০৯:৫৯ পি.এম
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি বসতঘরের মেঝেতে দুটি ‘কবর’ জেগে ওঠার দাবি জানিয়েছেন ওই বাড়ির সদস্যরা। এই ঘটনাটি এলাকায় কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কথিত কবর দুটি দেখতে উৎসুক মানুষজন বাড়িতে ভিড় করছেন। কিছু লোক সেখানে ঝাড়ফুঁক ও তোলপড়া নিতে আসছেন বলেও জানা গেছে। তবে ঘরের মেঝেতে কিভাবে এই দুটি উঁচু জায়গা তৈরি হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামে ঘটেছে। বাড়িটির বাসিন্দা সজীব বেপারী। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি বসতঘরের পাকা মেঝের ওপর পাশাপাশি দুটি লম্বাটে উঁচু ঢিবির মতো রয়েছে। সেগুলো গামছা দিয়ে ঢাকা। ওপরের অংশে ফুলের মালা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে সাজানো হয়েছে। পরিবারটির দাবি, এগুলো কবর। এর মধ্যে একটি প্রায় দুই হাত এবং অন্যটি তিন হাত লম্বা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২৬ অক্টোবর সোমবার সকাল ১০টার দিকে ঘরের মেঝেতে প্রথম কবরটি জেগে ওঠে। একই দিন রাত ১২টার দিকে এর পাশে আরেকটি কবর দেখা যায়। তাদের বিশ্বাস, কথিত কবর দুটি দুজন পীরের।
আরও পড়ুন: যশোরে খেজুরের গুড় সংগ্রহ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সজীব বেপারী প্রায় ছয় মাস ধরে বাড়িতে ‘ভাড়ে’ বা ধ্যানে বসে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তার কাছে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রতি সোমবার রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। কথিত কবর দুটি জেগে ওঠার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে মানুষের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সজীবের মা শিউলী বেগম জানিয়েছেন, তার ছেলে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ হননি। ছয় মাস আগে স্বপ্ন দেখার পর তিনি নিজ বাড়িতে আসন স্থাপন করে ধ্যানে বসেন। এরপর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।
তবে সজীব কী ধরনের রোগে ভুগছিলেন তা জানা যায়নি। তিনি ধ্যানের মাধ্যমেই সেই রোগ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন কিনা, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সজীব বেপারীও দাবি করেন, ২৬ অক্টোবর সকালে ঘরের মেঝেতে প্রথম কবরটি এবং একই দিন রাতে দ্বিতীয় কবরটি জেগে ওঠে। সজীব দাবি করেন, কবর দুটি দুজন পীরের। তাদের একজন মারা যান ১১৬৬ সালে বাগদাদে এবং অপরজন ভারতের আজমিরে ১২৩৬ সালে মারা যান।
তবে সজীব এবং তার পরিবারের এই দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘরের পাকা মেঝের ওপর কাপড় দিয়ে ঢাকা দুটি উঁচু আকৃতি দেখা গেলেও সেগুলো কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা ছবিতে বা সরেজমিন পর্যবেক্ষণে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মেঝের নিচ থেকে স্বাভাবিকভাবে মাটি উঠে এসে এমন আকৃতি তৈরি হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর, তদন্ত চলছে
তবে পরিবারের এই দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তাদের মতে, ঘরের মেঝেতে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা দুটি উঁচু আকৃতির স্থাপনাকে অলৌকিকভাবে জেগে ওঠা কবর বলে প্রচার করা হচ্ছে। বিষয়টিকে ভুয়া ও ভিত্তিহীন দাবি বলেও মন্তব্য করছেন কেউ কেউ।
তাদের প্রশ্ন, সত্যিই যদি মেঝে ফুঁড়ে কবর দুটি তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে এর কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ কোথায়? স্থানীয়দের ভাষ্য, সজীব আগে একটি হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় একজন সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, এগুলো আসলে কবর বলে মনে হচ্ছে না। নিচ থেকে এগুলো ওঠেনি। ঘরের মেঝের উপর মাটি বা কিছু দিয়ে এমন তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফজলুল হক বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের ঘটনার কোনো নজির বা ভিত্তি নেই। প্রশাসন তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। স্থানীয় মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে, এমন আশঙ্কায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
আরও পড়ুন: গাজীপুর পুলিশ: শ্রমিক আন্দোলনে গুলিতে হতাহতের খবর গুজব
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপম মজুমদার জানান, সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন