প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘আপনারা চিড়া-মুড়ি নিয়ে ঢাকার সমাবেশে আসবেন। জুলাই সনদের সব গণদাবি আমরা আদায় করব। আমরা আশাবাদী, আস্থাশীল। দুর্নীতিমুক্ত ও ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে যত দাবি আছে, তা আমরা আদায় করব ইনশা আল্লাহ।’- এই মন্তব্যটি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী’র আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, কুমিল্লায় এক পথসভায়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জনগণ বর্তমানে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও সার পাচ্ছে না। সরকার ক্ষমতায় আসার পর গণরায় ভুলে গেছে। আন্দোলনের মাধ্যমে গণরায় বাস্তবায়ন করা হবে, অন্যথায় সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় জানাতে হবে।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামমুখী লং মার্চের প্রেক্ষিতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ১১ দলীয় জোটের আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে সব মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সংসদে এমপি গয়েশ্বর চন্দ্রের মন্তব্য অনুযায়ী, দেশ মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়ে মাদকের বড় চালান প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব, দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন, যুবসমাজকে রক্ষা করেন।’
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এই পথসভার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের পতন হবে। ২০২২ সালে তিনি বলেছিলেন, শেখ হাসিনাকে এক কাপড়ে দেশত্যাগ করতে হবে, যা এখন বাস্তবতা। তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ঐক্যবদ্ধ হন, আমরা ক্ষমতায় আসব। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে দেশে শৃঙ্খলা ফিরবে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক মন্তব্য করেন, বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। শেখ হাসিনা মেগা প্রকল্পের নামে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছেন। এ সরকার কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে জনগণকে প্রতারিত করছে। তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে।
মামুনুল হক বলেন, ‘আমাদের এ আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলন নয়। গণরায় বাস্তবায়নের আন্দোলন।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। মানুষ তিন বেলা খেতে পারছে না। লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাচ্ছে। সরকার ১৮ কোটি মানুষের গণরায় বাস্তবায়ন করছে না।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘১ হাজার ২০০ টাকার বিদ্যুৎ বিল ৪ হাজার টাকা হয়ে গেছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী বিদ্যুৎ দিতে না পেরে আইসিইউতে চলে গেছেন।’
পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাছীর উদ্দিন পাটোয়ারী, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব আলী হোসেন আকন্দ, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য মু. আবদুস সাত্তার।
পরে নেতৃবৃন্দ সহস্রাধিক গাড়ির বহর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। পথে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরে আয়োজিত পথসভায় ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সেখানে নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানান জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন