ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
১১:২৭ এম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় জাটকা নিধন এবং অবৈধভাবে মাছ আহরণ রোধে কঁচা নদীতে একটি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়, যেখানে দুই জেলেকে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি উপলক্ষে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন কঁচা ও পোনা নদীতে, যাতে জাটকা সংরক্ষণ এবং নদীর মৎস্যসম্পদ রক্ষা করা যায়।
এরই ধারাবাহিকতায়, বুধবার বিকেলে কঁচা নদীতে অভিযান চালানোর সময় রাক্ষুসে নেট (বেহুন্দী জাল) ব্যবহার করে জাটকা নিধন এবং অবৈধ মৎস্য আহরণের অভিযোগে জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট এলাকার ইউসুফ আলী বেপারীর ছেলে জসিম বেপারী এবং একই এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে মোহর আলীকে আটক করা হয়।
অভিযানকালে একটি রাক্ষুসে নেট (বেহুন্দী জাল) এবং প্রায় ৫ কেজি গুঁড়া মাছ জব্দ করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন, ১৯৫০-এর ৩(৩)(ক)(অ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে এবং ৫(১) ধারার বিধান অনুযায়ী দুই জেলেকে মোট ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
অভিযানে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ পুলিশ সদস্য এবং মৎস্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, জাটকা রক্ষা এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে সকলকে সাথে নিয়ে সংস্কার করা হবে। সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।
এ প্রথম গণমাধ্যমের সকলকে একত্রিত করা সম্ভব হয়েছে এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকবে। আমাদের জন্য এটি একটি বিরাট সুযোগ। সরকার একটি সমন্বয়কারির দায়িত্ব পালন করবে। এখন আমরা লক্ষ্যে যাওয়ার পথরেখা তৈরির সুযোগ পাব।
এ কর্মশালায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সবাই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তাই দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক সাংবাদিকতার মাধ্যমে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরতে হবে, যাতে সেগুলো সংশোধনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
এই কর্মশালায় গণমাধ্যম সংস্কার, স্বাধীনতা, জবাবদিহিতা এবং জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের কাঠামো নিয়ে বক্তারা মতামত তুলে ধরেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকটিতে বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্যপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার আগে তাদের মধ্যে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সের এভিয়ান-লেস-বেইন্সে জি-৭ সম্মেলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত বৈঠকে মোদি ও মেলোনি অংশগ্রহণ করেন।
এবারের তিন দিনব্যাপী জি-৭ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার ওপর চাপ তৈরির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
সম্মেলনের শেষ দিনে নেতারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা করবেন।
জি-৭ জোটের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি অংশীদার দেশ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন।
এদিকে সম্মেলনের সমাপ্তির পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভার্সাই প্রাসাদে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
সূত্র: এএফপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৮ জুন, ২০২৬ : আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জলবায়ু সহনশীলতা, খাদ্যনিরাপত্তা ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে পানিনিরাপত্তাকে।
নদী পুনরুদ্ধার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, খাল খনন এবং বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে পানি সম্পদ খাতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বরাদ্দের ঘোষণা দেন।
এর মাধ্যমে দেশের নদী, সেচব্যবস্থা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
প্রতিটি বিভাগে নদী দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধার এবং মৃতপ্রায় নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার অংশ হিসেবে প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি নদীকে অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
চলমান সাতটি প্রকল্পের আওতায় ধলেশ্বরী, লৌহজং, আলাইকুড়ি, মোগড়া, সালতা, সুতাং, বাঁকখালী ও বড়নাই - এই আটটি নদী থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।
সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ উদ্যোগ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্থানীয় প্রতিবেশব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা ও নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে।
তথ্যনির্ভর শাসনব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার অংশ হিসেবে ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর জন্য ‘ওয়াটার কোয়ালিটি ইনডেক্স’ (ডব্লিউকিউআই) বা পানির গুণগত মান সূচক প্রণয়ন করেছে সরকার।
এর ফলে নদীর স্বাস্থ্য আরও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপ লার্নিংভিত্তিক ভূগর্ভস্থ পানির রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ড্যাশবোর্ড চালু করা হয়েছে।
এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সম্পর্কে ধারাবাহিক তথ্য পাওয়া যাবে, যা পানি সংরক্ষণ ও টেকসই উত্তোলন বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এসব প্রযুক্তিগত উদ্যোগ বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ‘নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ শীর্ষক একটি জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
এ উদ্যোগটি আগামী পাঁচ বছরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও ড্রেনেজ চ্যানেল খননের বৃহত্তর সরকারি লক্ষ্যে যুক্ত।
শুধু ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই ৬৮০ কিলোমিটার খাল, সেচখাল ও নিষ্কাশন খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া ‘বাংলাদেশের খাল শনাক্তকরণ, শ্রেণিবিন্যাস এবং জিও-ইনফরমেটিক্স ডেটাবেজ উন্নয়ন’ নামে একটি বড় প্রকল্পের আওতায় দেশের সব খালের মানচিত্র তৈরি করা হবে এবং জিআইএসভিত্তিক খাল নেটওয়ার্ক ডাটাবেজ গড়ে তোলা হবে।
এর ফলে দেশের জলপথের একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল তালিকা তৈরি হবে।
আগামী অর্থবছরে ব্যাপক বন্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
এর আওতায় ৩০৯ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধ ও বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ৪৮৪ কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা বৃদ্ধি এবং ডুবোচর অপসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
অন্যদিকে সরকারের চলমান ‘বন্যা সুরক্ষায় ১৮০ দিনের কর্মসূচি’র আওতায় ইতোমধ্যে ২৯২ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ ও বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ ও পুনর্বাসনের কাজ চলছে।
এসব উদ্যোগ মৌসুমি বন্যার ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি পানি প্রবাহ ও নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়ক হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
পানি সম্পদ খাতের বাজেটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সদ্য অনুমোদিত ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি, মৎস্য ও পানি ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদিত এ প্রকল্পের কাজ আগামী জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত চলবে।
প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা নদীর ওপর ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজ নির্মাণ, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং শুষ্ক মৌসুমে মিঠাপানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে পদ্মার পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটির মাধ্যমে বছরে ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
সুন্দরবনসহ পুরো পদ্মা অববাহিকায় লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ রোধ করা যাবে।
এছাড়া পাঁচটি শাখা ও উপনদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার হবে।
২৮ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া যাবে।
বছরে ধান উৎপাদন ২ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার টন এবং মাছ উৎপাদন ২৩ লাখ ৪০ হাজার টন বাড়বে।
সরকার আশা করছে, চার বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলার বাসিন্দারা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে এ প্রকল্পের সুফল পাবেন।
এতে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে।
বাজেট বক্তৃতায় তিস্তা ও পদ্মা নদীর উজানে নির্মিত বাঁধের কারণে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এতে কৃষি, সেচ, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ সমস্যা মোকাবিলায় সরকার ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ বা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে।
উন্নত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান ও জীবিকা উন্নত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু অভিযোজন এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বের ভিত্তি হিসেবে পানিনিরাপত্তার ওপর সরকারের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।
নদী দখলমুক্তকরণ, ভূগর্ভস্থ পানির পর্যবেক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং পদ্মা ব্যারাজের মতো দেশের অন্যতম বৃহৎ পানি অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানি, কৃষি, মৎস্য, নৌপরিবহন ও পরিবেশগত সহনশীলতা জোরদারের একটি সমন্বিত কৌশল তুলে ধরা হয়েছে এ বাজেটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে একটি বালুভর্তি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেল লাইনের ওপর উল্টে পড়েছে। এর ফলে কুড়িগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এই ঘটনার কারণে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঢাকাগামী শতাধিক যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সেই সঙ্গে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে রাজারহাট উপজেলার পেট্রল পাম্পসংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালুভর্তি ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনের ওপর উল্টে পড়লে রেলপথ সম্পূর্ণভাবে ব্লক হয়ে যায় এবং কুড়িগ্রাম থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি।
রেললাইন বন্ধ থাকায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঢাকাগামী যাত্রীদের বাস, ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তিস্তা রেলওয়ে স্টেশনে যেতে দেখা গেছে। আকস্মিক এ পরিস্থিতিতে অনেক যাত্রীকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে এবং দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ৭টা ১০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণে ট্রেনটি কুড়িগ্রাম স্টেশনে আসতে পারেনি।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাইন থেকে ট্রাকটি অপসারণ করে রেল চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে দুর্ঘটনার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি আরো কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে।
ঢাকাগামী যাত্রী রুবেল মিয়া জানান, ‘যথাসময়ে কুড়িগ্রাম স্টেশনে এসে জানতে পারি কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুড়িগ্রাম আসবে না। পরে বাধ্য হয়ে অটোরিকশাযোগে তিস্তা স্টেশনে রওনা দিই। আমার মতো শত শত যাত্রী চরম বিপাকে পড়েছেন।’
কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ইনচার্জ কনিকা বলেন, ‘বালুভর্তি একটি ট্রাক রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ে লাইন ব্লক হয়ে গেছে। ট্রাকটি সরানোর কাজ চলমান রয়েছে। তবে কখন নাগাদ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ