ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাদক ব্যবসায়ীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না


মাদক ব্যবসায়ীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না

মাদক ব্যবসায়ীর রাজনৈতিক পরিচয়কে কোনভাবেই বিবেচনায় নেওয়া হবে না। সে যে দলেরই হোক, বা যত প্রভাবশালীই হোক, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কাউকে কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের শিকড় উপড়ে ফেলা হবে এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদু কুদ্দুছ চৌধুরী।

এ নিয়ে অনুষ্ঠিত নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হলরুমে বুধবার অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এদিকে, ১৬ আগস্ট থেকে আগামীতে মাদকবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাপক পরিসরে শুরু হবে বলে বৃহস্পতিবার রাতে জানান নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন।

ডিআইজি আবদু কুদ্দুছ বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংসই করে না, বরং এটি একটি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ জনগণকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন: পূর্বধলায় মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ, প্রতিবাদে বাবা-চাচার সংবাদ সম্মেলন

তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা কোন দলের সদস্য সেটা বিবেচ্য নয়। মাদক ব্যবসায়ী মানেই অপরাধী। তাদের রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান বা প্রভাব কিছুই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

ডিআইজি আবদু কুদ্দুছ যোগ করে বলেন, মাদকের সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত, তাদের পাশাপাশি অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদেরও চিহ্নিত করতে হবে। কেবল ছোটখাটো বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করলেই মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। বরং মাদকের সরবরাহব্যবস্থা, অর্থের উৎস এবং যারা বিভিন্নভাবে মাদক ব্যবসাকে সহযোগিতা করে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

ডিআইজি আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান কখনোই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একটি প্রতিপক্ষকে দমন করার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়াবে না। অপরাধের সঙ্গে যার সম্পর্ক পাওয়া যাবে, তাকে তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনা হবে। একইভাবে নিরপরাধ কাউকে কোনোভাবে হয়রানি করা যাবে না।

সভাটির সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার এম. এন. নাসিরুদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুন অর রশীদ আজাদ, নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, জেলা বিএনপি'র সদস্য শহিদুল ইসলাম কিরণ, জেলা জামায়াত আমির ইসহাক খন্দকার, সেক্রেটারি মাওলানা মো. বোরহানউদ্দিন, নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি লিয়াকত আলি খান, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখু প্রমুখ। পাশাপাশি জেলার সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, আইনজীবী এবং চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দেন।

আরও পড়ুন: বরিশালে হাজী বিরিয়ানিতে গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ও প্রতারণার অভিযোগ,খাবারের পরিমাণ ও মাংসের মান নিয়ে প্রশ্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রদ্রিকে পেতে বার্সার দ্বিতীয় প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিল সিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৩১ এম


রদ্রিকে পেতে বার্সার দ্বিতীয় প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিল সিটি

বার্সেলোনার জন্য নতুন বাধার সম্মুখীন হয়ে পড়েছে তারা স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকে দলে ভেড়ানোর প্রক্রিয়ায়। কাতালান ক্লাবটির পক্ষ থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে পাঠানো দ্বিতীয় প্রস্তাবটিও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৬০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও ইংলিশ ক্লাবটি একে পর্যাপ্ত মনে করেনি।

এর আগে স্প্যানিশ তারকার জন্য প্রথম দফায় বার্সেলোনা ৪৫ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব করেছিল, যা সিটি কর্তৃপক্ষ সরাসরি নাকচ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে সেই প্রস্তাবটিকে বাড়িয়ে ৬০ মিলিয়ন ইউরো করা হলে সিটির মন গলাতে পারেনি। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রদ্রির ট্রান্সফার ফি বাবদ অন্তত ৭০ মিলিয়ন ইউরো এবং অতিরিক্ত অ্যাড-অনস দাবি করছে ম্যানচেস্টার সিটি।

বার্সেলোনা তাদের প্রস্তাব উন্নত করলেও সিটির দাবীকৃত ৭০ মিলিয়ন ইউরো এবং অ্যাড-অনসের অঙ্কের সঙ্গে কিছুটা ব্যবধান রয়ে গেছে। বর্তমানে রদ্রির সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটির চুক্তির মেয়াদ আর মাত্র এক বছর বাকি রয়েছে। যদি দুই পক্ষ নতুন চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে আগামী গ্রীষ্মে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে কোন ট্রান্সফার ফি ছাড়াই ক্লাব ছাড়তে পারবেন এই স্প্যানিশ তারকা।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চললেও রদ্রির মূল্য কমাতে নারাজ সিটি। ক্লাবের কাছে তিনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। মাঠের অভিজ্ঞতা ও দলের সাফল্যে অবদানের কারণে ইংলিশ ক্লাবটি কাঙ্ক্ষিত অর্থ আদায়ে অনড় রয়েছে। দুই ক্লাবের চাওয়ার মধ্যে আর্থিক ব্যবধান থাকলেও রদ্রিকে নিয়ে হানসি ফ্লিকের দলের আগ্রহ একটুও কমেনি। বরং এই ট্রান্সফারে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো খেলোয়াড়ের নিজের অবস্থান। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার নিজে বার্সেলোনাতে যোগ দিতে অত্যন্ত আগ্রহী।

চুক্তির শেষ ১২ মাসে প্রবেশ করার কারণে এবং রদ্রির ব্যক্তিগত ইচ্ছা—এই দুই বিষয় বার্সেলোনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। কাতালান ক্লাবটি আশা করছে, খেলোয়াড়ের নিজে ইচ্ছা শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটির অবস্থান নরম করতে এবং ট্রান্সফার সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, জাতিসংঘের উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৩৯ এম


বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, জাতিসংঘের উদ্বেগ

সম্প্রতি বাংলাদেশের আল-কায়েদার সেল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ সংস্থাটির নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’-এর এক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে আল-কায়েদার অবস্থান ও সক্ষমতা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। সংগঠনটির ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (একিউআইএস)ও খণ্ডিত গোষ্ঠী থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সংগঠনে রূপ নিয়েছে। তারা বড় ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেল গঠন করে রসদ সরবরাহ এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মূল্যায়নের ভিত্তিতে এতে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৯ জুন পর্যন্ত আল-কায়েদা ও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আল-কায়েদা ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস)-এর কর্মকাণ্ডের একটি উদাহরণ হিসেবে দিল্লির লাল কেল্লায় হামলার কথা বলা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরের ওই হামলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটিকে দায়ী করা হয়।

এ প্রসঙ্গে বর্ণনার এক পর্যায়ে বাংলাদেশেও একিউআইএস-এর সেল বা ছোট সাংগঠনিক ইউনিট প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সংগঠনটি বাংলাদেশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

একিউআইএস এখনও নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত নয় বলে উল্লেখ করেছে স্যাংশনস মনিটরিং টিম। তারা লিখেছে, একিউআইএস ‘ইত্তিহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ বা আইএমপি-এর মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই গোষ্ঠীটি বেশ কয়েকটি হামলার জন্য দায়ী। এর মধ্যে গত ৯ মে’র একটি ঘটনা অন্যতম। সেদিন পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বান্নুতে একটি নিরাপত্তা চৌকির কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও বিস্ফোরকভর্তি যান বিস্ফোরিত হয়। এতে নিহত হন ২১ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একিউআইএস-এর শীর্ষ নেতৃত্ব আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থান করছে। তাদের তাজকিরা (তালেবানের দেওয়া পরিচয়পত্র) দেওয়া হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয়, তালেবান ও একিউআইএস-এর মধ্যে সহযোগিতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।

মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে হামলা অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা বহাল আছে। তালেবান সরকার ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ বা টিটিপিকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু প্রকাশ্যে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার কথা অস্বীকার করে আসছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগ, এই সংঘাত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। যা এই অঞ্চলে অতিরিক্ত নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫১ এম


ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরো মেয়াদজুড়ে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধকে ইরান টেনে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে। ইরান এমন বার্তা দিতে চায় যে, ওয়াশিংটনের জন্য তেহরানে হামলা চালানোর জন্য 'চড়া মূল্য' দিতে হবে।

এই হুঁশিয়ারি দেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাদের এক প্রতিবেদনে এই খবরটি প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইআরজিসি-এর এই প্রভাবশালী কর্মকর্তা, যিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী, জানিয়েছেন যে, যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএস-কে দেওয়া একটি বিরল সাক্ষাৎকারে নাকদি বলেন, “যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে আমরা তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করব। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কীভাবে যুদ্ধ করতে হয়, সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য আমাদের পূর্বে কখনও এরকম কোনও বাস্তব যুদ্ধ দেখার সুযোগ হয়নি। এই পাঁচ মাসে আমরা শিখে ফেলেছি কীভাবে লড়াই করতে হয়।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে যৌথ বিমান হামলা চালিয়ে তৎকালীন ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করার পর পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানি বাহিনী মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়।

ট্রাম্পের বিদায় পর্যন্ত যুদ্ধ স্থায়ী করা কি তাদের মূল লক্ষ্য, সে প্রশ্নে নাকদি বলেন, “আমাদের এমন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে শত্রু আর আক্রমণের সাহস না পায় এবং আমরা যেন নিরাপদে থাকতে পারি। এর একটি উপায় হচ্ছে যুদ্ধকে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন (২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি) পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা এবং প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ফেলা, যাতে অন্য কেউ ইরানে হামলা করতে চাইলে সে বুঝতে পারে এর মূল্য তাকে দিতে হবে।”

চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা আছে কি না, জানতে চাইলে নাকদি সাবধান করে দিয়ে বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক একটি ভুল হবে।

তিনি বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা ফেলে, তবে পরদিন সকালেই তারা বিশ্বজুড়ে তাদের সব সামরিক ঘাঁটি হাতছাড়া হয়ে যাবে। আজকের বিশ্ব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো নয়। মানুষ এখন সচেতন। এমন অপরাধ করা কেউ মেনে নেবে না, কারণ এর পরবর্তী শিকার তারাই হতে পারে।”

ইরান কি পারমাণবিক বোমা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করছে, সে প্রশ্ন শুনে তিনি জানান, “তার কোনও প্রয়োজন নেই।”

নাকদি বলেন, “জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আমরা গোটা বিশ্বের মানুষের হৃদয় জয় করেছি, সেটাই আমাদের পারমাণবিক বোমা। তাই অহেতুক ধ্বংসলীলা বা পারমাণবিক অস্ত্রের কোনও প্রয়োজন আমাদের নেই।”

ইরানের ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান নিয়ে মার্কিন রাজনীতিবিদদের সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের কোনও শত্রুতা নেই। এই স্লোগানের মানে হলো আমেরিকার সেই নেতৃত্বের পতন, যারা পরাশক্তি হওয়ার পর থেকে অন্তত ৭০টিরও বেশি দেশে হামলা চালিয়েছে বা নীতি লঙ্ঘন করেছে।

সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নাকদি বলেন, ইরান শুধুমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ওপর নির্ভর নয়। তারা বিজয়ী হলে তা হবে বিশ্বাসের শক্তির ওপর।

তিনি বলেন, “আমেরিকান এবং ইহুদিরা সবসময় আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা মেলানোর চেষ্টা করে।”

নাকদি দাবি করেন, ইরান প্রতিদিন যতো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে, তাদের ব্যবহারের সংখ্যা তার চেয়ে কম।

তিনি বলেন, “যুদ্ধের মধ্যেও আমাদের সুরক্ষিত উপায়ে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিভিন্ন পথ রয়েছে। নিশ্চিত থাকুন, এই যুদ্ধ যদি বছরের পর বছর ধরে চলে, তবে শেষ দিন পর্যন্ত ইরানের রকেট অথবা ক্ষেপণাস্ত্র ছুটতেই থাকবে।”

নাকদি আরও বলেন, “যদি সেই দিন আসে যখন ইরানের কাছে আর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট নেই, তখন আমরা আমেরিকার জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠব।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পৌর চেয়ারম্যান থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২০ এম


পৌর চেয়ারম্যান থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

একসময় শিক্ষকতা করতেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি মঞ্চে উঠতেন তিনি। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও নানা খেলাধুলায় যুক্ত ছিলেন। ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে ছিলেন সক্রিয়। এরপর তিনি পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলের মুখপাত্র এবং শেষ পর্যন্ত বিএনপি মহাসচিব হয়েছেন।

জীবনের প্রতিটি অধ্যায় পেরিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে দাঁড়িয়ে আছেন আরও বড় এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সামনে। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি, তবে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে এবং রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়। কারণ, তিনি ক্ষমতাসীন দল বিএনপির একমাত্র মনোনীত প্রার্থী।

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে এমন খবরে জেলার মানুষ খুব খুশি। এ খুশির আনন্দ শুধু দলীয়ভাবে সীমাবদ্ধ নয়, এটি সাধারণ মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে। মহল্লায় মহল্লায় মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে জেলাজুড়ে। ধনী, গরীব, শিশু, যুবক, বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের মধ্যেই উল্লাস আর আনন্দ দেখা যাচ্ছে।

নাট্যমঞ্চ থেকে রাজনীতির মঞ্চে মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের গল্প শুধুমাত্র দলীয় পদ-পদবি অথবা নির্বাচনী রাজনীতির নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চা, শিক্ষকতা এবং ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা।

ছাত্রজীবনে তিনি নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। সেই সময়ের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তার ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পরে রাজনীতির কঠিন বাস্তবতাতেও তার মধ্যে সংস্কৃতিমনস্কতার ছাপ থেকে যায়। এছাড়া ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও মির্জা ফখরুলের অনেক নাম রয়েছে।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী ও একাধিকবারের সংসদ সদস্য। ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি তিনি শৈশব থেকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।

ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রইউনিয়নের সদস্য হিসেবে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং পরে ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নাট্যমঞ্চ আর রাজনীতির উত্তাল রাস্তা—দুই ভিন্ন জগতের অভিজ্ঞতা নিয়ে তরুণ মির্জা ফখরুল গড়ে ওঠেন।

শিক্ষা জীবন শেষ করে দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি ঢাকা কলেজসহ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নিয়ে ১৯৮৭ সালে শিক্ষা বিভাগের অডিট সেকশনের পরিচালক হয়ে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পরে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন।

১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও মির্জা ফখরুল থেমে যাননি। ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি হারালেও জাতীয় রাজনীতিতে তার ভূমিকা থেমে থাকেনি। ২০০৯ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দলের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র হিসেবে রাজপথ ও গণমাধ্যমে সক্রিয় হতে থাকেন।

তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দলকে সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ঠাকুরগাঁও রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুবিন রতন সমকালকে বলেন, ‘১৯৮৭ সালে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের ছাত্র ছিলাম। মির্জা ফখরুল ইসলাম স্যার অর্থনীতি বিষয়ে ক্লাশ নিতেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। অনেক মনোযোগ দিয়ে পড়াতেন। স্যারের ক্লাসে পড়লে সে বিষয়ে আর বাড়িতে পড়তে হতো না। তিনি অত্যন্ত সৎ ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। সহজে কারও ওপর রাগ করতেন না।’

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে জানান, ‘আলমগীরের সঙ্গে শৈশব-কৈশোর একসঙ্গে কেটেছে। সে অনেক মেধাবী ছিল। শিক্ষকতার পাশাপাশি নাটকের মঞ্চে অভিনয় করত। খেলাধুলার সংগঠক হিসেবে কাজ করত। রাজনীতিতেও বেশ সক্রিয় ছিল ছোটবেলা থেকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজ আলমগীর বঙ্গভবনের বাসিন্দা হতে চলেছে; বুকটা গর্বে ভরে যাচ্ছে। সে যে এমন জায়গায় পৌঁছাবে এটা কিন্তু তার চালচলনে বোঝা যেত। তার মাঝে কোনো গৌরব ছিল না। ধনী-গরীবের ভেদাভেদ ছিল না। ধর্মীয় বিষয়ে কোনো বিভক্তি ছিল না। পূজার সময় আমাদের বাড়িতে আসত। এক কথায় আলমগীরকে না খাইয়ে আমরাও খেতাম না। আলমগীর আগে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ থাকলেও সে দেশের সর্বোচ্চ স্থানে যেতে চলেছে। তার জন্য শুভকামনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%