রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:১৪ এম
‘আপনারা চিড়া-মুড়ি নিয়ে ঢাকার সমাবেশে আসবেন। জুলাই সনদের সব গণদাবি আমরা আদায় করব। আমরা আশাবাদী, আস্থাশীল। দুর্নীতিমুক্ত ও ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে যত দাবি আছে, তা আমরা আদায় করব ইনশা আল্লাহ।’- এই মন্তব্যটি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী’র আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, কুমিল্লায় এক পথসভায়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জনগণ বর্তমানে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও সার পাচ্ছে না। সরকার ক্ষমতায় আসার পর গণরায় ভুলে গেছে। আন্দোলনের মাধ্যমে গণরায় বাস্তবায়ন করা হবে, অন্যথায় সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় জানাতে হবে।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামমুখী লং মার্চের প্রেক্ষিতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ১১ দলীয় জোটের আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে সব মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সংসদে এমপি গয়েশ্বর চন্দ্রের মন্তব্য অনুযায়ী, দেশ মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়ে মাদকের বড় চালান প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব, দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন, যুবসমাজকে রক্ষা করেন।’
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এই পথসভার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের পতন হবে। ২০২২ সালে তিনি বলেছিলেন, শেখ হাসিনাকে এক কাপড়ে দেশত্যাগ করতে হবে, যা এখন বাস্তবতা। তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ঐক্যবদ্ধ হন, আমরা ক্ষমতায় আসব। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে দেশে শৃঙ্খলা ফিরবে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক মন্তব্য করেন, বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। শেখ হাসিনা মেগা প্রকল্পের নামে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছেন। এ সরকার কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে জনগণকে প্রতারিত করছে। তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে।
মামুনুল হক বলেন, ‘আমাদের এ আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলন নয়। গণরায় বাস্তবায়নের আন্দোলন।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। মানুষ তিন বেলা খেতে পারছে না। লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাচ্ছে। সরকার ১৮ কোটি মানুষের গণরায় বাস্তবায়ন করছে না।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘১ হাজার ২০০ টাকার বিদ্যুৎ বিল ৪ হাজার টাকা হয়ে গেছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী বিদ্যুৎ দিতে না পেরে আইসিইউতে চলে গেছেন।’
পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাছীর উদ্দিন পাটোয়ারী, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব আলী হোসেন আকন্দ, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য মু. আবদুস সাত্তার।
পরে নেতৃবৃন্দ সহস্রাধিক গাড়ির বহর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। পথে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরে আয়োজিত পথসভায় ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সেখানে নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানান জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আজকের লংমার্চ সরকারকে সতর্ক করার জন্য। তবে বাকিগুলো এরকম হবে না।
ছয় দফার একটি দফাও ১১ দলের নয় উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এটি ১৮ কোটি মানুষের দফা। সরকার আমাদের রাজপথে আসতে বাধ্য করেছে। জনগণের যখনই প্রয়োজন হবে তখনই বৃহত্তর আন্দোলনে ডাক আসবে। এই লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।
অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি মানতে সরকারকে কঠোর বার্তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এসব দাবি না মানলে আরো তিন বিভাগে লংমার্চ শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জোটটি।
রাতে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে লালদীঘির জনসভায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, যেই সংসদে সালাহ উদ্দিন সাহেব একাই সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে পেরেছেন, যিনি একাই সব দায়িত্ব পালন করেন, তিনি নিশ্চয়ই বিরোধী দলের দায়িত্বও পালন করতে পারবেন। তাই আপনারা সংসদে থাকুন, আমরা জনগণের সঙ্গে রাজপথে থাকি।
দেশের মানুষ ভালো নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট। সরকার সবদিক থেকে ব্যর্থ হয়েছে। আমি সরকারকে বলতে চাই সময় থাকতে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করবেন সেই উদ্যোগ নেন। জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করুন। নয়তো শেখ হাসিনার দুঃশাসন থামাতে মানুষ ১৬ বছর অপেক্ষা করেছে, আমরা আপনার জন্য পাঁচ বছরও অপেক্ষা করব না।
সমাবেশে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমাদের প্রশ্ন করা হয়েছে কেন আমরা লংমার্চ করছি। তাদের বলতে চাই, যেজন্য তোমাদের মা-বাবা, ভাই-বোনরা ভোট দিয়েছে, সেটি বাস্তবায়ন করার জন্য। ঘরে যেসব ভাবিরা রান্না করতে গিয়ে কষ্ট করছেন তাদের চুলায় গ্যাস আনার জন্য। যারা গত ১২ ফেব্রুয়ারি কষ্ট করে ভোট দিয়েছেন তাদের অধিকার, তাদের গণরায় বাস্তবায়নের জন্য। আমরা লংমার্চ করেছি ১৭ বছর গুম, খুন আর নির্যাতনের বিচার করার জন্য। আমরা লংমার্চ করেছি জুলাই গণঅভ্যুত্থান যারা শহীদ হয়েছেন তাদের হত্যার বিচার নিশ্চিতের জন্য।
ছয় দফা যদি বাস্তবায়ন করা না হয় তাহলে ২০২৪ সালে ৯ দফা যেভাবে এক দফায় রূপ নিয়েছিল এখনো ছয় দফা এক দফায় রূপ নেবে। সময় থাকতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনি বলেছিলেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার করবেন, আপনাকে বিচার করতেই হবে। অন্যথায় হাদির উত্তরসূরিরা এক দফা ঘোষণা করবে। তিনি বলেন, সরকারের ব্যর্থতা সব বিএনপি নেতাকে কাঁধে নিতে হবে। প্রত্যেকটা মন্ত্রী, এমপি ও নেতাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ যাত্রা করে রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কর্মসূচি। যাত্রাপথে বন্দরনগরী নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে এসব পথসভা জনসভায় রূপ নেয়। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
এসব জনসভায় বিরোধীদলীয় নেতারা বলেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জাতির সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। তারা গত ছয় মাসে তারা তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও গণহত্যার বিচারে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। জনগণের এসব সমস্যার সমাধানে বিরোধী দল সংসদে ও রাজপথে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।
এদিকে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ বহর চট্টগ্রামের লালদীঘিতে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে শুভেচ্ছা জানান ১১ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোর স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন স্থানে লংমার্চের যাত্রীদের জন্য খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়। কর্মসূচি ঘিরে জোটের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ উৎসুক জনতার মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীরাও গাড়ি নিয়ে লংমার্চ বহরে যুক্ত হন। সমাবেশে বক্তব্য ছাড়াও নানা ধরনের সংগীত পরিবেশন করে বিভিন্ন শিল্পী গোষ্ঠী।
বর্তমান বিরোধী দলের প্রথম সর্ববৃহৎ কর্মসূচি হিসেবে লংমার্চ বাস্তবায়নে বেশ কয়েকদিন ধরে প্রস্তুতি নেয় ১১ দল। লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নে পথে পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ও তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চটি শেষ হলেও পথে বহরের দুয়েকটি গাড়ি ছোটখাটো দুর্ঘটনার মুখে পড়ে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ৬ আগস্ট বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১ দলের অবস্থান কর্মসূচি থেকে ছয় দফা দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশসহ চার বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ঢাকা-চট্টগ্রাম এই লংমার্চের পর ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে পর্যায়ক্রমে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ৩১ অক্টোবর খুলনা-কুষ্টিয়া এবং ২১ নভেম্বর ট্রেনযোগে সিলেট মহানগর অভিমুখে লংমার্চ পালিত হবে। সবশেষে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
ছয় দফা দাবির মধ্যে আরো রয়েছে—জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ
ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে সমান্তরালভাবে সংসদ ও রাজপথে আন্দোলন চলতে থাকবে। তিনি বলেন, আমার আজ কোনো দল, ব্যক্তি, গোষ্ঠীর জন্য রাজপথে নেমে আসিনি। জনগণের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি। জনগণের অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ।
জামায়াত আমির বলেন, ছয় দফার সঙ্গে সপ্তম দফা হবে—কোনো চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বাংলাদেশে আমরা বরদাশত করব না। দুর্নীতি-চাঁদাবাজি চলবে না।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের জ্বালায় জনগণ অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত। গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই কিন্তু গ্যাসের বিলও যথারীতি আছে; বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল আছে। অতিষ্ঠ হয়ে, সিফাত নামের একজন তরুণ কী বলেছিল, তাতে বাংলাদেশ উলটপালট হয়ে যাওয়ার মতো। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় গিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, যে বিষয়ে সিফাত প্রতিবাদ করেছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জন করবে। ভালো ভালোই ওকে ছেড়ে দিন। যদি না ছাড়েন তাহলে মনে রাখবেন, এক নুর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডা. মিলন অনেকের গদি একদম উলটপালট করে দিয়েছিল।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের অধিকার আদায়ে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই অঙ্গীকার পূরণ করতেই আমরা এই কর্মসূচি শুরু করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের কর্মসূচির কৌশল ইতোমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সমাবেশের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, গণভোটের রায়সহ ছয় দফা দাবি পূরণ না করলে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে চাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের এই লংমার্চ। যারা গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি এই লংমার্চ তাদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, লংমার্চে বাধা আসলে ছয় দফা থেকে একদফা দাবিতে আন্দোলন দুর্বার গতিতে শুরু হবে।
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, চাঁদাবাজ-মাস্তানদের ভোট দিলে দেশ ভালো চলবে না, তার দৃষ্টান্ত বর্তমান সরকার।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মিনিট না যেতেই জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ পালনের মাধ্যমে যে বার্তা দিতে চাচ্ছি, সরকার যদি সেটি বুঝতে না পারে তবে পরিণতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গণভোটের গণরায় মেনে নিয়ে সংসদ অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করবে কিন্তু সরকার সেটি করেনি। সেই ট্রেন সরকার মিস করে ফেলেছে। ১৮০ দিনের মধ্যে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ট্রেনও সেপ্টেম্বরের পর মিস হয়ে যাবে। তাই সেপ্টেম্বরের মধ্যেই গণভোটের গণরায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, সরকারের অবস্থা এমন হয়েছে তারা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে ৭০ শতাংশ জনগণের বিপক্ষে গিয়েছে। সংসদে টু-থার্ডের ক্ষমতা দেখিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা যাবে না। জনগণ ভোট দিতে পারে আবার ক্ষমতাও কেড়ে নিতে পারে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার বন্ধু ও শত্রু চিনতে পারে না বলেই তাল হারিয়ে ফেলছে। গত ছয় মাসে সরকারের ১৫০ টাকা লাঞ্চ আর ৫০ হাজার ফ্যামিলি কার্ডের গল্প ছাড়া আর কোনো গল্প নেই, কোনো অর্জন নেই।
সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন নেজামে ইসলাম পার্টির আমির আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। সমাবেশ শেষে সাড়ে ৮টায় লংমার্চের যাত্রা শুরু হয়।
বৃষ্টিমুখর নারায়ণগঞ্জে পথসভা
লংমার্চ শুরু হওয়ার পর প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায়। সেখানে বৃষ্টি উপেক্ষা করে অংশগ্রহণ করেন ১১ দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী। এতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জনগণের সঙ্গে আছি, আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব। আমরা সফল হব। আজকের লংমার্চ শেষ নয়, শুরু।
জামায়াতের নারায়ণগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা আবদুল জাব্বারের সভাপতিত্বে পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হকসহ শীর্ষ নেতারা। এদিকে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে লংমার্চ বহরকে শুভেচ্ছা জানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
নিমসারে অনির্ধারিত পথসভা
নারায়ণগঞ্জের পর অনির্ধারিত পথসভা হয় কুমিল্লার নিমসার এলাকায়। সেখানে ব্যাপক লোকজনের উপস্থিতিতে রাস্তায় নিজ গাড়িতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আমরা আপনাদের জন্য রাস্তায় নেমেছি, আপনাদের দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ। সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালানো যাবে না। আমরা কুমিল্লা পুরাতন ফ্যাসিবাদ তাড়িয়েছি, নতুন ফ্যাসিবাদ আসলে তাকেও তাড়াব।
পদুয়ার বাজারে পথসভায় জনতার ঢল
লংমার্চের অন্যতম বড় পথসভা অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বাসস্ট্যান্ড বিশ্ব রোড এলাকায়। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পথসভাটি সমাবেশে রূপ নেয়। আধাঘণ্টা স্থায়ী এ পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান ছয় দফার পাশাপাশি আরো বলেন, কুমিল্লা বিভাগের দাবি উঠেছিল ১৯৯৪ সালে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। সরকারের উদ্দেশে বলছি, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে দ্রুত বাস্তবায়ন করুন।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ১৮০ দিনে দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। তারা কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, দেশ চাঁদাবাজি, খুন রাহাজানিতে ভরে গিয়ে জাহান্নামে পরিণত হয়েছে। পথসভায় আরো বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।
চৌদ্দগ্রামে পথসভা
চৌদ্দগ্রামে পথসভাতেও ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া পথসভায় আরো বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছু’ম এবং মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।
ফেনীর পথসভা জনসমাবেশে পরিণত
লংমার্চের গাড়িবহর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ফেনী মহিপালে পৌঁছায়। উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের শুরু থেকে বিশ্বাসঘাতকতা করে আসছে। তিনি বলেন, সরকার নির্লজ্জ দলীয়করণ করবে, আর আমরা চুপ করে বসে থাকব—তা হবে না। আমরা প্রতিবাদ করব। চূড়ান্ত ডাক এলে জনগণকে নেমে আসার আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। জনগণ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। দেশ উল্টোপথে চলছে।
জুলাই গণহত্যার বিচার পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদ-বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম, ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, মামুনুল হক, মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ। এ সময় ১১ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মিরসরাইয়ে শেষ পথসভা
বিকালে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অনুষ্ঠিত হয় শেষ পথসভা। সেখানে অনেক আগেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু নেতাকর্মী জমায়েত হন। এতে জামায়াত আমিরসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, লংমার্চ সফলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি বাস্তবায়ন কমিটি দফায় দফায় বৈঠকসহ নানা প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। এতে ১১ দলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর ছাড়াও সংশ্লিষ্ট ৯টি শাখার নেতারা যুক্ত ছিলেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও এসপিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জোটটি। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিটি শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, যারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম ও দুর্নীতি করে, তারাই সবচেয়ে বড় গুপ্ত। তিনি উল্লেখ করেন, "মানুষ আদালতে গেলে আর শোষণ-বঞ্চনার শিকার হবে না, ন্যায়বিচার পাবে।" তিনি আরও বলেন, সন্তানরা ভালো শিক্ষা পাবে, হাতে ভালো কাজ পাবে এবং তারা দেশ গড়বে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দেশ থেকে চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতি নির্মূল হবে। কিন্তু তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন যে, "কিন্তু তার একটাও হয়নি।"
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল (অব) অলি আহমদ। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে লংমার্চের বিশাল গাড়ি বহর নগরীর লালদীঘির পাড়ে পৌঁছে। এসময় নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে শুরু করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ জনগণ দুটি ভোট দিয়েছিল। একটি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচনের জন্য, আরেকটি বাংলাদেশের রাজনীতির পরিবর্তনের জন্য সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচনের উদ্দেশ্যে।" তিনি উল্লেখ করেন, একই ব্যক্তিকে দুটি ভোট দিতে হয়েছিল। নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারি দল এবং তারা সবাই বলেছিল, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন।
তিনি বলেন, "‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিএনপিও এ কথা বলেছে, আমরাও বলেছি। ছয় মাস চলে গেল, বিএনপি কি তাদের কথা রেখেছে?"
তিনি আরও বলেন, "ওই সময় বাংলাদেশের মানুষ বুকভরা আশা নিয়ে ভেবেছিল, এবার একটা পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না।" তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, "মানুষ আদালতে গেলে আর শোষণ-বঞ্চনার শিকার হবে না, ন্যায়বিচার পাবে।"
জামায়াত আমির বলেন, "তারা তখন বলেছিল, অনির্বাচিত সরকার যত দ্রুত বিদায় নেবে, দেশের তত মঙ্গল হবে।" তিনি প্রশ্ন করেন, "অনির্বাচিত সরকার আমাদের জান্নাতে পাঠায়নি, এটা ঠিক। কিন্তু অনির্বাচিত সরকারের সময় আপনারা যেমন ছিলেন, এখন কি সেই সুবিধাগুলো পাচ্ছেন?"
ঢাকা বিমানবন্দরে এক প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "কয়েক দিন আগে তিনজন ছিনতাইকারী একজন প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাই করেছে।" তিনি জানান, ছিনতাইয়ের সময় তারা নিজেদের আওয়ামী লীগের লোক পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়েছিল। তবে ধরা পড়ার পর দেখা গেল, তারা বিএনপির লোক।
তিনি বলেন, "এরা গুপ্ত। যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, দুর্নীতি করে, সেই হচ্ছে সবচেয়ে বড় গুপ্ত।"
সমাবেশে এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, "স্বৈরাচারে রেখে যাওয়া সমস্যার সমাধান যদি আপনি করতে না পারেন তাহলে সেটা প্রথমে সবের আগে জনগণের কাছে স্বীকার করুন।" তিনি বলেন, "স্বীকার করুন এই সমস্যার সমাধান আপনার একা পক্ষে সম্ভব নয়।"
তিনি আরও বলেন, "স্বীকার করুন আপনার কাছে কোনো সঠিক পরিকল্পনা নাই দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার এবং বিরোধী দলের সাথে আলোচনায় বসুন।" তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "বিরোধী দল সমর্থন না দিলে এই দেশ আপনার পক্ষে একা চালানোর সম্ভব নয়।"
তিনি বলেন, "এই বাস্তবতা মেনে নিন। আমরা স্বৈরাচারকে, অতীত স্বৈরাচারকে আসার কোনো পথ করে দিচ্ছি না।"
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "তারেক রহমান এই সমস্যার সংকট আপনিই তৈরি করেছেন।" তিনি উল্লেখ করেন, "আপনি সংসদকে কার্যকর করেননি। সংসদ কার্যকর না হওয়ার কারণে আজকে আন্দোলন রাজপথে গড়িয়েছে।"
তিনি বলেন, "আপনি যদি প্রথমেই গণভোটের গণরায় সংবিধান বাস্তবায়ন পরিষদ করতেন তাহলে সেই সংবিধান পরিষদে আমরা আলোচনা করতে পারতাম।"
তিনি অভিযোগ করেন, "জনগণের নির্বাচিত এমপিদেরকে কাজ করতে দিচ্ছেন না।" তিনি বলেন, "দেশের অন্য সকল প্রতিষ্ঠানের মতো এই সংসদকেও একটা একদলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন।"
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "আমরা হুঁশিয়ার করে দিতে চাই সংসদ যদি আস্তে একাকার হয়ে যাবে।" তিনি বলেন, "তার আগেই আপনি জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।"
তিনি বলেন, "নতুনভাবে জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি আপনারা ভঙ্গ করেছেন।"
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, "গোটা বাংলাদেশ আজ বিস্ফোরণময়।" তিনি জানান, "সকাল থেকে লালদীঘি পর্যন্ত জনতার ঢল নেমেছে।"
তিনি বলেন, "এই জনগণ যদি রাস্তায় নামে, ১১ দলের ঐক্যেরও প্রয়োজন হবে না। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের বিদায় নিশ্চিত করবে।"
তিনি অভিযোগ করেন, "দেশে গ্যাস সংকট নেই এমন বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।"
জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, "বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন করা উচিত কেন তারা জনগণের ওপর ‘জুলুম’ করেছেন।"
তিনি বলেন, "জনগণের দাবি আদায়ে বর্তমানে ছয় দফা নিয়ে আন্দোলন চলছে।"
১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পৌঁছানোর আগেই চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘির মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। শনিবার দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে ময়দানে আসতে শুরু করেন।
এসময় আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সমাবেশ ঘিরে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সমাবেশস্থলের আশপাশে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লালদীঘির মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে জহুর হকারমার্কেট, জেলা পরিষদ মার্কেট পর্যন্ত নেতা-কর্মী অবস্থান নিয়েছে। শনিবার দুপুরের পর থেকেই লালদীঘি ময়দানে চকবাজার, কোতোয়ালী মোড়, কাজির দেউড়ি, লাভলেইন, সিআরবি মোড়, টাইগারপাস ও আন্দরকিল্লা এলাকা মিছিলে মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে।
কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলা এবং চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা ও মহানগরের ১৬টি থানা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে লালদীঘির মাঠে জমায়েত হন।
নেতাকর্মীদের হাতে শোভা পায় বিভিন্ন ধরনের পোস্টার, প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার, যেখানে ৬ দফা দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সমাবেশে মাগরিবের আগ পর্যন্ত বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম -১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর আমীর নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরীর আহবায়ক মোহাম্মদ মীর শোয়াইব, জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সদস্য জাফর সাদেকসহ আরও অনেকে।
শনিবার সকাল সোয়া ৮টার পর রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের পথে লংমার্চ শুরু হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার সাভারের আমিন বাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) সদস্য আলতাফ হোসেন (৫৮) কে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার রাত ৮টার দিকে সাভারের আমিনবাজার বরদেশি এলাকায় কয়েকজন মিলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। আলতাফ হোসেন ঢাকার মালিবাগ জোনে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনার ফলে তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৬) গুরুতর আহত হয়েছেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, সাভার থানার আমিনবাজার বড়দেশি মদিনা হাউজিং এলাকায় গেঞ্জি ফ্যাক্টরির সামনে একটি প্রাইভেট কার রাখাকে কেন্দ্র করে ১০-১৫ জনের হামলার শিকার হন পুলিশ সদস্য আলতাফ ও তার ছোট ছেলে আরিফ।
স্থানীয়রা রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
আলতাফ সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজার এলাকায় বসবাস করতেন।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের ক্ষেত্রে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করা সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সূত্রগুলো জানাচ্ছে, যদি রোববার গেজেট প্রকাশ না হয়, তবে এই সপ্তাহের মধ্যে তা প্রকাশ করা হতে পারে। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ১০ সেপ্টেম্বরের কথা শোনা যাচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট তারিখটি নির্ভর করছে বাকি থাকা প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া কত দ্রুত শেষ হয় তার ওপর।
কেন বারবার পেছাচ্ছে গেজেট
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে প্রধান বাধা কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি সংশ্লিষ্ট ধারাবাহিক প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। মন্ত্রিসভায় পে স্কেল অনুমোদনের পরেও সরাসরি গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এর আগে প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত করতে হয়, সরকারি মুদ্রণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যাচাই এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।
জানা গেছে, নবম জাতীয় পে স্কেলের রেজুলেশন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এটি আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে। এরপর খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষ হওয়ার পর এসআরও নম্বর দিয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।
অর্থাৎ, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়ে গেলেও গেজেট প্রকাশের আগে একাধিক দাপ্তরিক ধাপ সম্পন্ন হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ‘রেজুলেশন বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। বিজি প্রেসের প্রক্রিয়া শেষে এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। সবশেষে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে। আশা করছি, বাকি কাজ ও প্রক্রিয়া চলতি সপ্তাহেই হয়ে যাবে।’
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরও প্রজ্ঞাপন জারির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে। এসব ধাপ সম্পন্ন করতেই প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা বেশি সময় লাগছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ