ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

বিশ্ব ডায়াবেটিস, বক্ষব্যাধি ও শিশু দিবস উপলক্ষে ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প


বিশ্ব ডায়াবেটিস, বক্ষব্যাধি ও শিশু দিবস উপলক্ষে ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

বিশ্ব ডায়াবেটিস, বক্ষব্যাধি ও শিশু দিবস উপলক্ষে আগামী ১৪ নভেম্বর ২০২৬, শনিবার, ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত হাসপাতাল ভবনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। ক্যাম্পে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন, নবজাতক ও শিশু-কিশোর রোগ, মেডিসিন এবং বক্ষব্যাধিসহ বিভিন্ন রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করবেন।

ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শাহাদাৎ উল্লাহ এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. তাহমিনা ফেরদৌসী; নবজাতক ও শিশু-কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক (অব.) ডা. মো. গোলাম হাফিজ ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান; মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মনির হোসেনসহ অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন: হাসপাতালে সংক্রমণ প্রতিরোধে আইপিসি প্রটোকল অনুসরণের আহ্বান বিএমইউ উপাচার্যের

ক্যাম্পে রোগীদের জন্য বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ, ডায়াবেটিস চেকআপের জন্য র‍্যান্ডম ব্লাড সুগার (RBS) পরীক্ষা সম্পূর্ণ ফ্রি।

এছাড়া মাত্র ১,০০০ টাকায় বিশেষ হেলথ চেকআপ প্যাকেজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত পরীক্ষাগুলো হলো— CBC, S. Creatinine, Urine R/E, SGPT, ECG এবং USG of Whole Abdomen।

ক্যাম্পে রেজিস্ট্রেশন ভুক্ত রোগীদের জন্য ওই দিন প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে। তবে চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা গ্রহণের জন্য রোগীদের আগেই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ডায়াবেটিস, শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও শিশুস্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: চক্ষুসেবায় ৭ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত

আগ্রহী রোগীদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ০১৯৭৮-০৯৮০৮৮, ০৯৬১৩-৪৪৫৫৪৪।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘কিছু মানুষের বাজে আচরণে পুরো পেশার দুর্নাম হয়’ - ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফরহাদ হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৬ পি.এম


‘কিছু মানুষের বাজে আচরণে পুরো পেশার দুর্নাম হয়’ - ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফরহাদ হোসেন

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন মন্তব্য করেছেন, "গুটিকয়েক মানুষের বাজে আচরণের কারণে অনেক সময় পুরো পেশার দুর্নাম হয়।" তিনি উল্লেখ করেন যে, কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি বাসা, পরিবার ও সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভালো ব্যবহার বজায় রাখা উচিত। মহান সৃষ্টিকর্তা এর প্রতিদান দেন।

রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে ঢামেক হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) নন-ক্যাডার নার্সিং ব্যাচ-২ (২০১৮)-এর নার্সিং কর্মকর্তাদের কর্মজীবনের অষ্টম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসপাতাল পরিচালক আরও বলেন, সেবামূলক পেশায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব শুধুমাত্র রোগীর শারীরিক চিকিৎসা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়। রোগীকে মানসিকভাবে সুস্থ করে তুলতে ভালো সেবা, মিষ্টি কথা, সুন্দর আচরণ ও আন্তরিক হাসির মাধ্যমে সহায়তা করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা একটি অনন্য দায়িত্ব, যা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করা উচিত। মানুষের সঙ্গে সদ্ব্যবহার একটি অমূল্য মানবিক গুণ, যার কোনো বিকল্প নেই।

২০১৮ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত নার্সিং কর্মকর্তারা দীর্ঘ আট বছর ধরে সরকারি পর্যায়ে রোগীদের সেবাদান, পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থায় অবদান রাখার ধারাবাহিকতায় এ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানের স্মরণীয় করে রাখতে নার্সিং কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে একটি মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। রোগীদের ব্যবহারের জন্য ১০টি নতুন হুইলচেয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ঔষধি গাছ রোপণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির পক্ষে সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. ফারুক হোসাইন বলেন, "নার্সিং পেশার মর্যাদা, মানবিক সেবার গুরুত্ব এবং দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবায় নার্সিং কর্মকর্তাদের নিরলস অবদান সবার সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।" তিনি উল্লেখ করেন যে, রোগীদের সেবায় হুইলচেয়ার প্রদান ও বৃক্ষরোপণের মতো মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে এবারের বর্ষপূর্তি উদযাপন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উন্নয়ন, মানবসেবা ও মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে আসতে চান মুসলেহ উদ্দিন খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রতিবেদক : মোঃ শরীফ উদ্দিন

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৫ পি.এম


উন্নয়ন, মানবসেবা ও মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে আসতে চান মুসলেহ উদ্দিন খান

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১০ নম্বর ছাতিয়াইন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি উন্নত, পরিচ্ছন্ন, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মুসলেহ উদ্দিন খান।

এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে তিনি তাঁর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

মুসলেহ উদ্দিন খানের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—

উন্নয়নমূলক কার্যক্রম: ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যোগাযোগ ও জনসাধারণের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া।

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো: দরিদ্র, অসহায়, অসুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া।

মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গঠন: যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সচেতনতা তৈরি, খেলাধুলা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করা এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।

শিক্ষা ও যুবসমাজের উন্নয়ন: শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, তরুণদের দক্ষতা বিকাশে সহযোগিতা এবং খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা।

সামাজিক সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার: এলাকার মানুষের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করা।

মুসলেহ উদ্দিন খানের প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করলে ১ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি মনে করেন, উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও প্রকৃত উন্নয়নের অংশ।

তাঁর প্রত্যাশা—একটি মাদকমুক্ত, মানবিক, পরিচ্ছন্ন ও উন্নত ছাতিয়াইন ১ নম্বর ওয়ার্ড গড়ে তোলা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের হাতে ডিসেম্বরের মধ্যে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানোর নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০১ পি.এম


শিক্ষার্থীদের হাতে ডিসেম্বরের মধ্যে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানোর নির্দেশ

জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের সকল পাঠ্যপুস্তক ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছে।

কমিটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করে প্রবিধানমালা তৈরির তাগিদও দিয়েছে। একইসঙ্গে, ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের সরকারী নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের স্থায়ী কমিটি কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এছাড়া কমিটির অন্যান্য সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর, মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, মো. জাহান্দার আলী মিয়া, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মো. মুজিবুর রহমান ও আতিকুর রহমান মোজাহিদ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকের শুরুতে আগের সভার কার্যবিবরণী সংশোধনীসহ সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন ও নিশ্চিত করা হয়। পরে দেশের শিক্ষা খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা।

সভায় সংসদীয় কমিটি বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অনিষ্পন্ন আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে, হজযাত্রী ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষকদের আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করে দ্রুত অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা নিতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, সরকারের কাছ থেকে অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধের সুপারিশ করেছে কমিটি।

এনটিআরসিএ কর্তৃক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার, সহ-সুপার, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বর্তমান অগ্রগতি সভায় উপস্থাপন করা হয়। কমিটি জানতে পারে যে, চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব ধরনের মৌখিক পরীক্ষা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে স্থায়ী কমিটি জানায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাতে হবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের ভেতরেই। নির্ধারিত সময়ে মুদ্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে স্থায়ী কমিটিকে অবহিত করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এসব অনিয়ম তদন্তে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নিজস্ব উদ্যোগে অনুসন্ধান ও তদন্ত চালানোর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়। এ সময় নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়। একইসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামোর সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন এবং ১ থেকে ১২তম নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের নিয়ে এনটিআরসিএ-র নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়। এসব পর্যালোচনা শেষে ১-১২তম নিবন্ধনকারীদের নির্বাহী আদেশে নিয়োগের জোর সুপারিশ জানায় কমিটি।

কারিগরি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জরুরি ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় সংসদীয় কমিটি। এছাড়া চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে সভায় তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, এনটিআরসিএ, এনসিটিবির শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসির বিদায়-পরবর্তী যুগ: কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে আর্জেন্টিনা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০২ পি.এম


মেসির বিদায়-পরবর্তী যুগ: কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে আর্জেন্টিনা?

আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি অবসর নিয়েছেন মাসখানের হয়েছে। ২১ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সিতে একের পর এক র্কীতি গড়েছেন। সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরা ছিল তার সবচেয়ে আরাধ্য স্বপ্ন। ৩৬ বছর বয়সে সেই শিরোপা খরা কাটিয়ে তিনি আনন্দে ভাসিয়েছেন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি আর্জেন্টাইন ভক্তদের। তাই অবসরের পর মেসির পরবর্তী যুগ কেমন হবে, সেই নিয়ে আলোচনা চলবে অবশ্যম্ভাবীভাবে।

‘মেসির পরবর্তী যুগ : কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে আর্জেন্টিনা?’ শিরোনামে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম মুন্দো আলবিসেলেস্তেতে একটি নিবন্ধে এই মহাতারকাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আর্জেন্টিনা কেমন হবে তা তুলে ধরা হয়েছে।

ভবিষ্যতে আমরা হয়তো এই গ্রীষ্মের দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকাব এবং ভাবব—কী জাদুকরী সময় কেটেছে আর্জেন্টিনা দলের সাথে! লম্বা দিনগুলোর প্রহর গোনা শুরু হয়েছিল দুটি কারণে—প্রথমে বিশ্বকাপ শুরুর অপেক্ষায়, আর তারপর প্রিয় ‘আলবিসেলেস্তে’দের মাঠে দেখার তাড়নায়। আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচে আমরা যেন এক আবেগের রোলার কোস্টারে চড়েছিলাম।

উন্মাদনার মাঝে একটি নির্মম চিন্তা অনেকের মতো আমার মাথাতেও এসেছিল—এই বিশ্বকাপের যেকোনো ম্যাচই হয়তো আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে মহাতারকা লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ হতে পারে। অথচ তিনি তখনো খেলছিলেন ঠিক বিশ বছর আগে জার্মানির গেলসেনকারখেনের সেই তপ্ত দুপুরের মতো—একেবারে স্বপ্নের মতো। জার্মানরা সেই গ্রীষ্মকে ‘সামার ফেয়ারিটেল’ বা গ্রীষ্মের রূপকথা বলে মনে রাখে, কারণ সেবার আকাশ সপ্তাহের পর সপ্তাহ অসম্ভব নীল ছিল।

আর্জেন্টাইন ভক্তরাও সেই গ্রীষ্মকে খুব ভালো করেই মনে রেখেছে এক হাতছাড়া হওয়া সুযোগের জন্য, কিন্তু তারা তখন জানত না যে একটা রূপকথা কেবল শুরু হতে যাচ্ছিল।

কাতার বিশ্বকাপ যদি আমাদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা হতাশার বোতল খুলে দিয়ে ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ করে থাকে, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ আমাদের দিয়েছে গভীর আনন্দের কিছু মুহূর্ত—ফাইনালের ফলাফল যা-ই হোক না কেন।

এমন কিছু মুহূর্তে নিজেকে সত্যিই জীবন্ত মনে হয়, এমন এক তীব্র অনুভূতি যা সচরাচর পাওয়া যায় না। এর সঠিক শব্দ কি ‘ইউফোরিয়া’ বা পরম উল্লাস? শব্দটা জানার দরকার নেই, যখন মেসি ওভাবে খেলেন তখন শুধু সেই অনুভূতিটাই টের পাওয়া যায়। এখানে কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।

এখন, যে চিন্তাটার জন্য একসময় অপরাধবোধ হতো, সেটাই সত্যি হয়ে গেছে। ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়টি ফিসফিস করে বলে দিয়েছেন—‘এবার থামার সময় হয়েছে।’

ফলে অনেকের জন্যই এক নতুন পথচলা শুরু হলো—মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার সাথে। আপনি হয়তো এখনো তাকে এমএলএস-এ খেলতে দেখবেন এবং আস্তে আস্তে মাঠের ঘাস থেকে দূরে, বহু দূরে হারিয়ে যেতে দেখবেন। কিন্তু এই নতুন পথে আমরা কীভাবে এগিয়ে যাব? সামনের দিনগুলো কেমন হবে? নিশ্চিত করে কেউ জানে না, তবে চেষ্টা তো করতেই হবে।

এমন ঘটনা অবশ্য আগেও ঘটেছে। আর্জেন্টিনা এর আগেও তাদের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়টিকে বিদায় জানিয়েছিল, যতদিন না রোজারিও থেকে সেই ছোট ছেলেটি এসে অনেকের চোখেই ‘গোল্ডেন পিব’ বা ডিয়েগো ম্যারাডোনাকেও ছাড়িয়ে গেল।

মেসির মতোই ম্যারাডোনারও জাতীয় দল থেকে বিদায় ঘটেছিল উত্তর আমেরিকার এক বিশ্বকাপের পর। তবে ম্যারাডোনার জন্য তখন কোনো আনুষ্ঠানিক বিদায় ছিল না, সেটা এসেছিল অনেক পরে। কিন্তু তার বিদায়ের পর মাঠের সব সমস্যা সমাধান করার জন্য দলে ‘আরেকজন ম্যারাডোনা’র আসার এক তীব্র হাহাকার তৈরি হয়েছিল।

এভাবেই শুরু হয়েছিল এক ‘নতুন ম্যারাডোনা’র খোঁজ। রিকেলমে থেকে স্যাভিওলা, ওর্তেগা থেকে আইমার—সবাইকেই ম্যারাডোনার সেই ছায়ার মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যা ড্রেসিংরুম থেকে কখনোই পুরোপুরি মুছে যায়নি। এই আচ্ছন্নতা বেশ কিছুদিন চলেছিল, যতদিন না মেসির আগমন ঘটে। অনেকের কাছে মনে হয়েছিল, ঈশ্বর যেন আবার জন্ম নিয়েছেন।

আর্জেন্টিনা সবসময়ই অসাধারণ সব ফুটবল প্রতিভা তৈরির দেশ এবং কোনো সন্দেহ নেই যে ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। নিকো পাজ, মাস্তানতুওনো, প্রেস্তিয়ান্নি কিংবা ফ্লোরেসের মতো উদীয়মান তরুণেরা তার প্রমাণ।

সহজেই অনুমান করা যায় যে, আগামী বছরগুলোতে আর্জেন্টিনা আবার ‘আরেকজন মেসি’র জন্য হাহাকার করবে। এই শূন্যস্থান এত বড় যে তা অল্প সময়ে পূরণ করা অসম্ভব। যখনই দলের পারফরম্যান্স খারাপের দিকে যাবে, তখনই গ্যালারিতে তাদের ত্রাতা বা ‘মেসায়াহ’র ফেরার জন্য স্লোগান উঠবে। আবার নতুন তরুণদের এমন এক উচ্চতার সাথে তুলনা করে অন্যায় চাপ দেওয়া হবে, যা ছোঁয়া অসম্ভব এবং সম্ভবত ফুটবলের ইতিহাসে আর কখনো তা দেখা যাবে না।

তবে যাওয়ার আগে মেসি দলটিকে একটি দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। তিনি দেখিয়ে গেছেন, সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে হলে বাকিদের কী করতে হবে।

আমরা মেসিকে বিদায় জানালেও ‘লা স্কালোনেতা’র (কোচ স্কালোনির দল) বিদায় বলার সময় এখনো আসেনি। খুব শিগগিরই আমরা হয়তো দেখতে পাব ‘লা স্কালোনেতা ২.০’।

এই স্কালোনেতা দলের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তাদের লড়াকু মানসিকতা। প্রকৃতপক্ষে, এই দলটিই প্রথম আর্জেন্টিনার ‘মেসি-নির্ভরতা’ ভেঙেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দলটির ফর্ম হয়তো খুব একটা ভালো ছিল না, কিন্তু তাদের মানসিক শক্তি ছিল তুঙ্গে। এই দলটি যেন এক ভাইদের দল, যারা সবসময় একে অপরের পাশে থাকে এবং যেকোনো মূল্যে জয় ছিনিয়ে আনতে পারে। এই লড়াকু মনোভাব ধরে রাখতে পারলে দল অবশ্যই লড়াই করবে।

কদিন আগে কোচ লিওনেল স্কালোনির বলা কথার সূত্র ধরে বলা যায়—এখন যেহেতু দলে সেই বিশেষ ব্যবধান গড়ে দেওয়ার মতো একা কেউ নেই, তাই দলটিকে আগের চেয়েও অনেক বেশি একক ইউনিট হিসেবে খেলতে হবে।

২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর, এল মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে নিজের শেষ ম্যাচেও মেসি একটি থ্রু পাসের পেছনে ছুটছিলেন। পাসটি একটু জোরে হওয়ায় রিভার প্লেটের হোম গ্রাউন্ডের মসৃণ ঘাসের ওপর দিয়ে দ্রুত সীমানার বাইরে চলে যাচ্ছিল।

মেসি সেটির পেছনে দৌড়ালেন। সেই বয়সেও তিনি এমনভাবে ছুটলেন যেন বলটি মাঠের ভেতরে রাখাটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ, অথচ সেই ম্যাচে তার নতুন করে পাওয়ার কিছু ছিল না। তিনি জাস্ট আরো একটি গোল করতে চেয়েছিলেন, একটা সহজ সুযোগ হাতছাড়া করায় তার চোখেমুখে রাগ ছিল, তিনি দলকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন—কী করতে হবে, কোথায় যেতে হবে…

একটু ভাবলেই অবাক হতে হয়। খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ ম্যাচে এই মহাতারকার বাড়তি কিছু করার কোনো প্রয়োজন ছিল না, তাও তিনি করেছেন। কেন?

আপনি যদি বছরের পর বছর ধরে মেসিকে দেখে থাকেন, তবে উত্তরটা আপনার জানা। পেপ গার্দিওলা যেমনটা বলেছিলেন—মেসি হলো মাঠের এক ‘ক্ষুধার্ত সিংহ’। এটাই তার আসল রূপ। তিনি মানুষের মাঝে এক ফুটবল দেবতা, যার জেতার ক্ষুধা কখনো মেটে না। লড়াই করার এবং জেতার এই মানসিকতা বিরল ও অতুলনীয়।

তার টেকনিক্যাল স্কিল হয়তো নতুন করে তৈরি করা যাবে না, তার ফুটবল মেধা হয়তো কপি করা সম্ভব নয়। তবে আশা করা যায়, আর্জেন্টিনার তরুণ খেলোয়াড়েরা তার এই মাঠের মনোভাব খুব কাছ থেকে দেখেছে এবং শিক্ষা নিয়েছে।

যাকে সবসময় ‘সবটাই জন্মগত প্রতিভা, কঠোর পরিশ্রমের অবদান কম’ বলে প্রচার করা হতো, তিনিও রেখে গেছেন এক জ্বলন্ত উদাহরণ—যেখানে শুধু স্কিল নয়, জয়ের জন্য বুকের ভেতরের আগুনটাও কতটা জরুরি তা প্রমাণিত।

মেসি-পরবর্তী সময়ে আর্জেন্টিনা আরো মাঠে নামবে, তবে ফুটবলপ্রেমীদের মনে যে ছবিটা চিরকাল গেঁথে থাকবে, তা হলো ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের সেই দৃশ্য। ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটের খেলা বারবার দেখলেও বোঝা যায়, তিনি কীভাবে কখনোই হাল ছাড়েননি।

আশা করি, আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে এই আগুনটা সবসময় জ্বলবে। মেসি-পরবর্তী জীবনে খেলোয়াড় এবং ভক্তদের হৃদয়ে এই আগুন জ্বলতে থাকবে, যা শেখাবে কীভাবে মাঠে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে হয় এবং ট্রফি ছাড়া অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট না হতে হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%