০১:২৫ এম
মাদক ব্যবসায়ীর রাজনৈতিক পরিচয়কে কোনভাবেই বিবেচনায় নেওয়া হবে না। সে যে দলেরই হোক, বা যত প্রভাবশালীই হোক, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কাউকে কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের শিকড় উপড়ে ফেলা হবে এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদু কুদ্দুছ চৌধুরী।
এ নিয়ে অনুষ্ঠিত নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হলরুমে বুধবার অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এদিকে, ১৬ আগস্ট থেকে আগামীতে মাদকবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাপক পরিসরে শুরু হবে বলে বৃহস্পতিবার রাতে জানান নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন।
ডিআইজি আবদু কুদ্দুছ বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংসই করে না, বরং এটি একটি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ জনগণকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: পূর্বধলায় মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ, প্রতিবাদে বাবা-চাচার সংবাদ সম্মেলন
তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা কোন দলের সদস্য সেটা বিবেচ্য নয়। মাদক ব্যবসায়ী মানেই অপরাধী। তাদের রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান বা প্রভাব কিছুই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
ডিআইজি আবদু কুদ্দুছ যোগ করে বলেন, মাদকের সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত, তাদের পাশাপাশি অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদেরও চিহ্নিত করতে হবে। কেবল ছোটখাটো বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করলেই মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। বরং মাদকের সরবরাহব্যবস্থা, অর্থের উৎস এবং যারা বিভিন্নভাবে মাদক ব্যবসাকে সহযোগিতা করে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
ডিআইজি আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান কখনোই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একটি প্রতিপক্ষকে দমন করার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়াবে না। অপরাধের সঙ্গে যার সম্পর্ক পাওয়া যাবে, তাকে তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনা হবে। একইভাবে নিরপরাধ কাউকে কোনোভাবে হয়রানি করা যাবে না।
সভাটির সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার এম. এন. নাসিরুদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুন অর রশীদ আজাদ, নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, জেলা বিএনপি'র সদস্য শহিদুল ইসলাম কিরণ, জেলা জামায়াত আমির ইসহাক খন্দকার, সেক্রেটারি মাওলানা মো. বোরহানউদ্দিন, নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি লিয়াকত আলি খান, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখু প্রমুখ। পাশাপাশি জেলার সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, আইনজীবী এবং চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দেন।
আরও পড়ুন: বরিশালে হাজী বিরিয়ানিতে গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ও প্রতারণার অভিযোগ,খাবারের পরিমাণ ও মাংসের মান নিয়ে প্রশ্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন