০৮:৫১ পি.এম
নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি স্কুল ড্রেস, জুতা, মোজা ও ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। শিক্ষার্থীপ্রতি বছরে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৫০ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল ড্রেসের জন্য ৬০০ টাকা, ব্যাগের জন্য ৬০০ টাকা, জুতার জন্য ৭০০ টাকা এবং মোজার জন্য ৫০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ যুগান্তরকে এসব তথ্য জানান।
পোশাক ও অন্যান্য উপকরণের জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি ১ হাজার ৯৫০ টাকা বরাদ্দের হিসাবটি এক বছরের জন্য প্রযোজ্য। তবে এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে পাঁচ বছর মেয়াদি প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) প্রকল্পের আওতায়। এটি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ব্যয় হিসেব করা হয়েছে; প্রকৃত ব্যয় দরপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। পিইডিপি-৫ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪১ হাজার ৯০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৩
পিইডিপি-৫ প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে প্রকল্পটির ব্যয় ৪৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ধরা হয়েছিল, পরে বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা ও সংশোধনের মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। পিইডিপি-৪ গত জুনে শেষ হয়েছে। এরপর জুলাই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি পিইডিপি-৫ চালুর পরিকল্পনা ছিল। প্রকল্পের কিছু খাত বাদ দেওয়া এবং অন্য প্রকল্পের আওতায় নেওয়ার ফলে ব্যয় কমেছে।
নতুন শিক্ষক নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে, যেখানে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি, বদলি ও মূল্যায়ন—এই পাঁচ বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৭ নভেম্বর এর তৃতীয় খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই দিনে মাঠপর্যায়ের মনিটরিং কর্মকর্তাদের জন্যও পৃথক নীতিমালার তৃতীয় খসড়া জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে তিন হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। বিদ্যালয় ও শিক্ষার কার্যক্রম তদারকিতে নিয়োজিত এসব কর্মকর্তার কাজের মূল্যায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষার সমস্যা চিহ্নিত করতে গত দুই মাসে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি মনিটরিং কর্মকর্তা এবং ১ হাজার ৫০০-এর বেশি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তাদের মতামত ও পরামর্শ শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজে লাগানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: অনিরাপদ গ্যাস সিলিন্ডার বাজারে দিয়ে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবন না: বিইআরসি চেয়ারম্যান
এছাড়া স্মার্ট ক্লাসরুম, বিদ্যালয়ে ওয়াইফাই, শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি এবং ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কার্যক্রম নিয়েও কাজ চলছে। ২০২৭ সালে শিক্ষক-ট্যাব কার্যক্রমে বড় অগ্রগতির লক্ষ্য রয়েছে। তবে একসঙ্গে সবাইকে ট্যাব না দিয়ে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক বদলি বন্ধ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাতীয় পর্যায়ের বদলি আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম চলছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বদলি পুনরায় চালুর আগে আরও যৌক্তিক ও অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন শিক্ষক নীতিমালায় বদলি ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও কার্যকর করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রাজস্থলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুদকের আকস্মিক অভিযান, ওষুধের মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীদের না দেওয়ার অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন