১০:০৯ এম
ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে মুসলিম রাষ্ট্রে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ‘বিতর্কিত’ এবং ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আসর হিসেবে এই বিশ্বকাপকে দেখছেন ক্রীড়ামোদীদের একটি বড় অংশ।
বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের সর্বশেষ প্রতিনিধি হিসেবে মরক্কোর বিদায়ের পর এই ক্ষোভ যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
আরও পড়ুন: ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১০৬ নম্বরে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল
মাঠের ফুটবলকে ছাপিয়ে টুর্নামেন্টজুড়ে রাজনৈতিক স্বার্থ, দ্বিমুখী নীতি এবং মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর প্রতি বৈষম্যমূলক ও বিমাতাসুলভ আচরণের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তা মুসলিম বিশ্ব সহজে ভুলে যাবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক ও বৈচিত্র্যময় মঞ্চে যেখানে ‘নিরপেক্ষতা’ এবং ‘ফেয়ার প্লে’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা, সেখানে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি একধরনের সূক্ষ্ম বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে বলে দাবি উঠছে।
নৈতিকতা, আইন এবং নিয়মের দোহাই দিয়ে যেভাবে মাঠ এবং মাঠের বাইরে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার পেছনে পশ্চিমা বিশ্বের গভীর রাজনৈতিক এজেন্ডা ও স্বার্থ লুকিয়ে ছিল বলে মনে করছে আরব ও মুসলিম বিশ্ব।
নিরপেক্ষতার যে চাদর ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো গায়ে জড়িয়ে রাখে, তার আড়ালে একচেটিয়া পক্ষপাতিত্ব চালানো হয়েছে বলে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের অভিযোগ।
আরও পড়ুন: টিনের চালের নিচে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার, অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক নেই
এবারের বিশ্বকাপে মরক্কো যখন একের পর এক পরাশক্তিকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে মুসলিম ও আরব বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিল, ঠিক তখনই তাদের রূপকথা থামিয়ে দিতে নানামুখী অদৃশ্য চাপ তৈরি করা হয়েছিল।
মাঠের ভেতরে রেফারিংয়ের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে মাঠের বাইরে মরক্কোর খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মনস্তাত্ত্বিক চাপে ফেলার নানা কৌশল দেখা গেছে।
মরক্কোর ফুটবলারদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগ, সেজদাহ্ দিয়ে উদযাপনের সৌন্দর্য কিংবা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশের মতো বিষয়গুলোকে আন্তর্জাতিক ফুটবল রাজনীতির একাংশ ভালো চোখে দেখেনি।
ফলে তাদের পথচলাকে থামিয়ে দিতে এক ধরণের বৈরী পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত হলেন অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির
নিরপেক্ষতার নামে চালানো হয়েছে সুদূরপ্রসারী পক্ষপাতিত্ব, আর নৈতিকতার আড়ালে হাসিল করা হয়েছে পশ্চিমা রাজনৈতিক স্বার্থ।
মাঠের খেলা ছাপিয়ে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর জন্য যে বৈরী ও তিক্ত আচরণ করা হয়েছে, মুসলিম বিশ্ব তা চিরকাল কলঙ্কিত কালিতে মনে রাখবে।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বিভিন্ন অউইস্টার্ন বা মুসলিমপ্রধান দেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি এক ধরনের তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করা হয়েছে।
যেখানে নির্দিষ্ট কিছু দেশের রাজনৈতিক বক্তব্য বা প্রতীককে উদারভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে, সেখানে মুসলিম সংস্কৃতির কোনো বহিঃপ্রকাশ ঘটলেই তাকে ‘বিতর্কিত’ তকমা দিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সুইটি এখনও জেলে আছে, ২ মাস পর বাড়ি ফিরবে; দাবি মায়ের
মাঠের খেলা ছাপিয়ে এই যে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এবং মুসলিম দেশগুলোর প্রতি যে বিবাশ্ম ও তিক্ত আচরণ করা হয়েছে, তা ক্রীড়াঙ্গনের মূল চেতনার পরিপন্থী।
ফুটবলকে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ খেলা হিসেবে বিবেচনা না করে, এটিকে পশ্চিমা আধিপত্য বজায় রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
ক্রীড়াবিশ্লেষক ও মুসলিম বিশ্বের সাধারণ সমর্থকদের মতে, এই বিশ্বকাপ কেবল ট্রফি জয়ী দলের জন্য বা মাঠের দুর্দান্ত কোনো গোলের জন্য মনে রাখা হবে না; বরং মনে রাখা হবে ফুটবলকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এক নগ্ন দৃষ্টান্ত হিসেবে।
নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে যে অবিচার এবং দ্বিমুখী নীতি চালানো হয়েছে, মুসলিম বিশ্ব তা কখনো ভুলে যাবে না।
আরও পড়ুন: ১৬ বছর যারা দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে, তারা এখন ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে : স্পিকার
ফুটবলের ইতিহাসে এই আসরটি একটি ‘কালো অধ্যায়’ বা কলঙ্কিত কালি দিয়ে লেখা ইতিহাস হিসেবেই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একে বৈষম্যের এক অন্যতম স্মারক হিসেবেই দেখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন