০৮:৫৭ পি.এম
‘ব্রিদিং ঢাকা’ প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগণের জন্য নির্ভরযোগ্য বায়ুমানের তথ্য সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর দূষণপ্রবণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় আটটি পিএম২.৫ (সূক্ষ্ম বস্তুকণা) পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। পাশাপাশি সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নীতিনির্ধারণে সহায়তা করা হবে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশ ভবনে মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) ১৮ মাস মেয়াদি প্রকল্পটির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্রের (ক্যাপস) যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউটের (ইপিক) ‘এয়ার কোয়ালিটি ফান্ড ২০২৬’-এর আওতায় প্রকল্পটির জন্য অর্থায়ন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ধলপুরে মাদকের আস্তানায় পুলিশের অভিযান, বাসিন্দাদের স্বস্তি
অনুষ্ঠানে ক্যাপসের চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের কারিগরি প্রধান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার জানান, প্রকল্পের আওতায় ৮টি পিএম২.৫ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে যন্ত্রপাতির ক্যালিব্রেশন, পরিবেশ অধিদপ্তরের রেফারেন্স মনিটরের সঙ্গে উপাত্তের তুলনা এবং মাননিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। সংগৃহীত তথ্য গবেষণা, জনসচেতনতা ও নীতিনির্ধারণের কাজে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদ ইমতিয়াজ জামি বলেন, পরিবেশদূষণ ও এর স্বাস্থ্যগত ক্ষতির ঝুঁকিতে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী তুলনামূলকভাবে বেশি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বায়ুমানের তথ্য সংগ্রহ ও সহজলভ্য করার পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল মোতালিব যন্ত্রপাতির যথাযথ ক্যালিব্রেশন, উপাত্ত যাচাই এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বায়ুদূষণ মোকাবেলায় আচরণগত পরিবর্তনমূলক কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতার জন্য অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন ও ক্যাপসের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এই সমঝোতার আওতায় বায়ুমান পর্যবেক্ষণ, সেন্সর স্থাপন ও ক্যালিব্রেশন, উপাত্ত যাচাই, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং গবেষণায় সহযোগিতা প্রদান করবে ক্যাপস।
আরও পড়ুন: মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোর সংঘর্ষ, ৪ জন নিহত
অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, ডিপার্টমেন্ট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটির আরবান এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ টি এম নুরুল আমিন, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বেগম শাহনাজ রহমান, সহকারী পরিচালক তানজিনা আক্তার, উপসচিব তপন কুমার নাথ, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ সাফিউর রহমান, ক্যাপসের লিড রিসার্চার মারজিয়াত রহমান, প্রকল্প প্রধান খাদিজাতুল কুবরা সারাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এবং গবেষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন