ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, জাতিসংঘের উদ্বেগ


বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, জাতিসংঘের উদ্বেগ

সম্প্রতি বাংলাদেশের আল-কায়েদার সেল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ সংস্থাটির নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’-এর এক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে আল-কায়েদার অবস্থান ও সক্ষমতা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। সংগঠনটির ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (একিউআইএস)ও খণ্ডিত গোষ্ঠী থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সংগঠনে রূপ নিয়েছে। তারা বড় ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেল গঠন করে রসদ সরবরাহ এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মূল্যায়নের ভিত্তিতে এতে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৯ জুন পর্যন্ত আল-কায়েদা ও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

প্রতিবেদনে আল-কায়েদা ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস)-এর কর্মকাণ্ডের একটি উদাহরণ হিসেবে দিল্লির লাল কেল্লায় হামলার কথা বলা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরের ওই হামলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটিকে দায়ী করা হয়।

এ প্রসঙ্গে বর্ণনার এক পর্যায়ে বাংলাদেশেও একিউআইএস-এর সেল বা ছোট সাংগঠনিক ইউনিট প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সংগঠনটি বাংলাদেশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

একিউআইএস এখনও নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত নয় বলে উল্লেখ করেছে স্যাংশনস মনিটরিং টিম। তারা লিখেছে, একিউআইএস ‘ইত্তিহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ বা আইএমপি-এর মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই গোষ্ঠীটি বেশ কয়েকটি হামলার জন্য দায়ী। এর মধ্যে গত ৯ মে’র একটি ঘটনা অন্যতম। সেদিন পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বান্নুতে একটি নিরাপত্তা চৌকির কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও বিস্ফোরকভর্তি যান বিস্ফোরিত হয়। এতে নিহত হন ২১ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একিউআইএস-এর শীর্ষ নেতৃত্ব আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থান করছে। তাদের তাজকিরা (তালেবানের দেওয়া পরিচয়পত্র) দেওয়া হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয়, তালেবান ও একিউআইএস-এর মধ্যে সহযোগিতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে হামলা অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা বহাল আছে। তালেবান সরকার ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ বা টিটিপিকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু প্রকাশ্যে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার কথা অস্বীকার করে আসছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগ, এই সংঘাত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। যা এই অঞ্চলে অতিরিক্ত নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫১ এম


ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরো মেয়াদজুড়ে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধকে ইরান টেনে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে। ইরান এমন বার্তা দিতে চায় যে, ওয়াশিংটনের জন্য তেহরানে হামলা চালানোর জন্য 'চড়া মূল্য' দিতে হবে।

এই হুঁশিয়ারি দেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাদের এক প্রতিবেদনে এই খবরটি প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইআরজিসি-এর এই প্রভাবশালী কর্মকর্তা, যিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী, জানিয়েছেন যে, যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএস-কে দেওয়া একটি বিরল সাক্ষাৎকারে নাকদি বলেন, “যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে আমরা তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করব। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কীভাবে যুদ্ধ করতে হয়, সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য আমাদের পূর্বে কখনও এরকম কোনও বাস্তব যুদ্ধ দেখার সুযোগ হয়নি। এই পাঁচ মাসে আমরা শিখে ফেলেছি কীভাবে লড়াই করতে হয়।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে যৌথ বিমান হামলা চালিয়ে তৎকালীন ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করার পর পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানি বাহিনী মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়।

ট্রাম্পের বিদায় পর্যন্ত যুদ্ধ স্থায়ী করা কি তাদের মূল লক্ষ্য, সে প্রশ্নে নাকদি বলেন, “আমাদের এমন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে শত্রু আর আক্রমণের সাহস না পায় এবং আমরা যেন নিরাপদে থাকতে পারি। এর একটি উপায় হচ্ছে যুদ্ধকে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন (২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি) পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা এবং প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ফেলা, যাতে অন্য কেউ ইরানে হামলা করতে চাইলে সে বুঝতে পারে এর মূল্য তাকে দিতে হবে।”

চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা আছে কি না, জানতে চাইলে নাকদি সাবধান করে দিয়ে বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক একটি ভুল হবে।

তিনি বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা ফেলে, তবে পরদিন সকালেই তারা বিশ্বজুড়ে তাদের সব সামরিক ঘাঁটি হাতছাড়া হয়ে যাবে। আজকের বিশ্ব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো নয়। মানুষ এখন সচেতন। এমন অপরাধ করা কেউ মেনে নেবে না, কারণ এর পরবর্তী শিকার তারাই হতে পারে।”

ইরান কি পারমাণবিক বোমা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করছে, সে প্রশ্ন শুনে তিনি জানান, “তার কোনও প্রয়োজন নেই।”

নাকদি বলেন, “জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আমরা গোটা বিশ্বের মানুষের হৃদয় জয় করেছি, সেটাই আমাদের পারমাণবিক বোমা। তাই অহেতুক ধ্বংসলীলা বা পারমাণবিক অস্ত্রের কোনও প্রয়োজন আমাদের নেই।”

ইরানের ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান নিয়ে মার্কিন রাজনীতিবিদদের সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের কোনও শত্রুতা নেই। এই স্লোগানের মানে হলো আমেরিকার সেই নেতৃত্বের পতন, যারা পরাশক্তি হওয়ার পর থেকে অন্তত ৭০টিরও বেশি দেশে হামলা চালিয়েছে বা নীতি লঙ্ঘন করেছে।

সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নাকদি বলেন, ইরান শুধুমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ওপর নির্ভর নয়। তারা বিজয়ী হলে তা হবে বিশ্বাসের শক্তির ওপর।

তিনি বলেন, “আমেরিকান এবং ইহুদিরা সবসময় আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা মেলানোর চেষ্টা করে।”

নাকদি দাবি করেন, ইরান প্রতিদিন যতো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে, তাদের ব্যবহারের সংখ্যা তার চেয়ে কম।

তিনি বলেন, “যুদ্ধের মধ্যেও আমাদের সুরক্ষিত উপায়ে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিভিন্ন পথ রয়েছে। নিশ্চিত থাকুন, এই যুদ্ধ যদি বছরের পর বছর ধরে চলে, তবে শেষ দিন পর্যন্ত ইরানের রকেট অথবা ক্ষেপণাস্ত্র ছুটতেই থাকবে।”

নাকদি আরও বলেন, “যদি সেই দিন আসে যখন ইরানের কাছে আর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট নেই, তখন আমরা আমেরিকার জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠব।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পৌর চেয়ারম্যান থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২০ এম


পৌর চেয়ারম্যান থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

একসময় শিক্ষকতা করতেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি মঞ্চে উঠতেন তিনি। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও নানা খেলাধুলায় যুক্ত ছিলেন। ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে ছিলেন সক্রিয়। এরপর তিনি পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলের মুখপাত্র এবং শেষ পর্যন্ত বিএনপি মহাসচিব হয়েছেন।

জীবনের প্রতিটি অধ্যায় পেরিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে দাঁড়িয়ে আছেন আরও বড় এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সামনে। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি, তবে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে এবং রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়। কারণ, তিনি ক্ষমতাসীন দল বিএনপির একমাত্র মনোনীত প্রার্থী।

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে এমন খবরে জেলার মানুষ খুব খুশি। এ খুশির আনন্দ শুধু দলীয়ভাবে সীমাবদ্ধ নয়, এটি সাধারণ মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে। মহল্লায় মহল্লায় মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে জেলাজুড়ে। ধনী, গরীব, শিশু, যুবক, বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের মধ্যেই উল্লাস আর আনন্দ দেখা যাচ্ছে।

নাট্যমঞ্চ থেকে রাজনীতির মঞ্চে মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের গল্প শুধুমাত্র দলীয় পদ-পদবি অথবা নির্বাচনী রাজনীতির নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চা, শিক্ষকতা এবং ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা।

ছাত্রজীবনে তিনি নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। সেই সময়ের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তার ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পরে রাজনীতির কঠিন বাস্তবতাতেও তার মধ্যে সংস্কৃতিমনস্কতার ছাপ থেকে যায়। এছাড়া ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও মির্জা ফখরুলের অনেক নাম রয়েছে।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী ও একাধিকবারের সংসদ সদস্য। ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি তিনি শৈশব থেকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।

ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রইউনিয়নের সদস্য হিসেবে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং পরে ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নাট্যমঞ্চ আর রাজনীতির উত্তাল রাস্তা—দুই ভিন্ন জগতের অভিজ্ঞতা নিয়ে তরুণ মির্জা ফখরুল গড়ে ওঠেন।

শিক্ষা জীবন শেষ করে দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি ঢাকা কলেজসহ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নিয়ে ১৯৮৭ সালে শিক্ষা বিভাগের অডিট সেকশনের পরিচালক হয়ে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পরে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন।

১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও মির্জা ফখরুল থেমে যাননি। ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি হারালেও জাতীয় রাজনীতিতে তার ভূমিকা থেমে থাকেনি। ২০০৯ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দলের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র হিসেবে রাজপথ ও গণমাধ্যমে সক্রিয় হতে থাকেন।

তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দলকে সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ঠাকুরগাঁও রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুবিন রতন সমকালকে বলেন, ‘১৯৮৭ সালে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের ছাত্র ছিলাম। মির্জা ফখরুল ইসলাম স্যার অর্থনীতি বিষয়ে ক্লাশ নিতেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। অনেক মনোযোগ দিয়ে পড়াতেন। স্যারের ক্লাসে পড়লে সে বিষয়ে আর বাড়িতে পড়তে হতো না। তিনি অত্যন্ত সৎ ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। সহজে কারও ওপর রাগ করতেন না।’

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে জানান, ‘আলমগীরের সঙ্গে শৈশব-কৈশোর একসঙ্গে কেটেছে। সে অনেক মেধাবী ছিল। শিক্ষকতার পাশাপাশি নাটকের মঞ্চে অভিনয় করত। খেলাধুলার সংগঠক হিসেবে কাজ করত। রাজনীতিতেও বেশ সক্রিয় ছিল ছোটবেলা থেকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজ আলমগীর বঙ্গভবনের বাসিন্দা হতে চলেছে; বুকটা গর্বে ভরে যাচ্ছে। সে যে এমন জায়গায় পৌঁছাবে এটা কিন্তু তার চালচলনে বোঝা যেত। তার মাঝে কোনো গৌরব ছিল না। ধনী-গরীবের ভেদাভেদ ছিল না। ধর্মীয় বিষয়ে কোনো বিভক্তি ছিল না। পূজার সময় আমাদের বাড়িতে আসত। এক কথায় আলমগীরকে না খাইয়ে আমরাও খেতাম না। আলমগীর আগে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ থাকলেও সে দেশের সর্বোচ্চ স্থানে যেতে চলেছে। তার জন্য শুভকামনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপির সাবেক আইন সম্পাদক শপথ পড়াবেন সাবেক মহাসচিবকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৮ এম


বিএনপির সাবেক আইন সম্পাদক শপথ পড়াবেন সাবেক মহাসচিবকে

ছবি: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বায়ে) ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (ডানে)

এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে আলোচিত খবর হলো রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। এরপরই মির্জা ফখরুল দলের মহাসচিব পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি বিএনপির সাবেক মহাসচিব হিসেবে পরিচিত। সবকিছু ঠিক থাকলে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার দায়িত্ব গ্রহণের আগে শপথ নেওয়ার পালা আসবে।

এই প্রসঙ্গে একটি ভিন্ন সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। কারণ, বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যখন স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন, তখন তার সংসদীয় কার্যাবলি ডেপুটি স্পিকার পালন করেন।

অন্যদিকে, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তৃতীয় তফসিলে উল্লেখিত পদে দায়িত্ব নেওয়ার আগে নির্ধারিত শপথ গ্রহণ করতে হয়। রাষ্ট্রপতির শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব তৃতীয় তফসিলে স্পিকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

সাংবিধানিক এই কাঠামো অনুযায়ী, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ যেহেতু ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে আছেন, এ অবস্থায় সংসদের স্পিকারের কার্যাবলি পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর ফলে, যদি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তবে তার শপথ পড়ানোর দায়িত্ব কায়সার কামালের ওপরই পড়বে। তিনি ছিলেন বিএনপির আইন সম্পাদক।

সুতরাং, এই প্রসঙ্গে বলা যায় যে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির সাবেক আইন সম্পাদকের হাতেই শপথ নিতে যাচ্ছেন সাবেক মহাসচিব। এক অর্থে, বিএনপির দুই নেতাকে ঘিরে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব বদলের এই পর্বে একটি মধুর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দৃশ্যপট তৈরি হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ ও নাম সংশোধন সহজ করল ইসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ এম


জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ ও নাম সংশোধন সহজ করল ইসি

ফাইল ছবি

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্মতারিখসহ বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তিতে গতি আনতে নতুন পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়।

এনআইডি সংশোধনের আবেদনগুলো এখন অনলাইনে যাচাইযোগ্য জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), মাধ্যমিক অথবা সমমানের শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তারিখে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশনস) মো. সাইফুল ইসলামের সই করা এক পরিপত্রের মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে গ্রহণ করা এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদনগুলোকে ‘ক’ ক্যাটাগরিভুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

এসব আবেদন মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসার, সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন অফিসার এবং এনআইডি উইংয়ের সহকারী পরিচালক, উপপরিচালক ও পরিচালকগণ সরাসরি নিষ্পত্তি করবেন।

শিক্ষা সনদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য বা দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিদ্যমান স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর অনুসরণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে এও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবেদন ইলেকট্রনিকালি অনুমোদন বা বাতিলকরণের সময় সিএমএস-এ আবশ্যিকভাবে নোট দিতে হবে।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাগণ তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সম্পাদিত কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করবেন। প্রতি মাসে দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রত্যেক নিষ্পত্তি করার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন সঠিকভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, তা যাচাই করে প্রতিবেদন পরিচালক (অপারেশনস)-এর ইন্টারনাল অ্যাকাউন্টে পাঠাবেন।

এছাড়া, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অনুসারে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এবং জন্মতারিখসহ নিজের নাম, বাবা ও মায়ের নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তন সংক্রান্ত আবেদনগুলো মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে।

জন্মতারিখ, নিজের নাম এবং বাবা-মায়ের নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একই ফিল্ডে দ্বিতীয়বার কোনো সংশোধন করা যাবে না বলে পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনার ফলে মাঠপর্যায়ে সাধারণ নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনসংক্রান্ত ভোগান্তি ও অপেক্ষার সময় অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%