০১:৫১ এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরো মেয়াদজুড়ে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধকে ইরান টেনে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে। ইরান এমন বার্তা দিতে চায় যে, ওয়াশিংটনের জন্য তেহরানে হামলা চালানোর জন্য 'চড়া মূল্য' দিতে হবে।
এই হুঁশিয়ারি দেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাদের এক প্রতিবেদনে এই খবরটি প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইআরজিসি-এর এই প্রভাবশালী কর্মকর্তা, যিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী, জানিয়েছেন যে, যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএস-কে দেওয়া একটি বিরল সাক্ষাৎকারে নাকদি বলেন, “যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে আমরা তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করব। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কীভাবে যুদ্ধ করতে হয়, সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য আমাদের পূর্বে কখনও এরকম কোনও বাস্তব যুদ্ধ দেখার সুযোগ হয়নি। এই পাঁচ মাসে আমরা শিখে ফেলেছি কীভাবে লড়াই করতে হয়।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে যৌথ বিমান হামলা চালিয়ে তৎকালীন ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করার পর পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানি বাহিনী মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়।
ট্রাম্পের বিদায় পর্যন্ত যুদ্ধ স্থায়ী করা কি তাদের মূল লক্ষ্য, সে প্রশ্নে নাকদি বলেন, “আমাদের এমন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে শত্রু আর আক্রমণের সাহস না পায় এবং আমরা যেন নিরাপদে থাকতে পারি। এর একটি উপায় হচ্ছে যুদ্ধকে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন (২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি) পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা এবং প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ফেলা, যাতে অন্য কেউ ইরানে হামলা করতে চাইলে সে বুঝতে পারে এর মূল্য তাকে দিতে হবে।”
চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা আছে কি না, জানতে চাইলে নাকদি সাবধান করে দিয়ে বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক একটি ভুল হবে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের কিউবা পরিকল্পনা, ইরান থেকে ফেরার পথে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ইঙ্গিত
তিনি বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা ফেলে, তবে পরদিন সকালেই তারা বিশ্বজুড়ে তাদের সব সামরিক ঘাঁটি হাতছাড়া হয়ে যাবে। আজকের বিশ্ব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো নয়। মানুষ এখন সচেতন। এমন অপরাধ করা কেউ মেনে নেবে না, কারণ এর পরবর্তী শিকার তারাই হতে পারে।”
ইরান কি পারমাণবিক বোমা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করছে, সে প্রশ্ন শুনে তিনি জানান, “তার কোনও প্রয়োজন নেই।”
নাকদি বলেন, “জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আমরা গোটা বিশ্বের মানুষের হৃদয় জয় করেছি, সেটাই আমাদের পারমাণবিক বোমা। তাই অহেতুক ধ্বংসলীলা বা পারমাণবিক অস্ত্রের কোনও প্রয়োজন আমাদের নেই।”
ইরানের ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান নিয়ে মার্কিন রাজনীতিবিদদের সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের কোনও শত্রুতা নেই। এই স্লোগানের মানে হলো আমেরিকার সেই নেতৃত্বের পতন, যারা পরাশক্তি হওয়ার পর থেকে অন্তত ৭০টিরও বেশি দেশে হামলা চালিয়েছে বা নীতি লঙ্ঘন করেছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বাবা-মেয়ের মৃত্যুর পর পুলিশের গাড়িতে হামলা ও বাসে আগুন
সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নাকদি বলেন, ইরান শুধুমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ওপর নির্ভর নয়। তারা বিজয়ী হলে তা হবে বিশ্বাসের শক্তির ওপর।
তিনি বলেন, “আমেরিকান এবং ইহুদিরা সবসময় আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা মেলানোর চেষ্টা করে।”
নাকদি দাবি করেন, ইরান প্রতিদিন যতো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে, তাদের ব্যবহারের সংখ্যা তার চেয়ে কম।
তিনি বলেন, “যুদ্ধের মধ্যেও আমাদের সুরক্ষিত উপায়ে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিভিন্ন পথ রয়েছে। নিশ্চিত থাকুন, এই যুদ্ধ যদি বছরের পর বছর ধরে চলে, তবে শেষ দিন পর্যন্ত ইরানের রকেট অথবা ক্ষেপণাস্ত্র ছুটতেই থাকবে।”
আরও পড়ুন: পুরাতন রমনা থানার সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণ
নাকদি আরও বলেন, “যদি সেই দিন আসে যখন ইরানের কাছে আর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট নেই, তখন আমরা আমেরিকার জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠব।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন