ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইতিহাসের ‘বিতর্কিত’ বিশ্বকাপ থেকে মরক্কোর বিদায়: মুসলিম বিশ্বে তীব্র ক্ষোভ, উঠেছে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ


ইতিহাসের ‘বিতর্কিত’ বিশ্বকাপ থেকে মরক্কোর বিদায়: মুসলিম বিশ্বে তীব্র ক্ষোভ, উঠেছে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে মুসলিম রাষ্ট্রে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ‘বিতর্কিত’ এবং ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আসর হিসেবে এই বিশ্বকাপকে দেখছেন ক্রীড়ামোদীদের একটি বড় অংশ।

বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের সর্বশেষ প্রতিনিধি হিসেবে মরক্কোর বিদায়ের পর এই ক্ষোভ যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুন: ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১০৬ নম্বরে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল

মাঠের ফুটবলকে ছাপিয়ে টুর্নামেন্টজুড়ে রাজনৈতিক স্বার্থ, দ্বিমুখী নীতি এবং মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর প্রতি বৈষম্যমূলক ও বিমাতাসুলভ আচরণের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তা মুসলিম বিশ্ব সহজে ভুলে যাবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক ও বৈচিত্র্যময় মঞ্চে যেখানে ‘নিরপেক্ষতা’ এবং ‘ফেয়ার প্লে’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা, সেখানে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি একধরনের সূক্ষ্ম বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে বলে দাবি উঠছে।

নৈতিকতা, আইন এবং নিয়মের দোহাই দিয়ে যেভাবে মাঠ এবং মাঠের বাইরে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার পেছনে পশ্চিমা বিশ্বের গভীর রাজনৈতিক এজেন্ডা ও স্বার্থ লুকিয়ে ছিল বলে মনে করছে আরব ও মুসলিম বিশ্ব।

নিরপেক্ষতার যে চাদর ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো গায়ে জড়িয়ে রাখে, তার আড়ালে একচেটিয়া পক্ষপাতিত্ব চালানো হয়েছে বলে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের অভিযোগ।

আরও পড়ুন: টিনের চালের নিচে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার, অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক নেই

এবারের বিশ্বকাপে মরক্কো যখন একের পর এক পরাশক্তিকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে মুসলিম ও আরব বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিল, ঠিক তখনই তাদের রূপকথা থামিয়ে দিতে নানামুখী অদৃশ্য চাপ তৈরি করা হয়েছিল।

মাঠের ভেতরে রেফারিংয়ের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে মাঠের বাইরে মরক্কোর খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মনস্তাত্ত্বিক চাপে ফেলার নানা কৌশল দেখা গেছে।

মরক্কোর ফুটবলারদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগ, সেজদাহ্ দিয়ে উদযাপনের সৌন্দর্য কিংবা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশের মতো বিষয়গুলোকে আন্তর্জাতিক ফুটবল রাজনীতির একাংশ ভালো চোখে দেখেনি।

ফলে তাদের পথচলাকে থামিয়ে দিতে এক ধরণের বৈরী পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত হলেন অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির

নিরপেক্ষতার নামে চালানো হয়েছে সুদূরপ্রসারী পক্ষপাতিত্ব, আর নৈতিকতার আড়ালে হাসিল করা হয়েছে পশ্চিমা রাজনৈতিক স্বার্থ।

মাঠের খেলা ছাপিয়ে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর জন্য যে বৈরী ও তিক্ত আচরণ করা হয়েছে, মুসলিম বিশ্ব তা চিরকাল কলঙ্কিত কালিতে মনে রাখবে।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বিভিন্ন অউইস্টার্ন বা মুসলিমপ্রধান দেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি এক ধরনের তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করা হয়েছে।

যেখানে নির্দিষ্ট কিছু দেশের রাজনৈতিক বক্তব্য বা প্রতীককে উদারভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে, সেখানে মুসলিম সংস্কৃতির কোনো বহিঃপ্রকাশ ঘটলেই তাকে ‘বিতর্কিত’ তকমা দিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সুইটি এখনও জেলে আছে, ২ মাস পর বাড়ি ফিরবে; দাবি মায়ের

মাঠের খেলা ছাপিয়ে এই যে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এবং মুসলিম দেশগুলোর প্রতি যে বিবাশ্ম ও তিক্ত আচরণ করা হয়েছে, তা ক্রীড়াঙ্গনের মূল চেতনার পরিপন্থী।

ফুটবলকে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ খেলা হিসেবে বিবেচনা না করে, এটিকে পশ্চিমা আধিপত্য বজায় রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

ক্রীড়াবিশ্লেষক ও মুসলিম বিশ্বের সাধারণ সমর্থকদের মতে, এই বিশ্বকাপ কেবল ট্রফি জয়ী দলের জন্য বা মাঠের দুর্দান্ত কোনো গোলের জন্য মনে রাখা হবে না; বরং মনে রাখা হবে ফুটবলকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এক নগ্ন দৃষ্টান্ত হিসেবে।

নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে যে অবিচার এবং দ্বিমুখী নীতি চালানো হয়েছে, মুসলিম বিশ্ব তা কখনো ভুলে যাবে না।

আরও পড়ুন: ১৬ বছর যারা দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে, তারা এখন ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে : স্পিকার

ফুটবলের ইতিহাসে এই আসরটি একটি ‘কালো অধ্যায়’ বা কলঙ্কিত কালি দিয়ে লেখা ইতিহাস হিসেবেই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একে বৈষম্যের এক অন্যতম স্মারক হিসেবেই দেখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৪ এম


দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) টানা ২ দফা কমার পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এবার এক ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাপারে তথ্য জানিয়েছে। নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়ে গেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন ভ্যাটসহ স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দামের সঙ্গে সঙ্গে, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা পড়বে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই দাম দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

এছাড়া, গত ৯ জুলাই সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন দুপুর সোয়া ১২টার পর।

এ পর্যন্ত চলতি বছরে দেশের বাজারে ৮৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এসবের মধ্যে দাম ৪৪ দফা বৃদ্ধি করা হয়েছে, ৪৪ দফা কমানো হয়েছে এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সেই সময় ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজার দায়িত্ব ছাড়তে চায় কেন হামাস, কী রয়েছে নেপথ্যে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৬ এম


গাজার দায়িত্ব ছাড়তে চায় কেন হামাস, কী রয়েছে নেপথ্যে?

দশকেরও বেশি সময় ধরে গাজার শাসনভার ছিল ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নিয়ন্ত্রণে। ৬ জুলাই হামাসের দায়িত্ব নতুন টেকনোক্র্যাট কমিটির কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে গাজার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলো। কিন্তু হামাসের ক্ষমতা ছাড়ার পেছনে রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। অনেকের ধারণা, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস। হামাস সামরিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখে পরোক্ষভাবে প্রভাব ধরে রাখতে চায়। ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে ফিলিস্তিনি পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গাজায় ক্ষমতায় আসে হামাস। তবে নির্বাচনের পরপরই আন্তর্জাতিক চাপ, ইসরাইলের অবরোধ এবং ফাত্তাহ’র সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত নতুন সংকটের সূচনা করে। ২০০৭ সালে গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপর থেকে ইসরাইলের কঠোর অবরোধের কারণে গাজার অর্থনীতি ভেঙে পড়ে এবং লাখো মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। অবরোধের মধ্যেই প্রশাসন পরিচালনা করতে হামাস একাধিক বেসামরিক কমিটি গঠন করেছে। ২০১৪ সালে প্রশাসনিক কমিটি, ২০১৮ সালে গভর্নমেন্ট অ্যাকশন ফলো-আপ কমিটি এবং ২০২৩ সালের যুদ্ধ শুরুর পর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় গঠিত হয় গভর্নমেন্ট ইমার্জেন্সি কমিটি। এই কমিটি হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র, পানি সরবরাহ ও জরুরি সেবার সমন্বয় করছিল। একই সাথে হামাসের শীর্ষ নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী, যার ফলে গাজার প্রশাসনিক কাঠামোও বড় ধরনের রকম ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-ইসরাইল সংঘাত শুরু হওয়ার পর গাজার রাজনৈতিক বাস্তবতা একেবারেই বদলে যায়। যুদ্ধবিরতির পর ২০২৬ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গঠিত হয় ‘গাজা পিস কাউন্সিল’, এবং এর অধীনে তৈরি হয় ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ নামে একটি টেকনোক্র্যাট প্রশাসনিক কাঠামো। ৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের জরুরি প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে হামাস এবং নতুন কমিটির কাছে প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তর করে। এই পরিবর্তনকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইসরাইলের দাবি, এটি কেবল প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস। অনেকে মনে করেন, হামাস সামরিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখেই পরোক্ষভাবে তাদের প্রভাব বজায় রাখতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, গাজার দীর্ঘ যুদ্ধ, অবরোধ এবং মানবিক সংকটের বাস্তবতায় প্রশাসন পরিচালনায় একটি বিস্তৃত জাতীয় সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই পরিবর্তন এসেছে। নতুন কমিটির সফলতার ওপর নির্ভর করবে গাজার বিদ্যমান রাজনৈতিক শক্তি, স্থানীয় সমাজ ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সের মানসম্মত ফুটবলের কাছেই হার মানতে হয়েছে মরক্কোকে: ওয়াহবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


ফ্রান্সের মানসম্মত ফুটবলের কাছেই হার মানতে হয়েছে মরক্কোকে: ওয়াহবি

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট অর্জন করেছে ফ্রান্স। টানা দুটি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে মরক্কোকে।

ফ্রান্সের মানসম্মত ফুটবলের কাছে নতি শিকার করেছে মরক্কো, এ কথা ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি। তিনি প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের প্রশংসা করে বলেন, ‘প্রথমার্ধেই ফ্রান্সের অ্যাটাকিং ফুটবলের গুণগত মান আমাদের ভুগিয়েছে।’

কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলের গোলে মরক্কোর সেমিফাইনালে ফেরার আশা ভেস্তে গেছে। তবে গোল করার আগেই ফ্রান্স ম্যাচের কর্তৃত্ব নিয়ে নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন মরক্কো কোচ।

তিনি বলনে, আমরা এগিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু প্রথমার্ধটা আমাদের জন্য খুব কঠিন ছিল। ফ্রান্স বল দখলে অসাধারণ ছিল। দুই প্রান্ত দিয়ে তারা আমাদের অনেক সমস্যায় ফেলেছে। আর আমরা যখন বল পেয়েছি, তখন দ্রুত আক্রমণে রূপান্তর করতে পারিনি।

প্রথমার্ধে মরক্কো বেশিরভাগ সময় নিজেদের অর্ধে চাপের মধ্যে ছিল। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে প্রতিযোগিতায় ধরে রাখেন। বিশেষ করে এমবাপের পেনাল্টিও তিনি ঠেকিয়ে দেন। বিরতির পরেও ম্যাচের চিত্র খুব একটা পরিবর্তিত হয়নি।

ওয়াহবি বলেন, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা আমাদের জন্য ভালো ছিল। আমরা বেশি সময় বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি এবং ট্রানজিশনেও উন্নতি করেছি। কিন্তু এটাও স্বীকার করতে হবে, তাদের দলে অসাধারণ মানের খেলোয়াড় রয়েছে। তারা আগে থেকেও গোল করতে পারতো। আমরা দেখতে চাইতাম, তারা যদি আগে গোল না করত তাহলে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাত। কিন্তু আমাদের সৃজনশীলতার ঘাটতি ছিল এবং এই হার মেনে নিতেই হবে।

হার নিয়ে কোনো অজুহাত দিতে চান না ওয়াহবি। বরং তিনি এটিকে দলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের অংশ হিসেবেই দেখছেন। প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের প্রশংসা করে তিনি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল হিসেবে তাদের আখ্যা দিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাজিলের ফুটবল ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, অভিযোগ পেলের মেয়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৩ এম


ব্রাজিলের ফুটবল ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, অভিযোগ পেলের মেয়ের

ব্রাজিলের ফুটবল প্রশাসন এবং সামগ্রিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলের বড় মেয়ে এবং প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা কেলি নাসিমেন্তো।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, দেশটিতে ফুটবল প্রশাসনের মধ্যে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার তীব্র অভাব রয়েছে। এই অভাবের কারণে জাতীয় দলের মাঠের পারফরম্যান্সে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কেলি ব্রাজিলের ফুটবলকে একটি ‘বন্ধ ও অস্বচ্ছ বৃত্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, কেন এই ব্যবস্থা কাজ করছে না তা সবাই জানে, কিন্তু কেউ এটি সংস্কার করতে সক্ষম হচ্ছে না।

চলতি বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ব্রাজিলের বিদায় নেওয়ার পর ফুটবল বিশ্বের যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে কেলি নাসিমেন্তো এই মন্তব্য করেছেন। ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়েছে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা, যারা সর্বশেষ ২০০২ সালে ট্রফি জিতেছিল।

পেলের মেয়ে উল্লেখ করেন, ব্রাজিলে প্রতিভার অভাব নাই এবং এখনো সেখানে বিশ্বমানের ফুটবলার তৈরি হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দলগত ব্যর্থতার মূল কারণ হলো ফুটবল কাঠামোর ভেতরের গভীর সংকট। জীবিতাবস্থায় তার বাবা পেলে নিজেই ব্রাজিলের ফুটবলের এই অধঃপতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন দীর্ঘদিন।

অন্যদিকে কেলি ফরাসি ফুটবলের পরিকল্পিত ও কার্যকর কাঠামোর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ফ্রান্সের মতো দেশগুলো একটি দারুণ টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যা ব্রাজিলে সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত। তবে বর্তমানে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগের আগমনকে কিছুটা আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন তিনি।

মার্কিন ব্যবসায়ী জন টেক্সটরের অধীনে বোটাফোগো ক্লাবের পুনরুত্থানের উদাহরণ টেনে কেলি বলেন, এই ধরনের বিনিয়োগের ফলে ক্লাবের কার্যক্রমে অন্তত স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে। অনেক সমালোচনা থাকলেও এই জবাবদিহিতার সংস্কৃতি ব্রাজিলের ফুটবলের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%