১০:১৬ এম
দশকেরও বেশি সময় ধরে গাজার শাসনভার ছিল ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নিয়ন্ত্রণে। ৬ জুলাই হামাসের দায়িত্ব নতুন টেকনোক্র্যাট কমিটির কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে গাজার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলো। কিন্তু হামাসের ক্ষমতা ছাড়ার পেছনে রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। অনেকের ধারণা, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস। হামাস সামরিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখে পরোক্ষভাবে প্রভাব ধরে রাখতে চায়। ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে ফিলিস্তিনি পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গাজায় ক্ষমতায় আসে হামাস। তবে নির্বাচনের পরপরই আন্তর্জাতিক চাপ, ইসরাইলের অবরোধ এবং ফাত্তাহ’র সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত নতুন সংকটের সূচনা করে। ২০০৭ সালে গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপর থেকে ইসরাইলের কঠোর অবরোধের কারণে গাজার অর্থনীতি ভেঙে পড়ে এবং লাখো মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। অবরোধের মধ্যেই প্রশাসন পরিচালনা করতে হামাস একাধিক বেসামরিক কমিটি গঠন করেছে। ২০১৪ সালে প্রশাসনিক কমিটি, ২০১৮ সালে গভর্নমেন্ট অ্যাকশন ফলো-আপ কমিটি এবং ২০২৩ সালের যুদ্ধ শুরুর পর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় গঠিত হয় গভর্নমেন্ট ইমার্জেন্সি কমিটি। এই কমিটি হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র, পানি সরবরাহ ও জরুরি সেবার সমন্বয় করছিল। একই সাথে হামাসের শীর্ষ নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী, যার ফলে গাজার প্রশাসনিক কাঠামোও বড় ধরনের রকম ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-ইসরাইল সংঘাত শুরু হওয়ার পর গাজার রাজনৈতিক বাস্তবতা একেবারেই বদলে যায়। যুদ্ধবিরতির পর ২০২৬ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গঠিত হয় ‘গাজা পিস কাউন্সিল’, এবং এর অধীনে তৈরি হয় ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ নামে একটি টেকনোক্র্যাট প্রশাসনিক কাঠামো। ৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের জরুরি প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে হামাস এবং নতুন কমিটির কাছে প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তর করে। এই পরিবর্তনকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইসরাইলের দাবি, এটি কেবল প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস। অনেকে মনে করেন, হামাস সামরিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখেই পরোক্ষভাবে তাদের প্রভাব বজায় রাখতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, গাজার দীর্ঘ যুদ্ধ, অবরোধ এবং মানবিক সংকটের বাস্তবতায় প্রশাসন পরিচালনায় একটি বিস্তৃত জাতীয় সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই পরিবর্তন এসেছে। নতুন কমিটির সফলতার ওপর নির্ভর করবে গাজার বিদ্যমান রাজনৈতিক শক্তি, স্থানীয় সমাজ ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন