০৮:৫৬ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল, ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং রিপাবলিকান পার্টি, তাদের প্রতীক হিসেবে যথাক্রমে গাধা ও হাতিকে ব্যবহার করে থাকে। নির্বাচনী প্রচার, রাজনৈতিক কার্টুন এবং দলীয় প্রচারসামগ্রীতে এই দুই প্রাণীর ছবি প্রায়শই দেখা যায়। তবে, এই প্রতীকগুলোর জনপ্রিয়তার পেছনে উনিশ শতকের একটি রাজনৈতিক কার্টুনশিল্পীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তার নাম টমাস নাস্ট।
১৮৬২ থেকে ১৮৮৬ সাল পর্যন্ত ‘হার্পারস উইকলি’ পত্রিকায় কাজ করার সময়, নাস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক কার্টুনশিল্পী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার আঁকা ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে ডেমোক্রেটিক এবং রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে গাধা ও হাতির প্রতীকের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
১৮৭৪ সালে নাস্টের আঁকা ‘থার্ড টার্ম প্যানিক’ শিরোনামের একটি কার্টুন রিপাবলিকান পার্টির প্রতীক হিসেবে হাতির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করে। সে সময় রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ইউলিসিস এস গ্র্যান্ট তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল।
আরও পড়ুন: ডেমোক্র্যাটদের জয়লাভে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ প্রকাশ
গ্র্যান্টের সম্ভাব্য তৃতীয় মেয়াদকে কেন্দ্র করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা নিয়ে যে রাজনৈতিক প্রচার চলছিল, সেটিকেই ব্যঙ্গ করেন নাস্ট। সেখানে ‘দ্য রিপাবলিকান ভোট’ লেখা একটি বিশাল হাতিকে আতঙ্কিত ও দিশাহারা অবস্থায় দেখানো হয়। কার্টুনটি প্রকাশের পর রিপাবলিকানদের সঙ্গে হাতির প্রতীক আরও বেশি পরিচিতি লাভ করে।
তবে, হাতিকে রিপাবলিকান পার্টির প্রতীক হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে নাস্টই প্রথম ছিলেন না। তার কার্টুন প্রকাশের আগেও দলটির প্রচারসামগ্রীতে হাতির ছবি ব্যবহারের নজির ছিল।
অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে গাধার সম্পর্ক আরও পুরোনো। ১৮২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলটির নেতা অ্যান্ড্রু জ্যাকসনকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ‘জ্যাকঅ্যাস’ বা গাধা বলে উপহাস করত। কিন্তু জ্যাকসন সেই বিদ্রূপকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে, নিজের নির্বাচনি প্রচারের কৌশলে কাজে লাগান। এভাবেই গাধার সঙ্গে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্পর্কের সূচনা ঘটে।
পরবর্তী সময়ে, নাস্ট তার বিভিন্ন কার্টুনে দুই দলের প্রতীকী প্রাণীকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র আঁকেন। কখনো হাতিকে ভীত ও দুর্বল প্রাণী হিসেবে, আবার কখনো গাধাকে বিপদের মুখে থাকা একগুঁয়ে প্রাণী হিসেবে তুলে ধরেন। এসব কার্টুনে তিনি দুই দলের নেতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দুর্বলতা, বিশৃঙ্খলা এবং দুর্নীতির চিত্র ফুটিয়ে তোলেন।
আরও পড়ুন: নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা হ্রাসের পেছনে কারণগুলো বিশ্লেষণ
সময়ের সঙ্গে, রিপাবলিকান পার্টি হাতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে। অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক পার্টি গাধাকে আনুষ্ঠানিক প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও, দলটির নির্বাচনি প্রচার, সমাবেশ এবং বিভিন্ন প্রচারসামগ্রীতে প্রাণীটির উপস্থিতি নিয়মিত দেখা যায়।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও বিদ্রূপের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত এই দুই প্রাণীই শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দুই প্রধান দলের স্থায়ী পরিচিতির অংশ হয়ে উঠেছে।
এআরবি
আরও পড়ুন: মার্কিন সিনেটে জিতে ইতিহাস গড়লেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী কাওয়াস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন