০৩:৫১ পি.এম
একসময় পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকত শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা মধুটিলা ইকোপার্ক। দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ ছিল পাহাড়ি প্রকৃতি, ওয়াচ টাওয়ার, কৃত্রিম লেক, মিনি চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক ও স্টার ব্রিজ।
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পার্কটির সেই জৌলুস হারিয়ে গেছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংস্কারের অভাব, নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রবেশমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কারণে পর্যটকের সংখ্যা ক্রমাগত কমছে।
২০০০ সালে ময়মনসিংহ বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠিত এই ইকোপার্কটি একসময় শেরপুরসহ আশপাশের জেলার মানুষের জন্য বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত এখানে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যেত। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কোনো আকর্ষণীয় রাইড বা স্থাপনা যুক্ত না হওয়ায় পর্যটকদের আগ্রহ কমে গেছে।
আরও পড়ুন: দফাদারকে গ্রাম পুলিশ প্রধান, মহল্লাদার হবে গ্রাম পুলিশ
জানা যায়, পার্কের কৃত্রিম লেকের অধিকাংশ প্যাডেল বোট নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। একসময়ের আকর্ষণীয় স্টার ব্রিজের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে এবং টাইলস উঠে গেছে। প্রাণীর ভাস্কর্যগুলোও রং হারিয়ে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।
সীমানাপ্রাচীরের বিভিন্ন অংশও ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। ওয়াচ টাওয়ারে যাওয়ার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দর্শনার্থীরা সেখানে যেতে পারছেন না।
এদিকে ২০২৪ সালে জনপ্রতি ২০ টাকা প্রবেশমূল্য থাকলেও তা বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রবেশমূল্য ৫০ টাকার মধ্যে রাখা হলে পর্যটকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি পার্ক ও আশপাশে মাদক সেবন, জুয়া এবং নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
শেরপুর ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ২০১৫ সালে কলেজছাত্র আব্দুর রাজ্জাক হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নিরাপত্তার শঙ্কায় অনেক পর্যটক পার্কে আসতে চান না। দীর্ঘ সময় ধরে উন্নয়ন না হওয়ায় পার্কটি তার আকর্ষণ হারিয়েছে।
আরও পড়ুন: চার জেলার পুলিশ সুপারসহ ৬ কর্মকর্তার বদলি
ময়মনসিংহ থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক শাহরিয়ার মুক্তাদির জানান, প্রত্যাশা নিয়ে এসে তিনি হতাশ হয়েছেন। পার্কে জুয়া ও মাদক সেবনের পরিবেশ এবং নিরাপত্তার ঘাটতি তাঁর চোখে পড়েছে। নতুন রাইড ও উন্নত ব্যবস্থাপনা চালু হলে দর্শনার্থী বাড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, দুই দফা টেন্ডার আহ্বান করেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ায় বন বিভাগের নিজস্ব জনবল দিয়েই পার্ক পরিচালনা করতে হচ্ছে। মধুটিলা রেঞ্জ অফিসার আব্দুল করিম দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে টেন্ডার সম্পন্ন না হওয়ায় সীমিত জনবল দিয়েই ব্যবস্থাপনার কাজ চালাতে হচ্ছে।
এদিকে মধুটিলা ইকোপার্কের উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী। তিনি পার্কে নতুন নতুন রাইড স্থাপন ও উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে আবারও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ পরিকল্পনা, সংস্কার ও নিরাপত্তার অভাবে মধুটিলা ইকোপার্ক আজ পর্যটকশূন্যতার দিকে এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে গারো পাহাড়ের এই ঐতিহ্যবাহী বিনোদনকেন্দ্রটি।
আরও পড়ুন: শেরপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন