প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তিন দিনের টানা ভারি বর্ষণে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনজীবন অত্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলা, জরুরি বিভাগ, ল্যাব এবং প্রশাসনিক কক্ষে হাঁটু সমান পানি জমে গেছে, যা চিকিৎসাসেবায় ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে। নদীর তীরবর্তী কয়েকটি এলাকার রাস্তাঘাট এবং বসতবাড়িও পানিতে তলিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল, হাসপাতালের ভেতর-বাইরের আঙিনাসহ নিচতলায় হাঁটু সমান পানি জমে রয়েছে। জরুরি বিভাগের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে।
কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও চিকিৎসকরা রোগীদের সেবা প্রদান করে চলেছেন। বিভিন্ন রোগী এবং তাদের স্বজনদের হাঁটু পানির মধ্যে দিয়েই হাসপাতালে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।
এদিন এক নারী, হোসনা আরা (৫৮), যিনি উচ্চ রক্তচাপ এবং শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতলে এসেছিলেন, তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. পূজা ভূমিক বলেন, রোগী স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাকে প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুনুল হক মামুন জানান, হাসপাতালটি রাস্তার তুলনায় নিচু হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছে। কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। তিনি বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন এবং পৌর প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, তবে জলাবদ্ধতার মধ্যেও জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।
এদিকে টানা বর্ষণের কারণে উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী, কধুরখীল, পশ্চিম শাকপুরা, ঘোষখীল, চরখিদিরপুর এবং চরণদ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বহু বাড়ির উঠোন এবং গ্রামীণ সড়ক হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা।
পশ্চিম গোমদণ্ডীর চরখিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা শওকত হোসেন জানিয়েছেন, চারদিকে শুধু পানি। বাড়ির উঠোন ডুবে গেছে। চলাচল করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণের পর উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এই কারণে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মোবাইল ফোনে চার্জ দিতে না পারায় জরুরি যোগাযোগে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
পৌর সদরের বাসিন্দা মো. আজিজ জানিয়েছেন, দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইলে চার্জ না থাকায় জরুরি যোগাযোগও করা যাচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়, কিন্তু মাস শেষে সম্পূর্ণ বিল দিতে হয়।
পৌর প্রশাসক কানিজ ফাতেমা জানিয়েছে, পৌর এলাকার কয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার করতে পৌরসভার কর্মীরা কাজ করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগামীকাল উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত পানি নেমে যেতে পারে এবং মানুষের দুর্ভোগ কমে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন