ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

টানা দুই দিন ককটেল বিস্ফোরণ, দুই আ.লীগ নেতা গ্রেফতার


টানা দুই দিন ককটেল বিস্ফোরণ, দুই আ.লীগ নেতা গ্রেফতার

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে টানা দুই দিন ধরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা ও নাশকতার অভিযোগে পুলিশের অভিযানে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোররাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজল হক খান (৫০) এবং চুকাইবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোজাফফর আলী (৩০)। ফজল হক সদর ইউনিয়নের খরমা খানপাড়া গ্রামের মৃত ভোলা খানের ছেলে এবং মোজাফফর আলী চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের বালুগ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে।

আরও পড়ুন: ডাক্তার দেখিয়ে ফেরার পথে কুমিল্লায় ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল ৮ বছরের মিনহার

পুলিশের সূত্র থেকে জানা যায়, গত সোমবার (৮ জুন) পৌর এলাকার বাদে শশারীয়া গ্রামে এক জামায়াত নেতার বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার ওপর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর পূর্বে গত রোববারও (৭ জুন) পৌর এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।

টানা দুই দিন ককটেল বিস্ফোরণের পর দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় একটি নাশকতা মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার ভিত্তিতে পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ওই দুই নেতাকে গ্রেফতার করে।

দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, পৌর এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। পরে দুপুরের দিকে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: নির্মাণসামগ্রী নামমাত্র দামে বিক্রি করে উল্লাস করছেন সোনার বাংলার শিক্ষকরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বানারীপাড়ায় খালে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ দোকানদার, ৫ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হুমায়ুন কবির, বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


বানারীপাড়ায় খালে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ দোকানদার, ৫ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার
 
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়নের মধুরভিটা সংলগ্ন খালে গোসল করতে নেমে খলিল (৫৫) নামে এক স্থানীয় দোকানদারের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর স্বরূপকাঠির ডুবুরি দল তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ২টার দিকে খলিল তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে খালে গোসল করতে যান। একপর্যায়ে তিনি পানিতে নেমে ডুব দেওয়ার পর আর উপরে উঠে আসেননি। এ সময় তার স্ত্রী চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
পরে স্থানীয়রা বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজি ও উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়েও তার সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলকে খবর দেন। খবর পেয়ে স্বরূপকাঠির ডুবুরি দল এবং বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খলিলকে খাল থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মাসুম জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন, খলিল তার স্ত্রীর সঙ্গে গোসল করতে নেমেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে নামার পর তিনি স্ট্রোক করলে ডুবে যেতে পারেন। খলিল মধুরভিটা স্কুলসংলগ্ন এলাকায় একটি দোকান পরিচালনা করতেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঋণের টাকায় ‘তেলেসমাতি’ আর্জেন্টিনাভক্ত ভ্যানচালকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৪ পি.এম


ঋণের টাকায় ‘তেলেসমাতি’ আর্জেন্টিনাভক্ত ভ্যানচালকের

বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই যেন সুমনের জীবন বদলে যায়। নাম সুমন, তবে এলাকাবাসী তাঁকে ‘মেসি সুমন’ নামেই বেশি জানেন। আর্জেন্টিনার প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর ফুটবল উন্মাদনা নিয়ে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার দত্তপাড়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের এই ভ্যানচালক এবারও আয়োজন করেছেন এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান।

আর্জেন্টিনার নীল-সাদা পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন আর নানা সাজসজ্জায় সুমন নিজের বসতিপাড়া সাজিয়ে তুলছেন। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন একটি আর্জেন্টিনা গ্রাম।

কিন্তু এই আয়োজনের পিছনে রয়েছে এক বিস্ময়কর কাহিনী। আর্জেন্টিনাকে সমর্থন জানাতে স্ত্রী আরতি রাণী ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পূর্ণিমার নামে সুমন গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। সেই অর্থ তিনি ব্যয় করছেন পতাকা, ব্যানার, রং এবং বিভিন্ন সাজসজ্জার কাজে।

শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য সুমন বিরিয়ানি রান্না করে আপ্যায়নের পরিকল্পনাও করেছেন।

সুমনের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। তিনি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ের সঙ্গে বসবাস করেন। জীবিকার তাগিদে ভ্যান চালান। সংসারে অভাব-অথচ ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং আর্জেন্টিনার প্রতি আবেগ তাকে থামাতে পারে না।

সুমন বলেন, "ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। এখন সবাই আমাকে সুমন না, ‘মেসি সুমন’ নামেই চেনে। বিশ্বকাপ এলেই আমি চেষ্টা করি আর্জেন্টিনার জন্য কিছু করতে। এটা আমার ভালোবাসা।"

তার স্ত্রী আরতি রাণী বলেন, "কয়েক বছর ধরেই স্বামীর আর্জেন্টিনাপ্রেম আমি দেখছি। সংসারের অভাব থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপ এলে তিনি সবকিছু ভুলে যান। এত টাকা খরচ করে এসব করা পাগলামি মনে হলেও স্ত্রী হিসেবে আমি মেনে নিয়েছি।"

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সুমন একজন খুবই দরিদ্র ব্যক্তি। ভ্যান চালিয়ে কেমনে সংসার চালান। কিন্তু বিশ্বকাপ আসলে তিনি ঋণ নিয়ে এলাকায় সাজসজ্জা করেন এবং খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেন। এই কারণেই সবাই তাকে ‘মেসি সুমন’ নামেই পরিচিত।

ফুটবল শুধুই একটি খেলা নয়, অনেকের কাছে এটি আবেগ, ভালোবাসা আর পরিচয়ের অংশ। আর ময়মনসিংহের ‘মেসি সুমন’ সেই আবেগের ব্যতিক্রমী উদাহরণ। তার নিজের শ্রম ও ঋণের টাকায় প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি এলাকার একটি অনন্য চরিত্র হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসলামী ব্যাংকের গণহারে চাকরিচ্যুতি, হরিলুটসহ সবকিছুর তদন্ত হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৬ পি.এম


ইসলামী ব্যাংকের গণহারে চাকরিচ্যুতি, হরিলুটসহ সবকিছুর তদন্ত হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে যে গণহারে চাকরিচ্যুতি, হরিলুট, রাজনৈতিক নিয়োগ ও ঋণ জালিয়াতি হয়েছে, এসবের সুষ্ঠু তদন্ত করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তিনি মন্তব্য করেন, ইসলামী ব্যাংক এবং জামায়াতে ইসলামী মানেই 'ইসলাম' নয়। তিনি আরও বলেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে সবকিছু থেকে বাঁচার সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে সাধারণ আলোচনার ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদে ‘দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারগুলো বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধ’ করার দাবিতে এ আলোচনার প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান।

এই প্রস্তাবের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলের কড়া সমালোচনা করেন।

ব্যাংকটির সাবেক নিয়ন্ত্রকদের (জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট) বিষয়ে ইঙ্গিত করে তিনি কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের কবিতা উদ্ধৃত করে বলেন, ‘কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে...’।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একবার যে ব্যাংক আজান দিয়ে, তাকবির দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে গেলে যে কী যাতনা, তা আমরা বুঝি। এখন পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহক সাজিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করানো হচ্ছে। ইসলামের ওপরে হাত দেবেন না বলে দোহাই দেওয়া হচ্ছে।

মাননীয় স্পিকার, ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। সুতরাং সবকিছুতেই ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়।

ব্যাংকটির পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের (আরডিএস) তীব্র সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি নারী গ্রাহক নির্ভর একটি প্রকল্প। ভোটের আগে এই প্রকল্প থেকে নারীদের ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে বলা হয়েছে— কোরআনের দলে ভোট না দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে না, ভোট দিলে জান্নাত মিলবে এবং আরও ১০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে।

এই আরডিএস প্রকল্পে মোট ২২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৫ আগস্ট (২০২৪) পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যার কোনো হদিস নেই।

রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নাবিল গ্রুপকে এলসির বিপরীতে ৭০০ কোটি টাকা লোন দেওয়া হয়েছে। দুষ্টু লোকেরা বলে সেই টাকা একটি দলের নির্বাচনী তহবিলে গেছে এবং একটি টিভি চ্যানেল খোলা হয়েছে। লান্তাবুর গ্রুপকে হেড অফিসের অনুমোদন ছাড়া নির্বাচনের আগে ৪০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। সিএসআর ফান্ডের টাকা দিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের বিমানের টিকিট কাটা হয়েছে। এগুলোর সবকিছুর তদন্ত হবে।

ইসলামী ব্যাংকে গণহারে চাকরিচ্যুতি ও রাজনৈতিক নিয়োগের পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটি দখল করার পর কোনো আইন-কানুন না মেনে অন্যায়ভাবে ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিপরীতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় ৬ হাজার নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ১৩ হাজার জনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে দুই-তিনটি করে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়ম ইসলামের নামেই হয়েছে। অন্যায়ভাবে যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ব্যাংকটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ‘প্রিজাম্পশন অব ইনোসেন্স’ নীতি অনুসারে তিনি বেনিফিট পাবেন। যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, তবে নিশ্চয়ই তদন্ত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫, ৪৬, ৪৭ ও ৫৭ ধারার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় পর্ষদ বাতিল বা নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রয়েছে।

বিরোধীদের শেয়ার ফেরত দেওয়ার দাবির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইবনে সিনা ব্লক মার্কেটে তিনগুণ দামে শেয়ার বিক্রি করেছে, যা একটি রেকর্ড। তবে যারা বৈধ এবং প্রকৃত শেয়ারহোল্ডার, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের মালিকানা ফেরত দেওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের লাখো কোটি টাকা পাচারসহ বিগত সময়ে দেশের যত টাকা পাচার হয়েছে, সবকিছুর সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন বলা হচ্ছে আপনারা ব্যাংকের মালিক না। জামায়াতে ইসলাম ব্যাংকের মালিক না। আবার বলছে ইসলামের ওপরে হাত দেবেন না। ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। আমাদের মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়। জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। সুতরাং সবকিছুতেই ইসলামের ওপরে হাত দেবেন না দোহাই দেওয়া কিন্তু ঠিক নয়।

তিনি আরও বলেন, এখানে আরডিএস নামে একটা প্রকল্প আছে। সেই প্রকল্প হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের একটা ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল হচ্ছে পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প নামে। যেখানে ৫ হাজার, ১০ হাজার, ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন দেওয়া যায়। নারী গ্রাহকের সংখ্যাই বেশি। ভোটের আগে ১০ হাজার টাকা করে অনেক নারীকে দেওয়া হয়েছে। লাইনে এক ভোটারকে আমার এক কর্মী জিজ্ঞেস করেন ‘মা আপনি কোথায় ভোট দেবেন- বলছে বাবা, কোরআনের দলে না দিলে তো জান্নাতে যাওয়া যাবে না। ১০ হাজার টাকাও দিয়েছে, বলেছে এটা মাফ হয়ে যাবে, আরও ১০ হাজার টাকা পাবো। মুনাফা হিসাবে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত পাওয়ার নিশ্চয়তাও দিয়েছে। এই আরডিএস প্রকল্পের মধ্যে কত হাজার কোটি টাকা ডিস্ট্রিবিউট হয়েছে জানেন- ২২ হাজার কোটি টাকা। ১১ হাজার কোটি টাকা আগে দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পরে নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, এর কোনো হদিস নেই। একজন নারী ভোটারের কথা তো বললাম।

তিনি আরও বলেন, আজকে ইন্টারেস্টিংলি দেখছি আমাদের এনসিপির বন্ধুরা কেউ নেই। আপনারা জামায়াতে ইসলামীকে কী বয়কট করলেন কিনা জানি না, কেউ বক্তব্যও দেয়নি, আমি চেয়ারগুলো খালি দেখে বলতেছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবারও ইসলামী ব্যাংকে দখলকারী চক্রের দৃষ্টি পড়েছে : বিরোধীদলীয় নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ পি.এম


আবারও ইসলামী ব্যাংকে দখলকারী চক্রের দৃষ্টি পড়েছে : বিরোধীদলীয় নেতা

এটি আবারও ইসলামী ব্যাংকে দখলকারী চক্রের দৃষ্টি পড়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট) তৃতীয় দিন ৬৮ বিধিতে দেওয়া নোটিশ উত্থাপন করার সময় এ কথা জানান।

শফিকুর রহমান ৬৮ বিধিতে দাঁড়িয়ে বলেন, যেহেতু ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক। দেশের মোট রেমিট্যান্সের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে আসে। যেহেতু সে সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের অব্যাহত অপপ্রচার এবং কর্মকর্তা কর্মচারীদের রাজনৈতিক হয়রানি সত্ত্বেও ২০১৬ সালে ব্যাংকটি ৪৪৭ কোটি টাকারও বেশি মুনাফা অর্জন করে। সে সময় খেলাপি বিনিয়োগের হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিবাদি সরকার নজিরবিহীন উপায়ে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ দখল করে এবং ব্যাংক লুটপাট ও নিয়মের মাধ্যমে শুধুমাত্র এই ব্যাংকেই নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালে ব্যাংকের মুনাফা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ প্রদান করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে খেলাপি বিনিয়োগের পরিমাণ মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫১ শতাংশ এসে পড়ছে। যেহেতু ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের পথে অগ্রসর হচ্ছিল।

শফিকুর রহমান আরো বলেন, এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের মুনাফা ১০৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৩৭ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। ঠিক সেই সময় আবারও পুরো ব্যাংক দখলকারী চক্রের দৃষ্টি ব্যাংকটির দিকে পড়েছে। নতুন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে বিতর্কিত এবং দুর্নীতির অভিযোগে চিহ্নিত ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনায় যে যৌক্তিক ও অন্যায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে…

এ সময় স্পিকার বলেন, বিরোধী দলের নেতা আপনি তো পরে আবার বলতে পারবেন।

এ পর্যায়ে সব কিছু পরে আবার বলবেন। এই কারণে পুরো নোটিশটি পড়তে পারেননি বিরোধীদলীয় নেতা।

বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের দেওয়া লিখিত নোটিশের বাকি অংশে উল্লেখ করা হয়, একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনায় অযৌক্তিক ও অন্যায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পদত্যাগে বাধা দেওয়া হয়েছে।

যেহেতু, ব্যাংকটিকে ‘জামায়াতের প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনমনে এ ধরনের ধারণা যে একেবারেই নেই, তা বলা যাবে না। তবে একই সঙ্গে এটাও অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই যে, যেই ব্যবস্থাপনাকে ‘জামায়াতপন্থী’ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে, সেই ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থা রেখেই দেশের লাখো গ্রাহক ব্যাংকটিতে বিপুল পরিমাণ আমানত রেখেছিলেন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেছিলেন। সেই ব্যবস্থাপনাও সততা, দক্ষতা ও পেশাদারির মাধ্যমে এই আস্থার প্রতিদান দিয়েছে এবং ইসলামী ব্যাংককে বিশ্বের অন্যতম সফল ও মর্যাদাপূর্ণ ইসলামী ব্যাংকে পরিণত করেছে।

যেহেতু, অতীতে জামায়াতি ব্যবস্থাপনার অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যেভাবে ব্যাংকটি দখল করা হয়েছিল এবং যার পরিণতিতে ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে ব্যাংক ও দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আজ আবারও একই কৌশলে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের চেষ্টা চলছে। এর ফল যে ব্যাংক, গ্রাহক কিংবা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে না, তার প্রমাণ ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। একদিনেই গ্রাহকরা প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা আমানত প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, যা আস্থার সংকটের স্পষ্ট প্রতিফলন।

সেহেতু, দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারসমূহ বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের অন্যায়, অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান অব্যাহত রাখার স্বার্থে বিষয়টি কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে এই সংসদে অবিলম্বে আলোচনা করা একান্ত প্রয়োজনীয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%