামী ফকিহদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। যদিও ফরজ নামাজের আগে ও পরে সুন্নাত নামাজ রয়েছে। সাধারণভাবে অধিকাংশ মুসল্লি ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নাত এবং ফরজের পরে ৪ রাকাত সুন্নাত আদায় করেন। অনেক মুসল্লি ফরজের আগে অতিরিক্ত ২ রাকাতও আদায় করেন। তবে এসব সুন্নাতের রাকাতসংখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকলেও ফরজ জুমার নামাজ ২ রাকাত—এ বিষয়ে সবাই একমত।

জুমার নামাজ মূলত শুক্রবারের জোহরের নামাজের পরিবর্তে আদায় করা হয়। সময় একই হলেও জোহরের নামাজ ও জুমার নামাজের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। জুমার নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা বাধ্যতামূলক এবং এর আগে ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা ওয়াজিব। অন্যদিকে জোহরের নামাজে খুতবা নেই এবং তা একাকীও আদায় করা যায়।

জুমার নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন—

"ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানু ইযা নুদিয়া লিস্-সালাতি মিন ইয়াওমিল জুমুআতি ফাসআউ ইলা জিকরিল্লাহি ওয়া যারুল বাই'। জালিকুম খাইরুল্লাকুম ইন কুনতুম তা'লামুন। ফাইযা কুদিয়াতিস সালাতু ফানতাশিরু ফিল আরদি ওয়াবতাগু মিন ফাদলিল্লাহি ওয়াজকুরুল্লাহা কাসিরাল্লা'আল্লাকুম তুফলিহুন।"

অর্থ: “হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে। এরপর নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো, আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।”

জোহরের নামাজের সঙ্গে জুমার নামাজের পার্থক্যও রয়েছে। যেমন—

১. জোহরের ফরজ ৪ রাকাত, কিন্তু জুমার ফরজ ২ রাকাত।

২. জুমারের আগে ইমামের খুতবা শোনা আবশ্যক।

৩. জুমার নামাজ অবশ্যই জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হবে, একাকী আদায় করা যায় না।

৪. জুমার দিনে দরুদ, তাওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও নফল ইবাদতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

যেভাবে আদায় করবেন জুমার নামাজ:

মসজিদে প্রবেশের পর সুযোগ থাকলে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ (দুখুলুল মসজিদ) নামাজ আদায় করা সুন্নাত। এরপর সুন্নাত নামাজ পড়ে ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। খুতবা শেষে ইমামের সঙ্গে ২ রাকাত ফরজ জুমার নামাজ আদায় করতে হবে। ফরজের পর সুন্নাত নামাজ সুন্নত আদায় করা উত্তম।

কারা জুমা আদায় না করলেও চলবে?

যারা গুরুতর অসুস্থ, ভ্রমণরত (মুসাফির) অথবা শরিয়তসম্মত ওজরের কারণে জুমায় উপস্থিত হতে পারে না, তাদের জন্য জোহরের নামাজ আদায় করাই যথেষ্ট। তবে মুসাফির চাইলে জুমার জামাতে অংশ নিতে পারেন।

ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তাই আজান হওয়ার পর দুনিয়াবি কাজকর্ম ছেড়ে আল্লাহর ঘরে উপস্থিত হওয়া এবং খুতবা শুনে জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষের দায়িত্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খামেনির দাফনের পর ইরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, হামলার দায় অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০১ এম


খামেনির দাফনের পর ইরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, হামলার দায় অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন সমাপ্ত হওয়ার পর, কয়েক ঘণ্টা না যেতেই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক সিরিজ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুশেহর প্রদেশে অবস্থিত বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ বিভিন্ন সামরিক সদর দফতরে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বুশেহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি সামরিক সদর দফতরে মার্কিন-ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত হেনেছে। বুশেহর প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহানিয়ান হামলার বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থানে, যেমন চোগাদক শহরের সামরিক ঘাঁটিতে এবং একটি মাছ ধরার ঘাটে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সেই সঙ্গে, কোনারাক নামক দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরে একই সময়ে তিনটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ রিপোর্ট করা হয়েছে।

এই ঘটনার ফলশ্রুতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার সঙ্গে তাদের কোনও সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তা শনাক্ত করেছেন যে, এই সাম্প্রতিক হামলার পেছনে ওয়াশিংটনের কোন হাত নেই। অন্যদিকে, ইরানও এখন পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট দেশকে এই হামলার জন্য দায়ী করেনি। তবে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বিভিন্ন সামরিক অনুষ্ঠানে ইরানে আবারও পূর্ণ শক্তিতে সামরিক অপারেশন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আকাশে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে এবং হুমকি পরিহার করতে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে তৃতীয় বার আঘাত হানতে প্রস্তুত।

এর আগে, গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে এখানে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। ওই হামলার পরে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক বাতিল করার ঘোষণা দেন। ট্রাম্প পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, ইরানের সঙ্গে এই চুক্তি বহাল রাখা সময়ের অপচয় ব্যতীত কিছুই নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহাকাশ স্টেশনে সবজির বাগান, ছবি প্রকাশ করলেন নভোচারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৪ এম


মহাকাশ স্টেশনে সবজির বাগান, ছবি প্রকাশ করলেন নভোচারী

মহাকাশ স্টেশনে রীতিমতো তাজা সবজির বাগান গড়ে তুলেছেন নভোচারী দল! সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ভাসমান এই ছোট্ট ও উজ্জ্বল বাগানের একটি চমৎকার ছবি শেয়ার করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন নভোচারী সোফি অ্যাডেনট।

সোফি জানান, স্টেশনের কলম্বাস অংশে সম্প্রতি যে গোলাপি আলো দেখা গেছে, তা মূলত আসছে ‘ভেজি’ (Veggie) নামের একটি প্রকোষ্ঠ থেকে। এটি হলো মহাকাশ স্টেশনে সবজি উৎপাদনের একটি বিশেষ ব্যবস্থা, যা নভোচারীদের কাছে তাদের ছোট্ট বাগান হিসেবে পরিচিত। গাছের বেড়ে ওঠার জন্য সঠিক আলো দেয় বলেই এই প্রকোষ্ঠ থেকে এমন সুন্দর গোলাপি আলো ছড়ায়।

স্টেশনের ৭৪তম অভিযানে এই ‘ভেজি’তে ‘ভেজ-০৬’ নামের একটি পরীক্ষা চালানো হয়েছে। নভোচারী সোফি জানান, এই পরীক্ষার দুটি প্রধান লক্ষ্য ছিল। প্রথমত, মহাকাশে আলফালফা গাছ ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া কীভাবে বাতাস থেকে নাইট্রোজেন নিয়ে পুষ্টি তৈরি করে তা জানা। দ্বিতীয়ত, গাছকে সোজা রাখতে সাহায্য করা উপাদান ‘লিগনিন’ মহাকাশে কীভাবে বদলায় তা দেখা।

নভোচারীরা সেখানে সফলভাবে আলফালফা গাছ বড় করার কাজে নিয়োজিত হয়েছেন এবং পরম মমতায় এর যত্ন নিয়েছেন। পরে গাছগুলো কেটে বরফে জমিয়ে ড্রাগন কার্গো নামের একটি মহাকাশযানের মাধ্যমে পৃথিবীতে গবেষণার জন্য পাঠানো হয়েছে।

সোফি জানিয়েছেন, এই বাগানে কাজ করলে পৃথিবীর বাড়ির কথা মনে পড়ে। প্রতিদিন গাছের বেড়ে ওঠা দেখা ও যত্ন নেওয়ার অনুভূতি দারুণ। দীর্ঘ মহাকাশ যাত্রায় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ও নভোচারীদের মন ভালো রাখতে সেখানে তাজা খাবার ফলানো অত্যন্ত জরুরি।

তার মতে, এই মহাকাশ গবেষণা পৃথিবীর মাটি, কৃষি এবং বনায়নের উন্নতিতেও দারুণ সাহায্য করবে। সবশেষে তিনি আনন্দের সঙ্গে বলেন, ‘বিজ্ঞানের জয় হোক!’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতিহাসের ‘বিতর্কিত’ বিশ্বকাপ থেকে মরক্কোর বিদায়: মুসলিম বিশ্বে তীব্র ক্ষোভ, উঠেছে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​মাছুদুর রহমান আসলাম

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৯ এম


ইতিহাসের ‘বিতর্কিত’ বিশ্বকাপ থেকে মরক্কোর বিদায়: মুসলিম বিশ্বে তীব্র ক্ষোভ, উঠেছে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে মুসলিম রাষ্ট্রে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ‘বিতর্কিত’ এবং ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আসর হিসেবে এই বিশ্বকাপকে দেখছেন ক্রীড়ামোদীদের একটি বড় অংশ।

বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের সর্বশেষ প্রতিনিধি হিসেবে মরক্কোর বিদায়ের পর এই ক্ষোভ যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

মাঠের ফুটবলকে ছাপিয়ে টুর্নামেন্টজুড়ে রাজনৈতিক স্বার্থ, দ্বিমুখী নীতি এবং মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর প্রতি বৈষম্যমূলক ও বিমাতাসুলভ আচরণের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তা মুসলিম বিশ্ব সহজে ভুলে যাবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক ও বৈচিত্র্যময় মঞ্চে যেখানে ‘নিরপেক্ষতা’ এবং ‘ফেয়ার প্লে’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা, সেখানে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি একধরনের সূক্ষ্ম বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে বলে দাবি উঠছে।

নৈতিকতা, আইন এবং নিয়মের দোহাই দিয়ে যেভাবে মাঠ এবং মাঠের বাইরে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার পেছনে পশ্চিমা বিশ্বের গভীর রাজনৈতিক এজেন্ডা ও স্বার্থ লুকিয়ে ছিল বলে মনে করছে আরব ও মুসলিম বিশ্ব।

নিরপেক্ষতার যে চাদর ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো গায়ে জড়িয়ে রাখে, তার আড়ালে একচেটিয়া পক্ষপাতিত্ব চালানো হয়েছে বলে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের অভিযোগ।

এবারের বিশ্বকাপে মরক্কো যখন একের পর এক পরাশক্তিকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে মুসলিম ও আরব বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিল, ঠিক তখনই তাদের রূপকথা থামিয়ে দিতে নানামুখী অদৃশ্য চাপ তৈরি করা হয়েছিল।

মাঠের ভেতরে রেফারিংয়ের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে মাঠের বাইরে মরক্কোর খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মনস্তাত্ত্বিক চাপে ফেলার নানা কৌশল দেখা গেছে।

মরক্কোর ফুটবলারদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগ, সেজদাহ্ দিয়ে উদযাপনের সৌন্দর্য কিংবা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশের মতো বিষয়গুলোকে আন্তর্জাতিক ফুটবল রাজনীতির একাংশ ভালো চোখে দেখেনি।

ফলে তাদের পথচলাকে থামিয়ে দিতে এক ধরণের বৈরী পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।

নিরপেক্ষতার নামে চালানো হয়েছে সুদূরপ্রসারী পক্ষপাতিত্ব, আর নৈতিকতার আড়ালে হাসিল করা হয়েছে পশ্চিমা রাজনৈতিক স্বার্থ।

মাঠের খেলা ছাপিয়ে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর জন্য যে বৈরী ও তিক্ত আচরণ করা হয়েছে, মুসলিম বিশ্ব তা চিরকাল কলঙ্কিত কালিতে মনে রাখবে।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বিভিন্ন অউইস্টার্ন বা মুসলিমপ্রধান দেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি এক ধরনের তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করা হয়েছে।

যেখানে নির্দিষ্ট কিছু দেশের রাজনৈতিক বক্তব্য বা প্রতীককে উদারভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে, সেখানে মুসলিম সংস্কৃতির কোনো বহিঃপ্রকাশ ঘটলেই তাকে ‘বিতর্কিত’ তকমা দিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

মাঠের খেলা ছাপিয়ে এই যে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এবং মুসলিম দেশগুলোর প্রতি যে বিবাশ্ম ও তিক্ত আচরণ করা হয়েছে, তা ক্রীড়াঙ্গনের মূল চেতনার পরিপন্থী।

ফুটবলকে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ খেলা হিসেবে বিবেচনা না করে, এটিকে পশ্চিমা আধিপত্য বজায় রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

ক্রীড়াবিশ্লেষক ও মুসলিম বিশ্বের সাধারণ সমর্থকদের মতে, এই বিশ্বকাপ কেবল ট্রফি জয়ী দলের জন্য বা মাঠের দুর্দান্ত কোনো গোলের জন্য মনে রাখা হবে না; বরং মনে রাখা হবে ফুটবলকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এক নগ্ন দৃষ্টান্ত হিসেবে।

নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে যে অবিচার এবং দ্বিমুখী নীতি চালানো হয়েছে, মুসলিম বিশ্ব তা কখনো ভুলে যাবে না।

ফুটবলের ইতিহাসে এই আসরটি একটি ‘কালো অধ্যায়’ বা কলঙ্কিত কালি দিয়ে লেখা ইতিহাস হিসেবেই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একে বৈষম্যের এক অন্যতম স্মারক হিসেবেই দেখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%