০৬:৪৮ পি.এম
ভারতের তেলেঙ্গানায় পরকীয়া প্রেমের পথে কাঁটা সরাতে স্বামীকে খুনের ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। প্রথমবারের চেষ্টায় ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে মারতে না পারলেও, পরে স্বামীর শরীরে হাসপাতালের বিছানায় ইনজেকশনের মাধ্যমে টয়লেট ক্লিনার পুশ করে হত্যা করেন নার্স স্ত্রী। এই ঘটনায় তেলেঙ্গানার নিজামাবাদ জেলার ন্যালকাল গ্রামের পুলিশ প্রশাসনও স্তম্ভিত।
পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত যুবকের নাম প্রশান্ত (৩৫)। তিনি দীর্ঘদিন গালফ দেশে কাজ করছিলেন এবং গত ২৭-২৮ জুন বাড়ি ফিরেছিলেন। বাড়িতে ফিরে তিনি স্ত্রীর সন্ধ্যার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। এতে সন্ধ্যা এবং তাঁর প্রেমিক অনিল মিলে প্রশান্তকে খুন করার পরিকল্পনা করেন। এতে তারা ভেঙ্কট সাই ওরফে বান্টিকে যুক্ত করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বান্টি প্রথমে প্রশান্তকে ডেকে নিয়ে অতিরিক্ত মদ্যপান করান। প্রশান্ত মাতাল হয়ে পড়লে বান্টি তাঁকে বাড়ির ছাদে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের মধ্যে একটি বানোয়াট ঝগড়া বাঁধে। ঠিক সেই সময়ে স্ত্রী সন্ধ্যা উপস্থিত হন এবং বান্টি ও সন্ধ্যা সম্মিলিতভাবে প্রশান্তকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেন।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলকে বাঁচাতে ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র খোয়াল যুক্তরাষ্ট্র, ইরান বলল ‘পরজীবী সম্পর্ক’
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রশান্ত অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। তাঁকে প্রথমে সরকারি এবং পরবর্তীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বামী ছাদ থেকে পড়েও বেঁচে যাওয়ায় সভ্য হয়ে ওঠেন সন্ধ্যা। ৩০ জুন তিনি নিজের নার্সিং পেশার অভিজ্ঞতার ব্যবহারে গোপনে অপরাধ পরিকল্পনা করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জানান, যখন প্রশান্ত হাসপাতালে বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন, তখন তিনি হাতে স্যালাইনের ক্যানুলা লাগানো ছিলেন। সেই ক্যানুলার মাধ্যমেই সন্ধ্যা ঠাণ্ডা মাথায় স্বামীর শরীরে টয়লেট ক্লিনার এবং অন্যান্য বিষাক্ত রাসায়নিক ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু ঘটে প্রশান্তের।
১ জুলাই প্রশান্তের মায়ের মধ্যে ছেলের আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ জন্ম দেয়। তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তকারীরা যখন বান্টিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করেন, তখন সত্য উদঘাটিত হয়।
বান্টি পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন, "আমাদের মধ্যে প্রথমে মারামারি হয়েছিল। তারপর ওর স্ত্রী আসে। আমরা দুজনে মিলে ওকে জোরে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দিই। পুরো পরিকল্পনাটা সন্ধ্যারই ছিল, ও আমাকে টাকাও দিয়েছিল।"
আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের সত্যনিষ্ঠ হওয়ার পরামর্শ দিলেন সিএনএনের আমানপুর
ঘটনার তদন্ত শেষে ৪ জুলাই পুলিশ অভিযুক্ত স্ত্রী সন্ধ্যা, তাঁর প্রেমিক অনিল এবং সহযোগী বান্টিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করা হয়। আদালত তিনজনকেই আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন