পারভিন আক্তার, স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ জেলা
০৯:৩৮ পি.এম
২৬ শে জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে, শুক্রবার, পবিত্র জ্ঞানী শরীফ ও শাহাদায়ে কারবালার উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মিলাদে অংশগ্রহণ করতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট, মোঃ রায়হান কবির মহোদয় নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষ হওয়ার পর তিনি মিলাদ ও দোয়ায় অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য, ৫ আসনের অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এর রাজনৈতিক সচিব, আবুল কাওসার আশা, এবং এছাড়াও রাজনৈতিক বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও এলাকার মুরুব্বিয়ানগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সকলে বাংলাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের স্ত্রী কিম কন-হিকে দুর্নীতির একাধিক মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সিউলের একটি আদালত।
শুক্রবার, ২৬ জুন, সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের এ রায় ঘোষণার সময় জানানো হয়েছে যে, কিম বিলাসবহুল উপহার গ্রহণ করেছেন, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল এবং সরকারি পদ দেয়ার বিনিময়ে মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
এসব দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বে থাকা মিন জুং-কির দল দাবি করেছে, কিমের বিরুদ্ধে সরকারের পদে লোক নিয়োগের জন্য উচ্চমূল্যের গয়না ও বিলাসবহুল সামগ্রীর বিনিময়ে সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল। তবে কিম কিউনের আইনজীবীরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে একটি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কিম একটি মূল্যবান নেকলেস, ব্রোচ ও এক জোড়া কানের দুল গ্রহণ করেন। এর বিনিময়ে ওই ব্যবসায়ীর বড় জামাতাকে একটি সরকারি পদে নিয়োগ দেয়া হয়।
এর পাশাপাশি, ২০২২ সালের এপ্রিলে সাবেক একটি শিক্ষা কমিশন প্রধানের কাছ থেকে একটি স্বর্ণের কচ্ছপ, একই বছরের সেপ্টেম্বরে এক রোবট কুকুর উদ্যোক্তার কাছ থেকে ব্যবসায়িক সুবিধার বিনিময়ে একটি হাতঘড়ি, জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এক যাজকের কাছ থেকে একটি ডিজাইনার হ্যান্ডব্যাগ এবং ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে মনোনয়ন-সংক্রান্ত অনুরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক এক প্রসিকিউটরের কাছ থেকে একটি চিত্রকর্ম গ্রহণের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে।
২০২৫ সালের আগস্টে আটক অবস্থায়, কিমের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। এভাবে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম সাবেক প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে হেফাজতে থেকে বিচার মোকাবিলার নজির স্থাপন করেন।
এদিকে, ২০২৩ সালে ক্ষমতাসীন পিপল পাওয়ার পার্টি–সংক্রান্ত রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগে কিমের বিরুদ্ধে আরও একটি পৃথক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গুম হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর (লুনা) বলেন, 'প্রতিশোধ নয়, আমরা গুমের বিচার চাই।'
শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে গুমের শিকার স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাকের আয়োজনের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল ডে ইন সাপোর্ট অব ভিক্টিমস অব টর্চারস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তাহসিনা রুশদীর আরও উল্লেখ করেন, 'যারা গুমের সাথে জড়িত ছিল, তাদের যদি বিচার না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আবারও ফিরে আসবে। সুতরাং আমরা বিচার চাই।'
এর আগে ঢাকা-১৪ আসনের এমপি ব্যারিস্টার আরমান বলেন, 'আমি বুকে হাত দিয়ে গর্বের সঙ্গে বলি, আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি গুম ফেরত একজন ভিক্টিম। যতদিন আল্লাহ আমাকে হায়াত দিয়েছেন এবং কথা বলার সুযোগ রেখেছেন, আমি এই পরিচয় দিয়ে যাব এবং ভুক্তভোগী হিসেবে গল্প বলে যাব। যেন আমাদের পরবর্তী কোনো প্রজন্মকে এই নির্মম ভাগ্যের মুখোমুখি হতে না হয়।'
ব্যারিস্টার আরমান বলেন, 'এই বাংলার মাটিতে আমরা আর কোনো দিন কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তিকে ফিরে আসতে দেবো না। আমরা বলতে চাই, জান দিবো কিন্তু জুলাই দিবো না।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সকল দিক বিবেচনা করলে মনে হয়, সরকারের দুটি মন্ত্রীর কাঁধে পঞ্চাশ শতাংশ দায়িত্ব রয়েছে। তবে এটি দুর্ভাগ্যজনক যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অন্য সব মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে যে পরিমাণ আগ্রহ, উৎসাহ এবং তৎপরতা দেখা যায়, যদি তিনি সেই একই তৎপরতা তার নিজ মন্ত্রণালয়ে দেখাতেন, তাহলে দেশের জনগণ উপকৃত হতো।
শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের ঘাগড়াজুড়ি গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণের অগ্রগতি পরিদর্শনের পর স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বাংলাদেশের নিকট অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি নাজুক। অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে যদি দৃশ্যমান উন্নতি না হয়, তাহলে এর পরিণতি সরকারের জন্য দুঃখজনক হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, অর্থনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা— এই দুটি জায়গায় যদি দৃশ্যমান অগ্রগতি না হয়, সেক্ষেত্রে এই সরকারের পরিণতি বাস্তবে দুঃখজনক হবে। নতুন অর্থবছরের বাজেট এসেছে, এর বিশ্লেষণ করে আমি সংসদেও কথা বলেছি এবং বাজেটের বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে একটি বড় প্রশ্নও রয়েছে।
এসময় তিনি বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মামলার ব্যবসা’ করার অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, তারা শো অ্যারেস্টের কালচার শুরু করেছেন। একটি মামলা হয়েছে, জামিন নিয়েছে, সাথে সাথে নতুন একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা মামলার ব্যবসা করে যাচ্ছে। আমি এ বিষয়টি সংসদেও বলেছি এবং সরকারসহ আমাদের অত্যন্ত জ্ঞানী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও এই ব্যাপারে জানাতে চাই, আপনি বিষয়টি দেখবেন। কারণ মনে রাখবেন, আজ আপনি যা করছেন, তার জন্য একদিন আপনাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক নেতা শুভেন্দু অধিকারীর রংপুরকে ঘিরে আলোচিত বক্তব্যের প্রতিবাদে গঙ্গাচড়া উপজেলায় প্রতিবাদ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার ভারতীয় আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় এবং রংপুর দখলের স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করার বার্তা সামনে রেখে গঙ্গাচড়া জিরো পয়েন্টে প্রতিবাদ মিছিল ও মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।
এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভ মিছিলে "শুভেন্দু দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে" স্লোগানও দেওয়া হয়।
প্রতিবাদ মিছিল শেষে মানববন্ধনে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, "১৮৮২ সাল থেকে জায়নবাদীরা ফিলিস্তিনে এসেছিল অল্প সংখ্যায়, পরে তারাই ফিলিস্তিন দখল করেছে। আমরা আশঙ্কা করি, একইভাবে রংপুরে হিন্দুদের পুশিং করে রংপুর দখল করার চেষ্টা চলছে।" তিনি বলেন, "আমরা শুভেন্দু অধিকারীকে বলতে চাই, আপনার ক্ষমতা কতটুকু, নিজে এসে দেখে যান। রংপুরের মানুষ তাদের ভূমি, মর্যাদা ও অবস্থানের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেবে না।"
ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের সাহেব আলী বলেন, "আমাদের হৃদয় রক্তক্ষরণ হচ্ছে যে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এশিয়ার সর্ববৃহৎ রাম মন্দির নির্মাণ হচ্ছে। বাংলাদেশ ৯২ শতাংশ মুসলমানের দেশ। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।"
ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী মুফতি মাওলানা আমান উল্লাহ বলেন, "রংপুর দখলের স্বপ্ন দেখার আগে মানচিত্রটা আরেকবার দেখে নেওয়া দরকার। রংপুর কোনো শূন্য জায়গা নয়, এখানে মানুষ আছে, ইতিহাস আছে, দেশের প্রতি ভালোবাসা আছে। কথায় দখল করা সহজ, বাস্তবে রংপুরের মানুষ তাদের অবস্থান জানাতে জানে। তাই দিবাস্বপ্ন দেখে লাভ নেই, বাস্তবতা বুঝতে হবে।"
কর্মসূচির আয়োজক ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী তৌহিদি জনতা জানায়, "জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক মর্যাদা ও দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে জনমত গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এই আয়োজন করা হয়েছে।"
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে আবার একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। মিছিলটি গঙ্গাচড়া জিরো পয়েন্ট এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ