ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ট্রাক উল্টে রেললাইন বন্ধ, ভোগান্তিতে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের শতাধিক যাত্রী


ট্রাক উল্টে রেললাইন বন্ধ, ভোগান্তিতে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের শতাধিক যাত্রী

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে একটি বালুভর্তি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেল লাইনের ওপর উল্টে পড়েছে। এর ফলে কুড়িগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এই ঘটনার কারণে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঢাকাগামী শতাধিক যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সেই স‌ঙ্গে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে রাজারহাট উপজেলার পেট্রল পাম্পসংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

আরও পড়ুন: চাঁদপুরের কচুয়ায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৩ বসতঘর, দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্তরা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালুভর্তি ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনের ওপর উল্টে পড়লে রেলপথ সম্পূর্ণভাবে ব্লক হয়ে যায় এবং কুড়িগ্রাম থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি।

রেললাইন বন্ধ থাকায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঢাকাগামী যাত্রীদের বাস, ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তিস্তা রেলওয়ে স্টেশনে যেতে দেখা গেছে। আকস্মিক এ পরিস্থিতিতে অনেক যাত্রীকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে এবং দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।

রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ৭টা ১০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণে ট্রেনটি কুড়িগ্রাম স্টেশনে আসতে পারেনি।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাইন থেকে ট্রাকটি অপসারণ করে রেল চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে দুর্ঘটনার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি আরো কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: সাবরাং ইউনিয়নে শোডাউন দিয়ে প্রচারণায় বিএনপির প্রার্থীরা

ঢাকাগামী যাত্রী রুবেল মিয়া জানান, ‘যথাসময়ে কুড়িগ্রাম স্টেশনে এসে জানতে পারি কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুড়িগ্রাম আসবে না। পরে বাধ্য হয়ে অটোরিকশাযোগে তিস্তা স্টেশনে রওনা দিই। আমার মতো শত শত যাত্রী চরম বিপাকে পড়েছেন।’

কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ইনচার্জ কনিকা বলেন, ‘বালুভর্তি একটি ট্রাক রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ে লাইন ব্লক হয়ে গেছে। ট্রাকটি সরানোর কাজ চলমান রয়েছে। তবে কখন নাগাদ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেড় বছর ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণের সংকট, কমেছে সরবরাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৪২ এম


দেড় বছর ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণের সংকট, কমেছে সরবরাহ

জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণের সংকট সরকারের মাধ্যমে বিতরণ করা পাঁচ ধরনের পণ্য এর সরবরাহ কমেছে। দেড় বছর ধরে এমন সংকট চলমান。

অর্থ সংকট, ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘসূত্রতা এবং বাজেট বাস্তবায়নের জটিলতার কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায় থেকে চাহিদা দিলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অর্থাভাবে ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৩৭৮ উপজেলায় কনডমের মজুত নেই। ৩৬৭ উপজেলায় ওরাল পিলের মজুত শেষ হয়ে গেছে। ৪১৮ উপজেলায় জরুরি জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি (ইসিপি) নেই, ৩১১ উপজেলায় তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি সুরক্ষাদানকারী ইমপ্লান্টের মজুত নেই এবং ৩৯৭ উপজেলায় ১০ বছর কার্যকর আইইউডি নেই। ইনজেক্টেবল জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর মজুতও শেষ হয়েছে ৪৭৭ উপজেলায়। শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণই নয়, মাতৃস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় মিসোপ্রোস্টল, অক্সিটোসিন, আয়রন-ফলিক এসিড ও ম্যাগনেসিয়াম সালফেটের মতো ওষুধও অধিকাংশ উপজেলায় এখন মজুতশূন্য। দৈনিক সমাকালের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সক্ষম দম্পতিরা ৩৭ শতাংশ সরকারি খাত থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী পান। এনজিওদের কাছ থেকে পান ৩ শতাংশ এবং বাকি ৬০ শতাংশ পান বেসরকারি খাত থেকে। ফলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ধরনের উপকরণের মধ্যে ইনজেক্টেবলের সরবরাহ পাঁচ লাখে নেমে এসেছে। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৪০ হাজার, অর্থাৎ সরবরাহ প্রায় ৫৬ শতাংশ কমে গেছে। মুখে খাওয়ার পিলের সরবরাহ ৮৮ লাখ ৯০ হাজার থেকে কমে হয়েছে ১৮ লাখ ৯০ হাজার, যা প্রায় ৭৯ শতাংশ কম।

দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির চিত্র আরও আশঙ্কাজনক। আপন ব্র্যান্ডের মুখে খাওয়ার পিলের সরবরাহ ২৩ লাখ ৪ হাজার ৯৪৩ পিস থেকে কমে হয়েছে মাত্র ৪৩ হাজার ৭৬৮ পিস, অর্থাৎ ৯৮ শতাংশ কমেছে। ইমপ্লান্টের সরবরাহ ২৯ লাখ ৮৩ হাজার থেকে নেমে এসেছে ৯ হাজার ৭৫২টিতে, যার ফলে এটি প্রায় ৯৭ শতাংশ কমে গেছে। জরায়ুর ভেতরে স্থাপনযোগ্য গর্ভনিরোধক যন্ত্র (আইইউডি) ১৯ হাজার ৬৯১ থেকে কমে হয়েছে ৭ হাজার ২৮৩, যা প্রায় ৬৩ শতাংশ কম। সরকারি সেবার এই অবস্থা যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে, তবে দেশের জনসংখ্যার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা বলেছেন, ‘২০২৩ সালে বড় ধরনের ক্রয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়। ২০২৪ সালের জুনে অপারেশন প্ল্যান (ওপি) মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সংকট আরও তীব্র মনে হয়। তবে সরকার নতুন করে বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে এবং এই খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ সংস্থান করেছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সাংবাদিক আংকেল, লিখে দেন বৃষ্টি হলেই যেন এখানে পানি না জমে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ এম


‘সাংবাদিক আংকেল, লিখে দেন বৃষ্টি হলেই যেন এখানে পানি না জমে’

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এলজিইডির কোটি টাকার ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ছে।

ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সড়কটি প্রায়ই জলাশয়ে পরিণত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

সড়কটির পাশেই রয়েছে সরকারি এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারি ডিগ্রি কলেজ ও বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করে। তবে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বৃষ্টির পর বিদ্যালয়সংলগ্ন বড়বাড়ি-ভুইয়াবাড়ি মোড় এলাকার প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক পানিতে ডুবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের হাঁটুপানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে দেখা যায়। অনেকের স্কুলড্রেস ও জুতা ভিজে যায়, ফলে ভেজা পোশাকেই ক্লাস করতে বাধ্য হয় তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, ডুবে যাওয়া সড়কের সামনে শিক্ষার্থীদের কারো কারো পিঠে ভেজা স্কুলব্যাগ, এক হাতে জুতা ও অন্য হাতে গুটানো স্কুলড্রেস নিয়ে হাঁটুপানির মধ্যে সাবধানে আগাচ্ছে। কয়েক কদম পরপরই হোঁচট খাওয়ার উপক্রম হচ্ছে।

এসময় এ প্রতিবেদককে দেখে সরকারি এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলে ওঠে, ‘সাংবাদিক আংকেল একটু লিখে দেন না, বৃষ্টি হলে যেন এখানে পানি না জমে। ওপরের অফিসার স্যাররা তো সব পারেন।’

বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী তানজিয়া বলেন, ‘বৃষ্টি হলে আমাদের খুব কষ্ট হয়। এই সামান্য দূরত্বটুকু পার হতে হলে স্কুল ড্রেস ভিজে যায়। জুতাটাও নষ্ট হয়।

ভেজা ড্রেস নিয়ে ক্লাস করতে হয়। এতে ঠাণ্ডা লেগে যায়।’

৪ নম্বর ওয়ার্ডের অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, বর্ষাকাল তো বটেই সামান্য বৃষ্টি হলেই অপরিকল্পিত ডিজাইনের সড়কটি ডুবে যায়। কারণ, এখানে কোনো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বৃষ্টি হলে কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্বও বোঝা যায় না। শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ সবাইকে ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়। তারা এ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা দাবি করেন।

এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে যোগদান করা এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী ফজলে রাব্বির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ছুটিতে থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টা আগে জানতাম না। এখন অবগত হলাম। শিগগিরই সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা নিয়ে যা বললেন শেহবাজ শরিফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা নিয়ে যা বললেন শেহবাজ শরিফ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় তেহরান অবিলম্বে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে।

এই বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধও তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান। ঐ পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইলেকট্রনিকভাবে সই হয়েছে।

তিনি এটিকে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চুক্তিতে উভয় দেশের প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করেছেন এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। শেহবাজ শরিফ নিশ্চিত করেন যে, কাতারের সহায়তায় পাকিস্তান আগামীকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, "

আমি অত্যন্ত সম্মানের সাথে ঘোষণা করছি যে, আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’টি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে। উভয় দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতিগণ এই সমঝোতা স্মারকটিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং এছাড়াও...

…"

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের পক্ষে ইলেকট্রনিকভাবে সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরান সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) তিনি স্বাক্ষর করেছেন।

স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, ‘চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভার্সাইয়ে স্বাক্ষর করা হয়েছে। মাত্রই স্বাক্ষর করলাম।’

অন্যদিকে ইরান জানায় যে, দুই দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যবসায়ী সোহেল রানার মৃত্যুর রহস্য এখনো অমীমাংসিত, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫২ এম


ব্যবসায়ী সোহেল রানার মৃত্যুর রহস্য এখনো অমীমাংসিত, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার বড়খারচর মহল্লায় ভৈরবের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য দিন দিন জোরালো হচ্ছে। প্রথমে ঘটনাটি একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বলে গণ্য করা হলেও, ঘটনাস্থলের আলামত, সন্দেহভাজনদের আচরণ এবং গতিবিধি, এবং নিহত সোহেল রানার সাথে থাকা মোটা অঙ্কের টাকার ব্যাগ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এখন এটি 'পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড' হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি উঠেছে।

নিহত সোহেল রানার পরিবারের অভিযোগ- এটি নিছক একটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়, বরং সোহেল রানাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হত্যা করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি বানিয়ে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি হত্যামামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই) কে দায়িত্ব দিয়েছেন।

নিহত সোহেল রানা (৩৫) ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর এলাকার মৃত সিরাজ মিয়ার সর্বকনিষ্ঠ ছেলে। তিনি ভৈরব পৌর শহরের মুসলিমের মোড় এলাকায় “মোহাম্মদ কেমিক্যাল” নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বাজিতপুর থেকে ব্যবসায়িক বকেয়া টাকা আদায় করে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি ভৈরবে ফিরছিলেন সোহেল রানা। এর কিছুক্ষণ পরই কুলিয়ারচর পৌরসভার বড়খারচর মহল্লার কাশ্মিরী আইডিয়াল স্কুল সংলগ্ন সড়কের পাশে তাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। তার থেকে কিছু দূরে মোটরসাইকেলটিও পড়ে ছিল। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রাথমিকভাবে কোন মামলা-মোকদ্দমা ছাড়া হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান স্বজনরা। পরদিন ১৭ মে রোববার সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত ছাড়া বাদ যোহর স্থানীয় শম্ভুপুর পাক্কার মাথা কবরস্থানে সোহেল রানার দাফন করা হয়।

প্রাথমিকভাবে রটেছিল, সড়কের ওপর দিয়ে নেওয়া ড্রেজার পাইপের তৈরি উঁচু আইল্যান্ডে ধাক্কা খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হন। কিন্তু দাফনের পর ঘটনার বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য ও আলামত সামনে আসতে শুরু করলে পরিবারের সন্দেহ বৃদ্ধি পায়।

স্থানীয়দের মতে, সাধারণত উচ্চগতির সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের সামনের অংশ ভেঙে যায় বা দুমড়েমুচড়ে যায়। কিন্তু বড়খারচর গ্রামের ইলিয়াস মিয়ার মুরগির ফার্ম থেকে উদ্ধার হওয়া সোহেল রানার মোটরসাইকেলটি ছিল পুরোপুরি অক্ষত।

এছাড়া, লাশ গোসল করানোর সময় স্বজনরা লক্ষ্য করেন, সোহেল রানার মাথার পেছনের মধ্যভাগে ভারী কোনো বস্তুর আঘাতের কারণে ফোলা এবং আধা ইঞ্চি পরিমাণ ছিদ্রযুক্ত জখম রয়েছে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গেলে মাথার পেছনে এমন আঘাত হওয়া অসম্ভব বলে দাবি স্থানীয়দের।

এই দুর্ঘটনার স্থান হিসেবে যে ড্রেজার পাইপের আইল্যান্ডের কথা বলা হচ্ছিল, গ্রামবাসীদের তথ্য অনুযায়ী সেই পাইপটি ঘটনার অন্তত এক সপ্তাহ আগে সেখান থেকে সরানো হয়েছিল। ফলে সেখানে দুর্ঘটনা ঘটার কোন সুযোগই ছিল না।

আরও বড় রহস্য হলো, সোহেল রানার সাথে থাকা টাকার ব্যাগটি নিখোঁজ হয়েছে। পরিবার জানিয়েছে, বিভিন্ন স্থান থেকে আদায় করা প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা ছিল ওই ব্যাগে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলের কাছ থেকে ব্যাগের কাটা ফিতার অংশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, পূর্ব থেকেই ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা ভারী কিছু দিয়ে সোহেল রানার মাথার পেছনে আঘাত করে। আঘাতে তিনি মোটরসাইকেলসহ কিছুটা দূরে ছিটকে পড়লে দুর্বৃত্তরা টাকা ব্যাগ কেটে নিয়ে পালিয়ে যায় এবং ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে প্রচার করে।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে নিহতের বড় ভাই শাহীন আহম্মেদ বাদী হয়ে গত ৩ জুন কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলগ্রহণকারী আদালত নং-০২-এ একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৬০/২০২৬)।

মামলায় কুলিয়ারচর উপজেলার বড়খারচর গ্রামের ইলিয়াছ (৫০), মজিবুর মিয়া (৪৮), এবং টুটুল মিয়া (৩৫) সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে লাশ গুমের চেষ্টা, তথ্য গোপন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাদী তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে হত্যা করে অটোরিকশায় হাসপাতালে নিয়ে যান এবং প্রমাণ নষ্ট করতে এটিকে দুর্ঘটনা বলে প্রচার করে।

আদালতের নির্দেশে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন গত ১৩ জুন একটি প্রতিবেদন জমা দিয়ে জানান, ইতিপূর্বে থানায় এ বিষয়ে কোনো সাধারণ ডায়েরি বা মামলা হয়নি।

ওসি'র প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর গত ১৭ জুন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফকরুল ইসলাম মামলাটি অধিকতর ও সুক্ষ্ম তদন্তের জন্য পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই) কিশোরগঞ্জ-কে দায়িত্ব প্রদান করেন। একই সাথে মামলার বাদী মৃত সোহেল রানার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।

এই নৃশংস ও রহস্যময় ঘটনার পর থেকে পুরো কুলিয়ারচর ও ভৈরব এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ- এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকার মানুষ ও নিহতের পরিবার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%